এক মামলায় শেখ হাসিনা ও মাহবুব হোসেনসহ ৫৩ সাবেক সচিব আসামি

newsdesk
newsdesk newsdesk
প্রকাশিত: ৮:৫৪ অপরাহ্ন, ২৪ নভেম্বর ২০২৪ | আপডেট: ১১:৪৬ অপরাহ্ন, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা এক মামলায় ৫৩ জন সাবেক সচিবকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সাবেক ওই সচিবেরা ‘ভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট’। সাবেক এই সচিবদের ‘ফ্যাসিবাদের সহযোগী, রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা’ হিসেবে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের পদ থেকে সম্প্রতি অবসরে যাওয়া মো. মাহবুব হোসেনও।

গত ২৯ অক্টোবর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে মামলাটি করেছেন ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস মোহাম্মদ জামাল হোসেন খান (রিপন)। তার করা এই মামলায় মোট ১৯৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন মামলায় বিচ্ছিন্নভাবে সাবেক কয়েকজন সচিবকে আসামি করা হয়েছে। তবে একটি মামলায় একসঙ্গে ৫৩ জন সাবেক সচিবকে আসামি করার ঘটনা এটিই প্রথম।


মামলার এজাহারে বাদী রিপন উল্লেখ করেন, তার মেয়ে সামিয়া খান আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ বনশ্রী শাখার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যোগ দিতে সামিয়া আফতাবনগরে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে যায়। সেখানে ছাত্র-জনতা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিল। ছাত্র-জনতার মিছিল চলার সময় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি করতে থাকে। এ সময় সামিয়া গুলিবিদ্ধ হয়। তার পায়ে এখনো তিনটি গুলি রয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, ঘটনার প্রায় তিন মাস পর তিনি প্রথমে বাড্ডা থানায় মামলা করতে যান। থানা থেকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর তিনি সিএমএম আদালতে মামলা করেন। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) এ মামলা তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। এই মামলার এজাহারে উল্লেখ করা আসামিদের নাম বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের নেতা ও বিগত সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের পাশাপাশি বনশ্রী-আফতাবনগর এলাকার ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের নামও রয়েছে। আসামির তালিকায় নাম থাকা কয়েকজন ইত্তেফাককে জানান, তারা বাদীকে চেনেন না, ঘটনা সম্পর্কেও কিছুই জানেন না। বাদী রিপন  বলেন, ভুক্তভোগী হিসেবে তিনি মামলাটি করেছেন।