প্রাঙ্গণেমোরে’র দুই যুগ, জাতীয় নাট্যশালায় ৬ মে ‘টিনের তলোয়ার’ মঞ্চায়ন

Newsdesk | প্রকাশিত: ৮:৫৯ অপরাহ্ন, ০২ মে ২০২৬

দেশের অন্যতম প্রধান নাট্যদল ‘প্রাঙ্গণেমোর’ দুই যুগ পূর্তি উদযাপন করতে যাচ্ছে। ‘আমাদের ভালোবাসার থিয়েটার, আমাদের লড়াইয়ের মাধ্যম থিয়েটার’— এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে ২০০৩ সালের ৬ মে প্রতিষ্ঠিত দলটি ২৪ বছরে পদার্পণ করছে। এ উপলক্ষ্যে নিয়মিত নাট্যচর্চা ও দেশ-বিদেশে সফল মঞ্চায়নের ধারাবাহিকতা উদযাপন করছে দলটি।

দুই যুগ পূর্তি উৎসবের অংশ হিসেবে আগামী বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে মঞ্চায়িত হবে প্রাঙ্গণেমোরের দর্শকপ্রিয় নাটক ‘টিনের তলোয়ার’। নাট্যসম্রাট উৎপল দত্ত রচিত এই কালজয়ী নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন বিশিষ্ট অভিনেতা ও নাট্যকার অনন্ত হিরা। উনিশ শতকের বাংলা থিয়েটারের প্রেক্ষাপটে রচিত নাটকটি সমকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় আজও বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।


নাটকটিতে অভিনয় করছেন অনন্ত হিরা, সবুক্তগীন শুভ, সীমান্ত আমীন, মশিউর রহমান, সুজয় গুপ্ত, শিশির চৌধুরী, মোফাজ্জল, বাঁধন সরকার, সাহেদ সরদার, গুলশান বহ্নি, নির্ঝর, তমা হোসেন, ফাহিম মুনতাসীর, নাজিম আহমেদ ত্বকি, জহিরুল ইসলাম ও তন্নী ইসলাম। মঞ্চ পরিকল্পনায় রয়েছেন ফয়েজ জহির, আলোক পরিকল্পনায় ঠাণ্ডু রায়হান, সংগীতে শিশির রহমান, পোশাকে নূনা আফরোজ, রূপসজ্জায় জনি সেন এবং পোস্টার ডিজাইনে চারু পিন্টু।

এ ছাড়া উৎসবের অংশ হিসেবে আগামী ১২ মে সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চায়িত হবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে নাটক ‘শেষের কবিতা’। নাট্যরূপ দিয়েছেন অনন্ত হিরা এবং নির্দেশনা দিয়েছেন নূনা আফরোজ।

নাটকের অগ্রিম টিকেট ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ: ০১৭৪৯৮২৬৪১৮।

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: প্রতিবেশীর সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের চ্যালেঞ্জ---প্রফেসর ড. আসিফ মিজান

| প্রকাশিত: ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬



৪,১৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত কেবল একটি ভৌগোলিক রেখামাত্র নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির অন্যতম প্রধান স্নায়ুকেন্দ্র। সাম্প্রতিক সময়ে 'পুশইন' ও 'পুশব্যাক'-এর মতো একতরফা ও অনিয়মিত চর্চা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার জায়গাকে সংকীর্ণ করে তুলছে। আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক কাঠামো এবং ঐতিহাসিক বিবর্তনের আলোকে এই সংকটের গভীর বিশ্লেষণ এবং একটি টেকসই ও মানবিক রূপরেখা এখন সময়ের দাবি।


সম্পর্কের গভীরতা ও সীমান্তের রূঢ় বাস্তবতাঃ

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি, নিরাপত্তা এবং দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির ইতিহাসে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক একটি অনন্য ও বহুমাত্রিক অধ্যায়। এই দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত কেবল দুটি দেশের মানচিত্রকেই পৃথক করেনি, বরং দুই ভূখণ্ডের ইতিহাস, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং মনস্তত্ত্বকে এক সুতোয় বেঁধেছে। ঐতিহাসিকভাবে পরস্পর নির্ভরশীল এই দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্ককে প্রায়শই গভীর কৌশলগত অংশীদারিত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে এই সম্পর্কের অজস্র ইতিবাচক অর্জন থাকা সত্ত্বেও, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা- বিশেষ করে ‘পুশব্যাক’ (Pushback) এবং ‘পুশইন’ (Push-in)-এর ঘটনাপ্রবাহ- উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে একটি বড় ধরনের কাঠামোগত দ্বন্দ্ব ও মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বের জন্ম দিয়েছে। সমসাময়িক রাজনীতিতে এই দুটি প্রক্রিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিতর্কিত রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একদিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তথাকথিত ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ ঠেকানোর রাষ্ট্রীয় বয়ান, অন্যদিকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষার জাতীয় তাগিদ- এই দুইয়ের টানাপোড়েনে সীমান্তরেখা এখন এক অদৃশ্য অথচ অস্থির মনস্তাত্ত্বিক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।


পুশইন ও পুশব্যাকের তাত্ত্বিক ও আইনি ব্যবচ্ছেদঃ

আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং অভিবাসন আইনের ক্ষেত্রে ‘পুশব্যাক’ এবং ‘পুশইন’ শব্দ দুটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোগত ও প্রায়োগিক অর্থ বহন করে, যা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

