ধামইরহাটে কবি এস এম আব্দুর রউফ এর ৯ম গ্রন্থ ‘গীতিমঞ্জরী’র সৌজন্য সংখ্যা প্রশাসনে হস্তান্তর

মো. আবু মুছা স্বপন, নওগাঁ প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৫:৫২ অপরাহ্ন, ১৩ মার্চ ২০২২

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর ধামইরহাটে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)’র বিশিষ্ট গীতিকার, ধামইরহাট সরকারী এম এম কলেজের সহকারী অধ্যাপক কবি এস এম আব্দুর রউফ এর ৯ম গ্রন্থ ‘গীতিমঞ্জরী’ হস্তান্তর করা হয়েছে। ১৩ মার্চ বিকেল ৪ টায়  উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে ইউএনও গনপতি রায়ের হাতে সৌজন্য সংখ্যা তুলে দেন কবি এস এম আব্দুর রউফ। এ সময় সরকারী এম এম কলেজের প্রভাষক ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল হক সরকার শিবলী, প্রভাষক আবু হানিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য কবি এস এম আব্দুর রউফ ‘বিভ্রান্ত পৃথিবী ও বিক্ষুব্ধ জীবন, গীতিরত্ন, রৌদ্রনীল মহাকাশ, বিষ পিয়ালায় শেষ চুমুক, প্রেম ও ফুল, উঃ! কী বিবর্ণ মহাপৃথিবী, বিচ্ছিন্ন রচনাবলী, বিশ্বলোকে-আমার পদার্পণ ও সর্বশেষ গ্রন্থ ‘গীতিমঞ্জরী’ প্রকাশ করে দেশে খ্যাতি অর্জন করেছেন। ইতিমধ্যেই তিনি সাহিত্যক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য  ২০১০ সালে ‘শিশুকবি রকি’ সাহিত্য পুরস্কার ও ২০১৬ সালে ‘প্রেরণা’ সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১৭ সালে নওগাঁ লেখক পরিষদ কর্তৃক ‘বরেন্দ্রভূমি’ সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

পরবর্তী খবর

চীনে পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা

| প্রকাশিত: ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, ২৭ মার্চ ২০২৫

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চার দিনের সরকারি সফরে চীনের হাইনান পৌঁছেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইট আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় ৪টা ১৫ মিনিটে হাইনানের কিউনহায় বাও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বেইজিংয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম এবং হাইনান প্রদেশের ভাইস গভর্নর বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টাকে অভ্যর্থনা জানান।

এর আগে অধ্যাপক ইউনূস ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটটি আজ দুপুর ১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি হচ্ছে অধ্যাপক ইউনূসের প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর।

পরবর্তী খবর

২৫ মার্চ হানাদার বাহিনী বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল: প্রধান উপদেষ্টা

| প্রকাশিত: ৩:৫৯ অপরাহ্ন, ২৫ মার্চ ২০২৫

আজ ২৫ মার্চ, ‘গণহত্যা দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সোমবার (২৪ মার্চ) এক বাণীতে বলেছেন, ‘১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ সারাদেশে বিশ্বের বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। তিনি দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে সেই কালরাতের সকল শহীদকে স্মরণ করে বলেন, নারকীয় এই হত্যাযজ্ঞে জাতি আজও শোকাহত।’

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘একাত্তরের মার্চের দিনগুলোতে বাংলাদেশ যখন আন্দোলনে উত্তাল, তখন ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যেই স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া গোপনে ঢাকা ত্যাগ করে। সেদিন মধ্যরাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ পরিচালনা করে ঘুমন্ত-নিরস্ত্র মানুষের ওপর ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ চালায়।’

‌‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা এবং রাজারবাগসহ সারা দেশে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হানাদার বাহিনীর অতর্কিত হামলায় শহীদ হন ছাত্র-শিক্ষক, পুলিশ ও সেনা সদস্যসহ হাজারো নিরপরাধ মানুষ। তাঁদের আত্মদানের পথ ধরেই দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করেছি কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা পরবর্তী যে বাংলাদেশ আমরা চেয়েছিলাম, সে বাংলাদেশে পতিত স্বৈরাচারের শাসনামলে মানুষের কোনো মৌলিক অধিকার ছিল না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার বীরত্বে জাতি স্বৈরাচারের অত্যাচার নিপীড়নের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে। একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে চায়।’

