বায়ুত্যাগের শব্দ শুনে আ. লীগ নেতাকে ধরল পুলিশ
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির বাথরুমের ওপরের স্টোররুমে লুকিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের এক নেতা। তবে শেষরক্ষা হয়নি তার।
ওই নেতার বায়ুত্যাগের শব্দ শুনে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাকে ওই স্টোররুম থেকে নামিয়ে আনে পুলিশ।
রবিবার (৯ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
ওই ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের কয়েকজন সদস্য ওই নেতার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাকে স্টোররুম থেকে নেমে আসতে বলছেন। পুলিশ সদস্যদের নির্দেশে তিনি ওই রুমের ঢাকনা খুলে নিচে নেমে আসেন।
পরে পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি চট্টগ্রামের বলে জানা গেছে
জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট শেয়ারের অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া কিশোরের নাম শেখ রসুল ওরফে রফিকুল (২৪)। তিনি উপজেলার গোপালপুর গ্রামের জাহিদ শেখের ছেলে। সোমবার রাতে উপজেলার বাঁধাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার সকালে জানান, ঢাকার মিরপুরে রামিসা হত্যা মামলার ঘটনার দুদিন পর শেখ রসুল তার ফেসবুক আইডি থেকে জাইমা রহমানকে নিয়ে একটি আপত্তিকর পোস্ট শেয়ার করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
ওসি বলেন, এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রফিকুলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৩ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
নাটোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত রোববার (৭ জুন) সকালে হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা হলেন অমিত (২৩), অনিল (২৩) ও প্রাঙ্গণ (২৪)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ দুই বছর বয়সী কন্যাকে নিয়ে গত ৫ জুন নাটোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন ওই নারী। অভিযোগ অনুযায়ী, ৭ জুন সকালে শিশুর ওষুধ সংগ্রহের কথা বলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমিত তাঁকে হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় নিয়ে যান। সেখানে অনিল ও প্রাঙ্গণের সহযোগিতায় অমিত তাঁকে ধর্ষণ করেন। এ সময় অপর দুজন মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই সময় শিশুটি ওয়ার্ডে একা থাকায় কান্নাকাটি শুরু করলে নার্সরা তার মাকে খুঁজতে শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহজনক গতিবিধি দেখা যায়। পরে আনসার সদস্যরা ষষ্ঠ তলায় গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করেন।
হাসপাতালের আনসার সদস্য মো. সালাউদ্দিন জানান, বিষয়টি জানার পর তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়ে আসেন। প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে পরিস্থিতির মুখে তারা ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেয় বলে দাবি করেন তিনি।
আনসার প্লাটুন কমান্ডার মো. মোন্নাফ হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের বক্তব্য মোবাইল ফোনে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, তাকে ধর্ষণের পাশাপাশি ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তবে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. আরশেদ আলী দাবি করেছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, হাসপাতালের ভেতরে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং গ্রহণযোগ্য নয়।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর রহমান জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর স্বামীর লিখিত অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
জেলার পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষ, নিহত ৪
টাঙ্গাইলের সখীপু্রে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিয়ে দুমড়েমুচড়ে গেছে মুরগি বহন করা একটি পিকআপ। এতে নিহত হয়েছেন চারজন। মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোরে উপজেলার সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কের কালিয়া বাজার নামক এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে মহাসড়কের পাশে বাঁশবোঝাই একটি ট্রাক দাঁড় করানো অবস্থায় ছিল। এ সময় একই দিক থেকে আসা মুরগিবাহী একটি পিকআপ পেছনে থেকে ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য সড়কটি দিয়ে যান চলাচল ব্যাহত হন। পরে আস্তে আস্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার এএসআই মো. আল মামুন বলেন, ভোর ৪টার দিকে উপজেলার কালিয়া ঘোনারচালা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাঁশবোঝাই ট্রাকে মুরগিবাহী পিকআপ ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মুরগিবাহী পিকআপে থাকা চারজন নিহত হন। মরদেহ সখীপুর থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পরিবারের লোকজন আসলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
দুই দশক পর কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) রাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন তিনি। আবার রবিবার রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেবেন।
চারদলীয় জোট আমলে দলের হয়ে কক্সবাজার যাওয়ার প্রায় দুই দশক পর আবার কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক তৎপরতা ও প্রাণচাঞ্চল্য শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে আয়োজিত জনসভার মাঠ এবং নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সম্ভাব্য স্থান, কক্সবাজারে খালখনন উদ্বোধনসহ সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন মন্ত্রী, সচিব ও জেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (৫ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চকরিয়ায় পৌঁছে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান ও পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে চকরিয়া পৌরসভার বাস টার্মিনাল মাঠ, চকরিয়া উপজেলা এবং মাতামুহুরী উপজেলার নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণে বিবেচিত এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন। জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে পাতলিখাল খনন স্থান পরিদর্শন করে গেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
