রাজস্ব আয় বাড়াতে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন জরুরি
দেশে প্রতিবছর উচ্চ হারে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। কিন্তু কর-জিডিপির অনুপাত কাঙ্খিত পর্যায়ে নেওয়া যাচ্ছে না। রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন, রাজস্ব প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর আদায় পদ্ধতি পুরোপরি ডিজিটালাইজড করা এবং বেশ কিছুখাতে কর অব্যাহতি সুবিধা প্রত্যাহার করতে হবে।
রোববার রাজধানীর কারওয়ানবাজার সিএ ভবনে দ্য ইন্সটিটিউট অব চাটার্ড একাউন্ট্যান্ডস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) আয়োজিত আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ওপর এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
আইসিএি প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ফোরকান উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।
আইসিএবির সাবেক সভাপতি মো. হুমায়ুন কবীরের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, রপ্তানিমূখী পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র (এমসিসিআই) সাবেক সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ, বাংলাদেশ জাপান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র(জেবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আব্দুল হক, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ এবং সাবেক সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন ও আমিনুর রহমান, ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য ড. মোস্তফা আবিদ খান, ইআরএফ সভাপতি মোহাম্মদ রেফায়েত উল্লাহ মীরধা ও সাবেক সাধারন সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম, আইসিএবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শুভাশীষ বোস প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, প্রতিবছর আমাদের উচ্চহারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। কিন্তু কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এর জন্য এনবিআরে আমূল সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন জরুরি। একইসাথে তিনি কর আদায় পদ্ধতি পুরোপুরি অনলাইনে আনার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
আহসান এইচ মনসুর বলেন,আগামী বাজেটের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। এজন্য তিনি বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, টাকা ছাপিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ করতে হবে। একই সাথে তিনি অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ কমানোর পরামর্শ দেন।
তিনি রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ভ্যাট আইন-২০১২ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জোরালো সুপারিশ করেন।
এনবিআরের সাবেক সদস্য আমিনুর রহমান কর অব্যাহতি সুবিধা প্রত্যাহারের পরামর্শ দিয়ে বলেন,এটি ঢালাওভাবে করলে চলবে না। পরীক্ষী-নিরীক্ষা করে যৌক্তিকভাবে করতে হবে। যেসব খাতে কর অবকাশ সুবিধা প্রত্যাহার করলে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাঁধাগ্রস্ত হবে সেখানে এই সুবিধা প্রত্যাহার করা যাবে না।
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম অভিযোগ করেন এইচএস কোড জটিলতার কারণে অনেক ব্যবসায়ী কাস্টমস কর্মকর্তাদের দ্বারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং অতিরিক্ত জরিমানা গুনতে হচ্ছে।
বাজেটে থাকছে বিশেষ বরাদ্দ: শিগগিরই জারি হতে যাচ্ছে নবম পে-স্কেলের গেজেট
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকরের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর পরই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন (গেজেট) জারি করা হবে।
নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করতে জুন মাসের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে আসন্ন বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পুরো কমিশনের সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে এক লাখ কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন হওয়ায় সরকার ধাপে ধাপে এটি কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল থাকবে। সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া নতুন পে-স্কেলের আওতায় প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীকেও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে পেনশন সর্বোচ্চ ১০০% পর্যন্ত হারে বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে আগামী ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের প্রায় ৫০% বৃদ্ধি কার্যকর হতে পারে। পরবর্তী ২ বছরে বাকি অংশ সমন্বয় করা হবে।
এদিকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ। বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের দাবি, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হলে নতুন পে-স্কেল এক ধাপে এবং শতভাগ বেতন বৃদ্ধিসহ কার্যকর করতে হবে।
বেতন বাড়লো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর এপিএসদের
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সহকারী একান্ত সচিবদের (এপিএস) বেতন বাড়িয়েছে সরকার। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদার নিয়োগকৃতদের এপিএসরাও এই বাড়তি বেতন পাবেন।এপিএসদের নতুন বেতন স্কেল নির্ধারণ করে দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে চিঠি পাঠিয়েছে অর্থ বিভাগ।
চিঠিতে জানানো হয়েছে, সরকারি চাকরির বাইরে থেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের (সমমর্যাদারসহ) এপিএস এবং উপমন্ত্রী ও সমমর্যাদার ব্যক্তিদের অভিপ্রায়ে নিযুক্ত তাদের একান্ত সচিবদের (পিএস) বেতন বেতন কাঠামোর নবম গ্রেডের অষ্টম ধাপে অর্থাৎ ৩২ হাজার ৫৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের এপিএসরা এত দিন বেতন কাঠামোর নবম গ্রেডের শুরুর ধাপে অর্থাৎ ২২ হাজার টাকা মূল বেতনে নিয়োগ পেতেন। অনেক সময় কোনো কোনো এপিএসের বেতন নবম গ্রেডে বেশ কয়েকটি ইনক্রিমেন্ট যোগ করে নির্ধারণ করা হতো।
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় উপদেষ্টাদের এপিএসদের নিয়োগ বেতন কাঠামোর নবম গ্রেডের শুরুর ধাপে অর্থাৎ ২২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তীতে তাদের বেতন নবম গ্রেডের সর্বোচ্চ ধাপে অর্থাৎ ৫৩ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ নিয়ে বেশ সমালোচনাও হয়েছিল।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের এপিএসদের বেতন গ্রেড নির্ধারণের বিষয়ের মতামত চেয়ে গত ৩১ মার্চ অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এপিএসদের নতুন বেতন গ্রেড নির্ধারণ করে দিয়ে অর্থ বিভাগ বলেছে, এপিএসদের মূল বেতন ৩২ হাজার ৫৪০ টাকা নির্ধারিত। কোনো প্রকার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি প্রযোজ্য হবে না। তারা বিধি মোতাবেক প্রযোজ্য অন্যান্য ভাতা পাবেন। কোনো প্রকার পেনশন, আনুতোষিক এবং ভবিষ্য তহবিলের সুবিধাদি পাবেন না।
এই মূল বেতন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর (সমমর্যাদা) সহকারী একান্ত সচিব ও উপমন্ত্রীর (সমমর্যাদা) একান্ত সচিব পদে শুধুমাত্র সরকারি চাকরির বাইরে থেকে নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।
সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের এপিএস নিয়োগ দেওয়া হয়। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের অভিপ্রায় অনুযায়ী তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে এপিএস পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
কোনো মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এপিএস পদে সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিলে তিনি এই বেতন গ্রেডের আওতাভুক্ত হবেন না।
দেশের সংকট মোকাবেলায় সরকার কাজ করছে : অর্থ উপদেষ্টা
বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান, নিয়োগ পেলেন তিন নতুন কমিশনার
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসির গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসুদ খান। অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করার শর্তে তাকে এ পদে নিয়োগ করা হয়েছে।
বুধবার (৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী মাসুদ খানকে আগামী চার বছরের জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
একই প্রজ্ঞাপনে কমিশনের তিন নতুন কমিশনারের নামও ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আইনজীবী নাহিদ মাহতাব, আশা ইন্টারন্যাশনালের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর তানভীর হাবিব রহমান এবং ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাফিজ-আল-তারিক। তাদের প্রত্যেককেই চার বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে আজ সকালে বিএসইসির চেয়ারম্যান পদ থেকে খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং কমিশনের চার সদস্য পদত্যাগ করেন। তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। চেয়ারম্যানের পাশাপাশি পদত্যাগ করা কমিশনাররা হলেন মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ এবং মো. সাইফউদ্দিন।
পদত্যাগের কারণ জানিয়ে কমিশনার মো. সাইফউদ্দিন বলেন, “আমরা সবাই ব্যক্তিগত কারণেই পদত্যাগ করেছি।”পরে এক লিখিত বার্তায় বিদায়ী চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদও নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন। ব্যক্তিগত কাজে মনোযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে গত ২১ মাস দায়িত্ব পালনের পর এখন ব্যক্তিগত কাজে মনোযোগ দিতে আমি এই সরকারি পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