২৫ মার্চের কালরাতে সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে- গণহত্যা দিবসে এই আমাদের অঙ্গীকার।’

পরবর্তী খবর

প্রধান উপদেষ্টা মঙ্গলবার স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করবেন

| প্রকাশিত: ১১:০৩ অপরাহ্ন, ২৪ মার্চ ২০২৫

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ২৫ মার্চ মঙ্গলবার স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করবেন।

ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই পদক বিতরণ করা হবে।

আজ তথ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ২০২৫ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন। গত ১১ মার্চ রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের তালিকার প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

যেসব ব্যক্তি এবার স্বাধীনতা পুরুস্কার পাচ্ছেন তারা হলেন- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর), সাহিত্যে মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে নভেরা আহমেদ (মরণোত্তর), সমাজসেবায় স্যার ফজলে হাসান আবেদ (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতিতে মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান ওরফে আজম খান (মরণোত্তর), শিক্ষা ও গবেষণায় বদরুদ্দীন মোহাম্মদ উমর এবং প্রতিবাদী তারুণ্যে আবরার ফাহাদ (মরণোত্তর)।

পরবর্তী খবর

ঈদের নামাজ শেষে সুলতানি আমলের মতো আনন্দ মিছিল হবে: উপদেষ্টা আসিফ

| প্রকাশিত: ১১:৪১ অপরাহ্ন, ২৩ মার্চ ২০২৫

ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে সুলতানি ও মোঘল আমলের রীতি অনুযায়ী আনন্দ মিছিল হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এই মিছিলে অংশ নিতে নগরবাসীকে ‘আমন্ত্রণ’ জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৩ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন উপদেষ্টা। ঈদ আয়োজন যেন ব্যক্তি বা পরিবারের গণ্ডিতে আবদ্ধ না থেকে সামাজিকতায় রূপান্তর করা যায়, সেই ভাবনা থেকেই ঈদের আনন্দ মিছিল আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন বলে জানান তিনি।

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ঈদকে আমরা নতুনভাবে উদ্‌যাপন করতে চাই। যতই দিন যাচ্ছে, ঈদ আয়োজন সামষ্টিকতা থেকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আয়োজনে পরিণত হচ্ছে। ঈদের দিনে দেখা যায়, আমাদের বর্তমান জেনারেশনের অনেকে টিভি দেখে বা ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিচ্ছি। এ জন্য উত্তর সিটির উদ্যোগে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে কেন্দ্রীয়ভাবে ঈদ উদ্‌যাপন করছি।

ঈদ আয়োজনে প্রাচীন ঐতিহ্যের সংমিশ্রণের কথা জানিয়ে আসিফ বলেন, গ্রামে ঈদগাহের পাশে যেমন ছোট করে মেলা থাকে, ঠিক তেমনি মেলার আয়োজন থাকবে সেখানে। শিশু-কিশোররা মেলায় অংশ নিতে পারবে। একইসঙ্গে পুরাতন ঐতিহ্য সুলতান আমল ও আঠারো শ শতাব্দীর সময়ে ঈদের নামাজের পরে ঈদের মিছিল হতো। এই ঐতিহ্যটিকে আমরা আবার ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছি।

সবশেষে ঈদের দিন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে বলে জানান উপদেষ্টা আসিফ। এই আয়োজনে উপদেষ্টা নগরবাসীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, আসুন, আমরা একসঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি। ঈদের মিছিলে অংশগ্রহণ করি।

উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ঐতিহ্যবাহী জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই ময়দানে মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও উত্তর ঢাকার লোকজন আসতে পারেন না। তাই উত্তর সিটির উদ্যোগে এই আয়োজন। সেখানে ঈদের আনন্দ মিছিল ও ঈদ মেলায় দক্ষিণ সিটির লোকজনও নামাজ শেষে অংশ নিতে পারবেন।

