শিক্ষাব্যবস্থায় মুক্তচিন্তার অভাব বড় প্রতিবন্ধকতা: শিক্ষা উপদেষ্টা

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, ০৩ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৬:৩৮ অপরাহ্ন, ২১ এপ্রিল ২০২৬

মুক্তচিন্তার ঘাটতিকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় ঘাটতি মনে করছেন শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে মুক্তচিন্তার অনুপস্থিতি। চিন্তার স্বাধীনতা না থাকলে সৃজনশীলতা ও গবেষণা এক জায়গায় স্থবির হয়ে যায়।

শনিবার (২ আগস্ট) ঢাকা কলেজে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও শিক্ষা ক্যাডারের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শুধু পাঠ্যবই মুখস্থ করে পরীক্ষায় পাস করলেই শিক্ষা হয় না। শিক্ষা মানে প্রশ্ন তোলার, যুক্তির মাধ্যমে ভাবনার বিকাশ ঘটানোর এবং সত্য অনুসন্ধানের সাহস তৈরি করা। এই জায়গাতেই আমরা পিছিয়ে আছি।

উপদেষ্টা আরও বলেন, বিগত সময়ে মুক্তচিন্তার সুযোগ না থাকায় শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত বিকাশ হয়নি। যে চেতনায় ছাত্রজনতা ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল, সেই চেতনা ধরে রাখতে না পারলে শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতি সম্ভব নয়।

বর্তমান সময়ের সংকট মোকাবিলায় তরুণদের ভূমিকার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে সি আর আবরার বলেন, তরুণদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যেতে হবে। বই পড়তে হবে, প্রশ্ন তুলতে হবে, বিতর্ক করতে হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই চিন্তা শাণিত হবে, দেশ উপকৃত হবে।

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল নিয়ে কোনো পক্ষপাত বা বাড়তি নম্বর দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যে নম্বর পাওয়ার যোগ্য ছিল, সেটাই পেয়েছে। কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়নি। ফল প্রকাশের সময় কোনো বাড়তি আনুষ্ঠানিকতা বা প্রচার ছিল না। বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্বশীলভাবে কাজ করেছেন।

ড. আবরার আরও বলেন, প্রযুক্তির চেয়ে বড় প্রয়োজন হলো চিন্তার স্বাধীনতা। যন্ত্র দিতে পারে গতি, কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি দেয় একমাত্র মুক্ত শিক্ষা।

আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, জাতির উন্নয়ন নির্ভর করে শিক্ষার ওপর। সেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত রাখতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হবে না।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. মজিবর রহমান। বক্তব‍্য রাখেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সাবেক সভাপতি নাসরিন বেগম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) ও বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

ড. সোহেল বলেন, শিক্ষা ক্যাডার শুধু প্রশাসনিক কাঠামোর একটি অংশ নয়, এটি একটি আদর্শিক সংগ্রামের ধারকও বটে, যা আগামী প্রজন্মের চিন্তা, চেতনা ও মূল্যবোধ গঠনে প্রভাব রাখে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব ড. মো. মাসুদ রানা খান।

আলোচনায় শিক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ ও বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যরা অংশ নেন। বক্তারা শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা, জবাবদিহি এবং নীতিনির্ধারণে শিক্ষক সমাজের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।