অবশেষে একসাথে-পর্ব:০২
রাতুলের মা রেজিয়া খাতুন, মর্ডান মেয়ে। ছেলে-মেয়ের সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করেন। রাতুল মায়ের সঙ্গে জীবন কাহিনী নিয়ে আলোচানা করে। তবে নীলার ব্যাপারে কিছু বলেনি বলে, তিনি রেগে গেলেন। নীলার সম্মুখে রেজিয়া খাতুন বললেন,
“তলে তলে ছেলে আমার এতকিছু করে ফেলেছে, অথচ আমি জানিনা। আজ আসুক বাসায়, তবে তার একদিন কী আমার একদিন।
রেজিয়া খাতুনের কথা শুনে রহমত আলী বলেন,
“আচ্ছা নীলা, কতোদিন যাবত তোমাদের রিলেশন?
পাশ থেকে নীলা মাথা নিচু করে বলে,
“এই তো চার বছর ধরে।
রহমত আলী রীতিমতো পাগল হয়ে বললেন,
“ওহ মাই গড! চার বছর যাবত রিলেশন, অথচ আমরা বাসার কেউ জানিনা।
নীলাকে প্রথম দেখায়, রেজিয়া খাতুনের ভীষণ পছন্দ হয়েছে। রেজিয়া খাতুন নিজের হাতের বালা নীলার হাতে পরিয়ে দেন। নীলা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
“কী করছেন আন্টি?
নীলার কথায় রেজিয়া খাতুন মুচকি হাসেন। হাসি দেখে নীলা আবার বলে,
“হাসছেন কেন আন্টি?
“হাসছি এজন্য যে, আমার ছেলের বউ এখনো আমাকে আন্টি বলে।
এবার কিন্তু নীলাও হেসে ফেলল, তারপর বলে,
” আচ্ছা আমার হাতে এগুলো কেন পরিয়েছেন?
ফারিহা এবং নীলা ক্লাসমেট। কিন্তু নীলা জানত না রাতুল ফারিহার বোন। নীলাও বেশ অবাক হয়েছে ফারিহাকে দেখে। জিজ্ঞেস করে,
“এই ফারিহা তুই এখানে কেন?
ফারিহা হেসে বলে,
“আরে গাধী! এটা আমার বাসা। এই যে আমার লক্ষি মা এবং বাবা। আমার সব থেকে ভালো বন্ধু।আর আমার বড় ভাই রাতুল, আপাতত বাসায় নেই।
রহমত আলী এতক্ষণে মুখ খুলেছেন,
“ফারিহা তুই কী জানছ, রাতুল যে নীলাকে ভালোবাসে।
বাবার কথা শুনে ফারাহা অবাক হয়ে। কিছুক্ষন নিরবতা পালন করে, তারপর বলে,
“না বাবা! ভাইয়া তো বলল কোনো রিলেশনে নেই।
রেজিয়া খাতুন বললেন,
“আমরাও সেটাই জানি। রাতুল কাউকে ভালোবাসে না। আজ যদি নীলা এসে না বলতো! তাহলে হয়তো অজানা থেকে যেতো।
সবার কথা শুনে, নীলা মনে মনে ভাবে, বাবারে বাবা! পুরো পরিবার আমার পক্ষে। তাহলে আর রাতুলকে হারানোর ভয় নেই।
রাতুলের বাসায়, রাতুলের মা-বাবা এবং বোনের সঙ্গে খানিকটা সময় আড্ডা দেয়। তারপর বাসায় ফিরে আসে। মনে মনে কল্পনার জগতে যায় নীলা। এই যেন রাতুল সামনে, সামনে এসে বলছে, ওগো কী করছ! বলেই আবার উধাও হয়। নীলা একা একা হাসে। ঘুমের ঘরে স্বপ্নে রাতুল আসে। কাছে এসে জড়িয়ে ধরে। কপালে চুমু খায়। হাত রাখে, কথা দেয়, কোথাও যেন হারিয়ে না যায়। ঘুম ভেঙে যায় নীলার, জাগ্রত হয়ে বুঝতে পারে, এগুলো স্বপ্ন ছিল।
রাতে খাবার টেবিলে সবাই বসে ডিনার করছে, রহমত আলী হঠাৎ মুখ খুলেছেন,
“রাতুলের মা! মেয়েটিকে আমার বেশ পছন্দ হয়েছে।
রেজিয়া খাতুন বললেন,
“আমারও পছন্দ হয়েছে! যথেষ্ট সুন্দরী মেয়ে।
“আমারও পছন্দ হয়েছে। নীলা ভীষণ ভালো মেয়ে। আমাদের ক্লাসের এক নাম্বার স্টুডেন্ট। বলল ফারিহা।
একটা মেয়ের প্রশংসা শুনতে শুনতে, একটা সময় রাতুল বলে উঠল,
“এই ফারিহা কার কথা বলছ! কাকে নিয়ে এত প্রশংসা করছ?
