ঘোড়াঘাটে হেরোইন, ইয়াবা এবং গাঁজা সহ আটক ২
দিনাজপুর ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের পৃথক দুটি অভিযানে হেরোইন, ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে।
আটককৃতরা,কশিগাড়ি (মধ্যপাড়া)’র মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোঃ শাহজাহান আলী(৪৪) এবং অপর মামলার আরেক আসামি ভেলাইন (পশ্চিম পাড়ার)’র মৃত আনারুল ইসলামের ছেলে মোঃ সুমন বাবু (২৮)।উভয়েই ঘোড়াঘাট থানার দিনাজপুর জেলার।
পুলিশ জানায়,বুধবার (৭ জুলাই) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই খোকন চন্দ্র চাকী, এসআই দুলু মিয়া সঙ্গীয় অফিসার এএসআই সরোয়ার জাহান সহ পুলিশের একটি দল শাহজাহান আলীর কাছ থেকে ১ গ্রাম হেরোইন ও ৫০ গ্রাম গাঁজা এবং সুমন বাবুর কাছ থেকে ১ গ্রাম হেরোইন, ১০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
এসময় তারা উভয়েই এসব মাদকদ্রব্য বিভিন্ন এলাকায় নিজ দখলে রেখে দীর্ঘ দিন যাবত বিক্রি করে আসছিলো বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা শিকার করে।
ঘোড়াঘাট থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান,মাদকদ্রব্য সহ আটক দুই জনের নামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে পৃথক দুটি মামলা রুজু হয়েছে এবং আটক আসামিদের কে ৮ জুলাই সকালে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান।
৩ দিনের ব্যবধানে মোহাম্মদপুরে ফের খুন
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুল (২৮) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে সাদেক খানের ইটখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, আসাদুলের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদক, ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তার বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কালনা এলাকার বাসিন্দা। তিনি মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিং এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকার তিনরাস্তা থেকে হাজারীবাগ যাওয়ার পথে সাদেক খানের ইটখোলা এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় আসাদুলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পূর্বশত্রুতার জেরে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এর আগে গত রোববার (১২ এপ্রিল) মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ইমন হোসেন ওরফে ‘এলেক্স ইমন’কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ইমন ‘এলেক্স গ্রুপ’-এর প্রধান ছিলেন। এখন পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কিডনি হাসপাতালে চাঁদাবাজি: প্রধান আসামি যুবদল নেতা মঈনসহ গ্রেপ্তার ৭
ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত কিডনি চিকিৎসক কামরুল ইসলামের হাসপাতালে চাঁদাবাজি ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র্যাব)। তার সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও ছয়জনকে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় র্যাব এ তথ্য জানিয়েছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, মঈন নড়াইলের কালিয়ার দাদনতলা গ্রামে ফুপুর বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন। সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় আনা হচ্ছে। তাকে শেরেবাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হবে।
বাকি ছয়জনকে বিভিন্ন জায়গা থেকে আলাদা আলাদা অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান র্যাব কর্মকর্তা ইন্তেখাব চৌধুরী।
অধ্যাপক কামরুল তার সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে (সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতাল) স্বল্প খরচে কিডনি চিকিৎসা ও প্রতিস্থাপনের জন্য পরিচিত। গত শুক্রবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, যুবদল নেতা পরিচয়ে তার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন মঈন। চাঁদা না দিলে তুলে নিয়ে যাওয়াসহ নানা হুমকিধমকি দেন তিনি।
গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নসহ একটি প্রতিনিধি দল শ্যামলীর ওই হাসপাতালে গিয়ে অধ্যাপক কামরুলের সঙ্গে দেখা করেন। তারা এ ঘটনার সুরাহা করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
এ ঘটনায় সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের ইনচার্জ আবু হানিফ মামলা করেন। মামলায় যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনসহ অজ্ঞাত সাত-আটজনকে আসামি করা হয়।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন আসামি হলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনেই গ্রেপ্তার আছেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়। তারা পলাতক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ এ মামলার আসামি মোট ৩০ জন। এর মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো.আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ। তাঁদের আজ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ এ মামলার ২৪ আসামি পলাতক আছেন। পলাতক আসামির মধ্যে রয়েছেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমান, সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল, সাবেক এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন, সাবেক নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া এবং সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মাহাবুবার রহমান।
রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) সাবেক কমিশনার মো.মনিরুজ্জামান, আরপিএমপির সাবেক উপকমিশনার মো.আবু মারুফ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো.শাহ নূর আলম পাটোয়ারী, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়ও পলাতক রয়েছেন।
আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি চিকিৎসক মো. সরোয়ার হোসেনও (চন্দন) পলাতক। এ ছাড়া রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাফুজুর রহমান, সহসভাপতি মো. ফজলে রাব্বি, সহসভাপতি মো. আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার, দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদুল হাসান এ মামলার পলাতক আসামি।
অস্ত্র মামলায় ফয়সাল করিমের ১০ বছরের কারাদণ্ড
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার ১৮তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মোহসীন এ রায় ঘোষণা করেন।
তবে আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর রাজধানীর আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র্যাব-২। এ সময় ‘পালানোর চেষ্টা’ করার সময় ফয়সাল করিমকে আটক করা হয়। পরে তার বাসা তল্লাশি করে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
পরদিন আদাবর থানায় র্যাবের হাবিলদার মশিউর রহমান অস্ত্র আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ফয়সাল করিম এলাকায় চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।
তদন্ত শেষে আদাবর থানার এসআই জাহিদ হাসান গত বছরের ২৮ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বিচার চলাকালে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত এই মামলায় জামিনে থাকলেও, ওসমান হাদি হত্যা ঘটনার পর থেকে ফয়সাল করিম আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে গত মাসে তিনি ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। পরে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় ফয়সাল করিমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
সাবেক ডিজিএফআই প্রধান আফজাল নাছের গ্রেফতার
এক-এগারো’ সরকারের আরেক অন্যতম কুশীলব, ডিজিএফআইর সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) মো. আফজাল নাছেরকে (৬১) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস-এর ১২ নম্বর সড়কের ৮৬৪ নম্বর বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিবির যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কোন মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে এক-এগারো সরকারের দুই কুশীলব বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেফতার করে ডিবি। তারা এখন ডিবির কাছে রিমান্ডে রয়েছেন।
কৃষক লীগ নেতার শটগানের গুলিতে ছোট ভাই খুন
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ছোট ভাইকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাই ও কৃষক লীগ নেতা ডা. গোলাম কবিরের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের পাশে চতুল রেললাইন এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
গোলাম কবির ও মিন্টু মোল্লা ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের চতুল গ্রামের বাসিন্দা মৃত মো. ইসহাক মিয়ার ছেলে।
অভিযুক্ত ডা. গোলাম কবির ফরিদপুর জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য উপকমিটির সাবেক সদস্য। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালি উপজেলা) আসনে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি।
ঘটনার পরপরই উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত গোলাম কবিরকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ সময় তার ব্যবহৃত গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই ভাই গোলাম কবির ও মিন্টু মোল্লার মধ্যে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। সকালে মিন্টু মোল্লা তার বাড়ির পাশের একটি গাছ কাটতে গেলে গোলাম কবির সেখানে উপস্থিত হয়ে বাধা দেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে গোলাম কবির তার লাইসেন্সকৃত শটগান দিয়ে গুলি চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোলাম কবির কৌশলে কথা বলার জন্য তার ভাই মিন্টুকে গাছ কাটার জায়গা থেকে আরেকটু দূরে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের পেছনের রেলগেট এলাকায় ডেকে নিয়ে গিয়ে গলার নিচে ও বুকে পরপর ছয় রাউন্ড গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় মিন্টু লুটিয়ে পড়লে গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা এসে এ ঘটনা দেখেন। পরে গোলাম কবিরকে আটক করে পুলিশে দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, অভিযুক্ত গোলাম কবিরকে আটক করা হয়েছে এবং তার ব্যবহৃত অস্ত্রটিও জব্দ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ওসমান হাদি হত্যায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার ফয়সালের
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম দাবি করেছেন, তিনি এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন। তবে ঘটনার সময় তিনি বাংলাদেশে ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।
আজ রোববার (২২ মার্চ) ভারতের কলকাতার গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন এ খবর দিয়েছে।
এর আগে গত ৮ মার্চ ফয়সাল ও আলমগীরকে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বনগাঁও এলাকা থেকে আটক করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স বা এসটিএফ। অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের জন্য রিমান্ডে নিয়েছিল।
রিমান্ড শেষে আজ রোববার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা বিচার বিভাগীয় আদালতে হাজির করা হয় তাদের। আদালত দুজনকে ১২ দিনের জন্য কারা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। আগামী ২ এপ্রিল তাদের আবার আদালতে তোলা হবে।
ফয়সাল ও আলমগীরকে আজ তাদের আদালতে তোলার সময় সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন ফয়সাল। ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এই কাজ করিনি। আমি এ ধরনের কোনো কাজে ছিলাম না।’
তখন সাংবাদিকরা ফয়সালের কাছে আরও জানতে চান, ‘তাহলে কি তাকে ফাঁসানো হয়েছে?’ তবে এ প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে কোন উত্তর দেননি তিনি। তবে এর আগে বনগাঁও এলাকা থেকে আটকের দিন ফয়সাল ও আলমগীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওসমান হাদিকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন বলে এসটিএফের বরাতে জানিয়েছিল বার্তা সংস্থা এএনআই।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি সেখানে মারা যান।
এ হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশি তদন্তে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিমের নাম উঠে আসে। এ ছাড়া ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের করা মামলার তদন্ত করে গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ।
অভিযোগপত্রে যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে ১২ জন বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হন। আর প্রধান দুই আসামি ফয়সাল ও আলমগীর এবং তাদের পালাতে সহায়তায় অভিযুক্ত ফিলিপ সাংমাও ভারতে ধরা পড়েছেন।
যে মোটরসাইকেলে এসে ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়েছিল, তাতে ফয়সাল ও আলমগীর ছিলেন বলে এর আগে জানিয়েছেন বাংলাদেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন বলে তখন জানিয়েছিলেন কর্মকর্তারা।
প্রায় তিন মাস পর গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকা বনগাঁও থেকে তাদের গ্রেপ্তারের খবর জানায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স বা এসটিএফ। তাদের ভাষ্য অনুসারে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ফয়সাল ও আলমগীরগকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁওয়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ খুঁজছিলেন।
আমি এই কাজ করিনি: হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল
আমিরাতে গুজব ছড়ানোর দায়ে বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ৩৫
সংযুক্ত আরব আমিরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভুয়া ভিডিও প্রচারের অভিযোগে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ৩৫ জন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (১৫ মার্চ) দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসির নির্দেশে আবুধাবিসহ বিভিন্ন শহর থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধসংক্রান্ত ভুয়া ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কড়া নজরদারি চালানোর সময় এসব কনটেন্ট শনাক্ত করা হয়। তদন্তে দেখা গেছে, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে তারা এ ধরনের তথ্য প্রচার করছিলেন।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের নাগরিকও রয়েছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তদন্ত ও ইলেকট্রনিক নজরদারিতে দেখা গেছে অভিযুক্তরা তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত ছিলেন।
প্রথম গ্রুপের সদস্যরা আমিরাতের আকাশসীমা দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র যাওয়া বা তা প্রতিহত করার বাস্তব ভিডিও শেয়ার করেন। এসব ভিডিওর সঙ্গে এমন মন্তব্য যুক্ত করা হয় যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
রিকশাচালক হত্যার গুজবে ‘ধ্বংসস্তূপে’ পরিণত উত্তরা স্কয়ার
রাজধানীর উত্তরায় এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ গুম করার অভিযোগ তুলে একটি শপিং কমপ্লেক্স ঘিরে ব্যাপক ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোররাত পর্যন্ত পর্যন্ত উত্তরায় স্কয়ার গ্রুপের একটি শপিং কমপ্লেক্স ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ জনতার মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাতে ওই শপিং কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা প্রহরীর সঙ্গে এক রিকশাচালকের বাগবিতণ্ডা হয়, যা একপর্যায়ে মারামারিতে রূপান্তরিত হয়। পরে রিকশাচালক মারা গেছেন এবং তার মরদেহ ভবনের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত রিকশাচলক ও স্থানীয় জনতা সড়ক অবরোধের পাশাপাশি ভবনে ভাঙচুর চালায়। পরে নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সেখানে পুলিশ এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিক্ষুব্ধদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
এ সময় বিক্ষুব্ধরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, “একজন নিখোঁজ থাকার কথা বলা হলেও তার নাম-ঠিকানা এখনও পাওয়া যায়নি। কেউ নিহত হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হবে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ ভবনের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে এখন পর্যন্ত কিছু পায়নি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”