পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন বিজিবি'র অভিযানে ২৪৪ বোতল ফেনসিডিল ও মদ উদ্ধার

মাসুদ রানা, পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৯:১৯ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২২

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) এর সীমান্তে পৃথক পৃথক অভিযানে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছেন।

বৃহস্পতিবার ( ১৬ জুন) দুপুরে পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) এর অধীনস্থ চকচন্ডি বিওপি’র টহল কমান্ডার সুবেদার মোঃ ইদ্রিস আলী এর নেতৃত্বে একটি টহল দল সীমান্ত পিলার ২৬৩/১-এস হতে আনুমানিক ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চককালু (ধামইরহাট, নওগাঁ) নামক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ২০০ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল আটক করা করেন ।যার সিজার মূল্য-৮০,০০০/- টাকা।

এদিন বিকালে অপর একটি অভিযানে পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) এর অধীনস্থ পাগলাদেওয়ান বিওপি’র টহল কমান্ডার নায়েব সুবেদার মাহাবুবুর রহমান এর নেতৃত্বে একটি টহল দল সীমান্ত পিলার ২৭৩/৪-এস হতে আনুমানিক ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তেরগাতী (জয়পুরহাট সদর, জয়পুরহাট) নামক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১৮বোতল ভারতীয় Officer Juice pack-180ml) মদ উদ্ধার করেন । যার সিজার মূল্য-২৭,০০০/- টাকা।

অপর আরও একটি অভিযানে বুধবার ( ১৫ জুন) রাতে পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) এর অধীনস্থ ভূটিয়াপাড়া বিওপি’র টহল কমান্ডার নায়েব সুবেদার মাহাবুবুর রহমান এর নেতৃত্বে একটি টহল দল সীমান্ত পিলার ২৭৪/৭-এস হতে আনুমানিক ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দোগড় (জয়পুরহাট সদর, জয়পুরহাট) নামক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ২৬ বোতল ভারতীয় Chlorpheniramine maleate syrup (১০০এমএল) (নেশাজাতীয় কাশির সিরাপ) উদ্ধার করে । যার সিজার মূল্য-১০,৪০০/- টাকা।

পরবর্তী খবর

তিন বাসে আগুন, রাজধানীতে বোমা বিস্ফোরণ

| প্রকাশিত: ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

শনিবার রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা এবং এর আশেপাশে নাশকতার কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। ঢাকার হাজারীবাগ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এবং সাভারে বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ঢাকার কয়েকটি জায়গায় হাতবোমার বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।

পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নাশকতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার লিমা খানম বলেন, হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ সরকারি কলেজের সামনে পার্কিং করা একটি বাসে আগুন দেওয়া হয় শনিবার রাতে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

এছাড়া দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ডে রাত সোয়া ৩টার দিকে বলাকা পরিবহনে এবং সাভারের রাজ ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে ইতিহাস পরিবহনে ভোর পৌনে ৪টার দিকে আগুন দেওয়া হয়। কে বা কারা আগুন দিয়েছে তা জানা যায়নি এবং কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে শনিবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর হাতিরঝিলের মধুবাগে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, সন্ধ্যার পর যেখানে একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরে গেলে তাৎক্ষণিক ভাবে তা নিভিয়ে ফেলাও হয়।

আগারগাঁওয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সামনে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে শনিবার রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে। এছাড়া রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবনের সামনে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে আরেকটি হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আগারগাঁওয়ের দুই জায়গায় হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে হাতিরঝিল এবং শাহবাগ থানা জানিয়েছে।

পরবর্তী খবর

পার্ক করে রাখা স্কুলবাসে আগুন, দগ্ধ হলেন ঘুমন্ত চালক

| প্রকাশিত: ৪:২১ অপরাহ্ন, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় সড়কের পাশে পার্ক করে করে রাখা একটি স্কুলবাসে কে বা কারা আগুন দিয়েছে। এ সময় বাসের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা চালক দগ্ধ হয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে শিবালয় উপজেলার ফলসাটিয়া এলাকায় এ ঘটনায় ঘটে। দ্য হলি চাইল্ড স্কুল ও কলেজের স্কুলবাসটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে রাখা ছিল।