পুশব্যাক (Pushback): কোনো একটি রাষ্ট্র কর্তৃক তার সীমান্ত অতিক্রম করে আসা অনুপ্রবেশকারী, আশ্রয়প্রার্থী বা অভিবাসীদের কোনো ধরনের আইনি যাচাই-বাছাই, জুডিশিয়াল রিভিউ (আদালতি পর্যালোচনা) বা আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশে ফেরত পাঠানো।

 পুশইন (Push-in): এটি আরও বেশি আক্রমণাত্মক ও একতরফা কৌশল। যখন কোনো রাষ্ট্র তার ভূখণ্ডে বসবাসকারী কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা বা দ্বিপাক্ষিক প্রটোকল ছাড়াই, রাতের অন্ধকারে বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দেয়, তখন তাকে ‘পুশইন’ বলা হয়।

আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের বৈশ্বিক মানদণ্ডে এই দুই প্রক্রিয়াই সম্পূর্ণ অবৈধ। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো 'নন-রিফোলমেন্ট' (Non-refoulement) নীতি। এই নীতি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে এমন কোনো দেশে বা পরিস্থিতিতে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো যাবে না, যেখানে তার জীবন, স্বাধীনতা বা মানবাধিকার চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন (OHCHR) এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার মতে, এই একতরফা চর্চা সরাসরি ''আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তি' (ICCPR)'-এর চরম লঙ্ঘন, যা নো-ম্যানস ল্যান্ডে রাষ্ট্রহীনতার এক চরম মানবিক বিপর্যয় তৈরি করে।


সার্বভৌম ক্ষমতা ও আধিপত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির তাত্ত্বিক রূপরেখাঃ

সীমান্তের এই সংকটকে কেবল দুটি দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ হিসেবে দেখলে এর গভীরতা অনুধাবন করা সম্ভব হবে না। রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক কাঠামোতে বিশ্লেষণ করলে এর তিনটি রূপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে:

>  আঞ্চলিক হেজিমনি বা আধিপত্যবাদ

>  বলপ্রয়োগের একতরফা রাজনীতি

>  'স্টেট অব এক্সেপশন' ও 'বেয়ার লাইফ'-এর অবতারণা


গ্রামসীয় হেজিমনি ও বলপ্রয়োগঃ

ইতালীয় রাজনৈতিক দার্শনিক আন্তোনিও গ্রামসি তাঁর 'হেজিমনি' (Hegemony) বা আধিপত্যবাদের তত্ত্বে দেখিয়েছেন, কীভাবে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামোগত প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে নিজের এজেন্ডা বজায় রাখে। ভারত যখন দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বা কোনো আন্তর্জাতিক আইনি প্রটোকলের তোয়াক্কা না করে একতরফাভাবে পুশব্যাক বা পুশইনের মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তখন তা গ্রামসীয় তত্ত্বের 'বলপ্রয়োগের রাজনীতি'র রূপ পরিগ্রহ করে।


ফুকোর বায়োপলিটিক্স ও আগামবেনের স্টেট অব এক্সেপশনঃ

ফরাসি দার্শনিক 'মিশেল ফুকো'র 'বায়োপলিটিক্স' (Biopolitics) তত্ত্ব অনুযায়ী, আধুনিক রাষ্ট্র মানুষের জীবন, শরীর এবং জনসংখ্যাকে ক্ষমতার বলয়ে নিয়ন্ত্রণ করে। সীমান্তে পুশইন বা পুশব্যাকের শিকার মানুষদের রাষ্ট্র নিজের ক্ষমতার স্বার্থে 'অপছন্দনীয় জনসংখ্যা' হিসেবে চিহ্নিত করে। ইতালীয় দার্শনিক 'জর্জিও আগামবেন' এই ধারণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে বলেছেন, রাষ্ট্র যখন স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়াকে স্থগিত করে নিজের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তখন তাকে 'স্টেট অব এক্সেপশন' (State of Exception) বলা হয়। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ড বা কাঁটাতারের মধ্যবর্তী অঞ্চলটি এমন এক আইনি শূন্যতার ক্ষেত্রে পরিণত হয়, যেখানে পুশব্যাকের শিকার মানুষগুলো পরিণত হয় 'বেয়ার লাইফ' (Bare Life) বা স্রেফ অধিকারহীন জীবে।


সংকটের ঐতিহাসিক বিবর্তনঃ

বর্তমান সীমান্ত সংকটের শিকড় প্রোথিত রয়েছে এই অঞ্চলের দীর্ঘ ও জটিল রাজনৈতিক ইতিহাসের গভীরে। একে মূলত তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যায়ঃ


| ঐতিহাসিক পর্যায় | মূল ঘটনা ও প্রভাব | দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবস্থা |

১৯৪৭-এর দেশভাগ ও ১৯৭১: র‍্যাডক্লিফ লাইনের অবাস্তব সীমানা নির্ধারণ কোটি কোটি মানুষের জীবনকে দুই ভাগে বিভক্ত করে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এক কোটি মানুষ ভারতে শরণার্থী হয়, যার একটি বড় অংশের পারিবারিক ও সামাজিক যোগাযোগ সীমান্তের ওপারে থেকে যায়। 

ঐতিহাসিক নির্ভরশীলতা: জীবন ও সংস্কৃতির গভীর যোগাযোগ, তবে সীমানা নিয়ে এক ধরনের অন্তর্নিহিত অনিশ্চয়তা।

