কঠোর লকডাউনে গার্মেন্টস খোলা রাখার দাবি মালিকদের
করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আগামী সোমবার থেকে সাত দিনের জন্য সারা দেশে ‘কঠোর লকডাউন’ ঘোষণা করেছে সরকার। এই সময়ে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে শপিংমল ও দোকানপাটও। এ অবস্থায় পোশাক কারখানা খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন মালিকরা।
সারা দেশে আগামী সোমবার থেকে (২৮ জুন) কঠোর লকডাউন আসছে। জরুরি সেবা ছাড়া বাকি সবই বন্ধ থাকবে এ সময়। তবে লকডাউনেও তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, আমি মনে করি- পোশাক কারখানা এই লকডাউনের বাইরে থাকবে।
কারণ তৈরি পোশাক কারখানা যদি বন্ধ করা হয়, তাহলে গার্মেন্টস কর্মীরা তখন গ্রামে যাওয়ার চেষ্টা করবে, বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। এটা সবাই জানে, ছুটি পেলেই শ্রমিকরা গ্রামের দিকে রওনা দেন। এতে করোনার প্রকোপ আরও ছড়িয়ে পড়বে। গ্রাম-শহর একাকার হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, কারখানা বন্ধ রাখা যতটা না উপকার, তার চেয়ে খোলা রাখাই বেশি উপকার। বন্ধ হলে অর্ডার বাতিল হবে, বায়াররা (বিদেশি ক্রেতা) চলে যাবে। ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করার সুযোগ কমে যাবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে প্রধান তথ্য অফিসার সুরথ কুমার সরকার জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগামী সোমবার থেকে ‘কঠোর লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে। ‘কঠোর লকডাউন’ চলাকালীন জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব সরকারি বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। জরুরি পণ্যবাহী যান ব্যতীত সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে শুধু যানবাহন চলাচল করতে পারবে। গণমাধ্যম এর আওতামুক্ত থাকবে। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আদেশ আগামীকাল (শনিবার) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
বিশ্ববাজারে দ্বিগুণ হলেও দেশে তেলের দাম বাড়ল সামান্য: জ্বালানিমন্ত্রী
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য দ্বিগুণ হওয়া সত্ত্বেও সরকার জনগণের কথা বিবেচনা করে দেশে দাম অত্যন্ত সীমিত পরিসরে বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানিতে সরকারের ওপর বিশাল অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হলেও ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণ হওয়ার পরেও সরকার জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দেশে তেলের দাম খুব সামান্য বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানিতে এরইমধ্যে সরকারের দুই বিলিয়ন ডলার বাড়তি খরচ হয়েছে।
ইকবাল হাসান বলেন, ‘যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের যা দাম ছিল, বর্তমান বাজারে তা প্রায় দ্বিগুণ। এই বিপুল দাম বৃদ্ধির ফলে সরকারের ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। তবুও আমরা জনগণের স্বস্তির কথা চিন্তা করে সেই অনুপাতে দাম বাড়াইনি।’
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সরকার ভর্তুকি দিয়ে হলেও বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। জনগণের ভোগান্তি কমাতে এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই সরকার এই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা নিজে বহন করছে এবং অত্যন্ত সীমিত পরিসরে দাম সমন্বয় করেছে।
ডলারের বদলে চীনা মুদ্রা দিয়ে ইরানের তেল কিনছে ভারত
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিলের সুযোগে দীর্ঘ প্রায় নয় বছর পর ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানিতে সক্রিয় হয়েছে ভারত। তবে এই লেনদেনে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে চীনের মুদ্রা ইউয়ান ব্যবহার করছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি তেল শোধনাগারগুলো।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আইসিআইসিআই ব্যাংকের সাংহাই শাখার মাধ্যমে এই তেলের মূল্য পরিশোধ করা হচ্ছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরান ও রাশিয়ার তেল সমুদ্রপথে কেনাবেচার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ৩০ দিনের জন্য শিথিল করে। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন। সেই সুযোগেই ইরানি তেল আমদানিতে সক্রিয় হয় ভারত।
সূত্রগুলো জানায়, ভারতের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ‘ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন’ প্রায় নয় বছর পর প্রথমবারের মতো প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করেছে। এই চালানের মূল্য প্রায় ২০ কোটি ডলার।
একই সঙ্গে বেসরকারি জ্বালানি জায়ান্ট রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য ইরানি তেলবাহী চারটি জাহাজ ভারতীয় বন্দরে ভিড়তে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ ইতোমধ্যে তেল খালাস সম্পন্ন করেছে।