ভবিষ্যতে এই আয়োজন সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। বলেন, এ বছর সময় স্বল্পতার কারণে শুধু রাজধানী ছাড়া সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে আয়োজন করতে পারছি না। আমাদের আহ্বান থাকবে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে কেউ যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে আয়োজন করতে চায় তবে সরকারের সব প্রতিষ্ঠান তাদের সহযোগিতা করবে। তবে আগামী বছর থেকে আরও বড় পরিসরে একটি জাতীয় প্রোগ্রামের মতো করে সারা দেশেই এটি আয়োজন করতে চাই।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাশক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, পুরাতন বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণে সকাল ৮টায় একটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। মাঠটি যেহেতু অনেক বড় তাই একসঙ্গে কয়েক লাখ মানুষ সেখানে ঈদের নামাজে অংশ নিতে পারবেন। ঈদের মাঠে নারীদের নামাজ আদায়ের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে। আর ঈদের আনন্দ মিছিলকে ঐতিহ্যবাহী করতে সেখানে হাতি, ঘোড়ার সঙ্গে ব্যন্ডপার্টির অংশগ্রহণ থাকবে।

পরবর্তী খবর

বিসিএস নবম গ্রেডের সমান বেতন-ভাতা সাংবাদিকতায় এন্ট্রিলেভেলে রাখতে বলা হয়েছে--সংস্কার কমিশনের প্রধান

| প্রকাশিত: ১০:৫৮ অপরাহ্ন, ২২ মার্চ ২০২৫

বিসিএস নবম গ্রেডের সমান বেতন-ভাতা সাংবাদিকতায় এন্ট্রিলেভেলে রাখতে বলা হয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়েছে। এতে এক মালিকের একাধিক সংবাদমাধ্যম না রাখা এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষায় একটি আইনের সুপারিশ করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার হাতে প্রতিবেদন তুলে দেন কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ।

পরে তিনি যমুনার সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেন, ‘গণমাধ্যমের মালিকানায় সমস্যা রয়ে গেছে। অনেক সংবাদমাধ্যমের নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু মালিকানায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। আমরা বলেছি ক্রস ওনারশিপ বাতিল করতে হবে। একই মালিকের একাধিক সংবাদমাধ্যম থাকতে পারবে না। একটিকে বেছে নিতে হবে মালিককে। সেক্ষেত্রে অন্যগুলোর মালিকানা হস্তান্তর করতে হবে অথবা যেটি সবচেয়ে শক্তিশালী তার সঙ্গে একীভূত করতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরাও যাতে কোনো সমস্যায় না পড়েন সেটিও বলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘একই ব্যক্তি টেলিভিশন এবং সংবাদপত্রের মালিকানা নিতে পারে না যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশে এমন বিধান আছে।’

তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের ইতিহাস পর্যালোচনা করে কোথায় কোথায় ত্রুটি রয়েছে তা বের করার চেষ্টা করেছি। টেলিভিশন, সংবাদপত্র, রেডিও ও অনলাইনে বিভিন্ন রকমের সমস্যা রয়েছে, তবে সাংবাদিকতার সমস্যা সব জায়গায় একই ধরনের।’

টেলিভিশনের আবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবকটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদনের আবেদন দেখছি, কোথাও জনগণের কথা বলা হয়নি। সবাই সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরতে চেয়েছে, ইতিবাচক সংবাদ-কন্টেন্ট দেখাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সারা দুনিয়ার স্ট্যান্ডার্ড দেখেছি আমরা। সে অনুযায়ী সুপারিশগুলো করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বেতারের স্বায়ত্তশাসনের সুপারিশ করা হয়েছে জানিয়ে কামাল আহমেদ বলেন, ‘স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান এই দুটি সংবাদ মাধ্যম চালাবে, এর জন্য একটি সম্প্রচার সংস্থা করার কথা বলেছি।’

কামাল আহমেদ বলেন, ‘সাংবাদিকতার পথে বাধা তৈরি করে এমন যেসব আইন ও সরকারি নীতিমালা রয়েছে সে সম্পর্কে সুপারিশ দিয়েছি। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। আমরা সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের প্রস্তাব রেখেছি। এমনকি আমরা আইনটি কেমন হতে পারে তার জন্য একটি খসড়া অধ্যাদেশ যুক্ত করে দিয়েছি। উপমহাদেশে পাকিস্তান ও ভারতে এমন আইন পার্লামেন্টে বিবেচনাধীন রয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এরই মধ্যে এই আইন করেছে। সেখানে চাইলেও সাংবাদিকের ফোন তল্লাশি করতে পারে না সরকারি বেসরকারি কেউ।’