জেলা বিএনপি ও প্রশাসনের সূত্রমতে, ১৩ জুন রাত ৮টার বিমানে কক্সবাজারের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী। রাতে কক্সবাজার সার্কিট হাউজে অবস্থানের পর ১৪ জুন সারাদিনের টাইট প্রোগ্রাম রাখা হয়েছে। এদিন বেলা ১১টায় কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে ৪৮ বছর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খনন করা পাতলিখাল পুনঃখনন উদ্বোধন এবং সংক্ষিপ্ত পথসভা করবেন তিনি।
দুপুর ১২টায় যাবেন ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক। সেখানে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা এবং পার্ক ঘুরে দেখবেন। এরপর যাবেন জুলাই-২৪ আন্দোলনে কক্সবাজারের প্রথম শহীদ ওয়াসিমের কবর জেয়ারতে। জেয়ারত শেষে মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং পরে পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর জোহরের নামাজ-ভোজ ও বিশ্রাম শেষে বিকেল ৪টায় যাবেন চকরিয়ায় বিএনপি জনসভায়।
চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভা শেষে সন্ধ্যায় কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ ও সৈকত পরিদর্শন করবেন তিনি। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজারের সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়ে রাত ৯টার বিমানে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর চকরিয়া-পেকুয়া সফর ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সঙ্গে থাকবেন চকরিয়া-পেকুয়া (কক্সবাজার-১) আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, কক্সবাজার-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল প্রমুখ।জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউছুপ বদরী বলেন, ‘প্রায় দুই দশক আগে চারদলীয় জোট আমলে কক্সবাজার এসেছিলেন তারেক রহমান। কিন্তু এখন আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান হয়ে। এজন্য আমাদের উচ্ছ্বাসটা একটু বেশি।’
৭০ ঘণ্টা পর সেই ১০ জনকে শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিল বিএসএফ
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে পুশ ইনের চেষ্টাকে ঘিরে জটিলতার অবসান হয়েছে। প্রায় ৭০ ঘণ্টা শূন্যরেখার ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থানের পর রোববার গভীর রাতে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
সোমবার (৮ জুন) সকালে সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যেখানে গত কয়েক দিন ধরে ওই ১০ জন অবস্থান করছিলেন, সেখানে আর কাউকে দেখা যায়নি। আগের মতো বিজিবি ও বিএসএফের অতিরিক্ত সদস্যদের উপস্থিতিও ছিল না। উভয় বাহিনী নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরে গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোর থেকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জন ব্যক্তি সীমান্তসংলগ্ন একটি কৃষিজমিতে অবস্থান করছিলেন। বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টাকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতিতে তারা দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটান। রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তাদের জন্য কোনো ধরনের আশ্রয়ের ব্যবস্থা ছিল না।
স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, আমরা বিজিবির সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় পাহারা দিচ্ছিলাম। রাত ১২টার দিকে বিএসএফ তাদের লাইট বন্ধ করে দেয়। পরে রাত প্রায় আড়াইটার দিকে তারা ওই লোকজনকে সেখান থেকে নিয়ে যায়।
এর আগে রোববার দুপুরেও বিএসএফ ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি তা প্রতিহত করে। এ সময় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে উভয় পক্ষ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে সতর্ক অবস্থান নেয়।
নীলফামারী ব্যাটালিয়নের (৫৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিএসএফ আমাদের সঙ্গে কথা বলে রাত আড়াইটার দিকে তাদেরকে সেখান থেকে নিয়ে গেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে উল্টে পড়ল বাস, নিহত ৪
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় যাত্রীবাহী একটি লোকাল বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে খাদে উল্টে পড়ে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ১০ জন যাত্রী।
সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের বৈশামোড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লোকাল যাত্রীবাহী বাসটি মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় বৈশামোড়া এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তেই বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের গভীর খাদে উল্টে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন যাত্রী নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।
দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার মো. আব্দুল বাতেন বলেন, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। চারজন নিহত হয়েছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
চট্টগ্রামে ট্রাকের সঙ্গে পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের সংঘর্ষ, বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে ট্রেনের গার্ড ও রেলকর্মীদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় জরুরি ব্রেক প্রয়োগ করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার রেলওয়ের ৬৬/৩ কিলোমিটার পয়েন্টে একটি অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সিলেটগামী ৭১৯ আপ পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের সঙ্গে বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনটির ইনচার্জ গার্ড শহিদুল ইসলাম রাসু ও কন্ট্রাক্টর গার্ড মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত রেলকর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেন। তাদের তৎপরতায় জরুরি ব্রেক প্রয়োগ করা সম্ভব হয় এবং সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিক বলেন, দুর্ঘটনার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময় ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
৩ সীমান্তে ৬০ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা, বিজিবির বাধায় নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান
লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও নওগাঁ সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ৬০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে এসব ব্যক্তি বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখা ও নো ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় অবস্থান করছেন।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়েও বিএসএফ ২৮ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। তারা বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় বিএসএফ অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) ১০টি পৃথক অপচেষ্টা ঠেকানো হয়েছে। এসব ঘটনায় অন্তত ৯০ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা হয় বলে জানিয়েছিল বিজিবি।
লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার চারটি সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ, শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বিএসএফ। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার (৫ জুন) ভোর পর্যন্ত এসব চেষ্টাকে রুখে দেওয়ার দাবি করেছে বিজিবি।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় অনুপ্রবেশের এসব চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সীমান্তগুলোতে বিজিবি ও বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থানে আছে। আজ সকালে ওই ব্যক্তিদের লাগেজসহ সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে দেখা যায়।
লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আদিতমারী উপজেলার দীঘলটারী ও দুর্গাপুর সীমান্তের ৯২৫ ও ৯২৭/৭-এস নম্বর মেইন পিলার এলাকায় ১২ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির উপস্থিতি টের পান বিজিবি সদস্যরা। পরে হ্যান্ডমাইকের মাধ্যমে সতর্ক করা হলে তাদের ভারতীয় অংশে সরে যেতে দেখা যায়।
এদিকে হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়ন সীমান্ত দিয়ে নারী, শিশুসহ ১১ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ—এমন অভিযোগ করেছে বিজিবি। শুক্রবার ভোরে তিস্তা-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বড়খাতা কোম্পানির টহল দল স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় তাদের অনুপ্রবেশ ঠেকিয়ে দেয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই ১১ জন শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
অন্যদিকে পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ঝালাঙ্গী (পকেট) সীমান্ত দিয়ে নারী, শিশুসহ আরও ১০ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছে বিজিবি। শুক্রবার ভোরে বিজিবির টহল দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের অনুপ্রবেশ প্রতিহত করেন। এ ঘটনায়ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
সীমান্তের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিস্তা-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর তানভীর আহমেদ বলেন, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম সীমান্তে ২১ জনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তারা কাজ করছেন। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আদিতমারী সীমান্তে ১২ জনের অনুপ্রবেশচেষ্টার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
লালমনিরহাট জেলার একাধিক সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের পুশ ইনের চেষ্টা এবং তা প্রতিহত করার বিষয়টি বিজিবির রংপুর সেক্টরও পৃথক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে।
পঞ্চগড়
পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি–প্রধানপাড়া গ্রামের সীমান্ত দিয়ে নারী–শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে কঠোর নজরদারির কারণে তারা প্রবেশ করতে পারেননি বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শুক্রবার ভোর থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পুশ ইনের চেষ্টার শিকার ওই ১০ জন সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। এ সময় দুই পাশে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।
কোনো দেশই সীমান্তে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় শূন্যরেখার খোলা আকাশের নিচে ফসলি জমিতে ওই ১০ জনকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচ পুরুষ, দুই নারী ও তিন শিশু আছে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বড়বাড়ি–প্রধানপাড়া সীমান্তে বিজিবির বড়বাড়ি ও বিএসএফের সাকাতি ক্যাম্পের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার রাত আটটার দিকে ৫৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘পুশ ইন চেষ্টার শিকার ব্যক্তিরা এখনো শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। আমরা কোনোভাবেই তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেব না। এ বিষয়ে আমরা আমাদের অবস্থানে অনড় আছি। এ ঘটনায় আগামীকাল শনিবার ব্যটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে।’
নওগাঁ
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাপানিয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে নারী-পুরুষ, শিশুসহ ১৭ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএএফ। বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি তারা। শুক্রবার সকাল আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, হাপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ভারতের ৮৮ বিএসএফ পান্নাছাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ১৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেন। সংবাদ পাওয়ার পর হাপানিয়া সীমান্তচৌকির (বিওপি) বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। বর্তমানে ১৭ ব্যক্তি ভারত ও বাংলাদেশের দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ২৮ জন সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো ম্যান্স ল্যান্ড) অবস্থান করছেন। বিএসএফ তাদের ফেরত নেয়নি। খোলা আকাশের নিচে বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারী বৃষ্টিতে তারা ভিজেছেন, পর্যাপ্ত খাবারও পাচ্ছেন না।
স্থানীয় বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, ২৮ জনের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি খুলনার কয়রায়। তারা দুই বছর আগে ভারতে গিয়েছিলেন। কয়রা থেকে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাঠিয়েছেন। সীমান্তের শূন্যরেখার ১০০ গজ দূর থেকে তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএসএফের পক্ষ থেকে তাদের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে, তবে তা পর্যাপ্ত নয়। তাদের মধ্যে একজন বয়স্ক নারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
