অবশেষে একসাথে-পর্ব:০১

কাজী ফরহাদ | প্রকাশিত: ১০:২৫ অপরাহ্ন, ০৪ জুলাই ২০২১

আমেরিকা থেকে গতকাল রাতে রাতুল এসেছে দেশে। আজ বিকেলে ঘুরতে বের হয়েছে। একটানা পাঁচ-বছর পর সে দেশে ফিরছে। সবকিছু কেমন যেন বদলে গেছে। রাতুল গাড়ি নিয়ে বের হয়েছে। চারপাশ দেখছে, কিন্তু পাঁচ-বছর আগের সেই মনোরম পরিবেশ এখন নেই। কেমন যেন নোংরা লাগছে। আমেরিকা থাকার কারনে নিজের দেশের পরিবেশ টা ভালো লাগছে না। গাড়ি ড্রাইভ করে রাতুল তার পছন্দের এক জায়গায় গেল। বলতে গেলে ছোটবেলা থেকেই বেশ পছন্দের এই জায়গাটা।

চারদিকে গাছ-গাছালিতে ঘেরা। বসার জন্য আলাদা সিঁড়ি রয়েছে। গাড়ি থেকে নেমে সেখানকার সিঁড়িতে গিয়ে বসল। সেখানে একটা কদম গাছ রয়েছে। রাতুল লক্ষ্য করে দেখল, এখনো সেই কদম গাছ আছে। কদম কাছ থেকে আরেকটু দূরে গেলেই পাওয়া যায় একটি নদী। কদম গাছের কাছে গিয়ে, কদম তলায় কিছুক্ষন বসল। তারপর নদীর কাছে চলে গেল। নদীর পাড়ে বসে বসে, নদী দিয়ে যাওয়া পানি দেখছে। আর মনে মনে ভাবছে, নদীর স্রোতের মতো আমাদের জীবন, নদীর পানি গেলে যেমন ফিরে আসেনা। ঠিক তেমনি করে আমাদের জীবন থেকে একটি দিন চলে গেলে সেই দিন আর ফিরে আসে না।

হঠাৎ চেনা চেনা কণ্ঠে কে যেন বলে উঠল,
” কেমন আছেন’?
রাতুল চমকে যায়! ঘাড় ফিরে পেছনে তাকায়। পেছনে তাকিয়ে দেখে, নীলা দাঁড়িয়ে আছে। অবাক হয়েছে খানিকটা। জিজ্ঞেস করে,
” তুমি এখানে’?
নীলা আবার বলল,
” সে প্রশ্ন তো আমারও! তুমি এখানে কী করছ’?
” আসলে অনেক দিন পর দেশে এসেছি! তাই ভাবলাম জায়গাটা একবার দেখে যাই।
” ওহ আচ্ছা! আমি প্রতিদিন এখানে আসি।
” ওহ আচ্ছা! কিন্তু কেন’?
নদীর ওপারে তাকিয়ে নীলা জবাব দেয়,
” এই যায়গা জুড়ে আমার কতো স্মৃতি।
কথা বলা থামিয়ে রাতুল বলল,
” আচ্ছা বাদ দাও! এখন বলো, কেমন আছ’?
” কেমন আছি, সে ‘ তো নিজের চোখেই দেখতে পারছেন। ভালো না থাকলে কী এখানে আসতাম।
” আচ্ছা আন্টি,আংকেল, জেরিন! সবাই কেমন আছে?
” আমাকে জিজ্ঞেস করছ কেন? তুমি নিজে বাসায় গিয়ে দেখে আসতে পারনা।
” আচ্ছা ঠিক আছে! আন্টিকে বলে রেখ আমি একদিন আসব বাসায়।

প্রিয় পাঠক/পাঠিকা, আপনারা হয়তো ভাবছেন, রাতুল এবং নীলার মাঝে কী সম্পর্ক। কীভাবে দু’জন দু’জনাকে চিনে। তাহলে শুনেন, রাতুল এবং নীলা দু’জন দু’জনাকে একসময় ভালো-বাসতো। তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। মুলত তাদের প্রেম কাহিনী নিয়ে আমার এই গল্প লেখা!