বিসিএস নবম গ্রেডের সমান বেতন-ভাতা সাংবাদিকতায় এন্ট্রিলেভেলে রাখতে বলা হয়েছে। সারা দেশে এটি কার্যকর করতে হবে। ঢাকায় যারা থাকেন তাদের জন্য আলাদা ভাতা থাকবে এখানে। প্রথমে এক বছরের শিক্ষানবিশকাল পার করেই তারপর স্থায়ী সাংবাদিক হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। আর ওয়েজবোর্ড নিয়ে মামলা চলমান, এই অবস্থায় কীভাবে এটি নিয়ে কাজ করা যায় তাও বলা হয়েছে।’ 

কামাল আহমেদ বলেন, ‘সাংবাদিকদের বিজ্ঞাপন এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে দেওেয়া যাবে না। সাংবাদিকের কাজ সাংবাদিকতা করা।’

ডিএফপির মিডিয়া তালিকায় বিস্তর সমস্যার কথা তুলে ধরেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান। তিনি বলেন, ‘আজকের দিনে ঢাকায় এক কোটি ৫১ লাখ পত্রিকা ছাপা হয়েছে সরকারি হিসাব মতে। কিন্তু বাস্তবে ১০ লাখের বেশি হবে না। তাহলে এই এক কোটি ৪১ লাখ পত্রিকার হিসাব কেন এলো। সরকারি বিজ্ঞাপন নেওয়ার জন্য এসব কারসাজি করা হয়েছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি ডিএফপির তালিকায় ছয়শর বেশি পত্রিকা রয়েছে, অথচ ৫২টি পত্রিকা বিক্রি হয় ঢাকায়। দুটি প্রতিষ্ঠান সংবাদপত্র সরবরাহের কাজ করে ঢাকায়। তাদের হিসাব দেখলেই অনায়াসে এই তথ্য পাওয়া যায়।’

টেলিভিশনের টিআরপির ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়মের চিত্র উল্লেখ করেন কামাল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘টিআরপি কত তা দেখার জন্য আট হাজার ডিভাইস বসানোর কথা সারা দেশে। ২০০ ডিভাইস বসানো হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখার সময় আরও একশ বসানো হয়েছে। এগুলো বসাতে হবে এবং সবগুলো যাচাইযোগ্য হতে হবে। যাচাই শুধু সরকার বা ওই টেলিভিশন করতে পারবে না, তৃতীয় পক্ষ দিয়ে যাচাইয়েরও সুযোগ থাকতে হবে। আর সেই তৃতীয় পক্ষ হবে নাগরিক সমাজ।’

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, অধ্যাদেশের খসড়াসহ ১৮০ পাতার পুরোটা অনলাইনে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। যে কেউ চাইলে দেখতে পারবেন কী কী সুপারিশ করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে কর্পোরেট ট্যাক্স প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। 

কামাল আহমেদ বলেন, সংবাদমাধ্যমের ওপর থেকে কর্পোরেট ট্যাক্স প্রত্যাহার করা হলে পরিচালনা ব্যয় অনেক কমে আসবে। এতে করে মিডিয়া শিল্পে একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে, যা গণমাধ্যমগুলোর টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।

ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ নভেম্বর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কামাল আহমেদকে প্রধান করে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। এ বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রতিবেদন জমার সময় দেওয়া হয় কমিশনকে। ১০ দিন হাতে রেখেই প্রতিবেদন জমা দিল কমিশন। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় কমিশনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

পরবর্তী খবর

প্রধান উপদেষ্টার কাছে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন হস্তান্তর

| প্রকাশিত: ৩:৫৮ অপরাহ্ন, ২২ মার্চ ২০২৫

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের কাছ থেকে প্রাপ্ত সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে যেগুলো এখনি বাস্তবায়নযোগ‍্য সেগুলো অনতিবিলম্বে কার্যকর করার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

শনিবার গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদন হস্তান্তরকালে প্রধান উপদেষ্টা এই মন্তব্য করেন।

“সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে যেগুলো এখনি বাস্তবায়ন করা সম্ভব সেগুলো আমরা দ্রুত বাস্তবায়ন করে ফেলতে চাই। সে জন্য আমি চাইবো সংস্কার কমিশন আশু করণীয় বা দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা যায় এমন সুপারিশগুলো দ্রুত আলাদাভাবে আমাদের কাছে পেশ করুক,” বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

