সমঝোতা হয়নি, আবার মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১২:০৮ অপরাহ্ন, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৬:১১ অপরাহ্ন, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ম্যারাথন শান্তি আলোচনা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। উভয় পক্ষ চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ২১ ঘণ্টার আলোচনায় ইতিবাচক ফল না আসায় উভয় পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করছে।

দুই পক্ষের রেষারেষিতে আবারও যুদ্ধের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে ‘শেষ’ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ইরানে অস্ত্র সরবরাহ করলে চীনকেও সমস্যায় পড়তে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। এমনকি হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজকে আটক করারও ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। 

আলজাজিরা জানায়, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক উত্তেজনা আর না বাড়াতে দুদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আলোচনায় অগ্রগতির অভাবে হতাশা প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়া। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। আলাপে তারা যুদ্ধবিরতির অবস্থাসহ সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন।

ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাজ্য ও আরও কয়েকটি দেশ হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণকারী নৌযান পাঠাবে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্টকম শনিবার জানায়, তারা মাইন অপসারণের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

রয়টার্স লিখেছে, পাকিস্তান ত্যাগ করার আগে ইসলামাবাদে গতকাল সকালে সংবাদ সম্মেলন করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেখানে তিনি বলেন, ‘২১ ঘণ্টার আলোচনায় সমঝোতা হয়নি, এটি একটি দুঃসংবাদ। আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমি মনে করি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর। আমরা ফিরে যাচ্ছি। আমাদের রেডলাইনগুলো কী, তা আমরা খুব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি।’

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শনিবার শান্তিচুক্তির আলোচনা শুরু হয়। উচ্চ পর্যায়ের এ দীর্ঘ বৈঠকের পর উভয় পক্ষ লিখিত প্রস্তাব বিনিময় করে। পরে সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরান সরকার জানায়, ইসলামাবাদে দুই দেশের কারিগরি দল এখন বিস্তারিত প্রস্তাব ও ‘বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের খসড়া’ বিনিময় করেছে। কিছু বিষয়ে এখনও মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়েছে এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।

রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৮ মিনিটে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ‘এয়ারফোর্স টু’ উড়োজাহাজে চড়ে পাকিস্তান ছাড়েন। উড়োজাহাজে ওঠার সময় সিঁড়ির ওপর থেকে তিনি দায়িত্বরত পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হাত নেড়ে বিদায় জানান। পাকিস্তানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান– উভয় প্রতিনিধি দলই ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছে।

পাকিস্তান সফররত ইরানের প্রতিনিধি দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির ফার্স নিউজ এজেন্সি বলেছে, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু বিষয় দাবি করেছে, যা তারা যুদ্ধের মাধ্যমেও অর্জন করতে পারেনি। হরমুজ প্রণালি, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি ও আরও বেশ কিছু বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী শর্তগুলো তেহরান মেনে নেয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও ফিল্ড মার্শালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পাকিস্তান অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো স্পষ্টভাবে ইরানকে জানিয়েছে। তবে ইরান তাতে রাজি হয়নি।

ইরানের পরমাণু সক্ষমতা নিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন ভ্যান্স। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করে, সে জন্য ‘স্পষ্ট অঙ্গীকার’ প্রয়োজন। তবে সেটি এখনও প্রতীয়মান হয়নি। এমনটা হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে।

ভ্যান্স বলেন, ‘সহজ কথা হলো, আমাদের এমন একটি জোরালো প্রতিশ্রুতি দেখতে হবে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এমনকি দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম– এমন কোনো সরঞ্জাম বা প্রযুক্তিও তারা অর্জনের চেষ্টা করতে পারবে না।’

আলজাজিরা জানায়, ভ্যান্সের সংবাদ সম্মেলনের আগে একটি বিবৃতি দেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু দাবি অতিরিক্ত ও বেআইনি। ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে মেনে নেওয়ার ওপর আলোচনার সাফল্য নির্ভরশীল বলে তিনি জানান।