নিজেদের মেয়াদকালে গৃহীত সংস্কার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। রাশেদ মাকসুদ বলেন, “আমরা এক চরম অস্থির সময়ে এই নেতৃত্বের দায়িত্ব নিয়েছিলাম এবং দায়িত্ব নিয়েই আইনি কাঠামো ও বাজারের শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যাপক সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছিলাম। এই অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা পাঁচটি বিধিমালার (মার্জিন, আইপিও, মিউচুয়াল ফান্ড, ডেট সিকিউরিটিজ এবং হুইসেলব্লোয়ার) প্রজ্ঞাপন জারি করেছি।”
নতুন নীতিমালার খসড়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সম্প্রতি করপোরেট সুশাসন, অডিট এবং করপোরেট পুনর্গঠন—এই তিনটি বিধিমালা বা নির্দেশিকার খসড়া জনমতের জন্য প্রকাশ করেছি।”
ভবিষ্যৎ আইনি কাঠামো প্রস্তুতের তথ্য দিয়ে রাশেদ মাকসুদ বলেন, “বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন’ এবং ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন’-এর খসড়াও আমরা প্রস্তুত করেছি, যা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মাধ্যমে প্রণয়নের জন্য পাঠানো হয়েছে।”
দেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেট ভালো হবে। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে চিন্তায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে। আমাদের খারাপ সময়, ভঙ্গুর অর্থনীতি তার মধ্যে আমরা চেষ্টা করেছি, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কথা চিন্তা করেছি, সবাইকে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।
সরকারের ওপর প্রচুর ঋণের বোঝা জানিয়ে তিনি বলেন, সবদিক থেকে অর্থনীতির অবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও এই অবস্থার মধ্যে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। এরপরও বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া চেষ্টা করেছি। কারণ বাজেটের এই অর্থনীতিতে সবার অংশগ্রহণ যাতে নিশ্চিত করতে পারি এবং অর্থনীতির সুফল যাতে প্রত্যেকটি নাগরিকের কাছে যায় সেগুলো মাথায় রেখে প্রণয়ন করার চেষ্টা করেছি।
আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, আমরা খুব একটা ভঙ্গুর অবস্থার মধ্যে আছি। বিগত সরকারগুলো থেকে আশা করি এটা একটা ভালো শুরু হবে। একটু সময় দিতে হবে। শুরুটা আশা করি ভালো হবে। এখান থেকে আমরা সামনের দিকে ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারব।
গত দুই বছর মানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাংলাদেশে বিনিয়োগ একেবারেই শূন্য ছিল, এখন আপনাদের সরকারের তিন মাস পার হলো। বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বা বিনিয়োগের বিষয়ে কোনো আশ্বাস রয়েছেন কিনা?
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না। বাংলাদেশের বাংলাদেশের অর্থনীতি হবে বিনিয়োগ ভিত্তিক অর্থনীতি। টাকা ছাপিয়ে এই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে দেশকে ঋণাত্মক একটা অবস্থায় নিয়ে গেছে। আমাদের এই ঋণের সুদের বাজেট একটা বিরাট অংশ চলে যায়। বাংলাদেশকে যে ঋণ নির্ভর অর্থনীতির দিকে যাচ্ছিলাম, সেখান থেকে আগামী দিনে ফিরে আসার জন্য যে পাবলিক ফাইনান্স ম্যানেজমেন্ট দরকার, আমরা সেভাবেই করার চেষ্টা করছি। যাতে করে ক্রমান্বয়ে ঋণ ওপর নির্ভর কম করে বিনিয়োগের উপর বেশি নির্ভর করতে হবে। আমাদের পরিচালন ব্যয় ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনতে হবে, বিনিয়োগ বেশি বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যে অর্থনীতি বাংলাদেশের মানুষের বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে পারবে এবং যে উন্নয়নের স্বপ্ন আমরা দেখাতে চেষ্টা করছি, ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমির দিকে আমরা যাচ্ছি। সেটা যাতে বাস্তবায়ন হতে পারে। সেই চেষ্টা করছি।
সাবেক এমডির পুনর্বহালের দাবিতে মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ, সতর্ক পুলিশ
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। গ্রাহকদের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ এবং প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামান ও সাঁজোয়া যান।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে কয়েক শত সচেতন গ্রাহক অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি— ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের পদত্যাগ, নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল, ব্যাংকের পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সদ্য অপসারিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ ওমর ফারুক খানকে স্বপদে পুনর্বহাল করা।