১৯৭৪-এর চুক্তি ও পরবর্তী শূন্যতা: ঐতিহাসিক 'ইন্দিরা-মুজিব সীমান্ত চুক্তি'র দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০১৫ সালে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়। এই দীর্ঘ অন্তর্বর্তী সময়ে ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ শুরু করে এবং সীমান্ত সুরক্ষাকে সম্পূর্ণ সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে শুরু করে। 

প্রাতিষ্ঠানিক দূরত্ব: দ্বিপাক্ষিক চুক্তির দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও সীমান্ত সুরক্ষাকে একপাক্ষিক ও সামরিকায়িত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা। |

২০০৩-বর্তমান (পুশব্যাক ও সংকট): ২০০৩ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন এনডিএ সরকারের আমলে সাতক্ষীরা ও যশোর সীমান্তে কয়েকশ বাংলাভাষী মানুষকে জোরপূর্বক পুশব্যাক করার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা তৎকালীন বিডিআর ও বিএসএফ-এর মধ্যে তীব্র সংঘাতের জন্ম দেয়। বর্তমানে এনআরসি (NRC) ও সিএএ (CAA) এর কারণে এই সংকট তীব্রতর হয়েছে। 

কাঠামোগত দ্বন্দ্ব: একতরফা বলপ্রয়োগ, মানবাধিকার সংকট ও দ্বিপাক্ষিক ডিপ্লোম্যাটিক অনাস্থার ক্রমান্বয় বৃদ্ধি।


সংকটের বহুমুখী চালিকাশক্তিঃ

এই সীমান্ত সংকটের পেছনে মূলত তিনটি চালিকাশক্তি কাজ করছে:

১. ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আইনি রূপান্তর: বিশেষ করে আসাম রাজ্যে বাস্তবায়িত 'জাতীয় নাগরিক পঞ্জি' (NRC) এবং পরবর্তীতে দেশজুড়ে প্রণীত 'নাগরিকত্ব সংশোধন আইন' (CAA) এই সংকটকে তীব্রতর করেছে। ভোটার তালিকা এবং জনমিতিক ভারসাম্যকে কেন্দ্র করে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই অনুপ্রবেশের অভিযোগকে একটি সংবেদনশীল নির্বাচনি ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

২. সীমান্ত প্রশাসনের কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিক বৈপরীত্য: ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) এই সীমান্তকে একটি 'উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ' অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং মানব পাচার রোধে প্রায়শই একতরফা ও আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করে। অন্যদিকে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) এর অবস্থান হলো—কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব যথাযথ আইনি উপায়ে ও দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকেই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

৩. তৃণমূল পর্যায়ের সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা: বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের দুই পাশেই বিপুলসংখ্যক দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের বসবাস। ভৌগোলিক সান্নিধ্য এবং ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কারণে এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে এক ধরনের স্বাভাবিক যাতায়াত ও অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ভারত যখন এই জটিল সামাজিক-অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কটিকে স্রেফ একটি 'জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি' হিসেবে দেখে এবং ঢালাওভাবে পুশব্যাকের নীতি প্রয়োগ করে, তখন তা সাধারণ মানুষের জীবনকে চরমuncertainty বা অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়।


ভারতীয় কূটনীতির দ্বিমুখী আচরণ: ফরমাল বনাম ইনফরমাল প্র্যাকটিসঃ

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির একটি বড় সংকট হলো তার প্রাতিষ্ঠানিক বা আনুষ্ঠানিক (Formal) প্রতিশ্রুতির সাথে মাঠপর্যায়ের অনানুষ্ঠানিক বা ইনফরমাল (Informal) আচরণের বৈপরীত্য।

কূটনৈতিক অসঙ্গতি: দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনগুলোতে ভারত এবং বাংলাদেশ যখন যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করে, তখন "পারস্পরিক সহযোগিতা", "সীমান্তে শূন্য মৃত্যু" কিংবা "শান্তিপূর্ণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা"র মতো গালভরা আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু মাঠপর্যায়ের অনানুষ্ঠানিক বাস্তবতায় দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। কোনো পূর্ব ঘোষণা, আইনি নোটিশ বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রটোকল ছাড়াই রাতের অন্ধকারে বিএসএফের মাধ্যমে পুশইন বা পুশব্যাকের মতো একতরফা পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

ভারতের এই অনানুষ্ঠানিক আচরণ তার প্রতিবেশীদের সাথে 'প্যারেন্টাল' বা অভিভাবকসুলভ এবং ক্ষেত্রবিশেষে বলদর্পী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। এই দ্বিমুখী আচরণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে এবং প্রমাণ করে যে, কৌশলগত অংশীদারিত্বের নানামুখী অর্থনৈতিক ও সামরিক চুক্তি সত্ত্বেও, সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো সংবেদনশীল জায়গায় ভারত এখনও হেজিমনিক বা একতরফা নীতিকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।


ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাবঃ

এই একতরফা বলপ্রয়োগের নীতি বাংলাদেশের কূটনৈতিক মহলে এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এক ধরনের কাঠামোগত অনাস্থা তৈরি করে, যা সার্বভৌম সমতার আন্তর্জাতিক নীতিকে সংকুচিত করে ফেলে। এর প্রভাব মূলত দুটি ক্ষেত্রে দৃশ্যমান:

আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য পরিবর্তন: বাংলাদেশ তার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আঞ্চলিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক (Factor)। ভারতের একতরফা পুশইন ও পুশব্যাকের নীতি যখন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে সংকটের মুখে ফেলে, তখন স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিতে এক ধরনের ভারসাম্য রক্ষার তাগিদ তৈরি হয়। এই অঞ্চলের অপর বৃহৎ শক্তি চীন যখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে একটি বড় অংশীদার, তখন সীমান্তে ভারতের এই অনমনীয় মনোভাব ঢাকাকে বেইজিংয়ের কৌশলগত বলয়ের দিকে আরও বেশি ঝুঁকে পড়তে উৎসাহিত করতে পারে।

জনমানসে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বঃ 

সীমান্তে পুশইনের শিকার নারী, শিশু এবং অসহায় মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের চিত্র যখন গণমাধ্যমে উঠে আসে, তখন তা বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। এর সাথে যুক্ত হয় দীর্ঘদিনের সীমান্ত হত্যার বেদনাদায়ক ইতিহাস। এই মানবিক বিপর্যয়গুলো বাংলাদেশের জনমানসে একটি স্থায়ী 'ভারত-বিরোধী' বয়ান বা ন্যারেটিভকে শক্তিশালী করে, যা দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের বাণিজ্য, ট্রানজিট, এবং তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক যৌথ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে জটিল ও বাধাগ্রস্ত করে তোলে।


সংকট উত্তরণে বহুমাত্রিক সুপারিশমালাঃ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন ও পুশব্যাকের মতো জটিল ও সংবেদনশীল ভূ-রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য একতরফা আধিপত্যবাদী মানসিকতা পরিহার করে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই এবং মানবিক কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা আবশ্যক। এই সংকট উত্তরণের কৌশলগত রোডম্যাপ হতে পারে নিম্নরূপ:


[সার্বভৌম সমতা] ➔ [স্বচ্ছ প্রত্যর্পণ চুক্তি] ➔ [যৌথ সীমান্ত টহল] ➔ [মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি]


১. সার্বভৌম সমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা:

ভারতকে 'আঞ্চলিক হেজিমন' বা একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার নীতি থেকে সরে এসে সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সাথে কাজ করতে হবে। বিএসএফ এবং বিজিবি-এর মধ্যে মাঠপর্যায়ে কেবল আনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠক নয়, বরং রিয়াল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ টহলের মাধ্যমে সীমান্তকে একটি 'শান্তি অঞ্চল' হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

২. দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি (Legal Deportation Treaty) যথাযথ অনুসরণ:

যদি কোনো দেশে আসলেই কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত হয়, তবে আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক প্রটোকল অনুযায়ী তার নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। রাতের অন্ধকারে জোরপূর্বক পুশইন করার পরিবর্তে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে স্বচ্ছ এবং আইনি প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসরণ করা প্রয়োজন।

৩. আন্তর্জাতিক মানবিক মানদণ্ডের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ:

উভয় রাষ্ট্রকেই জাতিসংঘের 'নো-ম্যানস ল্যান্ড' নীতি এবং মানবাধিকারের বৈশ্বিক সনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। নো-ম্যানস ল্যান্ডে মানুষকে আটকে রেখে রাষ্ট্রহীন বা অধিকারহীন জীবে পরিণত করার নিষ্ঠুর চর্চা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সীমান্ত সুরক্ষাকে স্রেফ সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে এর একটি মানবিক রূপ দেওয়া অপরিহার্য।

৪. উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংলাপ:

সীমান্ত হত্যা এবং পুশব্যাকের মতো ঘটনাগুলো দুই দেশের সামগ্রিক সহযোগিতার ক্ষেত্রকে স্থবির করে দেয়। তাই নিয়মিত বিরতিতে যৌথ পরামর্শক কমিশন (JCC) এবং শীর্ষ রাজনৈতিক পর্যায়ে এই নির্দিষ্ট এজেন্ডাটি নিয়ে খোলামেলা ও গঠনমূলক সংলাপের আয়োজন করতে হবে, যা দুই দেশের মধ্যকার অনাস্থার সংকট দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সার্বভৌম সমতার ভবিষ্যৎঃ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের পুশইন ও পুশব্যাকের ভূ-রাজনীতি কেবল একটি ভূখণ্ডগত বা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আইনি দ্বন্দ্ব নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষমতার অসমতা এবং রাষ্ট্রীয় আধিপত্যবাদের এক বাস্তব প্রতিফলন। একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ অঞ্চলের স্বার্থে দুই প্রতিবেশীর মধ্যকার সম্পর্ক একতরফা বলপ্রয়োগের ওপর ভিত্তি করে টিকে থাকতে পারে না।

ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ভৌগোলিক বন্ধনে আবদ্ধ এই দুই রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সার্বভৌম সমতার নীতির ওপর নির্ভরশীল। সীমান্তে মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং পুশইন ও পুশব্যাকের মতো সংকটগুলোর কূটনৈতিক ও আইনি সমাধানের মাধ্যমেই কেবল বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রকৃত 'সুবর্ণ অধ্যায়' নিশ্চিত করা সম্ভব, যা দীর্ঘমেয়াদে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।


লেখক: উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়া এবং ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