রাতুলের কথায় ফারিহা বলে,
“কেন নীলার কথা বলছি।
রাতুল অবাক হয়। তারপর জিজ্ঞেস করে,
“নীলাটা কে আবার?
রাতুলের কথা শুনে রেজিয়া খাতুন বললেন,
“হইছে ভাব নিতে হবে না।
মায়ের কথায় রাতুল প্রায় অবাক। জিজ্ঞেস করে,
“নীলা কে! আমি সত্যি জানিনা বলো তো কে?
রাতুলের কথা শুনে ফারিহা বলে,
“ভাইয়া এত লজ্জা পাচ্ছ কেন? ওই যে আমার বান্ধবী, নীলা যার সঙ্গে তোমার রিলেশনশিপ।
“কী ফালতু কথা বলছিস, আমি আবার কবে তোর বান্ধবীর সঙ্গে রিলেশন করেছি। তাছাড়া আমি আজও সিঙ্গেল।
“আমি কী জানি, নীলা আজ বাসায় এসে বলল।
“আমি না কিছুই বুঝতে পারছি না। অপরিচিত একটা মেয়ে বাসায় এসে বলল, আমার সঙ্গে রিলেশন। আর তোমরা তার কথা বিশ্বাস করেছ। এই নীলা কোন মেয়েটা আমাকে একটু দেখাইছ তো।
“অপেক্ষা করো আমি ছবি দেখাচ্ছি।
চলবে…..
‘অমর সঙ্গী’ সিনেমার পরিচালক সুজিত গুহ গুরুতর অসুস্থ
এবার ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য বন্ধে হাইকোর্টে জয়া আহসান
বিতর্কের মুখে চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকা সংশোধন, আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন শবনম
২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকা সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। নানান বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে এই সংশোধন এনেছে মন্ত্রণালয়। সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন অভিনেত্রী ঝর্ণা বসাক শবনম এবং চলচ্চিত্র সম্পাদক ফজলে হক।
মঙ্গলবার (২ জুন) প্রকাশিত নতুন প্রজ্ঞাপনে আজীবন সম্মাননা ও সেরা চিত্রনাট্য বিভাগে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৯ জানুয়ারি ঘোষণা করা হয় ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এতে আজীবন সম্মাননার জন্য চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও চিত্রগ্রাহক-পরিচালক আবদুল লতিফ বাচ্চু এবং সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে ‘রক্তজবা’ চলচ্চিত্রের জন্য নিয়ামুল মুক্তার নাম ঘোষণা করা হয়। এ পুরস্কার ঘোষণার পর আজীবন সম্মাননা ও সেরা চিত্রনাট্য বিভাগ নিয়ে বিতর্ক ওঠে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের নীতিমালায় আজীবন সম্মাননার জন্য জীবিত ব্যক্তিদের বিবেচনার কথা উল্লেখ থাকলেও প্রজ্ঞাপনে পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজনই প্রয়াত হওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়। এছাড়া সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে নিয়ামুল মুক্তার নামে অভিযোগ ওঠে তিনি ‘রক্তজবা’সিনেমার চিত্রনাট্য রচনা করেননি।
এসব বিতর্কের জেরে পর্যালোচনা শেষে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে দুই বিভাগে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী এবার আজীবন সম্মাননা যৌথভাবে পাচ্ছেন অভিনয়শিল্পী শবনম এবং চলচ্চিত্র সম্পাদক ফজলে হক। অন্যদিকে সেরা চিত্রনাট্যকার বিভাগে তাসনীমুল হাসানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
‘লোকে বলে’ দিয়ে ঈদ জমিয়ে তুললেন ফারিয়া
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও গানে ফিরলেন দুই বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ও সংগীতশিল্পী নুসরাত ফারিয়া। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রকাশ পেয়েছে তার নতুন ফোক-পপ ঘরানার গান ‘লোকে বলে’। গানটির মাধ্যমে ঈদুল আজহার উদযাপনের ভাইব ছড়িয়ে দিল এই নায়িকা।
গানটির সবচেয়ে বড় চমক, এই প্রথম আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগীত পরিচালক ফুয়াদ আল মুক্তাদির–এর সুর ও সংগীতে কণ্ঠ দিয়েছেন ফারিয়া। গানের কথা লিখেছেন তাহজিব এম বন্ধন এবং মিক্স-মাস্টার করেছেন অভিষেক ঘটক।
