নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমান---রয়টার্স সাক্ষাৎকার

Shahinur Rahman Uzzol | প্রকাশিত: ৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক শক্তিতে সরকার গঠনের বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন, নির্বাচনের পর সরকার গঠনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সমঝোতার কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং বিএনপি প্রয়োজনীয় আসন জিতে ক্ষমতায় আসবে বলে তিনি আশাবাদী।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নিজের কার্যালয়ে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পররাষ্ট্রনীতি এবং তরুণ ভোটারদের নিয়ে দলের ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতে ইসলামীর নাম সামনে আসলেও দলটির সঙ্গে সরকার গঠনের প্রশ্নে তারেক রহমান ভিন্ন সুরে কথা বলেন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে একসঙ্গে সরকার গঠন হলে তখন বিরোধীদল হিসেবে কারা থাকবে—সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। তাঁর ভাষায়, জামায়াত যদি বিরোধীদলে থাকে, তাহলে তারা দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে—এমনটাই প্রত্যাশা।

এবারের নির্বাচনে জামায়াতকে বিএনপির অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। একসময় নিষিদ্ধ থাকা দলটি বর্তমানে আবার সক্রিয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মাঠে নেমেছে। অতীতে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পরিচালনা করলেও এবারের বাস্তবতা ভিন্ন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এরই মধ্যে জামায়াত একটি ‘ঐক্য সরকার’ গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এখন একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ঢাকার একটি আদালত শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় দিয়েছে।

নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে তারেক রহমান জানান, সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২৯২টিতে প্রার্থী দিয়েছে। বাকি আসনগুলোতে দলের মিত্ররা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা উল্লেখ না করলেও তাঁর দাবি, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পাওয়ার বিষয়ে দলটি আশাবাদী।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপেও বিএনপির জয়ের পূর্বাভাস দেখা গেছে। তবে একই সঙ্গে জামায়াত নেতৃত্বাধীন একটি জোটের শক্ত অবস্থানের কথাও উঠে এসেছে। এই জোটে ‘জেনজি’ প্রজন্মের একটি অংশ যুক্ত হয়েছে, যারা তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ কোনো একটি দেশের দিকে ঝুঁকে পড়বে—এমন ধারণা সঠিক নয়। তাঁর মতে, প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সক্ষম এমন অংশীদারই বাংলাদেশের প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকারে গেলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই হবে অগ্রাধিকার। সে ক্ষেত্রে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই বন্ধুত্ব গড়ে তোলা হবে।

শেখ হাসিনার সন্তানদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, রাজনীতি করার অধিকার সবারই রয়েছে। জনগণ যদি কাউকে গ্রহণ করে এবং স্বাগত জানায়, তাহলে দেশে ফিরে রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার পথ উন্মুক্ত থাকবে।

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই আমাদের সাংস্কৃতিক স্বকীয়তার মূল ভিত্তি: তথ্যমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ৪:৪৭ অপরাহ্ন, ১৩ জুন ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই আমাদের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্বকীয়তার মূল ভিত্তি।

তিনি বলেন, ‘৫৬ হাজার বর্গমাইলের ভৌগোলিক সীমানার বাইরেও অনেকে বাংলায় কথা বলতে পারেন, তবে আমাদের মনোজগত ও সংস্কৃতির মধ্যে একটি মৌলিক ঐতিহাসিক পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্যকে যারা আড়াল করতে চান তারা হয় বোকা, না হয় কোনো সুদূরপ্রসারী দুরভিসন্ধি নিয়ে কাজ করছেন।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে ‘দেশ পুনর্গঠনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে গঠিত নতুন আত্মপ্রকাশকৃত সংগঠন ‘আমরা বাংলাদেশি’ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘৫৬ হাজার বর্গমাইলের কোনো বাঙালিকে তার বাঙালিত্বের সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য সীমান্তের ওপারে অন্য কারো কাছে ধার করতে হবে না।’