পাঁচ বছর আগের কাহিনী,।
নীলা ক্লাস টেনে পড়াশোনা করে। রাতুল ইইন্টারমিডিয়েট শেষ করে, চার বছরের ডিপ্লোমা কোর্চে ভর্তি হয়েছে। একদিন বাসে করে, রাতুল যেন কোথায় যাচ্ছিল। সামনের স্টেশনে এসে বাস দাঁড় করালো। সেখান থেকে একটি মেয়ে উঠল বাসে। উঠে ওদিক-সেদিক তাকায় কিন্তু কোথাও সিট নেই। মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে রইলো। বাসের হেল্পারকে জিজ্ঞেস করল,
” দাদা বাসে যে সিট নেই! আমি বসব কোথায়?
বাসের হেল্পার বলল,
” দিদি, সিট নেই! যদি দাঁড়িয়ে যেতে পারেন, তাহলে বাসে থাকুন।
” আচ্ছা ঠিক আছে! সমস্যা নেই।
রাতুল লক্ষ্য করে দেখল মেয়েটে দাঁড়িয়ে আছে। নিজের সিট থেকে উঠে মেয়েটির কাছে গিয়ে বলল,
” আপনি গিয়ে আমার সিটে বসতে পারেন। আপনার দাঁড়িয়ে যেতে কষ্ট হবে।
মেয়েটি বলল,
” না ভাইয়া আমি ঠিক আছি। বলার জন্যে ধন্যবাদ।
রাতুল বলল,
” কোনো কথা না বলে চুপচাপ বসেন গিয়ে।
মেয়েটিরও দাঁড়িয়ে যাওয়ার অভ্যাস নেই। সেজন্য আর কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ সিটে গিয়ে বসলো। রাতুল দাঁড়িয়ে আছে। অবশ্য কষ্ট হচ্ছে না। রাতুলের দাঁড়িয়ে যাওয়ার অভ্যাস আছে। স্কুল, কলেজ লাইফে কতো দাঁড়িয়ে গেছে তার হিসেব নেই। স্টেশনে গিয়ে রাতুল বাস থেকে নেমে কোথায় উধাও হয়ে যায়, আর খুঁজে পায়নি মেয়েটি।

বড্ড মন খারাপ হয়েছে। মেয়েটি ভাবলো, ছেলেটা আমার জন্যে কতো কষ্ট করল আমাকে হেল্প করল, অথচ আমি একটা থ্যাংকস দিলাম না। তারপর থেকে দু’দিন অনেক খুঁজেছে! কিন্তু কোথাও পায়নি। তিনদিন পর বান্ধবী, রিপা, লায়লা এবং রুহিকে নিয়ে একটি রেস্টুরেন্টে যায় মেয়েটি। মেয়েটির নাম ছিলো নীলা।

রেস্টুরেন্টে যাওয়ার পর অর্ডার করার জন্যে ওয়েটারক ডাক দেয়, খাবার অর্ডার করে,তারপর পর খাবার নিয়ে আসা হয়। নীলা তাকিয়ে দেখে রাতুল, বেশ খানিকটা চমকে বলল,
” আরে ভাইয়া আপনি! এখানে জব করেন। আর আমি সারা সারা শহর খুঁজে বেড়াচ্ছি।
” ওহ তাই নাকি? তো খুঁজেন কেন!
” আসলে সেদিন আপনি আমাকে নিজের সিট দিয়ে কতোবড় উপকার করেছেন। অথচ একটা থ্যাংকস দিতে পারিনি।
” ওহ আচ্ছা এই ব্যাপার। থ্যাংকস লাগবে না। সেদিন আমি মানবতার খাতিরে করেছি। আপনি না হয়ে অন্যকেউ যদি হতো তবুও আমি এই কাজ করতাম।