মানববন্ধনে আব্দুল হান্নান খন্দকার নামে একজন গ্রাহক বলেন, "ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে সুদমুক্তভাবে পরিচালিত হয়ে গ্রাহকদের আমানত রক্ষা করে আসছে। কিন্তু বিগত স্বৈরাচারী সরকার এই ব্যাংকটিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে এস আলম গ্রুপকে এর দায়িত্ব দেয়। তারা ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করে একে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে গিয়েছিল।"
তিনি আরও বলেন, "৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীরা আবার এই ব্যাংকে টাকা জমা ও রেমিট্যান্স পাঠানো শুরু করেন। ব্যাংকটি যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই একটি কুচক্রী মহল খুরশিদ আলমকে চেয়ারম্যান করে ব্যাংকটিকে আবারও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সাধারণ আমানতকারীরা এই ব্যাংককে আর লুণ্ঠনকারীদের হাতে ছেড়ে দেবে না।"
আরেক আন্দোলনকারী গ্রাহক আবুল খায়ের আজাদ গতকালের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে পুলিশের লাঠিচার্জ ও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ সুকৌশলে ব্যাংকটি দখল করেছিল। আর বর্তমান চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, যিনি জুলাই বিপ্লবের সময় পালিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি একজন ফ্যাসিস্টের দোসর। আমরা অবিলম্বে তার পদত্যাগ চাই। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এখান থেকে টাকা পাচার হয়েছে।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গতকাল জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকবান্ধব অফিসার ও এমডি ওমর ফারুক খানকে অন্যায়ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে দ্রুত পুনর্বহাল করতে হবে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এর আগে গতকাল সোমবার সকালেও একই দাবিতে প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে সচেতন গ্রাহক ফোরাম। ওই সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছিল।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ব্যাংকটির গ্রাহক, কর্মকর্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের একটি বড় অংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়, যা এখন রাজপথের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ
সোমবার (১ জুন) সকাল থেকে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান নেন ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম-এর সদস্যরা। তারা ব্যাংকের নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে। এতে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ অযৌক্তিকভাবে বলপ্রয়োগ করেছে। তাদের দাবি, ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান এস আলমের দোসর। তাকে নিয়োগ দেওয়ার কারণে ব্যাংকে আবার লুটপাট হবে। এ কারণে তারা তাদের দাবি তুলে ধরতে কর্মসূচি পালন করছিলেন।
পুলিশ তাদেরকে প্রথম দফা সরিয়ে দিলেও আবারও ইসলামী ব্যাংক এলাকায় অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। এ ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং ব্যাংকের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাধ্য হয়ে বাড়ানো হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী
সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী একথা জানান।
গতকাল (৩১ মে) রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন যে প্রতিমাসে মূল্য সমন্বয় হয়। মে মাসে মূল্য সমন্বয় হয়নি যেহেতু এপ্রিল মাসে একটি অ্যাডজাস্টমেন্ট (সমন্বয়) করা হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘আমরা একটি কথা কিন্তু বারবার বলবার চেষ্টা করেছি যে, একান্ত যখন উপায়হীন হবে সরকার তখনই এ ধরনের অপ্রিয় কিছু সিদ্ধান্ত হয়তো বা সরকার নিতে বাধ্য হবে। তো মিডল ইস্ট ক্রাইসিসের কারণে এ ধরনের বাস্তবতা এসেছে।’
আমাদের জ্বালানির মূল কনজাম্পশন (ভোগ) ডিজেল ৬৬ শতাংশ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটার পেছনেই সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি সরকারকে দেওয়া লাগে। কিন্তু তারপরেও কিন্তু এটা আনটাচড। ফর হোয়াট রিজন? সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবে অ্যাফেক্টেড না হন। কিন্তু আমি যেটা বলেছি, আমরা উপায়হীন। এটা আমি শুধু বলছি না, আমার তুলনায় আপনারাও ভালো জানেন। সে ক্ষেত্রে কিছু কিছু জায়গায় বাধ্য হয়ে কিছু অ্যাডজাস্টমেন্ট (সমন্বয়) করতে হচ্ছে।’
পর পর দুই দফা তেলের দাম বেড়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা টেনশন কাজ করছে, আবার বাজেট আছে। তেলের দাম কি পর্যায়ক্রমে আসলে বাড়বে নাকি সমন্বয় হবে- কী মেসেজ দিতে চান?