তিনি ইতিহাসের বিবর্তন তুলে ধরে বলেন, জাত-পাতের কাঠামোর কারণে এ অঞ্চলে সনাতন ধর্মের পর বৌদ্ধ ধর্ম এবং পরবর্তীতে ইসলামের সাম্যবাদের আলোকে এ দেশের মানুষ যেভাবে দলে দলে ধর্মান্তরিত হয়ে পবিত্র কোরআনকে গ্রহণ করেছেনÑতা এক ঐতিহাসিক সত্য। এই বিবর্তনই আমাদের সংস্কৃতিকে একটি অনন্য স্বকীয়তা দিয়েছে, যার নাম ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইতিহাসের এই সত্যকে উন্মোচিত করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন, যা আমাদের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে স্পষ্ট করে দেয়।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে ও বিপক্ষের যে সাজানো ও কৃত্রিম মেরুকরণ, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের মানুষ তা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। স্বৈরাচারী আমলে দেশের রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে মেরুকরণ করতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেশ যখন সংকটে ছিল, তখন তারেক রহমান প্রবাস জীবন থেকেই স্লোগান তুলেছিলেন- ‘দেশ যাবে কোন পথে, ফয়সালা হবে রাজপথে’। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজপথেই স্বৈরাচারের ভবিষ্যৎ এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইতিহাসে যারা বিকৃতি ঘটাতে চায় কিংবা কৃত্রিম চরিত্র তৈরি করে বিশাল নেতা হিসেবে আবির্ভূত হতে চায়, তাদের পরিণতি ভালো হয় না। ইতিহাস যখন সঠিকভাবে কথা বলে, তখন বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে চড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যারা জনগণকে বাদ দিয়ে নির্বাচনকে অন্ধকার গলিতে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন, তাদের সমস্ত চক্রান্ত নস্যাৎ করে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ইতিহাসের অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আমরা আদায় করতে পেরেছি। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এখন জনগণের পরিচ্ছন্ন ম্যান্ডেটের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকার সেই ম্যান্ডেট নিয়েই কাজ করছে। ফলে দেশের পার্লামেন্ট অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে একটি কার্যকর ও ‘ভাইব্রেন্ট পার্লামেন্ট’ হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জাতিসংঘ এবং আঞ্চলিক ক্ষেত্রে ‘সার্ক’-ই হবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার মূল ভিত্তি। সার্কের ২২০ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার বাইরে অন্য কোনো শক্তির ওপর ভর করে কৃত্রিম আঞ্চলিক বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হলে, তাকে সন্দেহের চোখে দেখা হবে।

বিএনপি নেতা সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে এবং তমিজ উদ্দিন টিটুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মোমিনুল আমিন ও বিএনপি নেতা মো. রাশেদ খাঁন।

পরবর্তী খবর

যতক্ষণ প্রাণ থাকবে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব : প্রধানমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ৪:৪৫ অপরাহ্ন, ১৩ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের সমর্থনই আমাদের শক্তি। তাই যতক্ষণ আমাদের প্রাণ থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই দেশ এবং এই দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব।

তিনি আজ সকালে পিএমখালি ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখননের কাজ শুরুর পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ কথা বলেন। 

বিএনপি জনগণের জন্য রাজনীতি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  'বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। আর বিএনপি সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায়।’ 

তিনি বলেন, খবরের কাগজগুলোতে দেখলাম, এবারের বাজেটের পরে এখন পর্যন্ত কোন জিনিসের দাম বাড়েনি। কারণ চাল, ডাল, তেল, নুনসহ সকল প্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর যে ট্যাক্স ছিল বর্তমান সরকার এই দুইদিন আগের বাজেটে ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে তা তুলে নিয়েছে। যেন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম না বাড়ে। এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য একটাই, দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে।'

দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে বিরোধী দল প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিরোধী দল বলছে যে এই গণবিরোধী বাজেট তারা মানে না।'


উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই, যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয় সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। যেই বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, যেই বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। তাহলে এবার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন?