সূত্রের দাবি, এই দুই প্রতিষ্ঠানই আইসিআইসিআই ব্যাংকের মাধ্যমে ইউয়ানে ইরানের তেলের মূল্য পরিশোধ করেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি তেলের মূল্য পরিশোধ প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছিল। ফলে অনেক ক্রেতাই আগ্রহ হারিয়েছিল। কিন্তু সাময়িক ছাড়ের ফলে বিকল্প মুদ্রা ব্যবহারের পথ তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে দেওয়া এই ছাড়ের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। ফলে ইরানি তেল কেনাবেচায়নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। ফলে ইরানের তেল কেনায় এই ছাড় আজই শেষ হচ্ছে।
বাজার মূলধন কমলো তিন হাজার কোটি টাকা
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ১২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ২ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৬৩ পয়েন্ট।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান মারা গেছেন
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মাহবুবুর রহমান ত্রয়োদশ বিসিএস শুল্ক ও আবগারি ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে যোগদান করেন।
আগামী দুই মাসেও জ্বালানি তেলের সংকট হবে না: যুগ্মসচিব
দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি নিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেছেন, চলতি এপ্রিল মাস তো বটেই, আগামী দুই মাসেও দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট তৈরি হবে না।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। ব্রিফিংয়ে দেশব্যাপী জ্বালানি তেল উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান মজুত পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী দুই মাসে জ্বালানির কোনো সমস্যা হবে না।’
মনির হোসেন বলেন, গত ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৯ হাজার ১১৬টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় মোট ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয় এবং ৪৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মজুতকৃত জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত জ্বালানির মধ্যে রয়েছে— ডিজেল ৩ লাখ ৬৬ হাজার লিটার, অকটেন ৩৯ হাজার ৭৭৬ লিটার এবং পেট্রোল ৮৭ হাজার ৯৫৯ লিটার। এ ছাড়া সম্প্রতি চট্টগ্রাম থেকে ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার ফার্নেস অয়েল উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৫ লাখ ৪২ হাজার ২৩৬ লিটার অবৈধ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
বর্তমান মজুত পরিস্থিতি তুলে ধরে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশে বর্তমানে ডিজেল মজুত রয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন, অকটেন ৩১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন, পেট্রোল ১৮ হাজার ২১১ মেট্রিক টন এবং ফার্নেস অয়েল ৭৭ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন। এ ছাড়া জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে ১৮ হাজার ২২৩ মেট্রিক টন।
ফুটপাত ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স দেওয়া হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, ঢাকা মহানগরীর নাগরিকরা সব সুবিধা তখনই পাবে যখন জনগণ এবং সিটি করপোরেশন ফিফটি ফিফটি কাজ করবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) সামনের ফুটপাত দখলমুক্ত করে পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাজধানীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের জন্য মানসিক স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কাজে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
হকার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে প্রশাসক জানান, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন অবৈধ দখলদারি সহ্য করা হবে না। তবে হকারদের পুনর্বাসনের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে হকার বসার সুযোগ রাখা হবে। পাশাপাশি ‘হলিডে মার্কেট’ ও ‘নৈশকালীন মার্কেট’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রশাসক জানিয়েছেন, এটি একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকাররম ভবন থেকে চানখাঁরপুল পর্যন্ত প্রায় ১৩৫০ ফুট এলাকায় গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে। এ ছাড়া বসানো হয়েছে ৫৫০টি ফুলের টব ও ৬৫০টি সৌন্দর্যবর্ধক গাছ। রোগীর স্বজনদের জন্য রাখা হয়েছে ৫০টি বসার আসন এবং নির্মাণাধীন রয়েছে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা।
ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এই প্রকল্প সফল হলে পর্যায়ক্রমে নগরীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ফুটপাতেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইরান যুদ্ধে বড় খেসারতের মুখে এশিয়ার অর্থনীতি
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতি হাজার হাজার কোটি ডলারের লোকসানে পড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে জাতিসংঘ।
এই যুদ্ধ এসব অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও মঙ্গলবার সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) হিসাব বলছে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৯ হাজার ৭০০ থেকে ২৯ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে।
