বৈষম্যবিরোধীদের দাবির মুখে পটিয়ার ওসিকে প্রত্যাহার

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৪:০৪ অপরাহ্ন, ০৩ জুলাই ২০২৫ | আপডেট: ১০:২১ অপরাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি মেনে নিয়ে চট্টগ্রামের পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (২ জুলাই) রাতে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ এ আদেশ দিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে পটিয়া থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একদল নেতকর্মীর সঙ্গে পুলিশের সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুরের অপসারণ দাবি করে সংগঠনটি ‘পটিয়া ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বুধবার সকাল ১০টার দিকে ‘চট্টগ্রামের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে পটিয়া থানা অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন। গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদ রাফিও বিক্ষোভে যোগ দেন।

দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা থানা ছেড়ে মিছিল নিয়ে বাইপাস এলাকায় গিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে পটিয়া বাইপাস মোড় থেকে ইন্দ্রপুল কাজীরপাড়া এলাকা পর্যন্ত সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। মহাসড়কে যানজটের মধ্যে ভোগান্তিতে পড়েন পথচারী ও আটকে থাকা যানবাহনের যাত্রীরা। বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে সেনাসদস্যরা গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।

এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে খান তালাত মাহমুদ রাফি তিন পুলিশ কর্মকর্তা পটিয়া থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর, উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুর রহমান এবং জেলা পুলিশের পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলামকে অপসারণে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে মহাসড়ক ছেড়ে যান। তাদের অপসারণ করা না হলে আবারও সড়কে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন।

এদিকে বুধবার বিকেল ৩টার দিকে ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীতে ডিআইজির কাছে গিয়েছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেকদল নেতাকর্মী। তারা ডিআইজিকে কার্যালয়ের বাইরে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার দাবি জানান। কিন্তু এতে ডিআইজির সম্মতি না পেয়ে তারা ওই কার্যালয়ের পাশে খুলশী থানার সামনে নগরীর জাকির হোসেন সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে সড়কের উভয়পাশে যানবাহন আটকে আশপাশের সড়কেও যানজট হয়।

সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ তাদের দাবি মেনে তার কার্যালয় থেকে বের হয়ে সড়কে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। আন্দোলনকারীরা পটিয়া থানার ওসি, সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও জেলার এসপির অপসারণ দাবি করেন। ডিআইজি ওসিকে প্রত্যাহারের আশ্বাস দিলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সড়ক ছেড়ে যান আন্দোলনকারীরা।

এর আগে মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাতে পটিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে দুপক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। পুলিশের ভাষ্য, ওই রাতে 'ছাত্রলীগ নেতা' উল্লেখ করে এক তরুণকে মারধর করতে করতে থানায় ঢোকার সময় পুলিশ বাধা দিলে তা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দাবি, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সহসভাপতি দীপঙ্কর তালুকদারকে আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে অতর্কিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা শুরু করে। এতে তাদের কয়েকজন আহত নেতাকর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।