এর আগে বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে সীমান্ত পিলার ২০৩/৬-আর সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ওই ২৮ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠানো হয়। বিএসএফের ১২ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের ঠেলে পাঠান। ২৮ জনের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬ শিশু রয়েছে। তবে বিজিবির প্রতিরোধের মুখে তারা বাংলাদেশে আসতে পারেননি। এর পর থেকেই তারা নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন।
বিজিবি ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ওই ২৮ জন সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। বর্তমানে তারা সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে নো ম্যান্স ল্যান্ডের ভারতীয় অংশের ৫০ গজ ভেতরে রয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই পতাকা বৈঠকে বিএসএফ ২৮ জনকে ঠেলে পাঠানোর কথা স্বীকার করে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করা হবে বলেও বিজিবিকে আশ্বস্ত করেন বিএসএফের কর্মকর্তারা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে বিজিবিকে আর কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে বিজিবির রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্নেল কামাল হোসেন সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, পুশ ইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
লালমনিরহাট সীমান্তে ৩৩ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ
লালমনিরহাটের তিনটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে জেলার হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলার পৃথক সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা বিওপি এলাকার সীমান্ত দিয়ে ১১ জন, পাটগ্রামের পয়ষট্টিবাড়ী বিওপি এলাকায় ১০ জন এবং আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর-দীঘলটারী সীমান্ত দিয়ে আরও ১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ।
ঘটনার খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয় এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবিকে সহায়তা করেন। ফলে পুশ ইনের চেষ্টা সফল হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি।
বিজিবি জানিয়েছে, বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা সীমান্তবর্তী ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মিডিয়া সেল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ও পুশ ইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশ ইন চেষ্টার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে মে মাসের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নারী, শিশু ও পুরুষসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করছে বিএসএফ। তবে অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাদের গ্রহণে আপত্তি জানিয়ে আসছে বিজিবি।
লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মেহেরপুর ও যশোর সীমান্তে একাধিকবার পুশ ইন চেষ্টার ঘটনা সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় সীমান্তের শূন্যরেখা ও নো-ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে লোকজনকে অবস্থান করিয়ে রাখার ঘটনাও ঘটেছে।
সীমান্তে বিএসএফের ১০ পুশইন রুখে দিল বিজিবি
বৃহস্পতিবার বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঝিনাইদহে বিজিবির মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ যাদবপুর সীমান্ত এলাকায় ৪-৫ জন ব্যক্তি বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেন।
বিজিবির খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর সীমান্ত এলাকায় কয়েকজন নারী-পুরুষকে পুশইনের উদ্দেশ্যে সীমান্তের নিকট অবস্থান করতে দেখা যায়। বিজিবির প্রতিরোধমূলক তৎপরতার ফলে বিএসএফ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ জন ব্যক্তিকে একত্রিত করে পুশইনের প্রস্তুতির তথ্য পাওয়া যায়। পুশইন প্রতিরোধে বিজিবির তাৎক্ষণিক সতর্কতামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করার ফলে বিএসএফের পুশইন অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের বিপরীতে ১৪৯ ও ৭১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ ক্যাম্পের নিকটবর্তী ৩টি হোল্ডিং সেন্টারে এসআইআর তালিকা থেকে বাদ পড়া ৪ জন মুসলিম নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে বলে গোয়েন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সূত্রে জানা যায়। বিজিবি সেখানে কঠোর অবস্থান ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।
ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ হরিপুর সীমান্তের বিপরীতে ৮৭ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের কাকরমনি ক্যাম্পের টহলদল ২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিজিবির সঙ্গে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি।
পঞ্চগড়ের ব্যাটালিয়ন (১৮ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ রওশনপুর সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক ১ জন ব্যক্তিকে পুশইন করা হলে স্থানীয় জনগণ তাকে আটক করে বিজিবিকে অবহিত করে।
পরবর্তীতে বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠায়।
মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্তের বিপরীতে ভারতের মালদা জেলার ইংলিশ বাজার থানার চন্দনপার্ক নামক স্থানে ভারতীয় পুলিশ কর্তৃক স্থাপিত একটি হোল্ডিং সেন্টারে আটক ২২ জনকে পুশইনের লক্ষ্যে বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের তথ্য পাওয়া যায়। বিজিবি সেখানে কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ উৎমাছড়া সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন ২ ব্যক্তিকে স্থানীয় জনগণ আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করার পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভারতে পুশব্যাক করা হয়ে।
বিজিবি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছে, সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থী যেকোনো পুশইন প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। সীমান্তে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।