দু’জনের কথা বলে দেখে, নীলার বান্ধবীরা জানতে চাইলো ঘটনা কী! নীলা বান্ধবীদের বলল, কোনো প্রশ্ন না করে শুধু দেখে যাওয়ার জন্যে।

রেস্টুরেন্টের টেবিলের উপর রাখা টিস্যুর বক্স থেকে একটা টিস্যু বের করে, তার উপর নাম আর নাম্বার লিখে টেবিলের উপরে রেখে যায় নীলা। রাতুল টিস্যু হাতে নিয়ে দেখল তারপর ফেলে দিলো। পরের দিন আবার আসল নীলা রেস্টুরেন্টে। এসে দেখে রাতুল নেই রেস্টুরেন্টে। ম্যানেজারের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে,
” স্যার গতকাল যে আমাদের খাবারগুলো একজন ওয়েটার দিয়েছিলেন উনি কী আসেন নি আজ?
ম্যানেজার বললেন,
” কোন ওয়েটার! নাম কী?
” নাম জানিনা! তবে উনার উচ্চতা পাঁচ ফিট্ সাত ইঞ্চি হবে। গায়ের রং শ্যামলা।
” ওহ আচ্ছা আপনি কী রাতুল স্যারের কথা কথা বলছেন, উনি তো ওয়েটার না! এই রেস্টুরেন্টের মালিক।
” ওহ মাই গড! আমি আরো কতকিছু ভেবে বসেছি।
” সমস্যা নেই ম্যাম! ভুল তো মানুষেরই হয়। আর রাতুল স্যার আজ আসেননি।
” আচ্ছা উনাকে এখন কোথায় পাওয়া যাবে?
” হুম! বাসায় গেলেই পাবেন।
” আচ্ছা উনার বাসার এড্রেস কী দেওয়া যাবে?
” হুম অবশ্যই।

ম্যানেজারের কাছ থেকে বাসার ঠিকানা নিয়ে নীলা যায় রাতুলের বাসায়। রাতুলের বাসার দরজায় ঠকঠক শব্দের আওয়াজ শুনে, রাতুলের বাবা রহমত আলী দরজা খুলে দেখেন, যুবতী মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। জিজ্ঞেস করলেন,
” কে আপনি কাকে চান?
নীলা বলল,
” আসসালামু আলাইকুম আংকেল। আমি নীলা! রাতুলের কাছে এসেছি।
” ওহ আচ্ছা ভেতরে এসো। রাতুল কী হয় তোমার?
” রাতুল আর আমি বন্ধু।
রান্নাঘর থেকে রেজিয়া খাতুনের গলার আওয়াজ!
” কে এসেছে গো! রাতুলের বাবা।
রহমত আলী বললেন,
এসে দেখ কে এসেছে।
রেজিয়া খাতুন রান্নাঘর থেকে এসে দেখেন, যুবতী এক মেয়ে। রাতুলের মা’কে দেখে নীলা সালাম করে। সালামের উত্তর দিয়ে রেজিয়া খাতুন বললেন,
” কে মা তুমি?
“আন্টি আমি নীলা! রাতুলের বন্ধু।
রেজিয়ে খাতুন হেসে ফেললেন। তারপর বলেন,
” বন্ধু নাকি অন্যকিছু?
নীলা লজ্জা পেয়ে বলে,
” হ্যাঁ আমরা দু’জন দু’জনাকে ভালোবাসি। দু’দিন ধরে রাতুলের সঙ্গে কথা হয় না। আসলে আমাদের ঝগড়া হয়েছিল। সেজন্য অভিমান করেছে।

চলবে…….

