৭ মাসে ৪৪১ পুলিশ মারধরের শিকার: পুলিশ সদর দপ্তর

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৩:৪৮ অপরাহ্ন, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৬:২৮ অপরাহ্ন, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের ৪৪১ সদস্য। অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত গড়ে প্রতি মাসে ৫১ জনের বেশি পুলিশ সদস্য হামলায় আহত হয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১৯ মাসে পুলিশের ওপর হামলায় আহত হয়েছেন মোট ১ হাজার ৪২ জন সদস্য। এর মধ্যে গত বছর আহত হয়েছিলেন ৬০১ জন।

চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি, ৮২ জন করে পুলিশ সদস্য হামলায় আহত হন। মার্চে আহত হন ৬৩ জন, এপ্রিলে ৬৬ জন, মে মাসে ৫৫ জন, জুনে ৫১ জন এবং জুলাইয়ে ৪২ জন।

পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ধরনও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোথাও হাতকড়াসহ আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে, কোথাও থানায় ঢুকে পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে আহত করা হচ্ছে। আবার সড়কে দায়িত্ব পালনের সময় হামলার শিকার হচ্ছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।

সর্বশেষ সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক আলতাব হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রাইভেট কারচালক জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদলের নেতা।

২০২৫ সালেও দায়িত্ব পালনকালে হামলার ঘটনা ছিল উল্লেখযোগ্য। ওই বছর জানুয়ারিতে ৩৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭, মার্চে ৯৬, এপ্রিলে ৫২, মে মাসে ৬২, জুনে ৪৪, জুলাইয়ে ৩৯, আগস্টে ৫১, সেপ্টেম্বরে ৪৩, অক্টোবরে ৬৯, নভেম্বরে ৪১ এবং ডিসেম্বরে ৪১ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে মহানগর পুলিশ ইউনিটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আহত হয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ৪২ সদস্য। ২০২৫ সালে ডিএমপির ৮৯ সদস্য হামলায় আহত হয়েছিলেন। রেঞ্জ পুলিশের মধ্যে ঢাকা রেঞ্জে আহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

শুধু অপরাধী ধরতে গিয়ে নয়, সাধারণ দায়িত্ব পালনকালেও হামলার শিকার হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। ২০২৫ সালের ১০ মার্চ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দায়িত্ব পালনের সময় ট্রাফিক পুলিশ সদস্য শাহীন হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে সমন্বয়ক পরিচয়ধারীদের বিরুদ্ধে। একই দিন সাভারে এক নারী কনস্টেবলকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়।

এর আগে ১ মার্চ যশোরে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক কনস্টেবল কে এম শরিফুল ইসলামের নাকে ঘুষি মেরে আহত করার অভিযোগ ওঠে রাজনৈতিক নেতা শাওন ইসলাম সবুজের বিরুদ্ধে।

গত বছরের ৫ অক্টোবর নরসিংদীতে সড়ক পরিবহনে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হন একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলামসহ আরও তিন পুলিশ কর্মকর্তাও সড়কে হামলার শিকার হয়েছেন।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের ওপর ধারাবাহিক হামলা বাহিনীর মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে এটি রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগের সক্ষমতার জন্যও উদ্বেগের বিষয়। পুলিশ দুর্বল হয়ে পড়লে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক আশরাফুল হুদা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশ এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। তাঁর মতে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে গিয়ে সদস্যদের উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন। এতে পুলিশ সদস্যরা সাহস পাবেন এবং নিজেদের অভিভাবকহীন মনে করবেন না।

সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদও দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল বা পিআরবি অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

তার ভাষায়, পুলিশকে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখার সাহস দিতে হবে। পুলিশ ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যার প্রভাব সমাজের সব স্তরে পড়বে।