এর কারণ হিসেবে তারা পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও খাদ্যের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথা বলেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ক্ষতির পরিমাণ আঞ্চলিক জিডিপির প্রায় শূন্য দশমিক ৩% থেকে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশের মতো।
ইউএনডিপি পূর্বাভাস দিয়েছে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়তে পারে, যার ৮৮ লাখই এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।
এর মধ্যে আবার গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটিতে আলাদা করে অবরোধ শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
সবকিছু মিলিয়ে এই সমুদ্রপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল এখনো হুমকির মধ্যেই রয়ে গেছে।
ইতোমধ্যেই অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বিশ্লেষণ বলছে, উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছে এশিয়ার দেশগুলো, যারা জ্বালানি তেলের প্রায় পুরোটাই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করে। আর এসব তেল আসে মূলত হরমুজ প্রণালি হয়ে।
সিএনএন লিখেছে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কায় এসব দেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের চেষ্টা করছে। বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টাও আছে তাদের। কিন্তু বিকল্প উৎস খুবই সীমিত এবং তেলের দামও পড়ছে বেশি।
ইউএনডিপির এশিয়া ও প্রশান্ত অঞ্চলের পরিচালক কান্নি উইগনারাজা বলেন, “আপনি যেটা দেখছেন, সেটা তাৎক্ষণিক একটা ধাক্কা। এখানে দেশগুলোর সামনে মজুদ তেল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
“দেশগুলো যদি এই সংকট অল্প সময়ের মধ্যে সমন্বয় করতে পারে, তাহলেই কেবল জিডিপির ৯ হাজার ৭০০ থেকে ১০ হাজার কোটি ডলারের ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু মজুদ শেষ হয়ে গেলে এবং বিকল্প উৎস না থাকলে এই ক্ষতি তিনগুণ বেড়ে যেতে পারে।”
এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল মহাদেশ। বৈশ্বিক উৎপাদযজ্ঞের অর্ধেকের বেশি হয় এ অঞ্চলেই। ফলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ধাক্কার প্রভাবে পুরো বিশ্বেই পড়তে পারে।
এশিয়ার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ফিলিপাইনের মতো রাষ্ট্রও আছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে পরিচিত। এসব দেশও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল।
যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় তাদের এখন অর্থনীতির গতি ধরে রাখার লড়াইয়ে নামতে হয়েছে।
তেলের সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সরকার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চাহিদা কমানোর চেষ্টা করছে। উচ্চ ব্যয়ের চাপ সামলাতে আর্থিক সহায়তার উদ্যোগও নিয়েছে কোনো কোনো সরকার।
তবে ইউএনডিপি সতর্ক করে বলেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সরকারি ব্যয় ধরে রাখার চাপ দিন দিন বাড়বে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আলাদা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সার সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় খাদ্য সংকট বিপর্যয়কর পর্যায়ে চলে যেতে পারে।
হরমুজ প্রণালি না খুললে রোপণ মৌসুমে সার নিশ্চিত করতে এবং বৈশ্বিক খাদ্য সংকট এড়াতে এশিয়ার দেশগুলোতে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে বলেও আভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
এফএও’র প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, “খাদ্য মূল্যস্ফীতির সমস্যা এড়াতে যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকা এবং জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়াটা খুবই জরুরি।”
তেল সংকট দীর্ঘ হলে অর্থনীতিতে তার প্রভাব যে মারাত্মক হবে, সেই সতর্কবার্তা ইতোমধ্যে অনেক সংস্থাই দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মঙ্গলবার তাদের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার কমিয়ে আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সারের উচ্চমূল্য বিশ্বের ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষকে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করে দিয়েছে সংস্থাটি।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে এক বক্তৃতায় আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, “ইরান যুদ্ধের ধাক্কা না লাগলে পূর্বাভাসে আমরা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার বাড়াতাম। “কিন্তু আশাব্যঞ্জক পরিস্থিতির মধ্যে আমাদের প্রবৃদ্ধি কমানোর কথা ভাবতে হচ্ছে। কিন্তু কেন? কারণ হলো, অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে, আস্থার ঘাটতি ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাবও পড়েছে।”