মিউজিক ভিডিওতেও দেখা গেছে ভিন্ন এক ফারিয়াকে। ভিডিওর শুরুতেই ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের স্টাইলিশ উপস্থিতি দর্শকের নজর কাড়ে। এরপর চিরচেনা গ্ল্যামার আর আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সে হাজির হন নুসরাত ফারিয়া। পুরো গানজুড়ে তাকে দেখা গেছে একাধিক আকর্ষণীয় লুকে। গানটির ভিডিওতে ফারিয়া কখনও রেড কার্পেট স্টাইলে ওয়ান-শোল্ডার পোশাকে, আবার কখনও উৎসবের আবহে লেহেঙ্গায় প্রাণবন্ত নাচে।
গানটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুসরাত ফারিয়া লিখেছেন, “ঈদ মুবারক”। জমকালো এই মিউজিক ভিডিওটির কোরিওগ্রাফি ও নির্দেশনা দিয়েছেন ভারতের জনপ্রিয় নির্মাতা বাবা যাদব। মঙ্গলবার (২৭ মে) গানটি প্রকাশ পেয়েছে এসভিএফ–এর ইউটিউব চ্যানেলে।
উল্লেখ্য, অভিনয়ের ব্যস্ততার মাঝেই ২০১৮ সালে ‘পটাকা’ গান দিয়ে গায়িকা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন নুসরাত ফারিয়া। এরপর তার কণ্ঠ ও পারফরম্যান্সে প্রকাশ পায় ‘আমি চাই থাকতে’, ‘হাবিবি’ এবং ‘বুঝি না তো তাই’-এর মতো জনপ্রিয় গান। প্রতিটি গানই ইউটিউবে কোটি কোটি ভিউ পেয়ে দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। নতুন গান ‘লোকে বলে’ দিয়েও সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলেই আশা করছেন ভক্তরা।
নাচতে নাচতে কারিশমার গায়ে হুমড়ি জুনিয়র ডান্সারের!
সম্প্রতি নৃত্যশিল্পী রুবিনা খান বলিউডের দাপুটে কোরিওগ্রাফার প্রয়াত সরোজ খান এবং অভিনেত্রী করিশ্মা কাপুরের মধ্যে ঘটা এক ঘটনার স্মৃতি হাতড়ালেন। তিনি সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন একটি শুট চলাকালীন তাঁদের মধ্যে কী নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়।
তাঁর কথা অনুয়ায়ী, গোটা ঘটনাটি ঘটেছিল একটি নাচের শুটের সময়। নাচতে নাচতে আচমকাই এক জুনিয়র নৃত্যশিল্পী করিশ্মা কাপুরের গায়ে পড়ে যান। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অভিনেত্রী। তিনি সেই ছেলেটির উপর চেঁচাতে শুরু করেন। সেটে সকলের সামনে তাঁকে যারপরনাই অপমান করেন। গোটা বিষয়ে সরোজ খান মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেন। করিশ্মা কাপুরকে থামানোর চেষ্টা করেন তিনি। অনুরোধ করেন তিনি যেন ডান্সারতীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার না করেন। কিন্তু সেই কথায় কাজ হয়নি। বরং পরিস্থিতি আরও বিগড়ে যায়।
করিশ্মা কাপুর জানিয়ে দেন তিনি আর সেই প্রজেক্টে কাজ করবেন না। এরপর থেকে সরোজ খান এবং করিশ্মা কাপুর কখনই আর একসঙ্গে কাজ করেননি। যদিও জীবিত থাকাকালীন সরোজ খান কখনই এই বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। অন্যদিকে ২০২০ সালে বলিউডের জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফারের মৃত্যুর পর করিশ্মা কাপুর শোকপ্রকাশ করেছিলেন। ভারতীয় ছবি এবং নাচের জগতে তাঁর অবদান প্রসঙ্গে কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, করিশ্মা কাপুরের প্রাক্তন স্বামী সঞ্জয় কাপুরের মৃত্যুর পর থেকে তিনি একাধিকবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন সাম্প্রতিক সময়ে। সঞ্জয়ের বর্তমান স্ত্রী প্রিয়া সচদেব তাঁর দুই সন্তানের পড়াশোনার খরচ বহন করেন না, সহ একাধিক অভিযোগ এনেছিলেন করিশ্মা কাপুর এবং তাঁর দুই সন্তান। প্রিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ সঞ্জয়ের মায়েরও।
শিল্পকলায় ‘রবির চিত্র, চিত্রের রবী’ প্রদর্শনী
১৬ মে জাতীয় চলচ্চিত্র সংসদ সম্মেলন
লাইফ সাপোর্টে ফুটবলার কায়সার কন্যা কারিনা
আজ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী
আজ ২৫ বৈশাখ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বহুমাত্রিক উৎকর্ষের মহানায়ক, নোবেলজয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী।
সময়ের হিসাবে ১৬৫ বছর পেরিয়ে গেলেও কবিগুরু আজও বাঙালির মনন, সংস্কৃতি ও জীবনবোধে সমানভাবে জীবন্ত। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ, ইংরেজি ৭ মে ১৮৬১ সালে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র।
দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদাসুন্দরী দেবীর সন্তান রবীন্দ্রনাথ শৈশবেই অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দেন। মাত্র আট বছর বয়সে কবিতা লেখা শুরু করা সেই শিশুই পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।
রবীন্দ্রনাথ ছিলেন একাধারে কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সুরস্রষ্টা, শিক্ষাচিন্তক, ভাষাবিদ, চিত্রশিল্পী, দার্শনিক ও মানবতাবাদী। তার সৃষ্টিকর্মের পরিধি যেমন বিস্তৃত, তেমনি গভীরতাও অসাধারণ। তিনি রচনা করেছেন ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধগ্রন্থ, অসংখ্য ছোটগল্প, চিঠিপত্র এবং ২ হাজারের বেশি গান। বাংলা সাহিত্যে এমন বহুমাত্রিক প্রতিভার উদাহরণ খুবই বিরল।
তার সাহিত্যকর্মে মানুষের আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বিরহ, নিঃসঙ্গতা, প্রতিবাদ এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষাসহ মানবজীবনের নানা অনুভূতি গভীরভাবে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক আত্মীয়তার চেয়েও গভীরতর। তার পূর্বপুরুষরা খুলনার রূপসা উপজেলার পিঠাভোগে বসবাস করতেন। জমিদারি তদারকির কাজে তিনি দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও নওগাঁর পতিসরসহ বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে। বাংলাদেশের প্রকৃতি, মানুষ ও জনজীবন তার সাহিত্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ রবীন্দ্রনাথেরই রচনা। এর মধ্য দিয়ে এই ভূখণ্ডের সঙ্গে তার সম্পর্ক রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পেয়েছে।
রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বাংলা ভাষার বিশ্বস্বীকৃতিরও এক ঐতিহাসিক ঘটনা। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা ভাষাকে বিশ্বমঞ্চে বিশেষ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেন। এই অর্জন আজও বাঙালির অন্যতম সাংস্কৃতিক গর্ব।
জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আজ দেশব্যাপী নানা আয়োজনে স্মরণ করা হচ্ছে কবিগুরুকে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় যথাযথ মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে দিবসটি উদ্যাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কুষ্টিয়ার শিলাইদহসহ কবির স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন জেলায় নেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি। এ বছর কুষ্টিয়ার শিলাইদহে তিন দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
কুষ্টিয়ার পাশাপাশি কবির স্মৃতিবিজড়িত নওগাঁর পতিসরেও আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা।
সেখানে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর।
এ ছাড়া খুলনার দক্ষিণডিহিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
জাতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। এতে থাকবে নৃত্য, সংগীত ও আবৃত্তি।
ঢাকাসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রচনা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হবে। একই সঙ্গে কবির ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমি বিশেষ স্মরণিকা ও পোস্টার মুদ্রণ ও বিতরণ করেছে।
বরাবরের মতো ছায়ানটও বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদ্যাপন করছে।
এদিকে কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ২৮ বৈশাখ (১১ মে) বাংলা একাডেমি ‘রবীন্দ্র পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান করবে। এবার রবীন্দ্রসাহিত্য গবেষণায় অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ এবং রবীন্দ্রসংগীত চর্চায় শিল্পী বুলবুল ইসলাম এ পুরস্কার পাচ্ছেন।
আলোর মুখ দেখছে ইরফানের সিনেমা