তারেক রহমান বলেন, ‘তাদের (বিরোধী দল) লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। তাদের উদ্দেশ্য একটাই,  সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে অস্থিতিশীতা ও অশান্তি তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।’

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট উপস্থাপন করেন।

এদিকে বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন,  এখানে  কেনো এসেছি বলেন তো? পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করতে। আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে এই খাল খনন করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এই খাল খননের ফলে ৪০ হাজার মানুষের উপকার হবে। উপকৃত হবে সাড়ে ৮ হাজার কৃষক। এ কারণে আমারা আগামী পাঁচ বছরে ২৩ হাজার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কিন্তু কৃষির সাথে সাথে আমাদেরকে শিল্প-বাণিজ্যেও গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্প- বাণিজ্যের উন্নতি ঘটলে আমাদের সন্তানদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। চাকরি বাকরি, ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবে। এ কারণে  যে সকল দ্রব্য দেশে উৎপাদিত হয় অথচ একই জিনিস যেগুলো বিদেশ থেকে আসে সেগুলোর ওপর আমরা ট্যাক্স বাড়িয়েছি। যাতে করে দেশে উৎপাদিত দ্রব্যটি যারা উৎপাদন করে, সেই শিল্প কারখানাটি সাপোর্ট পায়, তার ব্যবস্থা আমরা এই বাজেটের মধ্যে রেখেছি। এটিও বিরোধী দলের পছন্দ নয়।’

তিনি বলেন, 'আমি বলতে চাই, এদেশের মালিক আপনারা। দেশের মালিক কোন রাজনৈতিক দল নয়, দেশের মালিক কোন পরিবার নয়, দেশের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশের ২০ কোটি জনগণ।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ‘দেশ আমাদের সকলের। এই দেশই আমাদের প্রথম ঠিকানা, এই দেশই আমাদের শেষ ঠিকানা। সেজন্যই আমরা বলি এই দেশকে গড়লে আমরাই ভালো থাকবো,আমাদের সন্তানরাই শান্তিতে থাকতে পারবে।’

তিনি বলেন, 'এই দেশকে যদি আমরা গড়তে না পারি তাহলে আমাদের সন্তানরা দুঃখ কষ্টে থাকবে। কেউ কি চায় নিজের সন্তান কষ্টে থাকুক? কেউ আমরা চাই না। সেজন্যই আমরা একটি কথাই বলি, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।'

কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, স্থ্নাীয় নেতা হারুনুর রশীদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে এই খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী মুষল বৃষ্টির মধ্যেই ফ্লাইট থেকে নেমে সড়ক পথে পিএমখালীতে আসেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই নিজের হাতে কোদাল দিয়ে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রী খালের পাড়ে একটি খেজুর গাছের চারা রোপণ করেন।


পরবর্তী খবর

বাজেটকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ৩:৫৮ অপরাহ্ন, ১৩ জুন ২০২৬

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রয়োজন ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা বাজেটকে যথাসম্ভব অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি। বাজেটের প্রতিটি বিষয়ই মূলত একেকটি প্রত্যক্ষ নীতির প্রতিফলন।”

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আয়োজিত ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক সম্মেলনে’ তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খলিলুর রহমান এবং বিডার কর্মকর্তারাও বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলনের এক প্লেনারি সেশনে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, বিভিন্ন নীতির মাধ্যমে দেশের সব নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।” তার মতে, কার্যকর করনীতি বাস্তবায়নের জন্য দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ জনবল প্রয়োজন, যারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে।


করব্যবস্থা ও নীতিনির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা একটি নতুন পথ তৈরি করেছি। যে সংস্থা নীতি ও করব্যবস্থা চূড়ান্ত করবে, তাদের সিদ্ধান্তে অবশ্যই জনগণের মতামতের প্রতিফলন থাকতে হবে।”

নীতিনির্ধারণে দায়িত্বের সুস্পষ্ট বিভাজনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আপনি যদি সঠিকভাবে নীতি প্রণয়ন করতে পারেন, তাহলে বাস্তবায়নের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।”

সৃজনশীল অর্থনীতিকে এবারের বাজেটের অন্যতম নতুন সংযোজন হিসেবে তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, “আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি কীভাবে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়। এখানেই সৃজনশীল অর্থনীতির ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।”