পরবর্তী খবর

ভারতের কুৎসিত চেহারা---অধ্যাপক ড. শেখ আকরাম আলী

| প্রকাশিত: ১০:৩৩ অপরাহ্ন, ০৯ জুন ২০২৬



সমগ্র জাতির সামনে ভারতের কুৎসিত চেহারা আজ নগ্নভাবে উন্মোচিত হয়েছে। ভারত কখনোই ভালো বন্ধু ছিল না, তবে সর্বদা বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো বন্ধু হওয়ার ভান করেছে। সমাজের একশ্রেণীর মানুষ মনে করে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে ভারতের সমর্থন ব্যাপকভাবে অবদান রেখেছিল এবং এই শ্রেণীর মানুষ ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে ভারতের কুৎসিত ভূমিকা ভুলে গিয়ে তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকতে চায়। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহায্য করেছিল কেবল পাকিস্তানকে ভেঙে একটি আজ্ঞাবহ রাষ্ট্র (ক্লাইন্ট স্টেট) বাংলাদেশ তৈরি করার দীর্ঘদিনের লালিত ইচ্ছা পূরণ করতে।


হিন্দুপ্রধান ভারত কখনোই মুসলমানদের পছন্দ করেনি এবং ব্রিটিশ আমলের পুরোটা সময়জুড়েই তাদের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা তাদের ভাই মনে করত, সেখানে হিন্দু সম্প্রদায় ভারতের মাটি থেকে মুসলিম জনসংখ্যাকে নির্মূল করার জন্য গোপনে কাজ করেছিল। সৌভাগ্যবশত, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে মুসলিম নেতারা তাদের এই চক্রান্ত বুঝতে পেরেছিলেন এবং ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য একটি পৃথক জন্মভূমি তৈরি করে তাঁর সম্প্রদায়কে ন্যাশনাল কংগ্রেসের আধিপত্যবাদী নিয়ন্ত্রণ থেকে রক্ষা করেছিলেন।


কংগ্রেস নেতারা ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগ মেনে নেননি এবং শুরু থেকেই তা ভেঙে ফেলার জন্য সংকল্পবদ্ধ ছিলেন। তারা পাকিস্তানকে থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র শুরু করে এবং এর জন্মের চব্বিশ বছরের মধ্যে তারা সফল হয়। আমাদের নেতারা ভারতের এই গোপন উদ্দেশ্য উন্মোচন করতে ব্যর্থ হন এবং তারা তাদের জাতীয় অখণ্ডতার কথা ভুলে গিয়ে ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাদের মূল্যবান অংশীদারে পরিণত হন।

ভারতের রাজনৈতিক নেতারা পূর্ব পাকিস্তানের নির্বোধ নেতাদের সাথে মোকাবিলা করার মতো যথেষ্ট পরিপক্ক ছিলেন এবং শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর, শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাঙালি জাতীয়তাবাদের তথাকথিত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন শুরু করার জন্য তাদের অধিকাংশকেই ম্যানেজ করতে সক্ষম হন। এই রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনটি গোপনে ভারত সরকার দ্বারা সমর্থিত ছিল এবং তারা আওয়ামী নেতাদের সাথে, বিশেষ করে শেখ মুজিবের সাথে একটি গোপন চুক্তিতে এসেছিল যা আগরতলা ষড়যন্ত্র নামে পরিচিত। ভারতের কুৎসিত নজর পাকিস্তানের ওপর পড়ে এবং তারা তাদের কাজে তৎপর হয়ে ওঠে।


পাকিস্তান সরকার এই ষড়যন্ত্রের সূত্র খুঁজে পায় এবং শেখ মুজিবকে কারাবন্দী করে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাটি দেশের একটি আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়, কিন্তু আইয়ুব সরকার এর বিরুদ্ধে সঠিক পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, যার ফলে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তানের একমাত্র অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হয়ে ওঠেন। পাকিস্তানের নির্বোধ আওয়ামী নেতা এবং অপূর্ণাঙ্গ সামরিক-রাজনৈতিক অভিজাতরা ভারতীয় ষড়যন্ত্রের শিকার হন এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের জন্মের মাধ্যমে তা সফল হয়। ইন্দিরা গান্ধী নিজেকে একজন সফল কূটনীতিক হিসেবে প্রমাণ করেন, যিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের (USSR) সমর্থনে মাত্র নয় মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে এটি সম্ভব করেছিলেন।


আইয়ুব সরকারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক বৈষম্যের মিথ্যা অভিযোগে পুরো বাঙালি জনগোষ্ঠীকে আচ্ছন্ন (হিপনোটাইজড) করে রাখা হয়েছিল। আইয়ুব খানের তথাকথিত রাজনৈতিক সরকার ভারতের গোপনে সমর্থিত আওয়ামী লীগের এই মিথ্যা প্রচারণার বিরুদ্ধে কোনো পাল্টা আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। অথচ প্রকৃত তথ্য ছিল ভিন্ন এবং পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় সব অবকাঠামোগত উন্নয়ন আইয়ুবের উন্নয়নের দশকের (১৯৫৮-১৯৬৯) সময়েই ঘটেছিল।

এখন এটি একেবারেই স্পষ্ট যে পুরো খেলাটিই ছিল পাকিস্তান ভাঙার পেছনে ভারতীয় ষড়যন্ত্রের ফল। শেখ মুজিব নিজেই আগরতলা ষড়যন্ত্রের সত্যতা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। স্বাধীনতার অতিকথা (মিথ) এবং বাংলাদেশের জন্মলগ্নে ভারতের সম্পৃক্ততা একটি ঐতিহাসিক সত্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিদিন ভারতের কুৎসিত চেহারা উন্মোচিত হচ্ছে।