সিনিয়র সাংবাদিক কামাল আহমেদের নেতৃত্বাধীন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের এই কাজকে অমূল্য হিসেবে অভিহিত করে এই প্রতিবেদন যেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য মানুষ পড়তে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।

দেশীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো একটি নির্দিষ্ট স্যাটেলাইট ব্যবহারে বাধ্য বলে বিদেশ থেকে বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দেখা যায় না, কমিশনের পক্ষ থেকে এমন তথ্য পাওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যাতে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা এবং আগ্রহী বিদেশিরা দেখতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে সরকার।”

কমিশন প্রধান কামাল আহমেদসহ অন্যান্য সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার হাতে তাদের প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন।

কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতিআরা নাসরীন, দ্য ফিন্যানসিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধি শামসুল হক জাহিদ, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন ওনার্স (অ্যাটকো) প্রতিনিধি মাছরাঙা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী, নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সচিব আখতার হোসেন খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের ট্রাস্টি ফাহিম আহমেদ, মিডিয়া সাপোর্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক সাংবাদিক জিমি আমির, ডেইলি স্টারের বগুড়া জেলা প্রতিনিধি মোস্তফা সবুজ, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ডেপুটি এডিটর টিটু দত্ত গুপ্ত এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন।

পরবর্তী খবর

বেইজিং ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টার

| প্রকাশিত: ১১:৪৪ অপরাহ্ন, ২১ মার্চ ২০২৫

মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বেইজিং ঘোষণা এবং কর্মের জন্য প্ল্যাটফর্মের বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করতে বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি আরো শক্তিশালী অংশীদারিত্ব, বর্ধিত বিনিয়োগ এবং কোনো মহিলা বা মেয়েরা যাতে পিছিয়ে না থাকে তা নিশ্চিত করার জন্য নতুন প্রতিশ্রুতির আহ্বান জানান।

গতকাল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে কমিশন অন দ্য স্ট্যাটাস অব উইমেন (সিএসডাব্লিউ৬৯) এর ঊনবিংশতম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে বিবৃতি দেওয়ার সময় তিনি এই আহ্বান জানান। 

আজ ঢাকায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

শারমীন এস মুরশিদ নারীদের ভূমিকার ওপর জোর দেন, যারা ঐতিহাসিকভাবে আত্মমুক্তি, গণতন্ত্র এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য প্রতিটি জাতীয় সংগ্রামের অগ্রভাগে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেছেন, ‘নারীরা, ২০২৪ সালের জুলাই বিদ্রোহের অগ্রভাগে-ফ্যাসিবাদ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে তরুণ বিপ্লবীদের মধ্যে ৬৫% ছিল’।

তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার জাতিকে গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নেয় এবং বাংলাদেশের জেন্ডার ল্যান্ডস্কেপ চিরতরে পরিবর্তিত হয়।

উপদেষ্টা বলেছেন, বেইজিং ঘোষণা এবং কর্মের জন্য প্ল্যাটফর্মের প্রতি আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্তর্বর্তী সরকার বৈষম্য দূর করার জন্য একটি রূপান্তরমূলক সংস্কার এজেন্ডা শুরু করেছে। প্রথমবারের মতো, লিঙ্গ বৈষম্যের প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবেলা করার জন্য একটি ‘নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হয়েছে। নারীর প্রতি সহিংসতা দূরীকরণকে একটি মৌলিক নারীর ক্ষমতায়ন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এটা করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে সহিংসতার শিকারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য কুইক রেসপন্স টিম চালু করেছে।

তার বিবৃতিতে, উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ সিডও অনুচ্ছেদ ১৩ (ধ), ১৬.১ (ভ) এবং ১৬.১ (প) এর সংরক্ষণগুলো অপসারণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।

সিএসডব্লিও ৬৯ অধিবেশনের অংশ হিসেবে, উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ ‘জেন্ডার সমতা এবং নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়নের জন্য জাতীয় প্রক্রিয়া: এসডিজি অর্জনে অবদান রাখার জন্য বেইজিং প্ল্যাটফর্মের পুনর্নির্মাণ, রিসোর্সিং এবং ত্বরান্বিত বাস্তবায়ন’ বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন।