তিনি বলেন, গ্রামীণ কারিগর, নাট্যশিল্পী, গায়ক, ডিজাইনার ও চিত্রশিল্পীদের মতো সৃজনশীল পেশাজীবীরা দীর্ঘদিন অর্থনীতির মূলধারার বাইরে ছিলেন। তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, দক্ষতা উন্নয়ন, নকশা ও ব্র্যান্ডিং সহায়তা এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পরবর্তী খবর

নাঈমকে মারধরের ঘটনায় দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস সিএমপি কমিশনারের

| প্রকাশিত: ৩:৫৩ অপরাহ্ন, ১৩ জুন ২০২৬

জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে মারধর ও থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নগরের বহদ্দারহাটের ফরিদারপাড়া এলাকায় নাঈমের বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন সিএমপি কমিশনার। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “নাঈম সাহেবের কাছ থেকে আমি নিজে বিস্তারিত শুনেছি। গত রাতেই ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি। এ ঘটনায় যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি জানান, এরই মধ্যে এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। “শুধু সাময়িক বরখাস্ত নয়, এ ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। পুলিশ সবসময় পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে চায়। কেউ যদি অপেশাদার আচরণ করে, তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে”

সিএমপি কমিশনার আরও বলেন, “জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এর আগে, শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পথে নগরের লালখান বাজার এলাকায় নাঈমকে বহনকারী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে পুলিশ সদস্যরা তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। নাঈমের দাবি, নিজের পরিচয় ও পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করা হয় এবং পরে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনায় পুলিশের এক সোর্স নিজেকে ডিবির সদস্য পরিচয় দিয়ে মারধরে অংশ নিয়েছিলেন—এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, “তাকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাঈমের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “উনি আমাকে পুরো ঘটনা বলেছেন। আমি স্বীকার করছি, পুলিশের পক্ষ থেকে সেখানে পেশাদার আচরণ করা হয়নি।”

ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে শওকত আলী বলেন, “যারা অভিযানে ছিল, তাদের সবার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


পরবর্তী খবর

সমতা ও ন্যায্যতা: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টেকসই ভিত্তি-- প্রফেসর ড. আসিফ মিজান

| প্রকাশিত: ১২:২৫ অপরাহ্ন, ১৩ জুন ২০২৬


বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আলোচনায় প্রায়শই ভ্রাতৃত্ব, গভীর বন্ধুত্ব এবং ঐতিহাসিক বন্ধনের মায়াজাল তৈরি করা হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতির রূঢ় বাস্তবতা হলো—যেকোনো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তখনই অর্থবহ ও টেকসই হয়ে ওঠে, যখন তা পারস্পরিক স্বার্থ, সার্বভৌম সমতা এবং দৃশ্যমান ন্যায্যতার শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। এই মৌলিক উপাদানগুলোর অনুপস্থিতিতে কেবল ‘ভ্রাতৃত্বের’ সুদৃশ্য স্লোগান কূটনৈতিক সৌজন্যতার বাইরে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হতে বাধ্য।


ভৌগোলিক বাস্তবতা ও ঐতিহাসিক মনস্তত্ত্বঃ

ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রতিবেশী পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের সাথে চার হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ স্থল সীমান্ত শেয়ার করে। দুই দেশের মানুষের মধ্যে রয়েছে সহস্রাব্দের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও নিবিড় অর্থনৈতিক মেলবন্ধন। স্বাভাবিক নিয়মেই এই দুই রাষ্ট্র পরস্পরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু এই দীর্ঘ ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক নৈকট্য সত্ত্বেও, ভারতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের 'বিগ ব্রাদার' বা একাধিপত্যবাদী আচরণ উপমহাদেশের অন্যান্য রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনেও এক ধরনের দূরত্ব ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জনগণের সাথে টেকসই মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্ক উন্নয়নের চেয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা দলের প্রতি অতিমাত্রায় ঝুঁকে থাকার যে প্রবণতা দেখা গেছে, তা এদেশের সচেতন সমাজ ইতিবাচকভাবে নেয়নি। ফলশ্রুতিতে, ভারতের এই একপেশে বা ব্যক্তি-কেন্দ্রিক নীতি শেষ পর্যন্ত খোদ দিল্লির জন্যও কোনো দীর্ঘমেয়াদি ভূ-রাজনৈতিক স্বস্তি বা কৌশলগত লাভ বয়ে আনতে পারেনি।