জিয়াউর রহমানই ভারতের এই কুমতলব ও কুৎসিত চেহারাটি ধরতে পেরেছিলেন এবং এর মুখোমুখি হওয়ার জন্য সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, কিন্তু ভারতের স্থানীয় এজেন্টরা তাদের নির্দেশে ১৯৮১ সালের মে মাসে তাঁকে হত্যা করে। তবে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মতো একটি দরিদ্র দেশের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে দেশের জন্য অনেক কিছু করে গেছেন। বাংলাদেশী জাতি এই মহান নেতাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে এবং জাতি আজও তাঁর জাতীয়তাবাদী রাজনীতির চেতনায় উদ্বুদ্ধ।


এরশাদের শাসনামলে বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারত তার কুৎসিত চেহারা দেখাতে কখনো কুণ্ঠাবোধ করেনি এবং সর্বদা ‘দাদাগিরি’ বা বড় ভাইয়ের মতো আচরণ বজায় রেখেছিল। যদিও বেগম খালেদা জিয়া ভারতের সাথে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে সফল হয়েছিলেন, তবুও তিনি ভারতের এই কুৎসিত চেহারার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন এবং এর শিকার হন।


মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকার ছিল ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ উদ্যোগের ফল। সেই সরকারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ভারত আবারও তার কুৎসিত চেহারা নিয়ে হাজির হয় এবং শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসাতে সফল হয়। এর ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্রীড়াক্ষেত্র সম্পূর্ণভাবে ভারতের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়; ভারত নিজেকে প্রভুর ভূমিকায় অবতীর্ণ করে এবং বাংলাদেশ কার্যত ভারতের একটি আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রে (ক্লাইন্ট স্টেট) পরিণত হয়।

গত ১৬ বছর ধরে সমগ্র জাতি ভারতের হাতে জিম্মি ছিল এবং ভারতের কুৎসিত রূপ প্রত্যক্ষ করেছে। ভারত এ দেশের ওপর তার আধিপত্যবাদী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং শেখ হাসিনার সরকারকে একটি পুতুল সরকারে পরিণত করেছিল।


কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব সফলভাবে ভারতের কুৎসিত চেহারা উন্মোচন করেছে এবং শেখ হাসিনার পুতুল সরকারকে উৎখাত করে বাংলাদেশকে তার আধিপত্যবাদী নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করেছে। এটি কোনো সহজ কাজ ছিল না, তবে ঐশ্বরিক আশীর্বাদে এটি সত্যি হয়েছে। বাংলাদেশের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভারত আক্ষরিক অর্থেই ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে এবং বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কিছু অ diplomatic (কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত) পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি বিশাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন বা অপপ্রচার শুরু করা হয় এবং ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ক্রমাগত হুমকির মুখে রাখা হয়।


ভারত বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় সৈন্য সমাবেশ করেছে এবং কোনো এক গোপন ও অসৎ উদ্দেশ্যে সেখানে কয়েকটি নতুন সেনানিবাস নির্মাণ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তারা বাংলাদেশে মানুষ পুশ-ইন করার (অনুপ্রবেশ করানোর) চেষ্টা করছে। এটি মোটেও ভালো লক্ষণ নয় এবং দেশের বর্তমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য তাদের কোনো মহাপরিকল্পনা থাকতে পারে।


সরকারকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে এবং ভারতের যেকোনো উদ্যোগের মুখোমুখি হতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; যেকোনো মূল্যে তাদের এই অপচেষ্টা নস্যাৎ করতে হবে। জাতিকে অবশ্যই জুলাইয়ের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং নিকট ভবিষ্যতে ভারত যদি এমন কোনো চেষ্টা চালায়, তবে তাদের সেই হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।


এখন পর্যন্ত বর্তমান সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো প্রশংসনীয় এবং তাদের এটি সম্পূর্ণ স্পষ্ট করতে হবে যে—সরকার জাতীয় স্বার্থের পক্ষে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্ভাব্য সবকিছু করবে। বর্তমান পররাষ্ট্র মন্ত্রী পেশাদারিত্বের সাথে ভারতকে সামলানোর ক্ষেত্রে যথেষ্ট যোগ্য এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি (President of the UN General Assembly) নির্বাচিত হয়ে তিনি ইতিমধ্যেই তা প্রমাণ করেছেন। বাংলাদেশ বিরোধী ভোট দিয়ে ভারত আবারও তার কুৎসিত চেহারা উন্মোচন করেছে।

যেকোনো সংকটের সময়ে যারা পাশে দাঁড়াতে সক্ষম, এমন দেশগুলোর সাথে আর সময় নষ্ট না করে আক্রমণাত্মক বা জোরালো কূটনৈতিক সম্পর্ক (Aggressive diplomacy) গড়ে তুলতে হবে। তুরস্ক এবং পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ভবিষ্যতে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিশ্চিতভাবেই আমাদের হাতকে শক্তিশালী করবে। ভারতের এই কুৎসিত চেহারার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত, যাতে বাংলাদেশের মানুষকে এটি দেখানোর আগে সে দুইবার ভাবতে বাধ্য হয়। জনগণের ঐক্যই আমাদের মূল পরাশক্তি।


