ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুস সাত্তার টেন্ডার বানিজ্যের হোতা...
জয়নাল আবেদীন যশোরীঃ
ফ্যাসিবাদ হাসিনা সরকারের পতন হলেও সচিবালয়ের ইডেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে ব্যাপক টেন্ডার বানিজ্যের অভিযোগ। তিনি এক মাস রির্জাভে থাকার পর ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ এ প্রাইজ পোষ্টিং বাগিয়ে নেন । তবে গণপূর্ত বিভাগ-২ এ বসার পর প্রধান প্রকৌশলীর প্রজ্ঞাপন অমান্য করে,এপিপির কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করেন তিনি। তবে সে তার পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে মোটা অংকের কমিশন বানিজ্য করছেন বলে অভিযোগ আছে । এপিপির শতকরা ৯০% ওটিএম পদ্ধতিতে আহবান করেছেন, যা প্রতিবেদকের কাছে সকল দরপত্র আইডি সংরক্ষিত আছে। এই আব্দুস সাত্তার ২০২২-২৩ ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে এপিপির কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করেন। যার ৮০% ভাগ ফ্যাসিবাদ সরকারের আওয়ামী সন্ত্রাসীদের প্রতিষ্ঠিত করতে ও ছাত্র হত্যায় অর্থ যোগান দিতে। কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুস সাত্তার ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র খেলায় মেতে ছিলেন। শুধু মাত্র ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের দরপত্র আই ডি গুলি Id.no.997257 Id.no.995451 Id.no.995450 Id.no.994903 Id.no.995449 Id.no.995447 Id.no.995448 Id.no.995452 Id.no.995453 Id.no.995446 Id.no.995442 Id.no.995443 Id.no.995444 Id.no.995445 Id.no.996439 Id.no.995440 Id.no.995441 Id.no.995455 Id.no.995456 Id.no.994899 Id.no.994900 Id.no.994901 Id.no.994902 ১৩ জুন ২০২৪ তারিখে ওপনিং হওয়ার পর ১৪ দিনের মধ্যে কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ না করে কোটি টাকা লোপাট করছেন। দরপত্র আই ডি Id.no.994215 ১২ জুন দরপত্র ওপেনিং দেখিয়ে দুইটি ফ্যাসিবাদ সরকারের মন্ত্রী মোকতাদির চৌধুরীর এপিএস এর রুমে কাজের মেরামত দেখিয়ে বিল উত্তোলন করে টাকা দেন তাকে।শুধু এপি এস কে খুশি রাখার জন্য ফ্যাসিস্ট দোসর নির্বাহী প্রকৌশলী সাত্তার মেরামত কাজের অবস্থা করে। যা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রমান পাওয়া যায় যে কোন কাজ হয়নি। দরপত্র আই ডি Id.no.994218 Id.no.994214 Id.no.993487 Id.no. 992595 Id.no.992600 Id.no.992594 Id.no.992593 Id.no.992592 Id.no.992601 Id.no.992602 Id.no.992603 Id.no.992596 Id.no.992597 Id.no.992598 Id.no.992599 ৯ ও ১০ জুন ২০২৪ খ্রিঃ তারিখ ওপনিং হওয়ার পর ১৪ দিনের মধ্যে কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ না করে কোটি টাকা লোপাট করছেন। এটা শুধু মাত্র জুন ২০২৪ সের ওটিএম পদ্ধতিতে। দরপত্র আহবান করার ৩৪ টি আইডি তে অর্থ লোপাট করার চিত্র এইভাবে বাকি ১১ মাস একই চিত্র। ইডেন গণপূর্ত বিভাগের দুর্নীতির মহাউৎসব চলে তার মাধ্যমে। ইডেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালীন মোঃ আব্দুস সাত্তার ২০২৩ সালে মে ও জুন মাসে ৫০ টি ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করে। এবং তার পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে টাকা ভাগাভাগি করেন তিনি। এবার মজার বিষয় হলো ইডেন গণপূর্ত বিভাগের কাজ সচিবালয় হওয়ায় বিশেষ সুবিধা নিয়েছেন তিনি। তাদের দেওয়া কমিশন দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুস সাত্তার নিজেই ঠিকাদারী করেন। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি ছাত্রলীগ করতেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সহ ১৬ জন কর্মকর্তার নামে ছাত্র জনতা গনহত্যা মামলায় আসামী করা হলেও।তবে সুকৌশলে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ ও সাবেক ইডেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুস সাত্তার এর নাম বাদ পরে যায়। কিন্তু ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে ইডেন গণপূর্ত বিভাগে থাকাকালীন সাত্তার একটি কাজও আওয়ামী পন্থি ঠিকাদার ছাড়া অন্য কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পায়নি। যা ইডেন গণপূর্ত বিভাগের নথিপত্র যাচাই করলে প্রমান পাওয়া যাবে।
এই সব অনিয়ম দূর্নীতির বিষয় জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।
তবে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি তা
রেসপন্স করেন নাই যার কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মুরগির দাম কমলেও বেড়েছে মাছের দাম
আজ (শুক্রবার) রাজধানীর রামপুরা, আফতাবনগর, ডিএনসিসি কৃষি মার্কেট ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