পরবর্তী খবর

বিস্ফোরণে আগারগাঁওয়ে একই পরিবারের ৬ জন দগ্ধ

| প্রকাশিত: ৭:০৯ অপরাহ্ন, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের একটি বাসায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় নারী শিশুসহ একই পরিবারের ৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

দগ্ধরা হলেন— মো. জলিল মিয়া (৫০), আনেজা বেগম (৪০), আসিফ মিয়া (১৯), সাকিব মিয়া (১৬), মনিরা (১৭), ও ইভা (৬)।

তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা মেয়ে জামাই আফরান মিয়া জানান, আমার শ্বশুর জলিল মিয়া আগারগাঁওয়ের পাকা মার্কেট ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বাম পাশের একটি বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। আজ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আকস্মিক গ্যাসের লাইন বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তারা ছয়জন দগ্ধ হন।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, সকালে নারী ও শিশুসহ ছয়জনকে দগ্ধ অবস্থায় ঢামেকের বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে তাদের চিকিৎসা চলছে।

পরবর্তী খবর

কড়াইল বস্তিতে আগুনের ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টার উদ্বেগ ও সমবেদনা

| প্রকাশিত: ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, ২৬ নভেম্বর ২০২৫



ঢাকা, ২৫ নভেম্বর ২০২৫: রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিপুলসংখ্যক ঘর পুড়ে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। 


তিনি এ ঘটনায় আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।


প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “কড়াইল বস্তির অগ্নিকাণ্ডে যেসব পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছেন, তাদের দুঃখ-কষ্ট আমাদের সকলের বেদনার। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করবে”


তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

পরবর্তী খবর

কড়াইল অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিতের আশ্বাস প্রধান উপদেষ্টার

| প্রকাশিত: ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিপুলসংখ্যক ঘর-বাড়ি পুড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এ ঘটনায় অসংখ্য পরিবারের নিঃস্ব হয়ে যাওয়াকে ‘সকলের জন্য বেদনাদায়ক’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টা আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তিনি বলেন, ‘কড়াইল বস্তির অগ্নিকাণ্ডে যেসব পরিবার গৃহহীন হয়েছেন, তাদের দুঃখ-কষ্ট আমাদের সকলের জন্য বেদনার। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করবে।’

তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

  1. Bss
পরবর্তী খবর

ভূমিকম্পে যেসব ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানাল ফায়ার সার্ভিস

| প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ন, ২১ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকাসহ সারা দেশেই অনুভূত হয়েছে ভূমিকম্প। এরই মধ্যে ভূমিকম্পে একটি ভবনের রেলিং ভেঙে পড়ে তিনজন ও দেয়াল ধসে এক শিশুর মৃত্যুর খবর মিলেছে। সারা দেশে ভবন হেলে পড়া, দেয়াল ধসে পড়া, ভবনের দেয়ালে ফাটলের মতো আরও নানা খবর মিলেছে।

এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিসও বেশকিছু কল পেয়েছে ভূমিকম্পের পরে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় আতঙ্কই বেশি কাজ করেছে বলে উঠে এসেছে।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টা প্রেস উইং ফায়ার সার্ভিস থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য গণমাধ্যমে পাঠিয়েছে। এ দিন সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত করে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নরসিংদীর মাধবদীতে উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭।


প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পর ঢাকার আরমানিটোলার কসাইটুলীতে একটি আট তলা ভবন ধসে পড়ার খবর পেয়ে সেখানে যায় সদরঘাট ও সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট। সেখানে দেখা যায়, ভবনের কোনো ক্ষতি হয়নি। পলেস্তারার কিছু আলগা অংশ ও কিছু ইট খসে পড়েছিল। ফায়ার সার্ভিস কাউকে হতাহত পায়নি।

খিলগাঁওয়ে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে পাশের দোতলা একটি ভবনে ইট ছুটে পড়লে একজন আহত হন। ফায়ার সার্ভিস গিয়ে জানতে পারে, স্থানীয়রা আগেই তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেছে।

ঢাকার সূত্রাপুরের স্বামীবাগে আট তলা একটি ভবন হেলে অন্য একটি ভবনের ওপর পড়ার খবর পাওয়া গেছে। সূত্রাপুর ফায়ার স্টেশন ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ করছে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে একটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। স্যাটেলাইট ফায়ার স্টেশন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কোনো ক্ষয়ক্ষতি পায়নি।