সম্পাদক, মিলিটারি হিস্ট্রি জার্নাল।

০৯ জুন, ২০২৬

পরবর্তী খবর

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সাক্ষাৎ

| প্রকাশিত: ৩:০২ অপরাহ্ন, ০৯ জুন ২০২৬

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে নির্বাচন-পরবর্তী দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় বাজেট, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও সুশাসনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

এছাড়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বিকাশ, সুশাসন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। উভয়পক্ষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা টিমের সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক কর্মকর্তা হারমানোশি বার্নার্ড।

পরবর্তী খবর

জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট শেয়ারের অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার

| প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ন, ০৯ জুন ২০২৬

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া কিশোরের নাম শেখ রসুল ওরফে রফিকুল (২৪)। তিনি উপজেলার গোপালপুর গ্রামের জাহিদ শেখের ছেলে। সোমবার রাতে উপজেলার বাঁধাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার সকালে জানান, ঢাকার মিরপুরে রামিসা হত্যা মামলার ঘটনার দুদিন পর শেখ রসুল তার ফেসবুক আইডি থেকে জাইমা রহমানকে নিয়ে একটি আপত্তিকর পোস্ট শেয়ার করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

ওসি বলেন, এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।


পুলিশ জানিয়েছে, রফিকুলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


পরবর্তী খবর

হাসপাতালে শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৩ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

| প্রকাশিত: ২:৫৮ অপরাহ্ন, ০৯ জুন ২০২৬

নাটোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত রোববার (৭ জুন) সকালে হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা হলেন অমিত (২৩), অনিল (২৩) ও প্রাঙ্গণ (২৪)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ দুই বছর বয়সী কন্যাকে নিয়ে গত ৫ জুন নাটোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন ওই নারী। অভিযোগ অনুযায়ী, ৭ জুন সকালে শিশুর ওষুধ সংগ্রহের কথা বলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমিত তাঁকে হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় নিয়ে যান। সেখানে অনিল ও প্রাঙ্গণের সহযোগিতায় অমিত তাঁকে ধর্ষণ করেন। এ সময় অপর দুজন মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


ওই সময় শিশুটি ওয়ার্ডে একা থাকায় কান্নাকাটি শুরু করলে নার্সরা তার মাকে খুঁজতে শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহজনক গতিবিধি দেখা যায়। পরে আনসার সদস্যরা ষষ্ঠ তলায় গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করেন।

হাসপাতালের আনসার সদস্য মো. সালাউদ্দিন জানান, বিষয়টি জানার পর তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়ে আসেন। প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে পরিস্থিতির মুখে তারা ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেয় বলে দাবি করেন তিনি।

আনসার প্লাটুন কমান্ডার মো. মোন্নাফ হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের বক্তব্য মোবাইল ফোনে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, তাকে ধর্ষণের পাশাপাশি ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।


তবে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. আরশেদ আলী দাবি করেছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, হাসপাতালের ভেতরে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং গ্রহণযোগ্য নয়।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর রহমান জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর স্বামীর লিখিত অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

জেলার পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



পরবর্তী খবর

বাজেটে থাকছে বিশেষ বরাদ্দ: শিগগিরই জারি হতে যাচ্ছে নবম পে-স্কেলের গেজেট

| প্রকাশিত: ২:৫৫ অপরাহ্ন, ০৯ জুন ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকরের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর পরই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন (গেজেট) জারি করা হবে।

নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করতে জুন মাসের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে আসন্ন বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পুরো কমিশনের সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে এক লাখ কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন হওয়ায় সরকার ধাপে ধাপে এটি কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল থাকবে। সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া নতুন পে-স্কেলের আওতায় প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীকেও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে পেনশন সর্বোচ্চ ১০০% পর্যন্ত হারে বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে আগামী ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের প্রায় ৫০% বৃদ্ধি কার্যকর হতে পারে। পরবর্তী ২ বছরে বাকি অংশ সমন্বয় করা হবে।

এদিকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ। বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের দাবি, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হলে নতুন পে-স্কেল এক ধাপে এবং শতভাগ বেতন বৃদ্ধিসহ কার্যকর করতে হবে।

পরবর্তী খবর

সুপ্রিম কোর্টের আলাদা সচিবালয় গঠনের রায় স্থগিত

| প্রকাশিত: ২:৫৩ অপরাহ্ন, ০৯ জুন ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের জন্য তিন মাসের মধ্যে আলাদা স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে এই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন দিন নির্ধারণ করেছে আদালত। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত থাকবে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এদিন সকালে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল শুনানি শুরু হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে গত ২১ মে হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলো রাষ্ট্রপক্ষ। গত সাত এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়।

গত বছরের দুই সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দিয়েছিলেন। রায়ে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকা সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বিধানটি বাতিল করে হাইকোর্ট। ফলে অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হয়। একই সঙ্গে অধস্তন আদালতের জন্য ২০১৭ সালে করা শৃঙ্খলাবিধিও বাতিল ঘোষণা করেন আদালত।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগীয় আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী একটি রিট দায়ের করেন। এরপর একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করেছিলেন।