'রাজনৈতিক দূত' ও নতুন কূটনৈতিক সমীকরণঃ

৫৫ বছরের দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম ভারত তার কোনো পেশাদার কূটনীতিকের (Career Diplomat) পরিবর্তে একজন ঝানু রাজনীতিবিদকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে প্রেরণ করেছে। ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং প্রবীণ সংসদ সদস্য দিনেশ ত্রিবেদীর এই নিযুক্তি প্রমাণ করে যে, ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার এখন ঢাকার সাথে সম্পর্ককে আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক স্তরে ভিন্ন গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।

কিন্তু দিল্লির সাউথ ব্লককে এটি গভীরভাবে অনুধাবন করতে হবে যে, বাংলাদেশের জনগণের মনস্তত্ত্ব এবং সার্বভৌম আকাঙ্ক্ষাকে পাশ কাটিয়ে কোনো চতুর বা একপেশে কূটনীতি দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে পারে না। কখনও কখনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা বিভিন্ন সস্তা প্রচারণায় যখন ‘দুই দেশ এক করার’ মতো অবাস্তব রাজনৈতিক আওয়াজ তোলা হয়, তখন তা এদেশের মানুষের মনে নতুন করে সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকির আশঙ্কা তৈরি করে। যদি সত্যিই একাত্মতা ও সৌহার্দের সদিচ্ছা থাকে, তবে রাজনৈতিক বা ভৌগোলিক একীকরণের এই সস্তা আলাপের আগে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ‘অমিমাংসিত ক্ষত’ গুলোর দিকে নজর দেওয়া জরুরি।


অভিন্ন নদীর জলবণ্টন: একতরফা নীতির অবসানঃ

দুই দেশের জনগণকে এক করার অবাস্তব প্রতিশ্রুতির চেয়ে বড় পরীক্ষা হলো—অভিন্ন নদীগুলোর ওপর থেকে আন্তর্জাতিক আইন বহির্ভূত ও একতরফা কৃত্রিম কৃচ্ছ্রসাধন তুলে নেওয়া। দুই দেশের মানুষকে এক করার আগে, ভারত কর্তৃক একতরফাভাবে আটকে রাখা জলরাশিকে মুক্ত করে কৃত্রিম বাঁধের দুই পাশের জলকে প্রাকৃতিক নিয়মে একসাথে মিশে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া উচিত।

তিস্তাসহ ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না করে ‘ভ্রাতৃত্বের ফাঁকা বুলি’ কেবলই এক ধরনের কূটনৈতিক পরিহাস ও সময়ের অপচয় মাত্র। বিশেষ করে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন এবং তিস্তার দীর্ঘমেয়াদি অমীমাংসিত সংকট নিরসনই হবে দিল্লির সদিচ্ছার প্রথম ও প্রধান পরীক্ষা।


ইতিহাসের পুনর্পাঠ ও বিভাজনের রাজনীতিঃ

ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, এই অঞ্চলকে এক করার চেয়ে বিভাজনের রাজনীতিতেই ভারতের তৎকালীন কিছু উগ্র ঘরানার নেতার ভূমিকা ছিল মুখ্য। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রেক্ষাপটে শরৎ বসু ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ‘স্বাধীন অখণ্ড বাংলা’র প্রস্তাবকে নস্যাৎ করার পেছনে শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির মতো নেতাদের উগ্র সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক অবস্থানই ছিল প্রধান কারণ।

সেদিন যদি তৎকালীন বাংলা ভাগ না হতো, তবে পূর্ব ও পশ্চিম বাংলা মিলে এই উপমহাদেশে এক বিশাল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরাশক্তির উত্থান ঘটত। সেই ঐতিহাসিক সত্যকে আড়াল করে আজকে যখন নতুন করে মৈত্রীর সস্তা বয়ান তৈরি করা হয়, তখন তা স্বভাবতই এদেশের মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়।