পুলিশ জানায়, অন্যান্য দিনের মতো স্কুলবাসটি মহাসড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা ছিল। চালক মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বাড়াইভিকরা গ্রামের বাসিন্দা তাবেজ খান (৪৫) ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। দিবাগত রাত দেড়টার দিকে দুর্বৃত্তরা বাসটিতে আগুন দেন।


শিবালয় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চক্রবর্তী বলেন, মুহূর্তেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বাসে ঘুমিয়ে থাকা চালক দগ্ধ হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। চালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

দগ্ধ তাবেজ খানকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে প্রথমে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পরবর্তী খবর

ফুলবাড়িয়ায় বাসে আগুন, দগ্ধ হয়ে চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু

| প্রকাশিত: ১:১৪ অপরাহ্ন, ১১ নভেম্বর ২০২৫

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে আলম এশিয়া পরিবহনের এক বাসচালকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত চালকের নাম জুলহাস মিয়া (৩৫)।

সোমবার রাত সোয়া ৩টার দিকে উপজেলার ভালুকজান এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহত জুলহাস উদ্দিন উপজেলার কৈয়ারচালা গ্রামের বাসিন্দা সাজু মিয়ার ছেলে।

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকনুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘গভীর রাতে আলম এশিয়া পরিবহন নামের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে বাসটি পুড়ে যায়। এ সময় বাসে থাকা চালক জুলহাস মিয়া দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।’

ওসি আরও জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

পরবর্তী খবর

মধ্যরাতে রাজধানীতে ৩ বাস ও ১ প্রাইভেটকারে আগুন

| প্রকাশিত: ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, ১১ নভেম্বর ২০২৫

মধ্যরাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তিনটি যাত্রীবাহী বাস ও একটি প্রাইভেটকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুটি বাস রাইদা পরিবহনের এবং একটি রাজধানী পরিবহনের।

সোমবার (১০ নভেম্বর) দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ভোররাতের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, যাত্রাবাড়ীতে রাইদা পরিবহনের একটি বাসে এবং রায়েরবাগে রাজধানী পরিবহনের একটি বাসে আগুন লাগে। এছাড়া, উত্তরা খালপাড় এলাকায় রাইদা পরিবহনের আরেকটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

একই সময়ে, ১০০ ফিট রোড সংলগ্ন বসুন্ধরা গেট এলাকায় একটি প্রাইভেটকারেও আগুন জ্বলতে দেখা যায়। তবে, এই অগ্নিকাণ্ডগুলোর কারণ এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার মো. শাজাহান হোসেন।

পরবর্তী খবর

ফের গ্রেফতার ক্যাসিনো কাণ্ডের মূল হোতা 'সেলিম প্রধান'

| প্রকাশিত: ৬:০৮ অপরাহ্ন, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ক্যাসিনো কাণ্ডের মূল হোতা সেলিম প্রধানকে রাজধানীর বারিধারা থেকে মাদকসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে ক্রিপ্টো কারেন্সি ও নেশা জাতীয় দ্রব্য সীসা জব্দ করা হয়েছে। তবে পুলিশ ক্রিপ্টো কারেন্সির কথা অস্বীকার করেছে।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বারিধারার একটি সিসা বার থেকে তাকে আটক করা হয়।