গত এক সপ্তাহ আগে সোনালি মুরগি যেখানে ৪০০ থেকে ৪১০ টাকা ছিল, তা আজ কমে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায়। পোল্ট্রি মুরগিও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমে আজ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। দেশি মুরগির দামও ৬০ থেকে ৭০ টাকা কমে আজ বিক্রি হচ্ছে ৭২০ টাকা দরে। তবে লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে আজ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা। এদিকে গরুর মাংস আজও বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে।
রামপুরা বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, খামারে মুরগির ঘাটতি থাকায় হঠাৎ করে মুরগির দাম বেড়ে গিয়েছিল ঈদের আগে থেকে। কিন্তু এখন আবার মুরগির উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় কেজিতে মুরগির দাম ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। সামনে আরও কমবে। তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার যে প্রভাব পড়ার কথা ছিল, সেটা তেমন অনুভব হচ্ছে না বাজারে মুরগির আমদানি বেশি হওয়ায়।
মুরগির সঙ্গে সবজির বাজারও নিম্নমুখী দেখা গেছে। এদিন করলা, পটল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি সবজির দামই ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে।
সবজি ব্যবসায়ী আবুল হাসনাত বলেন, এ মুহূর্তে চাষিদের কাছে অনেক সবজি থাকার ফলে বাজারে আমদানিও বেশি। এ কারণে প্রত্যেকটি সবজির দাম কমেছে। ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি না পেলে আরও ৫ থেকে ১০ টাকা কম থাকতে পারত সবজির দাম।
এদিন মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি লক্ষ্য করা যায়। ২২০ টাকার নিচে বাজারে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল পাঙ্গাশ মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও আজ ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে তা বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায়। ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৭০ টাকা, যা গত তিন দিন আগেও বিক্রি হতো ৩০০ টাকা দরে। আর দুই কেজির চেয়ে বেশি ওজনের রুই মাছ ৩০ থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায়। এ ছাড়া তেলাপিয়া, পাবদা, শোল, টেংরাসহ সব মাছই কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে আজ বিক্রি হচ্ছে।
আফতাবনগরে বাজারে আসা সবুজ আহমেদ বলেন, এক সপ্তাহ আগেও সবজির যে দাম ছিল, তা আজ ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে কম বিক্রি হচ্ছে। মুরগির দামও আগের থেকে কমেছে, কিন্তু মাছের দাম আমার কাছে অনেক বেশি মনে হচ্ছে। তেলের দাম না বাড়লে হয়তো আরও কম থাকতে পারত সবজির দাম।
জাতিসংঘ ফোরামে ন্যায্য বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো ও টেকসই এলডিসি উত্তরণের আহ্বান বাংলাদেশের
বৈশ্বিক এসডিজি অর্থায়ন ঘাটতি মোকাবিলা এবং ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ইকোসক ফাইন্যান্সিং ফর ডেভেলপমেন্ট ফোরাম ২০২৬-এর সাধারণ বিতর্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এ আহ্বান জানান।
খবর তথ্য বিবরণীর।
তিনি বলেন, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়া, জলবায়ুজনিত অভিঘাত, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা এবং জ্বালানি খাতের অনিশ্চয়তা উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতিগত পরিসর ক্রমেই সংকুচিত করছে।
এ প্রেক্ষাপটে টেকসই ও মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিতে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছে বাংলাদেশ।
দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, ব্যবসায়িক আস্থা পুনর্গঠন, ব্যাংকিং খাত শক্তিশালী করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সরাসরি সহায়তা সম্প্রসারণে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের এই স্থায়ী প্রতিনিধি আরও জানান, ঋণের ব্যয় হ্রাস, অকার্যকর অবকাঠামো-সম্পর্কিত ঋণ পরিহার এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে উৎপাদনশীল ও কর্মসংস্থানমুখী খাতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
একই সঙ্গে একটি অধিক প্রতিনিধিত্বশীল বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলা, জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং পাচার করা সম্পদ যথাযথ মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বছরের শেষেই চালু হবে শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল
চলতি বছরের শেষের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ তথ্য জানান।
বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী জানান, বিমানের দুর্নীতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, বিমান আর লস করবে না। বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি যাত্রী ভোগান্তি নিরসনে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কক্সবাজার, সুন্দরবন ও কুয়াকাটাকে আকর্ষণীয় পর্যটন নগরীতে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পিপিপি মডেলে এগুলো করতে চাই, যাতে দার্জিলিং না গিয়ে মানুষ বাংলাদেশে আসে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে লাভজনক করতে পিপিপি মডেলে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা ভাবছে সরকার।
বিদ্যুতের ভোগান্তি থাকবে আরও পাঁচ দিন : যুগ্ম সচিব
দেশজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে। চাহিদার অর্ধেকের কম বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে চলতি মাসের আরও পাঁচ দিন দেশে বিদ্যুৎ নিয়ে ভোগান্তি থাকবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহেনা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।
উম্মে রেহেনা বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। চলতি মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত দেশে বিদ্যুৎ নিয়ে ভোগান্তি থাকবে। তবে মে মাসের শুরুতে পরিস্থিতির উন্নতির আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। যে কারণে চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না।
দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও গ্যাসের অভাবে উৎপাদন হচ্ছে অর্ধেকের মতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, বুধবার দেশে বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ১৫৭৬৭ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার মেগাওয়াটের মতো। ঘাটতি ছিল ২ হাজার মেগাওয়াট।
জ্বালানি সংকট অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে মন্তব্য করে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব আরও বলেন, আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র ২৮ এপ্রিলের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। বন্ধ হওয়া ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।
এসময় অপ্রয়োজনে লাইট, ফ্যান ও এসি ব্যবহার না করার আহ্বান জানান যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা। তিনি বলেন, এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সৌদি পৌঁছেছেন ২৭ হাজার ৩২৫ হজযাত্রী
এপ্রিল মাসেই বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনছে সরকার
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর শক্তিশালী করতে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, এপ্রিল মাসের মধ্যেই এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন টাকা বা ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তটি মূলত পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা, যারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের এয়ারবাস থেকে বিমান কেনার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বোয়িংয়ের দিকে ঝুঁকেছিল।
প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তীব্র উড়োজাহাজ সংকট কাটাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিমানের বহরে আন্তর্জাতিক রুটের জন্য ১৯টি উড়োজাহাজ থাকলেও ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা মেটাতে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি উড়োজাহাজ প্রয়োজন। ২০৩৪-৩৫ অর্থ বছরের মধ্যে বিমানের বহরে মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা ৪৭টিতে উন্নীত করার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে।
বোয়িংয়ের পাশাপাশি ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গেও সরকারের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে একটি ‘মিশ্র বহর’ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে যাতে করে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হতে না হয়।
এ ছাড়া স্বল্পমেয়াদে বিমানের বহর বাড়াতে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে লিজ বা ভাড়ার ভিত্তিতে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বহর সম্প্রসারণের এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী জুন মাসে জাপানের টোকিওতে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, যা বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্থগিত করা হয়েছিল।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, বোয়িং থেকে এই ১৪টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা বাড়বে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে বেড়েছে ১১ পয়সা বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে শ্রমিক মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।
