যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে: তারেক রহমান
দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং প্রতিটি পর্যায়ে জবাবপদিহিতা অব্যাহত রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে অনেক মতপার্থক্য আছে, থাকতে পারে। কিন্তু আপনাদের মাধ্যমে আমি সব রাজনৈতিক দলসহ দেশের সব মানুষের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই, আমরা সব মতপার্থক্য নিয়ে যেন আলোচনা করতে পারি।
তারেক রহমান বলেন, আমরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (জাতীয় নির্বাচনের মধ্যমে) একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছি। এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যেন আমরা অব্যাহত রাখতে পারি। দেশকে এগিয়ে নিতে যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু রাখতে হবে। স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত জবাবদিহিতা চালু রাখতে হবে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে পারলে তাহলেই আমরা একটি গুণগত পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হব।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন
সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে দেশে অনেক কথা, আলোচনা হলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সংস্কার নিয়ে আলোচনা কম হয়েছে বলে মনে করেন বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। এ বিষয়ে সবাইকে আরও বেশি আলোচনার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, অনেক দিন ধরে আমরা সংস্কার নিয়ে আলোচনা করেছি। আমার মনে হয়েছে সংস্কার বিষয়টি তিন ধরনের— সাংবিধানিক, আইনি ও সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রার। আমি সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলতে চাই, আমরা সম্ভবত প্রথম দুইটি সংস্কার নিয়ে অনেক আলোচনা করলেও শেষটি, অর্থাৎ প্রতিটি শ্রেণিপেশার মানুষের প্রতিদিনের চাওয়া-পাওয়া নিয়ে আলোচনা কম করেছি।
রাজনৈতিক দলসহ সবার উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, অবশ্যই সাংবিধানিক ও আইনি সংস্কার নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন আছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের চিন্তাভাবনার যেসব বিষয়, সেসব নীতিমালা নিয়ে আলোচনা আরেকটু বেশি হওয়া উচিত।
এক নারী সাংবাদিকের বক্তব্যের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশে নারীদের সংখ্যা এখন সম্ভবত ৫১ শতাংশ। এত বড় জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব না। এ জন্য আমরা ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেন প্রান্তিক পর্যায়ের নারীরা ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারেন।
তারেক রহমান বলেন, আমার পাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা ও ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের ওকটি জানাজা। আমার আরেক পাশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনা। এ দুটি উদাহরণ সবচেয়ে ভালোভাবে আমাদের বুঝিয়ে দেয় যে আমাদের ৫ আগস্টের আগে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। হিংসা ও প্রতিশোধপরায়ণতার পরিণতি কী, তা আমরা দেখেছি। তাই দলমত নির্বিশেষে সবার সব মতপার্থক্য নিয়েও যেন আমরা আলোচনা করতে পারি। মতপার্থক্য যেন মতবিভেদে রূপ না নেয়। কারণ আমরা বিভেদ চাই না।
তিনি আরও বলেন, দেশে আসার পর আমার বাইরে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। মানুষের সঙ্গ কথা বলে আমার মনে হয়েছে, তরুণরা নির্দেশনা চায়, আশা দেখতে চায়। শুধু নতুন প্রজন্ম নয়, দেশের সব মানুষ আশা দেখতে চায়। সবার সব আশা হয়তো পূরণ করা সম্ভব না। কিন্তু আমরা রাজনীতিবিদরা যদি ১৯৭১, ১৯৯০ ও ৫ আগস্ট সামনে রেখে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি, তাহলে দেশকে সঠিক দিক এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা মতবিনিময় অনুষ্ঠানে কথা বলেন। তারা মুক্ত গণমাধ্যমের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। সাংবাদিকরা বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। গণমাধ্যমের সেই স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।