সাত তলা একটি ভবন হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে কলাবাগানের আবেদখালী রোডেও। মোহাম্মদপুর ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট সেখানে গিয়ে কাজ করেছে। ফায়ার সার্ভিস বলছে, সেখানে কেউ হতাহত হননি। ভবনটিও ঠিক আছে। লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ফোন করেছিলেন ফায়ার সার্ভিসকে।

এদিকে বারিধারা এফ ব্লকের ৫ নম্বর সড়কে ও মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি বাড়িতে আগুনের তথ্য পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস। দুই স্থানেই ফায়ার সার্ভিসের দুটি করে ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করছে। ভূমিকম্পের জন্য আগুন লেগেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সবাইকে শান্ত থাকতে বলা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গুজবে কান না দিয়ে সরকার সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। জনগণের নিরাপত্তায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।





পরবর্তী খবর

লিবিয়ার উপকূলে অভিবাসী নৌকাডুবি, ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু

| প্রকাশিত: ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার উপকূলে ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টাকারী অভিবাসীদের বহনকারী দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় চারজন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার আল-খোমস উপকূলে বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় ১০০ জনকে বহনকারী দুটি নৌকা উল্টে যাওয়ার খবর পায় লিবিয়ান রেড ক্রিসেন্ট।

রোববার (১৬ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার আল-খোমস উপকূলে প্রায় ১০০ জনকে বহনকারী দুটি অভিবাসী নৌকাডুবির ঘটনায় কমপক্ষে চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে লিবিয়ান রেড ক্রিসেন্ট।

সংস্থাটি জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে আল-খোমসের তীরের কাছে উল্টে যাওয়া দুটি নৌকার খবর তারা পায়। প্রথম নৌকাটিতে ছিলেন বাংলাদেশের ২৬ নাগরিক। তাদের মধ্যে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আর দ্বিতীয় নৌকাটিতে ছিলেন মোট ৬৯ জন। এর মধ্যে দুজন মিসরীয় এবং বাকি ৬৭ জন সুদানি নাগরিক। তাদের মধ্যে আটজন শিশু।

পরবর্তী খবর

পার্ক করে রাখা স্কুলবাসে আগুন, দগ্ধ হলেন ঘুমন্ত চালক

| প্রকাশিত: ৪:২১ অপরাহ্ন, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় সড়কের পাশে পার্ক করে করে রাখা একটি স্কুলবাসে কে বা কারা আগুন দিয়েছে। এ সময় বাসের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা চালক দগ্ধ হয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে শিবালয় উপজেলার ফলসাটিয়া এলাকায় এ ঘটনায় ঘটে। দ্য হলি চাইল্ড স্কুল ও কলেজের স্কুলবাসটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে রাখা ছিল।

পুলিশ জানায়, অন্যান্য দিনের মতো স্কুলবাসটি মহাসড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা ছিল। চালক মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বাড়াইভিকরা গ্রামের বাসিন্দা তাবেজ খান (৪৫) ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। দিবাগত রাত দেড়টার দিকে দুর্বৃত্তরা বাসটিতে আগুন দেন।


শিবালয় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চক্রবর্তী বলেন, মুহূর্তেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বাসে ঘুমিয়ে থাকা চালক দগ্ধ হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। চালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

দগ্ধ তাবেজ খানকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে প্রথমে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের পাঁচজন নিহত

| প্রকাশিত: ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৫

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়ায় চট্টগ্রামমুখী যাত্রীবাহী মারছা বাস ও কক্সবাজারমুখী একটি মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুজন।

বুধবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী হাঁসের দিঘি সেনাক্যাম্পের দক্ষিণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সেনাবাহিনী ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চকরিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ওসি মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে মিনিবাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, নিহত ২

| প্রকাশিত: ৩:৫৪ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের টেকনাফে মিনিবাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এসময় বাস উল্টে আহত হয়েছেন অন্তত ২০জন।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) রাতে টেকনাফ-কক্সবাজার হাইওয়ের হ্নীলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- হ্নীলা ইউনিয়নের ওয়াব্রাং এলাকার নাগুমিয়ার ছেলে মোটরসাইকেল চালক জাকির হোসাইন জেকি এবং লেদা লামারপাড়ার নাজুর ছেলে মিনিবাসের হেলপার নুরুল ইসলাম মুন্না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মিনিবাসটি টেকনাফ থেকে কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল। পথে মোটরসাইকেলের সামনে হঠাৎ একটি টমটম এসে পড়লে মোটরসাইকেল চালক সেটি এড়াতে ডান দিকে মোড় নেওয়ার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিপরীত দিক থেকে আসা মিনিবাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সজোরে ধাক্কা লাগে। সংঘর্ষের ফলে মিনিবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই জেকি ও মুন্না নিহত হন।

নয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল আবচার বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনের লাশ উদ্ধার করেছে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এব্যাপারে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পরবর্তী খবর

মেট্রোরেলে দুর্ঘটনা: নিহতের পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রুল

| প্রকাশিত: ৪:১৪ অপরাহ্ন, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে নিহত হওয়া ব্যক্তির পরিবারকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে মেট্রোরেলে সার্বিক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও অ্যাডভোকেট তানভীর আহমেদ।

এর আগে মেট্রোরেল ও সব ফ্লাইওভারের বিয়ারিং প্যাডের গুণগত মান নির্ণয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

রিটে মেট্টোরেল ও সব ফ্লাইওভারে ব্যবহার করা বিয়ারিং প্যাডের গুণগত মান ঠিক আছে কিনা, তা যাচাই করতে একটি কমিটি গঠন করতে বলা হয়। এছাড়া মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে নিহত হওয়া ব্যক্তির পরিবারকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে আরেকটি রিট করা হয়।

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে আবুল কালাম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। ২৬ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঈশরপাটি গ্রামে

পরবর্তী খবর

মেট্রোরেলের পিলার থেকে ভারী বস্তু পড়ে প্রাণ গেল পথচারীর

| প্রকাশিত: ৪:৫১ অপরাহ্ন, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রো লাইনের বিয়ারিং প্যাড (ভারী বস্তু) খুলে পড়ে ঘটনাস্থলেই এক পথচারীর প্রাণহানি ঘটেছে।

রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ফার্মগেটে স্টেশনের কাছে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

নিহত পথচারীর নাম আবুল কালাম। তার বাড়ি শরীয়তপুরে।

এ ঘটনায় দুজন টং দোকানদারও আহত হয়েছেন। তাদের দোকানের সামনের অংশে বস্তুটি পড়েছিল।

এই ভারী বস্তুটি দেখতে স্ল্যাবের মতো। এটি মেট্রো লাইনের বিয়ারিং প্যাড বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বস্তুটি ওপর থেকে পড়েছে। তবে কোথা থেকে পড়েছে, তা কেউ দেখতে পাননি। ওই পথে মেট্রো লাইন ছাড়া ওপর থেকে পড়ার মতো আর কোনো স্থাপনা ছিল না।

একজন দোকানদার জানান, নিহত পথচারী হেঁটে যাচ্ছিলেন; এ সময় ওপর থেকে ওই ভারী বস্তুটি পড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনা প্রসঙ্গে উপস্থিত মোস্তাফিজুর রহমান রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘কৃষিবিদ মিলনায়তনে আমাদের একটি অনুষ্ঠান চলছিল। সোয়া ১২টার দিকে বিকট শব্দে পুরো ভবন কেঁপে ওঠে। ভেবেছিলাম হয়তো টায়ার ফেটেছে। পরে বেরিয়ে দেখি ঘটনাস্থলে একজন পড়ে আছেন। ভারী বস্তুটি তার মাথার ওপর পড়েছে। কেউ কেউ বলছেন, ভারি বস্তটি প্রথমে একটি গাড়ির ওপর পড়ে তারপর পথচারীর মাথায় পড়েছে। কিন্তু আমি কোনো গাড়ি দেখতে পাই নি।’