ভাড়া বাড়নোর সিদ্ধান্ত আজ থেকেই কার্যকর হবে উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, ডিজেলচালিত বাসের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। সিএনজিচালিত বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচিত হবে না।
সেতুমন্ত্রী বলেন, জনস্বার্থ বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে প্রতি ভাড়া কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়বে। আন্তঃজেলায় ৫২ সিটের গাড়ির ভাড়াও প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়বে। এছাড়া ডিটিসি এবং মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়িয়ে সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি।
আন্তর্জাতিক সংকট সৃষ্টি হওয়ার পর সরকার প্রায় দেড় মাসের মতো চেষ্টা করেছে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়াতে মন্তব্য করে সড়কমন্ত্রী বলেন, পরবর্তীতে ন্যূনতম রেটে এটা বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটারে ১৫ টাকার মতো। যার ফলে পরিবহন খাতে ভাড়া বাড়ানোর একটা দাবি উত্থাপিত হয়েছে। সেটা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।
তিনি বলেন, আমরা এটাকে সমন্বয় করতে চেয়েছি মাত্র, ভাড়া বৃদ্ধি হিসেবে আমরা এটা দেখতে চাচ্ছি না। সমন্বয়ের একটা দাবিও আছে, যেহেতু জ্বালানির দাম বেড়েছে। সেটা বিবেচনায় নিয়ে তৃতীয়বার দীর্ঘ সময় বৈঠক করেছি।
এর আগে, গত ২২ এপ্রিল সচিবালয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে নতুন বাস ভাড়া নির্ধারণ সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সভায় পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ হয়নি। বাস-ট্রাকসহ পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে আজ সিদ্ধান্ত হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও ডাঃ জাহেদ উর রহমান।
আজ ২৩ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। এতে সিদ্ধান্ত হয়, শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে সরকারের সঙ্গে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র একসঙ্গে কাজ করবে।
বৈঠকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপনচিত্রে অনন্ত-বর্ষা
বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও অভ্যন্তরীণ বিশাল ভোক্তাবাজারের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী।
সরকারি এক হ্যান্ডআউটে জানানো হয়, বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গ এক মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। এতে জাপানের ৩০ জন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিসহ ঈর্ষণীয় অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা তুলে ধরে বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের অধীনে বাংলাদেশে যে সুসংহত গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সৃষ্টি হয়েছে, তা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এক অনন্য সুযোগ ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে।
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য এখনই সুবর্ণ সময়।
বিনিয়োগকারীদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্ভাবনী এবং কার্যকরী পদক্ষেপের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। বিশেষত, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, ভিসা সহজীকরণ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে শতভাগ বিদেশি মালিকানা, ৫-১০ বছর-মেয়াদী টেক্স হলিডে, মুনাফা প্রত্যাবাসন, অবকাঠামোগত সুবিধা, রপ্তানি বহুমুখীকরণে প্রণোদনা ইত্যাদি।
বাংলাদেশকে একটি তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশ উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, জাপানের বিভিন্ন শিল্পে এই দক্ষ জনবলকে নিয়োগ করলে উভয় দেশ লাভবান হবে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
জাপানি ব্যবসায়ী নেতারা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ সুরক্ষার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বিনিয়োগে আগ্রহ ব্যক্ত করেন। তাদের অনেকেই শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করে সরেজমিনে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান বলে জানান।
বর্তমানে ৩৩০টিরও বেশি জাপানি কোম্পানির বাংলাদেশে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা এবং মেগা প্রজেক্টসমূহে লাভজনক বিনিয়োগ তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিমত ব্যক্ত করেন।
সভায় অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের মধ্যে রয়েছেন ইকুহিকো আকাবোরি, নানা শিমুরা, হিরোয়াকি ইশিকাওয়া, আতসুহিরো কাতসুমাতা ও মো. এমদাদুল ইসলাম প্রমুখ।