রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৪:০০ অপরাহ্ন, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৮ পূর্বাহ্ন, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ক্যাম্পাস শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকরা।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঘটনার পর সেই ফুটেজ আর পাওয়া যায়নি। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও ঘটনার প্রকৃত চিত্র আড়াল করতেই ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সংস্কার কাজ চলমান থাকায় তখন সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। সে জন্য কোনো ফুটেজ নেই। ফুটেজ ডিলিট করার অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. আবদুল আলীম বলেন, ‘তথ্যগুলো সংরক্ষিত আছে। অভিযোগ যে কেউ করতে পারে। ডকুমেন্টসের কোনো অভাব নেই। তদন্ত কমিটি যেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করার সেখান থেকে করছে।’ সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ কিংবা হল প্রাধ্যক্ষের দাবি অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহত সাংবাদিকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ভর্তি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, রাবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। হামলায় ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমসহ অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী অংশ নেন বলে তারা জানান।

হামলায় আহত চার সাংবাদিক হলেন— দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান এবং আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকরা জানান, রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে যান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল। খবর পেয়ে প্রক্টর মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে তারা অস্ত্রগুলো লুকিয়ে ফেলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হাতে অস্ত্র দেখতে পেয়ে সাংবাদিকেরা ভিডিও ধারণ করতে গেলে সমকালের প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। পরে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন।

হামলার খবর পেয়ে অন্য সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে গেলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলামকেও মারধর করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা এম আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। আহসান হাবীবের অভিযোগ, ওই মন্তব্যে রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করেছেন। তবে রাকিবুলের দাবি, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন আহসান হাবীব।

শিক্ষার্থীরা জানান, শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জিয়াউর রহমান হলের সামনে অবস্থান নেন রাকিবুল। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সেখানে অবস্থান নেন আহসান হাবীব। তারা রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের ঘোষণা দেন।

এর মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম ছাত্রদলের সমালোচনা করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘তারেক রহমানের সোনার ছেলেরা চাঁদাবাজি ছেড়ে দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে।’

এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হলের সামনে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেখানে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ। আমাদের দ্বারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি। কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।’

এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় রোববার মধ্যরাতেই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি এ বি এম ইজাজুল কবির রুয়েল ও মনজুরুল আলম রিয়াদকে নিয়ে দুই সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে কেন্দ্রীয় সংসদে লিখিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ নির্দেশনা দেন।