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘না, না, আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে পারি যে আমরা তো আশাবাদী যে মিডল ইস্ট ক্রাইসিস অচিরেই রিজলভ (মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধান) হবে। আমি খুব দায়িত্ব নিয়েই বলতে পারি যদি গ্লোবাল প্রাইস মানে শার্পলি ডিক্লাইন করে আমরাও খুব শার্পলি এটা অ্যাডজাস্ট (আন্তর্জাতিক বাজারে কমলে দেশের বাজারেও কমবে) করবার চেষ্টা করবো।’
মানুষের অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয় জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘মানে বাড়ে যেভাবে হয়তো বা সেভাবে কমে না। কিন্তু আমি এটুকু দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি যদি এই ক্রাইসিস রিজলভ হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমে আসে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, যেহেতু এটা নির্বাচিত সরকার, জনগণের প্রতি আমাদের একটি দায়বদ্ধতা রয়েছে, সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে জনগণের কষ্ট লাঘবের জন্য আমরা তড়িৎ সিদ্ধান্ত নেবো ইনশাআল্লাহ।’
এর আগে রোববার (৩১ মে) রাতে ডিজেল ছাড়া অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়। যা সোমবার (১ জুন) থেকে কার্যকর হয়েছে।
ভোক্তা পর্যায়ে অকটেনের দাম ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম আগের মতোই ১১৫ টাকা রাখা হয়েছে।
ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা
দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও বেড়েছে। এবার মানভেদে প্রতি ভরিতে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে দুই হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত। এতে সবচেয়ে ভালো ২২ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি সোনার দাম বেড়ে হয়েছে দুই লাখ ৩৮ হাজার টাকা, যা আগে ছিল দুই লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা।
সোমবার (২৫ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সোনার নতুন এ দাম জানিয়েছে। এ দিন সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তির তথ্য বলছে, নতুন দর অনুযায়ী ২১ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম পড়বে দুই লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা কিনতে লাগবে এক লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা।
এবার সোনার দামের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়িয়েছে বাজুস। ২২ ক্যারেট মানের এক ভরি রুপার নতুন দাম পাঁচ হাজার ৬৫৭ টাকা, ২১ ক্যারেট মানের পাঁচ হাজার ৩৬৫ টাকা ও ১৮ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি রুপার দাম চার হাজার ৬০৭ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা কিনতে খরচ করতে হবে তিন হাজার ৭৪১ টাকা।
বাজুস বলছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ানো হয়েছে।
নবম পে-স্কেল ‘চূড়ান্ত হচ্ছে’ বৃহস্পতিবার, সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন বেতনসহ যা থাকবে আলোচনায়
এদিকে এ বৈঠক থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, আসন্ন জাতীয় বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে মূল বেতন সমন্বয় করা হবে এবং তৃতীয় বছরে যুক্ত হবে বাড়তি ভাতা, আনুষঙ্গিক সুবিধা ও অন্যান্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এবং এরপর নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। পুনর্গঠিত কমিটি ইতিমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও আর্থিক সংশ্লিষ্ট সংস্থার মতামত পর্যালোচনা করেছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাস থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন নির্ধারিত মূল বেতনের অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ পাবেন এবং পরবর্তী অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। আর এর পরের অর্থাৎ ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরে নতুন কাঠামোর সঙ্গে আনুষঙ্গিক সব ভাতা ও বাড়তি আর্থিক সুবিধাগুলো যুক্ত হবে।
পে-কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অনুযায়ী একবারে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে চাকুরিজীবীরা যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, তা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব মাথায় রেখেই আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, নবম পে স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সমন্বিত নির্দেশনা থাকতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নবম পে স্কেলে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কারণ নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কিছুটা কমিয়ে আনার প্রস্তাবও রাখা হতে পারে।
সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান এমন ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যাদের মাসিক পেনশন ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এ খাতে কতটুকু বরাদ্দ ও সুবিধা কার্যকর করা হবে, তা এখন চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
এছাড়া, নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।
সর্বশেষ - অর্থনীতি
- ১ বাজেটে থাকছে বিশেষ বরাদ্দ: শিগগিরই জারি হতে যাচ্ছে নবম পে-স্কেলের গেজেট
- ২ বেতন বাড়লো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর এপিএসদের
- ৩ দেশের সংকট মোকাবেলায় সরকার কাজ করছে : অর্থ উপদেষ্টা
- ৪ বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান, নিয়োগ পেলেন তিন নতুন কমিশনার
- ৫ দেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী