৯৯৯ ফোন পেয়ে, কাপ্তাই লেকে আটকে পড়া ৮পর্যটককে উদ্ধার করলো রাঙ্গামাটি পুলিশ
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা ৮পর্যটকের একটি দল বোটে কাপ্তাই লেকে আটকে গিয়ে ৯৯৯ এ কল দিলে রাতের আঁধারে তাদের উদ্ধার করে রাঙামাটি জেলা পুলিশ।
জানা যায়, মঙ্গলবার(৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙ্গামাটিতে এসে সদর থেকে বোট ভাড়া করে শুভলং ঝরণা উদ্দেশ্য রওনা করে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে আগত ৮পর্যটক। কাপ্তাই লেকের অনিন্দ্য সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে শুভলং ঝর্ণায় পৌঁছায় পর্যটক দল। শুভলং ঝর্ণার অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করে নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর উদ্দেশ্য দুপুর ১২টায় শুভলং থেকে সদরের উদ্দেশ্য রওনা করে। কিন্তু পথেই ঘটে বিপত্তি, এরই মধ্যে কাপ্তাই লেকে সুবিশাল কচুরিপানার একটি ঝাঁক পর্যটকদের বোটকে আটকে ধরে। শত চেষ্টা করেও বোট চালক এই কচুরিপানার ঝাঁক অতিক্রম করতে পারে না। বোট চালকের প্রাণপণ চেষ্টার একপর্যায়ে বোটের পাখা নষ্ট হয়ে যায়। এরপর, বোটচালক ও আটকে পড়া পর্যটকরা নিজেদের উদ্ধারে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে প্রাণপণ চেষ্টা করতে থাকে। দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কচুরিপানা পরিষ্কার করে নিজেদের উদ্ধারে চেষ্টা করে পর্যটক দল। দীর্ঘ ভ্রমণ করে রাঙ্গামাটিতে এসে সারাদিন কিছু না খাওয়ার ফলে সবারই ক্রান্তি চলে আসে এবং সবাই শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে যায়। এ সময়ে পাশ দিয়ে যাওয়া মানুষজনের কাছে খাবারের জন্য আকুল হয়ে পড়ে পর্যটকদল। খাবারের আকুলতা বুঝাতে গিয়ে পাশ দিয়ে যাওয়া এক পর্যটককে মিনতি করে বলে, আপনার হাতের এক লিটার পানির বোতল টা আমাকে দিন, আমি আপনাকে ৫০০টাকা দিব কিন্তু ৫০০টাকার বিনিময়েও পানির বোতল পাওয়া যায় নাই। এদিকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতে দেখে পর্যটকদের মনে ভয় জাগতে শুরু করে, এখন কি হবে? আমরা কিভাবে এ স্থান থেকে উদ্ধার হব? এরূপ নানা অজানা আশংকা নিজেদের মধ্যে জেঁকে বসে। এরূপ নানাবিদ চিন্তা থেকে উদ্ধারের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে পর্যটক দল। উপায়ন্তর না দেখে, বাংলাদেশ পুলিশের জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল দেয় তাদেরই একজন। ৯৯৯ থেকে রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুম কল পেয়ে পুলিশ সুপার জনাব মীর মোদ্দাছ্ছের হোসেন মহোদয়ের নির্দেশনায় ঘটনাস্থলের কাছে পুলিশ ক্যাম্পে খবর পৌঁছায় পুলিশ কন্ট্রোল রুম এবং পর্যটকদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে। পুলিশ কন্ট্রোল রুমের নির্দেশনা পেয়ে জারুলছড়ি থানার চৌকস পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে নেমে পড়ে। পুলিশ সদস্যরা নিজেদের জীবনের মায়া তুচ্ছজ্ঞান করে কাপ্তাই লেকে সাঁতার কেটে কচুরিপানার ঝাঁকের কাছে পৌঁছায়। কচুরিপানার কাছাকাছি গিয়ে দা, শাবাল দিয়ে কচুরিপানা কাটতে কাটতে সামনের দিকে এগুতে থাকে। দীর্ঘ ১ঘন্টা কচুরিপানা পরিষ্কার করে পর্যটকদলের কাছে পৌঁছে পুলিশ সদস্যরা। পর্যটকদের উদ্ধার করে পুলিশ সদস্যরা নিজেদের খাওয়ার বিস্কুট, পানি দিয়ে পর্যটকদের ক্ষুধা নিবারণ করে। জারুলছড়ি জেলা পুলিশের এ সহমর্মিতা দেখে পর্যটকরা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে। এতদিন পুলিশ সম্পর্কে মানুষের কাছে নেতিবাচক কথা শুনে এসেছে, বাস্তবে এসে আজকে আসল পুলিশ সদস্যকে দেখেছে তারা। এতদিন ধরে যে ধারণা ছিল তাদের কাছে এটা আজকে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
পর্যটকদের মানষিক প্রশান্তি এনে জারুলছড়ি পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা রাত ৯টায় রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের পলওয়েল পার্কে পর্যটকদের নিয়ে এসে। পলওয়েল পার্কে পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে পর্যটকরা এসে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে। বাংলাদেশ পুলিশের জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ এরকম তরিৎ গতিতে ব্যবস্থা নিতে পারে, তার স্বাক্ষী হতে পেরে নিজেদেরকে ধন্য মনে করে পর্যটকরা। এসময় তারা বাংলাদেশ পুলিশ, জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ ও রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলে, চারদিকে যখন ঘোর অন্ধকার দেখতে ছিলাম তখনই আলোর পথ দেখিয়ে নিজেদের নতুন জীবন দান করলো বাংলাদেশ পুলিশ। তাই বাংলাদেশ পুলিশ তথা রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ।
সোমবার বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
জিলকদ মাসের চাঁদ দেখতে সন্ধ্যায় কমিটির সভা
১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলকদ মাসের তারিখ নির্ধারণ ও চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনায় আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সভায় বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এই সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
বাংলাদেশের আকাশে কোথাও জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নিম্নোক্ত টেলিফোন নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। টেলিফোন নম্বর : ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭।
মওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী
কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
আজ চৈত্র সংক্রান্তি
আজ চৈত্র সংক্রান্তি বা চৈত্র মাসের শেষ দিন। আমাদের জীবন থেকে বিদায় নিচ্ছে ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। চৈত্র মাসের শেষ দিন চৈত্র সংক্রান্তি। আবার এটি বাংলা বর্ষ ও বসন্ত ঋতুর শেষ দিনও। আবহমান বাংলার চিরায়ত নানা ঐতিহ্যকে ধারণ করে এই চৈত্র সংক্রান্তি।
বছরের শেষ দিন হিসেবে পুরাতনকে বিদায় ও নতুন বর্ষকে বরণ করার জন্য প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে থাকে নানা অনুষ্ঠান-উৎসবের আয়োজন। এই চৈত্র সংক্রান্তি আবহমান বাংলার চিরায়িত বিভিন্ন ঐতিহ্যকে ধারণ করে আসছে। বছরের শেষ দিন হিসেবে পুরাতনকে বিদায় ও নতুন বর্ষকে বরণ করার জন্য প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে থাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান-উৎসবের আয়োজন। মনে করা হয়, চৈত্র সংক্রান্তিকে অনুসরণ করেই পহেলা বৈশাখ উদযাপনের এত আয়োজন। তাই চৈত্র সংক্রান্তি হচ্ছে বাঙালির আরেক বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা চৈত্র সংক্রান্তির দিন শাস্ত্র মেনে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস করে থাকেন। নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী, অন্য ধর্মাবলম্বীরাও নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন। বছর বিদায়ের উৎসব পালন করেন ব্যবসায়ীরাও।
শুচি-শুদ্ধ হয়ে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও নতুন করে সাজিয়ে তোলেন। আগের পুরোনো সব জঞ্জাল পরিষ্কার করেন। পুরোনো সব হিসাব চুকিয়ে নতুন হালখাতা খোলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। নতুন বছরের প্রথম দিনে হালখাতা খোলা হয়। এছাড়াও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে নানা ধরনের মেলা ও উৎসব হয়।
হালখাতার জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাজানো, লাঠিখেলা, গান, সংযাত্রা, রায়বেশে নৃত্য, শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে উদযাপিত হয় চৈত্র সংক্রান্তি। চৈত্র সংক্রান্তির প্রধান উৎসব চড়ক। চড়ক গাজন উৎসবের একটি প্রধান অঙ্গ। এ উপলক্ষ্যে গ্রামের শিবতলা থেকে শোভাযাত্রা শুরু করে অন্য গ্রামের শিবতলায় নিয়ে যাওয়া হয়।
একজন শিব ও একজন গৌরী সেজে নৃত্য করে এবং অন্য ভক্তরা নন্দি, ভৃঙ্গী, ভূত-প্রেত, দৈত্য-দানব সেজে শিব-গৌরীর সঙ্গে নেচে চলে। চৈত্র সংক্রান্তির মাধ্যমে পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সফলতা ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় দেখা দেবে নতুন ভোর পহেলা বৈশাখ। পুরোনো বছরের সব জরাজীর্ণ মুছে ফেলে মঙ্গলবার বাঙালি মিলিত হবে পহেলা বৈশাখের সর্বজনীন উৎসবে।
জরাজীর্ণতা, ক্লেশ ও বেদনার সবকিছু বিদায় জানানোর পাশাপাশি সব অন্ধকারকে বিদায় জানিয়ে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার থাকবে গোটা জাতির। পহেলা বৈশাখ উৎসবের মধ্যদিয়ে বাঙালি স্বাগত জানাবে নতুন বাংলা বর্ষ ১৪৩৩।
দীঘিনালায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই ৯ দোকান
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে কবাখালী ইউনিয়নের পাবলাখালী শান্তিপুর এলাকায় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই আশপাশের লোকজন তা নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করায় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। পরে খবর পেয়ে দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর আগেই ৯টি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার পঙ্কজ কুমার বড়ুয়া বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী উৎপল দেওয়ান বলেন, বৈসাবি, বিঝু ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে দোকানে নতুন মালামাল তোলা হয়েছিল। রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় যাওয়ার পর আগুনের খবর পান। এসে দেখেন তার দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। চা ও ফটোকপির দোকানদার সুরেশ চাকমা জানান, সকালে এসে তিনি দেখেন তার দোকানের কিছুই অবশিষ্ট নেই।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা হঠাৎ ঘটে যায়, বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে এ ধরনের ঝুঁকি বেশি থাকে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বর্জন জামায়াত প্রার্থীর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থগিত থাকা শেরপুর-৩ আসনে নানা অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুদুর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ৩টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন তিনি।
জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ কিছু কেন্দ্র থেকে তাঁর এজেন্ট বের করে দেওয়াসহ জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া ভিপিসহ জামায়াতের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, বেলা ২টা পর্যন্ত এই আসনে ৩৯ শতাংশ ভোট পড়েছে।
আজ সকাল সাড়ে ৭টায় উৎসবমুখর পরিবেশে শেরপুর-৩ আসনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এদিকে শ্রীবরদী সরকারি কলেজে সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্য আহত হন। এই আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হচ্ছেন বিএনপি মনোনীত সাবেক তিনবারের এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াত প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) মিজানুর রহমান।
উল্লেখ্য, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন স্থগিত করা হয়।
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ, ট্রাইব্যুনালে হাজির ৬ আসামি
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করা হবে।
রায় ঘোষণা উপলক্ষে ছয় আসামিকে সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, রায় ঘোষণার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
গত ৫ মার্চ রায়ের জন্য আজকে দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে গত ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন গত বছরের ২৬ জুন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেওয়া হয়। পরে প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করলে ৩০ জুন তা আমলে নেওয়া হয়।
মামলার ৩০ আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন—পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আমীর হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বেরোবির প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী আকাশ, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল এবং কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
গত বছরের ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পলাতক আসামিদের পক্ষে গত ২২ জুলাই রাষ্ট্রীয় খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলন তীব্র হয় এবং এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়।
আধিপত্য বিস্তারের জেরে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যা
খাগড়াছড়িতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিউটন চাকমা (৪৭) নামে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) গ্রুপের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। তিনি সংগঠনটির প্রসীত গ্রুপের সক্রিয় সদস্য বলে জানা গেছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের আকবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ইউপিডিএফ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অমল ত্রিপুরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত নিউটন চাকমা রাঙ্গামাটি জেলার মগবান ইউনিয়নের মৃত সোনাধন চাকমার ছেলে। তিনি খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের যৌথ খামার এলাকায় বসবাস করতেন।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং উত্তেজনা বিরাজ করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চলে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তার ও প্রভাব নিয়ে বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে সংগঠনিক কাজে আকবাড়ি এলাকায় অবস্থানকালে নিউটন চাকমাসহ আরও একজনকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায় ৮ জনের একটি সশস্ত্র দল। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন নিউটন চাকমা। তার সঙ্গে থাকা অপর ব্যক্তি পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পান।
ইউপিডিএফ (প্রসীত) কেন্দ্রীয় সংগঠক অংগ্য মারমা অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ সশস্ত্র গ্রুপের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)। দলটির কেন্দ্রীয় সংগঠক অমর জ্যোতি চাকমা বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই; এটি তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে সংগঠনিক কাজে আকবাড়ি এলাকায় অবস্থানকালে নিউটন চাকমাসহ আরও একজনকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায় ৮ জনের একটি সশস্ত্র দল। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন নিউটন চাকমা। তার সঙ্গে থাকা অপর ব্যক্তি পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পান।
ইউপিডিএফ (প্রসীত) কেন্দ্রীয় সংগঠক অংগ্য মারমা অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ সশস্ত্র গ্রুপের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)। দলটির কেন্দ্রীয় সংগঠক অমর জ্যোতি চাকমা বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই; এটি তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের হতে পারে।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কায় কিসলু জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব: আইজিপি
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা—একজন পুলিশ সদস্যের প্রধান দায়িত্ব।
আজ বুধবার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪১তম ক্যাডেট ব্যাচের শিক্ষানবিশ সাব-ইন্সপেক্টরদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, বিশ্বব্যাপী অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ, সাইবার ক্রাইম ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা, প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। এজন্য প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নিজেকে সবসময় আধুনিক ও আপডেট রাখতে হবে।
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'তোমরা শুধু একটি চাকরিতে যোগ দিচ্ছ না, বরং একটি সেবামূলক পেশায় যুক্ত হচ্ছ। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদে সহায়তা করা এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার মূল্যবোধ ধারণ করেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।'
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নবীন কর্মকর্তারা পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখবেন।
অনুষ্ঠানে আইজিপি শিক্ষানবিশদের অভিবাদন গ্রহণ ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। পরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী সাব-ইন্সপেক্টরদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এ সময় পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল জিএম আজিজুর রহমানসহ জনপ্রতিনিধি এবং সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এবারের প্যারেডে ২০৯ জন শিক্ষানবিশ সাব-ইন্সপেক্টর অংশ নেন, যার মধ্যে পাঁচজন নারী সদস্য রয়েছেন।