গুলশান জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আল আমিন হোসাইন গণমাধ্যমকে জানান, সেলিম প্রধান বারিধারায় সিসা বার পরিচালনা করছিলেন। সেখানে মাদকদ্রব্যসহ তাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সেলিম প্রধান ২০১৯ সালের অক্টোবরে বিদেশে পালানোর সময়ও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সে সময় তিনি অনলাইনে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার মূলহোতা হিসেবে আলোচনায় আসেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব তার গুলশানের অফিস ও বনানীর বাসায় অভিযান চালায়। অভিযানে বিদেশি মদ, নগদ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা, পাসপোর্ট, হরিণের চামড়া, ব্যাংকের চেক ও অনলাইন গেমিং পরিচালনার সার্ভার জব্দ করা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আল আমিন হোসাইন জানান, তার বিরুদ্ধে নতুন মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

পরবর্তী খবর

সাংবাদিক তুহিন হত্যার ঘটনায় আরও তিনজন গ্রেফতার

| প্রকাশিত: ১২:০৩ অপরাহ্ন, ০৯ অগাস্ট ২০২৫

গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শুক্রবার দিবাগত রাতে মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন পাবনার চাটমোহন উপজেলার পাঁচবারিয়া এলাকার ফয়সাল হাসান (২৩), কুমিল্লার হোমনা উপজেলার কাশিপুর এলাকার শাহ জামাল (৩২) ও সুমন (২৬)।

এর আগে এ ঘটনায় এক দম্পতিসহ চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলেন মিজানুর রহমান ওরফে কেটু মিজান, তার স্ত্রী গোলাপি, আল আমিন ও মো. স্বাধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পরই স্থানীয় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরপর পুলিশের তিনটি দল বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে গাজীপুর শহরের চৌরাস্তা এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত সাংবাদিক তুহিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।

সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুর স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামে।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাঁচ-ছয়জন দুর্বৃত্ত সাংবাদিক তুহিনকে ধাওয়া করে। তিনি দৌড়ে ঈদগাহ মার্কেটের একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নেন। কিন্তু দুর্বৃত্তরা সেখানেই ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নিহত তুহিনের বড় ভাই সেলিম বাদী হয়ে শুক্রবার সকালে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) তাহেরুল হক চৌহান জানান, “এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতার অভিযান চলছে।”

পরবর্তী খবর

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নোয়াবের উদ্বেগ

| প্রকাশিত: ১২:২১ অপরাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৫

সম্প্রতি দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা ঘিরে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ঘটনা এবং সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) নোয়াব সভাপতি এ কে আজাদের সই করা এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়। এতে বলা হয়, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে গণমাধ্যম ও তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা দুঃখজনক।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা নিয়ে দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, সেখানে তথ্যপ্রকাশ, মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছিলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, গত এক বছরে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

দৈনিক জনকণ্ঠের প্রসঙ্গ টেনে নেয়াব বলছে, আমরা আশঙ্কাজনকভাবে দেখলাম, সম্প্রতি দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় ‘মব’ তৈরি করে উদ্যোক্তাদের উচ্ছেদ ও দাবি আদায়ের চেষ্টা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কর্মীদের দেনা-পাওনার বিষয় থাকলে তা শ্রম আদালতের মাধ্যমে মীমাংসা হওয়ার কথা। সংবাদ বা কনটেন্ট-সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করা যেত। কিন্তু তা না করে পত্রিকার কার্যালয়ে ও পোর্টালে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে।

টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে (২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুলাই) ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২৬৬ জনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানসংক্রান্ত হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে।

টিআইবির তথ্য আরও বলছে, এই এক বছর সময়ে দায়িত্ব পালনের সয় তিনজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। কমপক্ষে ২৪ জন গণমাধ্যমকর্মীকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে, আটটি সংবাদপত্রের সম্পাদক এবং ১১টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের বার্তাপ্রধানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি অবাধ ও গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারকে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে নোয়াব। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনো সংবাদপত্র কিংবা গণমাধ্যমে ‘মব’ তৈরি করে মালিক পক্ষকে হুমকি, ভয়ভীতি দেখানোর সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।