পরবর্তী খবর

স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেউ ব্যক্তিগতভাবে দাঁড়ালে বাধা নেই: তথ্য উপদেষ্টা

| প্রকাশিত: ২:৫২ অপরাহ্ন, ০৯ জুন ২০২৬

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেউ যদি দলীয় পরিচয় ছাড়া, এককভাবে বা ব্যক্তি হিসেবে অংশ নিতে চান, তবে তাতে সরকার কোনো বাধা দেবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে সরকার দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখার পক্ষে। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ব্যক্তি হিসেবে একজন যদি নির্বাচনে অংশ নিতে চান, সেটা নিয়ে কোনো সঙ্কট হবে না। কারণ সেটা দলীয় পরিচয় হবে না।

তবে দলীয় ব্যানারে যেকোনো তৎপরতার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে। এই সরকার চায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাক। এর মাঝে কোনো কিছু (দলীয় কার্যক্রম) হলে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আনতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা ‘পুশইন’ নিয়ে তৈরি হওয়া আলোচনার বিষয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। ভারতের নয়াদিল্লিতে চলমান চার দিনব্যাপী বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকের পটভূমিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে চাপে রাখতে ভারত পুশইন করছে না। এটি মূলত সেই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাব। তবে পাঁচ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে দুই দেশই এখন সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চায়।

দেশের অর্থনীতি প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সম্প্রতি দাম বাড়ানোর পরেও বৈশ্বিক বাজারের তুলনায় দেশে জ্বালানি তেলের দাম এখনও কম রয়েছে। এ সময় বিগত আমলের তুলনা টেনে তিনি দাবি করেন, বিএনপির সময় কখনও শেয়ারবাজারে অস্থিরতা বা সমস্যা ছিলো না, যা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেখা গেছে।

পরবর্তী খবর

দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষ, নিহত ৪

| প্রকাশিত: ১২:৩১ অপরাহ্ন, ০৯ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইলের সখীপু্রে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিয়ে দুমড়েমুচড়ে গেছে মুরগি বহন করা একটি পিকআপ। এতে নিহত হয়েছেন চারজন। মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোরে উপজেলার সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কের কালিয়া বাজার নামক এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে মহাসড়কের পাশে বাঁশবোঝাই একটি ট্রাক দাঁড় করানো অবস্থায় ছিল। এ সময় একই দিক থেকে আসা মুরগিবাহী একটি পিকআপ পেছনে থেকে ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।



দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য সড়কটি দিয়ে যান চলাচল ব্যাহত হন। পরে আস্তে আস্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে।

এ বিষয়ে সখীপুর থানার এএসআই মো. আল মামুন বলেন, ভোর ৪টার দিকে উপজেলার কালিয়া ঘোনারচালা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাঁশবোঝাই ট্রাকে মুরগিবাহী পিকআপ ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মুরগিবাহী পিকআপে থাকা চারজন নিহত হন। মরদেহ সখীপুর থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পরিবারের লোকজন আসলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

পরবর্তী খবর

দুই দশক পর কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ১২:২৯ অপরাহ্ন, ০৯ জুন ২০২৬

কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) রাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন তিনি। আবার রবিবার রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেবেন।

চারদলীয় জোট আমলে দলের হয়ে কক্সবাজার যাওয়ার প্রায় দুই দশক পর আবার কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক তৎপরতা ও প্রাণচাঞ্চল্য শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে আয়োজিত জনসভার মাঠ এবং নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সম্ভাব্য স্থান, কক্সবাজারে খালখনন উদ্বোধনসহ সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন মন্ত্রী, সচিব ও জেলা প্রশাসন।

শুক্রবার (৫ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চকরিয়ায় পৌঁছে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান ও পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে চকরিয়া পৌরসভার বাস টার্মিনাল মাঠ, চকরিয়া উপজেলা এবং মাতামুহুরী উপজেলার নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণে বিবেচিত এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন। জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে পাতলিখাল খনন স্থান পরিদর্শন করে গেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

জেলা বিএনপি ও প্রশাসনের সূত্রমতে, ১৩ জুন রাত ৮টার বিমানে কক্সবাজারের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী। রাতে কক্সবাজার সার্কিট হাউজে অবস্থানের পর ১৪ জুন সারাদিনের টাইট প্রোগ্রাম রাখা হয়েছে। এদিন বেলা ১১টায় কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে ৪৮ বছর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খনন করা পাতলিখাল পুনঃখনন উদ্বোধন এবং সংক্ষিপ্ত পথসভা করবেন তিনি।

দুপুর ১২টায় যাবেন ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক। সেখানে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা এবং পার্ক ঘুরে দেখবেন। এরপর যাবেন জুলাই-২৪ আন্দোলনে কক্সবাজারের প্রথম শহীদ ওয়াসিমের কবর জেয়ারতে। জেয়ারত শেষে মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং পরে পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর জোহরের নামাজ-ভোজ ও বিশ্রাম শেষে বিকেল ৪টায় যাবেন চকরিয়ায় বিএনপি জনসভায়।

চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভা শেষে সন্ধ্যায় কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ ও সৈকত পরিদর্শন করবেন তিনি। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজারের সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়ে রাত ৯টার বিমানে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর চকরিয়া-পেকুয়া সফর ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সঙ্গে থাকবেন চকরিয়া-পেকুয়া (কক্সবাজার-১) আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, কক্সবাজার-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল প্রমুখ।জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউছুপ বদরী বলেন, ‌‘প্রায় দুই দশক আগে চারদলীয় জোট আমলে কক্সবাজার এসেছিলেন তারেক রহমান। কিন্তু এখন আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান হয়ে। এজন্য আমাদের উচ্ছ্বাসটা একটু বেশি।’