একটি টেকসই 'উইন-উইন' কূটনীতির রূপরেখাঃ

ভারতকে বুঝতে হবে যে, সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণ এবং পরস্পরের স্বার্থ রক্ষাকারী একটি ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’ (Win-Win Situation) বা পারস্পরিক লাভজনক ব্যবস্থার মাধ্যমেই কেবল স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা সম্ভব। ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী যতই প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদ হোন না কেন, বাংলাদেশে তাঁর আগমন ঘটেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি তথা কূটনীতিক হিসেবে, কোনো রাজনৈতিক প্রচারক হিসেবে নয়।

সুতরাং, অমূলক ও সস্তা রাজনৈতিক বয়ান পরিহার করে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ও দৃশ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে মনোযোগী হওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে নিচের বিষয়গুলোতে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রয়োজন:

১। সার্বভৌম সমতা: একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ ও আধিপত্যবাদী মনোভাব পরিহার করা।

২। সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামানো: সীমান্তকে সম্পূর্ণ অহিংস রাখা এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সীমান্ত সুরক্ষার নীতি বজায় রাখা।

৩। বাণিজ্যিক ভারসাম্য: অশুল্ক ও আধা-শুল্ক বাধা দূর করে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা।

৪। নদীর ন্যায্য হিস্যা: আন্তর্জাতিক নদী আইন মেনে অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানিবণ্টন চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করা।


যেকোনো ধরনের জেদাজেদি, একতরফা সিদ্ধান্ত বা ভুল বোঝাবুঝি উভয় রাষ্ট্রের জন্যই কেবল ক্ষতির কারণ হবে। সমতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের পথে এগিয়ে যাওয়াই বাংলাদেশ ও ভারত—উভয় রাষ্ট্রের টেকসই সমৃদ্ধির একমাত্র পরম যৌক্তিক পথ।


লেখক: প্রফেসর ড. আসিফ মিজান, উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়া এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক।

পরবর্তী খবর

জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খাল খনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ১২:১৫ অপরাহ্ন, ১৩ জুন ২০২৬

বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারে দিনব্যাপী সরকারি সফর শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে ভারী বর্ষণ উপেক্ষা করে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে তিনি এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।

বর্ষণমুখর সকাল সোয়া দশটা নাগাদ সময়ে হাজার হাজার মানুষ পাতলি খাল পাড়ে সমবেত হয়েছেন। কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে পাতলী খাল পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন, প্লাকার্ড হাতে নিয়ে নেতাকে বরণ করে শুভেচ্ছা জানান।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি সকাল ১০টায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান রয়েছেন।

সম্ভাব্য সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর ১২টায় ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করবেন। সোয়া ১২টায় মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

তারেক রহমান সোয়া ১টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কক্সবাজারের প্রথম শহীদ, পেকুয়ার সন্তান শহীদ ওয়াসীমের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর বেলা দেড়টায় প্রধানমন্ত্রী নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। পরে দুপুর ২টায় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন করবেন। পরে তারেক রহমান পেকুয়ায় সাঈদ মঞ্জিলে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন।

বিকাল ৪টায় চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর তিনি সড়কপথে কক্সবাজার গিয়ে সন্ধ্যা ৭টায় মেরিন ড্রাইভ সড়ক হয়ে সাগর সৈকত ঘুরে দেখবেন। রাত ৮টায় হোটেল লং বিচ অডিটরিয়ামে প্রধানমন্ত্রী সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। সর্বশেষ রাত ১০টায় তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে বিমানযোগে কক্সবাজার ছেড়ে যাবেন।

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ১২:১১ অপরাহ্ন, ১৩ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ শনিবার সকাল ৯টা ৫৩ মিনিটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছেন। এর আগে তিনি সকাল ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান রয়েছেন। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, পাট ও  বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম ও কক্সবাজারের  জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সড়ক পথে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি পিএমখালী ইউনিয়নে পাতলী খাল পুন:খনন কর্মসূচির অনুষ্ঠানস্থলে যান। খাল পুনঃখননের পর তিনি সেখানে একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।

