নেপালে ফের নতুন করে বন্যার আশঙ্কা!

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৪:৪১ অপরাহ্ন, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৬:৫৪ অপরাহ্ন, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
ভয়াবহ হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন হিমালয় এলাকা। নেপাল ও তিব্বত এলাকায় শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে। 

বিগত ছ'দিনে দুর্যোগের কারণে নিখোঁজের সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। ভোটেকোশী নদীর জলস্তর এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এবং নতুন করে পাহাড়ি হ্রদ তৈরির ঝুঁকি থাকায় প্রশাসনের তরফে ফের বন্যার সতর্কতা জারি করেছে। 

এমনটাই খবর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের।জানা গিয়েছে, চীনের ওয়াটার রিসোর্সেস মন্ত্রকের তরফে তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ি এলাকায় আবার নতুন হ্রদ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া নদীর উপরিভাগে ৫.৬ কিলোমিটার দূরে থাকা একটি গর্তে প্রায় ১৪ লক্ষ ঘনমিটার জল জমেছে। যা নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। 

বর্তমানে নেপালের রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলার হাসপাতালগুলিতে স্বজনহারা মানুষের ভিড় উপচে পড়েছে। মর্গে পর্যাপ্ত হিমঘর না থাকায় ডিএনএ নমুনা রেখে মরদেহ গণসৎকার করতে হচ্ছে প্রশাসনকে। পাশাপাশি, প্রতিকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টির জন্য উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এদিকে নেপালি সেনাবাহিনীর তরফে সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারকাজে ড্রিলিং চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নেপালে এখনও ৭৮৮ জনের মৃত এবং নিখোঁজ ২,৫০২ জন। এর মধ্যে ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ জন কর্মীও রয়েছেন। খবর অনুযায়ী, তিব্বত অঞ্চলে মৃত ১৬ এবং নিখোঁজ ৫৪৬ জন। ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের একাধিক পর্যটক, তীর্থযাত্রী ও শ্রমিক এই দুর্যোগে্র কবলে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন।

নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল এই বিপর্যয়কে জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম পরিণতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। জানিয়েছেন, দেশটি ফের পুনর্গঠনের জন্য মোট খরচ কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যেতে পারে। পাশাপাশি, এই পরিস্থিতিতে সকলের কাছে ভারী উদ্ধারকারী ড্রোন, ফরেনসিক কিট এবং হিমঘরের বিশেষ সাহায্যের আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। 

সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছে আমেরিকা এবং কানাডার মতো উন্নত দেশ। দু'দেশের তরফেই ৩৬ লক্ষ ডলার, ব্রিটেনের তরফে ৬৮ লক্ষ ডলার এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘ ২৫ লক্ষ ডলার উদ্ধারকাজের জন্য জরুরি তহবিলের কথা ঘোষণা করেছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ অন্যান্যরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।