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সবশেষ পূর্বাভাস বলেছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি চলতি ও আগামী বছর ৫ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ১ শতাংশে নামতে পারে। এছাড়া গত বছরের ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে আঞ্চলিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে ঠেকতে পারে বলেও আভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
এডিবির প্রধান অর্থনীতিবিদ আলবার্ট পার্ক বলেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতই মূলত এ অঞ্চলের অর্থনীতির বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। “কারণ, এটি জ্বালানি ও খাদ্যের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে এবং আর্থিক পরিস্থিতিকে আরো শোচনীয় করে তুলতে পারে।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বলেছে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। মার্কিন কর্মকর্তারা সম্ভাব্য দ্বিতীয় সরাসরি বৈঠক নিয়ে আলোচনা করছেন বলেও সিএনএনের খবরে এসেছে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলে দেওয়া হলেও বাজারের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। আইএমএফের জর্জিয়েভা বলেন, “সবচেয়ে প্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হলেও স্বাভাবিক অবস্থায় খুব সহজেই ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে না।”
ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
দেশে আপাতত ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আজ রোববার দেশের ভোজ্যতেল সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দেশের ভোজ্যতেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ সময় দেশের মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধসহ বৈশ্বিক নানা কারণে শঙ্কার মধ্যে আছে। আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে, এর মধ্যে যেন কোনো পণ্যের দাম না বাড়ে। সেটিকে লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব।’
মন্ত্রী বলেন, ‘ভোজ্যতেল নিয়ে আমরা নিয়মিত বসি। এটি একটি সংবেদনশীল পণ্য। এটির দাম বাড়লে ক্রেতারা নাখোশ হোন। এ জন্য নিয়মিত বিরতিতে আমরা দেশের তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি, আমদানি পর্যালোচনা করি। তবে এ বৈঠকে দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখনো বলার মতো কোনো কিছু হয়নি।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার থেকে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল মিলমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। কয়েক দিন আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে তারা এ প্রস্তাব দিয়েছিল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে দাম না বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে মিলমালিকেরা লিটারে ১২ টাকা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।
এদিকে, অনুষ্ঠিত দুই দফা বৈঠকে দেশের তেল সরবরাহকারীদের দাম না বাড়িয়ে মুনাফা সমন্বয়ের জন্য কিছু বাড়তি সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে কী ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে, তা চূড়ান্ত হয়নি।
সংসদে বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধনী) বিল ২০২৬ পাস
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৭ বছর বাতিলের লক্ষ্যে একটি বিল আজ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এর ফলে বয়স নির্বিশেষে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব দেওয়ার আইনি পথ উন্মুক্ত হলো।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ পাস হয়। বিলটির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
নির্দিষ্ট ধারাগুলোর ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় বিলটি মূল আকারেই পাস হয়।
নতুন আইনে গভর্নরের চার বছরের মেয়াদ এবং পুনর্নিয়োগের সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে।
তবে, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২-এর ১০ অনুচ্ছেদের ৫ নম্বর ধারায় থাকা ৬৭ বছর বয়সসীমার শর্তটি স্পষ্টভাবে বাতিল করা হয়েছে, যেখানে বলা ছিল— কেউ ৬৭ বছর পূর্ণ করার পর আর গভর্নর পদে থাকতে পারবেন না।
আগের আইনে গভর্নর চার বছরের জন্য নিয়োগ পেতেন এবং পুনর্নিয়োগের সুযোগ থাকলেও ৬৭ বছর বয়সে বাধ্যতামূলক অবসর নির্ধারিত ছিল।
নতুন সংশোধনের মাধ্যমে এই বয়সসীমা তুলে দেওয়ায় এখন থেকে যোগ্যতা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে সরকার গভর্নর নিয়োগ বা বহাল রাখতে পারবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, ব্যাংক তদারকি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ে গভর্নরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি যুক্তি দেন, বিদ্যমান বয়সসীমা অনেক সময় অভিজ্ঞ, দক্ষ ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তিদের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, নেপাল ও পাকিস্তান ছাড়া অনেক দেশেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা নেই। ফলে, এই সংশোধন আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নতুন সরকারের প্রথম একনেকে অনুমোদন পেল ৬ প্রকল্প