পরবর্তী খবর

গাজীপুরে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ভিডিও করায় খুন হলেন সাংবাদিক আসাদুজ্জামান

| প্রকাশিত: ১২:১৩ অপরাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৫

গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামানকে কুপিয়ে হত্যা করেছে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করার দৃশ্য মুঠোফোনে ভিডিও করার সময় আসাদুজ্জামান তাদের নজরে পড়েন। এরপর সন্ত্রাসীরা তাকে ধাওয়া করে এবং কুপিয়ে হত্যা করে।

ঘটনাস্থলের একটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

গাজীপুর নগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে আসাদুজ্জামান তুহিনকে (৩৮) কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

তিনি দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করতেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামে।

ওই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার রবিউল হাসান বলেন, সাংবাদিক আসাদুজ্জামানকে কুপিয়ে হত্যার আগমুহূর্তের কিছু দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা ধারালো দেশি অস্ত্র নিয়ে এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করে। পেছন থেকে সেই দৃশ্য ভিডিও করছিলেন আসাদুজ্জামান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই দৃশ্য ভিডিও করায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাস্থল চন্দনা চৌরাস্তা মসজিদ মার্কেটের পশ্চিম পাশে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিট। কালো রঙের জামা পরা এক নারী হেঁটে যাচ্ছেন। পেছন দিক থেকে নীল রঙের জামা পরা এক ব্যক্তি ওই নারীকে পেছন দিক থেকে টেনে ধরেন। নারী জোর করে চলে যেতে চাইলে তার সামনে গিয়ে গতি রোধ করেন ওই ব্যক্তি। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি নারীকে চড়থাপ্পড় মারেন। ঠিক এমন সময় পাশ থেকে ধারালো অস্ত্র হাতে কয়েক যুবক ওই ব্যক্তিকে কোপানোর চেষ্টা করেন। নীল শার্ট পরা ওই ব্যক্তি দৌড়ে পালিয়ে যান।

ঘটনার কিছু সময় আগে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একটি দোকানে বসে ছিলেন সাংবাদিক আসাদুজ্জামান ও তার সহকর্মী শামীম হোসেন। ওই ঘটনা সম্পর্কে সাংবাদিক শামীম হোসেন বলেন, ‘চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় আমরা দুজন একদিক থেকে অন্য পাশে হেঁটে যাচ্ছিলাম। ঠিক এমন সময় একজন নারী ও পুরুষ আমাদের পাশ কাটিয়ে চলে যান। এমন সময় কয়েকজন লোক দেশি ধারালো অস্ত্র নিয়ে বলতে থাকে, “এই পাইছি, তোরা আয়।” ওই ব্যক্তি দৌড়ে পালানো চেষ্টা করেন। তখন তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাকে ধাওয়া করেন। তখন তুহিন (সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন) মুঠোফোন বের করে তাদের পেছনে দৌড় দেন। পরে আমি তুহিনকে খুঁজতে এগিয়ে যাই। অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা হঠাৎ থেমে গিয়ে পেছনে তাকায়। তুহিন তখন দৌড়ে চায়ের দোকানে ঢুকে যায়। ঠিক ওই মুহূর্তে ওরাও চায়ের দোকানে ঢুকে ওকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। আমি চৌরাস্তা এলাকায় পুলিশের গাড়ি খুঁজতে থাকি। কোনো গাড়ি দেখতে না পেয়ে বাসন থানার ওসিকে ফোন করি। কিছু সময় পর পুলিশ আসে।’

সিসিটিভি ফুটেজে নারীর সঙ্গে যে ব্যক্তির ধস্তাধস্তি হয়েছিল ও পরে তিনি পালিয়ে যান, ওই ব্যক্তি আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার নাম বাদশা মিয়া। তিনি বলেন, ‘ওই মেয়েসহ একটা টিম আছে। ওরা আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে গেছে।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর নগরের বাসন, ভোগরা ও চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একটি চক্র আছে, যারা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। সিসিটিভির ভিডিওতে যাঁদের দেখা গেছে, তারা সবাই ছিনতাইকারী দলের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ভিডিওতে যে নারীকে দেখা গেছে, তিনিও ওই চক্রের সদস্য হতে পারেন। চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ পেতে ওই চক্র ছিনতাই করে থাকে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার রবিউল হাসান বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজের ওই মেয়ে ছিনতাইকারী দলের সদস্য। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে এরই মধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।’

