এনবিআরে আন্দোলন: ২০ কর্মকর্তার দণ্ড মওকুফ

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ন, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৭:০৯ অপরাহ্ন, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এনবিআর দুই ভাগের অধ্যাদেশবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে শাস্তির মুখে পড়া ২০ কর্মকর্তার লঘুদণ্ড মওকুফ করেছে বিএনপি সরকার।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ বিভিন্ন পর্যায়ের এসব কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করে পৃথক আদেশ জারি করেছে। এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আন্দোলনের ঘটনায় শাস্তি পাওয়া বাকি চার কর্মকর্তার দণ্ডও শিগগির মওকুফ হতে পারে।

গত ১৮ আগস্ট রাজস্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নিজেদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তি প্রত্যাহারের আবেদন জানান এনবিআর কর্মকর্তারা। তারা শাস্তির আশঙ্কায় রাজস্ব আদায় কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার শঙ্কার কথাও তুলে ধরেন। তখন অতীত ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে শাস্তি মওকুফের আশ্বাস দেন সরকারপ্রধান।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের আদেশে রাষ্ট্রপতির কাছে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তাদের শাস্তি মওকুফের কথা বলা হয়েছে। আন্দোলনে ‘সংগঠকের ভূমিকা’ পালনসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের মূল বেতন দুই ধাপ বা তার বেশি কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল।


২০২৫ সালে এনবিআরকে ভাগ করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব নীতি নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ গঠনে অধ্যাদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এর প্রতিবাদে কলম বিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আন্দোলনে নামেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আন্দোলনের মুখে ওই বছরের ২২ মে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে। ততদিন পর্যন্ত এনবিআর বিদ্যমান কাঠামোতেই কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

পরে তৎকালীন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু হয়। তাকে এনবিআর কার্যালয়ে অবাঞ্ছিতও ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা।

দাবি আদায়ে ২৮ জুন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু হলে আমদানি-রপ্তানিসহ এনবিআরের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এনবিআরের সেবাকে অত্যাবশ্যকীয় ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং কর্মীদের কাজে ফেরার আহ্বান জানায়।

পরে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর আন্দোলনের সামনের সারির নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তথ্যানুসন্ধান শুরু করে দুদক। নতুন সরকার গঠনের আগেই কয়েকজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর এবং অন্যদের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়।

আন্দোলনকারীদের নেতারা বলছেন, কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ২৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হওয়াকে আন্দোলনের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন তারা। বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এনবিআরের তিন সদস্য ও এক কর কমিশনারকেও সরকার চাকরিতে পুনর্বহাল করবে বলে তারা আশা করছেন।