আত্মপ্রকাশ করল ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ পরিষদ’
ঢাকা: বিশেষ প্রতিনিধি।
একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বহু-ভাষী ও বহু-সংস্কৃতির বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও ভৌগোলিক আত্মপরিচয় সুদৃঢ় করার প্রত্যয় নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন বুদ্ধিবৃত্তিক ফোরাম "বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ পরিষদ"। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও উন্মুক্ত এই প্ল্যাটফর্মটি দেশের সব ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষকে একই সম-অধিকার ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করবে।
পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সর্বস্তরের মানুষের একক ও সর্বজনীন আত্মপরিচয় নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ঐতিহাসিক রূপরেখা দিয়েছিলেন স্বাধীনতার মহান ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর এই প্রগতিশীল ও কালজয়ী দর্শনকে নতুন প্রজন্মের মনোজগতে ছড়িয়ে দিতে এবং এর জাতীয় সম্প্রসারণে পরিষদ দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
পরিষদের মূল দর্শন নির্ধারণ করা হয়েছে—"ভাষায় বৈচিত্র্য, রাষ্ট্রীয় পরিচয়ে ঐক্য"।
সংগঠনটির নীতিনির্ধারকেরা জানান, বাংলাদেশে শুধু একটি নির্দিষ্ট ভাষার মানুষ বাস করে না; বরং এখানে চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, গারোসহ বহু ভাষা ও সংস্কৃতির নৃগোষ্ঠী রয়েছে। তাই কেবল ‘বাঙালি’ সম্বোধন দিয়ে রাষ্ট্রের সবাইকে একটি সুতোয় বাঁধা সম্ভব নয়। শহীদ জিয়ার এই দর্শন কোনো সংকীর্ণ রাজনৈতিক এজেন্ডা ছিল না, বরং তা ছিল একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের সব নাগরিকের মনস্তাত্ত্বিক ও ভৌগোলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দূরদর্শী রাষ্ট্রীয় দর্শন। এটি একদিকে যেমন আমাদের মহান মাতৃভাষা "বাংলা"-কে সগৌরবে ধারণ করে, ঠিক তেমনি এই ভূখণ্ডের অন্যান্য ক্ষুদ্র ভাষা ও সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্যকেও পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়।
পরিষদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ:
মনস্তাত্ত্বিক জাগরণ: মুক্ত আলোচনা, সেমিনার, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রকাশনা ও গবেষণার মাধ্যমে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের মনোজগতে "বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ"-এর আধুনিক চেতনা সুদৃঢ় করা।
ঐক্য ও বিভাজনের অবসান: রাজনৈতিক ও কৃত্রিম জাতিগত বিভাজনের স্থায়ী অবসান ঘটিয়ে দেশের সব ভাষাভাষী, ধর্মাবলম্বী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষকে একই রাষ্ট্রে সুসংহত ও ঐক্যবদ্ধ করা।
জাতীয় আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠা: দলীয় বা রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের মনে একটি সুনির্দিষ্ট ও গৌরবময় রাষ্ট্রীয় আত্মপরিচয় জাগিয়ে তোলা।
শীঘ্রই একটি জাতীয় সেমিনারের মাধ্যমে পরিষদ তাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম ও পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবে। দল-মত নির্বিশেষে দেশের স্বার্থে বিশ্বাসী যে কোনো নাগরিক ও তরুণ চিন্তাবিদদের এই উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার জন্য পরিষদের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
যোগাযোগ:
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ পরিষদ, ই-মেইল: drasifsmizan@gmail.com, হোয়াটসঅ্যাপ: +880 1979 799997