আব্দুল লতিফ বাচ্চু নামক বটবৃক্ষের বিদায়
না ফেরার দেশে গত রবিবার পাড়ি জমিয়েছেন বরেণ্য চলচ্চিত্রগ্রাহক, পরিচালক ও ইন্ডাস্ট্রির অলিখিত অভিভাবক আব্দুল লতিফ বাচ্চু। গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রিয় কর্মস্থল বিএফডিসি থেকে প্রথম জানাজা দিয়ে বিদায় দেওয়া হয়। এদিন তার শেষ বিদায়ে উপস্থিত হয়েছিলেন বিএনপির সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ও অভিনেতা আশরাফ উদ্দিন উজ্জল। এছাড়াও ঢাকাই চলচ্চিত্রের নক্ষত্র আলমগীরের উপস্থিতি সকলের নজর কাড়ে। এসেছিলেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখ আফজাল হোসেনও। তবে বটবৃক্ষখ্যাত চলচ্চিত্রগ্রাহক সমিতির সভাপতির জানাযায় এদিক দেখা যায়নি কোনো তারকা অভিনয় শিল্পীকে। এমনকি বাচসাস নেতৃবৃন্দকেও জানাযায় অংশ নিতে দেখা যায়নি। তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরিচালকদের দেখা গেছে জানাযায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্দ্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই উপস্থিত হন গুণী শিল্পী আলমগীর। তাকে এদিন ভারাক্রান্ত দেখা যায়। তিনি এলেও গণমাধ্যমকে এড়িয়ে গেছেন। একইভাবে অভিনেতা উজ্জলকে দেখা গেছে ভারাক্রান্ত। তবে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই অভিনেতা বলেন, বাচ্চু ভাইয়ের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি সত্যিকারের একজন অভিভাবক হারালো। তার মতো করে কেউ এই ইন্ডাস্ট্রিকে হৃদয়ে ধারণ করেনি। সকলের সব সমস্যায় তাকে অভিভাবক হিসেবে পাওয়া যেতো। আমরা তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।
চলচ্চিত্রগ্রাহক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মজনু বলেন, ইন্ডাস্ট্রিতে আমরা অনেকে অনেকভাবে বিভাজিত হয়ে পড়েছি, কিন্তু দিনশেষে বাচ্চু ভাইয়ের সামনে সকলেই শিশুর মতো হয়ে যেতাম। তার বুদ্ধিমত্তা আর সাংগঠনিক দক্ষতা খুবই নিপুণ। তিনি একহাতেই সকলকে একত্রিত করে রেখেছিলেন। এমনটা আর কেউ পারবে না। আমরা সত্যিকারের বটবৃক্ষ হারালাম।
পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন খান বলেন, আমরা বুঝিয়ে বলতে পারবো না বাচ্চু ভাই আমাদের কতটুকু নির্ভরতার জায়গায় ছিলেন। এই ইন্ডাস্ট্রিকে একমাত্র সমীহ জাগানিয়া ব্যক্তি ছিলেন বাচ্চু ভাই। আপনারা সবাই বাচ্চু ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন।
এদিকে এফডিসিতে জানাযা শেষে বাচ্চুর মরদেহ গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের রহমতগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। সেখানে দ্বিতীয় জানাযা শেষে বাদ আসর পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত হবেন ৬৫ সিনেমার ক্যামেরাম্যান আব্দুল লতিফ বাচ্চু নামক বটবৃক্ষ।
দেশ স্বাধীনের আগে থেকে আব্দুল লতিফ বাচ্চু চিত্র গ্রহণের কাজে নিজেকে জড়ান। শুরুটা সহকারী হয়ে, এরপর পূর্ণাঙ্গ চিত্রগ্রাহক হিসেবে তাঁর পথচলা শুরু। ১৯৪২ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র গ্রাহক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ‘আলোর পিপাসা’, ‘আগন্তুক’, ‘দর্পচূর্ণ’ সিনেমায় বিখ্যাত চিত্রগ্রাহক সাধন রায়ের সহকারী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। ১৯৬৮ সালে ‘রূপকুমারী’ সিনেমায় একক ক্যারিয়ার শুরু করেন।
স্বাধীনতার পর চিত্রা জহিরের প্রযোজনা ও কাজী জহিরের পরিচালনায় কাজ করেন ‘অবুঝ মন’ সিনেমায়। এরপর ‘বলবান’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালনায় নাম লেখান। ‘যাদুর বাঁশি’, ‘দ্বীপকন্যা’, ‘নতুন বউ’, ‘মি. মাওলা’, ‘প্রতারক’ তাঁর পরিচালিত উল্লেখযোগ্য সিনেমা। দীর্ঘ জীবনে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) ছাড়াও অর্জন করেছেন চ্যানেল আই কর্তৃক প্রবর্তিত ‘ফজলুল হক স্মৃতি’ পুরস্কার।