প্রধানমন্ত্রীর দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে - ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন, মাছুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পেকুয়া উপজেলায় ২০২৪ সালের জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ মো. ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ।

এছাড়া নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বিকেলে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন তিনি।

পরে প্রধানমন্ত্রী মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন করবেন। সন্ধ্যায় লং বিচ হোটেলে এক সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।

বৃক্ষরোপণ ও খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাতে বিমানে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।

দেড় দশকের বেশি সময় লন্ডনে অবস্থানের পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম কক্সবাজার সফর।

পরবর্তী খবর

যেখান থেকে সপ্তম আসমানে যাত্রা শুরু করেছিলেন মহানবী (সা.)

| প্রকাশিত: ৬:৩৪ অপরাহ্ন, ১২ জুন ২০২৬


মানবজাতির ইতিহাসে সবচেয়ে বিস্ময়কর ও অলৌকিক ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মেরাজ। এটি শুধু একটি আধ্যাত্মিক সফর নয়, বরং আল্লাহর অসীম ক্ষমতা এবং নবী করিম (সা.)-এর মর্যাদার এক অনন্য নিদর্শন। ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী, মহানবী (সা.) পৃথিবী থেকে আসমানের পথে যে মহিমান্বিত যাত্রা করেছিলেন, তার সূচনা হয়েছিল পবিত্র জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ থেকে।

ইসরা ও মেরাজের প্রেক্ষাপট

নবুওয়াতের দশম বছর মহানবী (সা.)-এর জীবনে নেমে আসে এক কঠিন সময়। প্রিয় স্ত্রী হযরত খাদিজা (রা.) এবং চাচা আবু তালিবের মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত হন। ইতিহাসে এই বছরটি “আমুল হুযন” বা দুঃখের বছর নামে পরিচিত। ঠিক এমন সময় আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় রাসূলকে এক মহিমান্বিত সফরের মাধ্যমে সান্ত্বনা ও সম্মান দান করেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:

“পবিত্র ও মহান সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত ভ্রমণ করিয়েছেন, যার চারপাশ আমি বরকতময় করেছি, যাতে আমি তাঁকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাতে পারি।”

— (সূরা আল-ইসরা: ১)

মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা

মেরাজের সূচনায় মহানবী (সা.) পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে বোরাক নামক এক বিশেষ বাহনে আরোহণ করে জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ-এ পৌঁছান। সেখানে তিনি পূর্ববর্তী সকল নবী-রাসূলের ইমামতি করে নামাজ আদায় করেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, তিনি সকল নবীর নেতা ও সর্বশেষ রাসূল।

যে স্থান থেকে শুরু হয়েছিল সপ্তম আসমানের যাত্রা

ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের একটি পবিত্র স্থান থেকে মহানবী (সা.)-এর আসমানি সফর শুরু হয়। ঐতিহাসিকভাবে এই স্থানটি “সাখরা” বা “পবিত্র শিলা” নামে পরিচিত। মুসলমানদের বিশ্বাস, এখান থেকেই মহানবী (সা.) হযরত জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে আসমানের দিকে যাত্রা করেন।

বর্তমানে এই পবিত্র শিলার উপর নির্মিত রয়েছে ডোম অব দ্য রক, যা ইসলামের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। যদিও এটি কোনো মসজিদ নয়, তবুও মেরাজের স্মৃতিবিজড়িত স্থান হিসেবে বিশ্ব মুসলিমের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত।

সাত আসমানে নবী (সা.)-এর সফর

মহানবী (সা.) আসমানের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন নবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

প্রথম আসমানে — হযরত আদম (আ.)

দ্বিতীয় আসমানে — হযরত ঈসা (আ.) ও হযরত ইয়াহইয়া (আ.)

তৃতীয় আসমানে — হযরত ইউসুফ (আ.)

চতুর্থ আসমানে — হযরত ইদরিস (আ.)

পঞ্চম আসমানে — হযরত হারুন (আ.)