তিনি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বেইজিং প্ল্যাটফর্ম ফর অ্যাকশন বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা এবং সর্বোত্তম অনুশীলনের কথা শেয়ার করেন।

সিএসডব্লিও ৬৯-এর পাশে, উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ চীন, সুইডেন, মেক্সিকো এবং ফিনল্যান্ডের তার সমকক্ষদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন এবং নারীর উন্নয়ন, লিঙ্গ সমতা, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা মোকাবেলার প্রচেষ্টা এবং বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসা হিসেবে কেয়ার অর্থনীতির উন্নয়নে সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন।

শারমীন এস মুরশিদ বাংলাদেশ, নেপাল এবং ফিনল্যান্ডের যৌথভাবে আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং লিঙ্গ সমতার জন্য কেয়ার-এ পাথওয়েতে বিনিয়োগ’ শীর্ষক উচ্চ-পর্যায়ের সাইড ইভেন্টে বক্তৃতা দেবেন, যেখানে নেপালের মন্ত্রীরা, বাংলাদেশ, নেপাল ও ফিনল্যান্ডের উচ্চ-পর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিরা, সেইসাথে ইউএন উইমেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা, সিভিল সোসাইটি, আইএলও-এর প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

তিনি তুর্কি এবং তিউনিসিয়ার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করবেন।

উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ ১০ থেকে ২১ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত কমিশনের স্ট্যাটাস অফ উইমেনের ৬৯তম অধিবেশনে যোগ দিতে এবং লিঙ্গ সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ, সামাজিক সুরক্ষা এবং বহু অংশীদারিত্ব জোরদার করার বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সাথে জড়িত হওয়ার জন্য নিউইয়র্ক এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একটি সরকারি সফরে রয়েছেন।

পরবর্তী খবর

বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক করে প্রতারণায় ৭ বছরের সাজা

| প্রকাশিত: ১১:৩২ অপরাহ্ন, ২০ মার্চ ২০২৫

বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ার পর প্রতারণার ঘটনায় সাজা বদলে যাচ্ছে। আগে এ শারীরিক সম্পর্ক ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হতো, সাজাও হতো ধর্ষণের সাজার মতো। এখন এটি ধর্ষণ হিসেবে চিহ্নিত না হয়ে ভিন্ন একটি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হবে। এই অপরাধের সাজা হবে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড।

এই ধারাসহ নারী ও নির্যাতন দমন আইনের আরও কয়েকটি ধারায় সংশোধন আসছে। এসব সংশোধনী নিয়ে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের সংশোধনী পাস হয়েছে। এটি নিয়ে আমাদের আইন উপদেষ্টা গত সপ্তাহে বিস্তারিত বলেছেন। উনার ব্রিফিংয়ের পরে আমরা বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়েছি। সেগুলো যথাসাধ্য আমলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সবকিছুর আলোকে সংশোধনীগুলো অনুমোদন পেয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, বিয়ের কথা বলে শারীরিক সম্পর্কের ধারাটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। এরপরই একে ধর্ষণ হিসেবে অভিহিত না করে অবৈধ যৌন সম্পর্ক হিসেবে অভিহিত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে সাত বছর কারাদণ্ড।

শফিকুল আলম বলেন, ‘বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষেণের যেসব মামলা, সেখানেও নতুন করে অনেকগুলো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগের আইনে নতুন একটি ধারা নিয়ে এসে সেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছর করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আরও যেসব সেফগার্ড নেওয়া যায়, সেগুলোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শিশু ধর্ষণের মামলাগুলো বিচারের জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা আগেই জানিয়েছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বলাৎকারকেও ধর্ষণের অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

আইনের সংশোধনীতে এ বিষয়গুলোও এসেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর মাধ্যমে ধর্ষণের সংজ্ঞা সংশোধন করা হয়েছে এবং শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে বলাৎকারের নতুন সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ধর্ষণের মামলাগুলো দেরি হওয়ার পেছনে ডিএনএ টেস্টের বড় ভূমিকা ছিল। সে জায়গাগুলো কীভাবে অ্যাড্রেস করা যায়, সেগুলোর মেজার নেওয়া হয়েছে। আমরা নতুন দুটি ডিএনএ ল্যাবও করতে যাচ্ছি।

