সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের ৩৯ ব্যাংক হিসাব জব্দ

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১১:৩৬ অপরাহ্ন, ০৫ মার্চ ২০২৫ | আপডেট: ৬:২৪ অপরাহ্ন, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের নামে থাকা ৩৯ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত।এসব অ্যাকাউন্টে পাঁচ কোটি ২৬ লাখ ৮৩ হাজার ৮৫ টাকা রয়েছে। বুধবার (০৫ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত এ আদেশ দেন।

এ বিষয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ তদন্তাধীন। আজকে দুদক থেকে ৩৯টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন করে। পরে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

দুদক বলছে, সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য টিম গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে তিনি এসব অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর বা স্থানান্তর করতে পারে বলে জানা যায়।

গত বছরের ১৭ অক্টোবর সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান ও তার পরিবারের নামে থাকা দেশ-বিদেশের ৫৮০ বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, জমিসহ স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২২৮টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে ৯টি। এ ছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি ব্যাংকের হিসাব ও বাংলাদেশের একটি ব্যাংকের হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।

এ ছাড়া স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের নামে থাকা সব ধরনের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। পরে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ২৩ (১) (গ) ধারা অনুযায়ী সাইফুজ্জামানের ভাই আনিসুজ্জামান চেৌধুরী, আনিসুজ্জামান স্ত্রী ইমরানা জামান চৌধুরী ও মেয়ে আনিছা জামানের ব্যক্তিগত হিসাব এবং তাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত হিসাবের লেনদেন প্রথম দফায় ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

২০১৩ উপ-নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১২ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন সাইফুজ্জামান। এরপর ২০১৪ সালের ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৩ আসন থেকে আবার নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন। পরে তিনি ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১৩ আসন থেকে আবার নির্বাচিত হন।