পরবর্তী খবর

দীঘিনালায় ইউপিডিএফ ও জেএসএসের গোলাগুলিতে নিহত ৪

| প্রকাশিত: ৫:৩৫ অপরাহ্ন, ২৬ জুলাই ২০২৫

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সদস্যদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার (২৫ জুলাই) রাত ৮টার দিকে দীঘিনালার দুর্গম নারাইছড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, নারাইছড়ি বিওপি থেকে তিন কিলোমিটার দক্ষিণে জোড়াসিন্ধু কারবারি পাড়া এলাকায় ইউপিডিএফ ও সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এ সময় তিনশ থেকে চারশ রাউন্ড গুলি ছোড়ে দুই পক্ষ।

দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সিন্ধু কারবারিপাড়া এলাকায় ইউপিডিএফের সামরিক কমান্ডার বিপ্লব চাকমার নেতৃত্বাধীন ৪০-৪৫ জনের একটি দলের মুখোমুখি হয় জেএসএসের সামরিক কমান্ডার জয়দেব চাকমা নেতৃত্বাধীন ৩৫-৪০ জনের আরেকটি দল।

''এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলিবিনিময় হয়। এতে ইউপিডিএফের (প্রসিত) সামরিক শাখা ‘গণমুক্তি ফৌজ’ বা ‘পিপলস্ লিবারেশন আর্মি’র চার সদস্য নিহত হন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আহত হয়েছেন অনেকে,'' যোগ করেন তিনি।

তবে নিহতদের নাম-ঠিকানা জানাতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান ওসি।

এদিকে, ইউপিডিএফের জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

আজ শনিবার (২৬ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এ গোলাগুলির ঘটনা সংঘটিত হওয়ার কোনো তথ্য ইউপিডিএফের জানা নেই এবং ইউপিডিএফ একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে ‘গণমুক্তি ফৌজ’ বা ‘পিপলস্ লিবারেশন আর্মি’ নামে তার কোনো সামরিক শাখা থাকার প্রশ্ন একেবারে অবান্তর ও কাল্পনিক।”

ভাইবোনছড়ায় ত্রিপুরা কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী দুরভিসন্ধিমূলক মিথ্যা প্রচারে নেমেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পরবর্তী খবর

বাসে আগুন দেয়ার সময় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী গ্রেপ্তার

| প্রকাশিত: ১:০৪ অপরাহ্ন, ২০ জুলাই ২০২৫

রাজধানী ঢাকার শ্যামপুরে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে আগুন দেয়ার চেষ্টাকালে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার তরুণের নাম সিয়াম সরকার (২২)। গতকাল শনিবার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাত ৪টার দিকে শ্যামপুর মডেল থানাধীন ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের খন্দকার রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ রোববার (২০ জুলাই) সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে খন্দকার রোডের মাথায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের দুইজন কর্মী দাঁড়িয়ে থাকা বাসে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করছে বলে জানা যায়। যুবলীগ নেতা শাকিল বিন সামস্ ওরফে রাব্বির নির্দেশে নাশকতার উদ্দেশ্যে এ চেষ্টা করা হয়। পরে শ্যামপুর মডেল থানার একটি দল দ্রুত সেখানে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে পালিয়ে যাওয়ার সময় সিয়াম সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় রাফসান নামে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক কর্মী কৌশলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে শ্যামপুর মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তালেবুর রহমান।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রেপ্তার সিয়াম সরকার নাশকতার উদ্দেশ্যে বাসে অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টার কথা স্বীকার করেছে।