এর আগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ অনুযায়ী, দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। অধিকার কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের আন্দোলনের মুখে ২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর সে আইন সংশোধন করা হয়। ওই সময় ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করা হয়।

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক ফ্ল্যাট-গাড়ি গোলাপের, কোটি কোটি টাকার সম্পদ

| প্রকাশিত: ১০:১৯ অপরাহ্ন, ১৯ মার্চ ২০২৫

প্রায় সাড়ে ৬৮ কোটি টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক এমপি আবদুস সোবহান মিয়া ওরফে গোলাপের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১৯ মার্চ) এক ব্রিফিংয়ে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন জানান, অনুসন্ধানে গোলাপের যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক ফ্ল্যাট ও গাড়ির মালিক হওয়ার তথ্য মিলেছে। তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে সাড়ে ৬৮ কোটি টাকার।

তিনি জানান, মো. আবদুস সোবহান মিয়া ওরফে গোলাপ সংসদ সদস্য (এমপি) হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্স এ নয়টি ফ্ল্যাট ও বাড়ির মালিক হয়েছেন, যার মূল্যমান বাংলাদেশি টাকায় ৩২ কোটি টাকা (ওসিসিআরপি এর প্রতিবেদন মতে ৪ মিলিয়ন ইউএস ডলার)। এছাড়াও তার স্থাবর সম্পদের মূল্য ৩২ কোটি ৩৪ লাখ ২৭ হাজার ৯৬০ টাকা এবং ৩৭ কোটি ১৬ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭ টাকার অস্থাবর সম্পদ এবং পারিবারিক ব্যয় ২৫ লাখ ৮২ হাজার ২৬৭ টাকাসহ সর্বমোট ৬৯ কোটি ৭৬ লাখ ৭৯ হাজার ২৯৪ টাকার সম্পদ অর্জন করেন।

মো. আক্তার হোসেন বলেন, আবদুস সোবহান মিয়ার ৬৯ কোটি ৭৬ লাখ ৭৯ হাজার ২৯৪ টাকার সম্পদ অর্জনের বিপরীতে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় ১ কোটি ৪৪ লাখ ৩ হাজার ৬২৯ টাকা বিবেচনায় তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ৬৮ কোটি ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬৫ টাকা।

তিনি বলেন, এই জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের মালিকানা অর্জন করে তা দখলে রেখে এবং ৫১টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৯৭ কোটি ৬৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৮৮ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন করার অপরাধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারার এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় একটি মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়।

পরবর্তী খবর

ইনু, মেনন,আনিসুল, দীপু মনি ও সাদেক খান রিমান্ডে

| প্রকাশিত: ১০:০৪ অপরাহ্ন, ১৯ মার্চ ২০২৫

সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, আনিসুল হক, দীপু মনি ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ তাদের কারাগার থেকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এসময় তদন্তকারী কর্মকর্তারা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের সাতদিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন রেজার আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদের রিমান্ডের আদেশ দেন।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গুলিতে ওবায়দুল ইসলাম নিহতের মামলায় হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, দীপু মনিকে চার দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

এছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কর্মসূচি চলাকালে মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় মো. সুজন নামের এক ব্যক্তি গুলিতে নিহতের মামলায় আনিসুল হকের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এ আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরের বসিলায় মিরাজুল ইসলাম অর্ণব নিহতের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

ইনু, মেনন, দীপু মনির মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গত ৪ আগস্ট বিকেল পাঁচটার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলা পেট্রোল পাম্পের সামনে আওয়ামী লীগের নেতাসহ ১৪ দলের নেতাকর্মীরা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে হাজার হাজার জনতার ওপর গুলি চালায়। এতে ওবায়দুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৫৮ জনকে আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন নিহতের আত্মীয় মো. আলী।

আনিসুল হকের মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২০ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় আওয়ামী লীগ পার্টি অফিসের সামনে মো. সুজন নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন।

সাদেক খানের মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় গত ১৯ জুলাই অংশ নেন মিরাজুল ইসলাম অর্ণব। পরে আসামিদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।