ষষ্ঠ আসমানে — হযরত মূসা (আ.)

সপ্তম আসমানে — হযরত ইবরাহিম (আ.)

প্রতিটি আসমানে তিনি নবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শন প্রত্যক্ষ করেন।

সিদরাতুল মুনতাহা ও আল্লাহর সান্নিধ্য

সপ্তম আসমান অতিক্রম করে মহানবী (সা.) পৌঁছান “সিদরাতুল মুনতাহা”-য়, যা সৃষ্টিজগতের সর্বোচ্চ সীমার প্রতীক। সেখানে এমন কিছু রহস্য ও নিদর্শন তাঁকে দেখানো হয়, যা মানুষের ভাষায় সম্পূর্ণভাবে বর্ণনা করা সম্ভব নয়।

এই মহিমান্বিত সফরেই উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়। প্রথমে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ নির্ধারিত হলেও পরবর্তীতে তা কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত করা হয়, যদিও সওয়াব পঞ্চাশ ওয়াক্তের সমান রাখা হয়।

মেরাজের শিক্ষা

মেরাজের ঘটনা মুসলমানদের জন্য বহু শিক্ষা বহন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

১. আল্লাহর ক্ষমতার ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখা।

২. নামাজের গুরুত্ব উপলব্ধি করা।

৩. কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ করা।

৪. নবী করিম (সা.)-এর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়া।

৫. আখিরাতের জীবনের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা।


পবিত্র আল-আকসা মসজিদ থেকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সপ্তম আসমানের পথে যাত্রা ইসলামের ইতিহাসে এক অনন্য অলৌকিক ঘটনা। এই সফর মানবজাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে আল্লাহর ক্ষমতার কোনো সীমা নেই এবং তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য তিনি এমন সম্মান ও মর্যাদার ব্যবস্থা করতে পারেন যা মানুষের কল্পনারও ঊর্ধ্বে। মেরাজ শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; এটি ঈমান, ইবাদত, ধৈর্য এবং আল্লাহর প্রতি অগাধ আস্থার এক চিরন্তন শিক্ষা।


সম্পাদনায় শেখ মো শাহিনুর রহমান উজ্জ্বল 

সিনিয়র সাংবাদিক 

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে এসেছেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

| প্রকাশিত: ১:৪৭ অপরাহ্ন, ১২ জুন ২০২৬
বাংলাদেশে এসেছেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আজ শুক্রবার (১২ জুন) সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন তিনি। এখন তিনি ঢাকার পথে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে, গত এপ্রিলে ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে দেশটির নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। গত ৫৫ বছরে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাজনীতিবিদকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে পাঠালো নয়াদিল্লি।

দীনেশ ত্রিবেদী পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন। বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন প্রণয় ভার্মা। এরই মধ্যে প্রণয় ভার্মা ব্রাসেলসে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
পরবর্তী খবর

প্রস্তাবিত বাজেট অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নতুন সরকারের বড় সুযোগ : সিপিডি

| প্রকাশিত: ১:৪৫ অপরাহ্ন, ১২ জুন ২০২৬
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে নতুন সরকারের জন্য টেকসই কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রথম বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

আজ (শুক্রবার) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এ কথা বলেন। 

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অ্যাধাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী তামিম আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানটির আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রস্তাবিত এই বাজেট সরকারের প্রথম বাজেট। এই বাজেটটি এমন সময়ে দেওয়া হয়েছে যখন অর্থনীতি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে এবং গত প্রায় চার বছর থেকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজমান। তার পাশাপাশি দেখছি আমাদের প্রবৃদ্ধি দুর্বল হয়ে পড়েছে, দুর্বল ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান হচ্ছে না, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি রয়েছে এবং ব্যাংকিং খাত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। 

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মোটামুটি অবস্থায় রয়েছে, প্রেসারে ছিল কিন্তু মোটামুটি ভালো হয়েছে, তবে তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এখন একটা ক্রিটিক্যাল সময়— আমাদের জ্বালানি সংকট। এই প্রেক্ষিতে বাজেটকে মানবিক, গণতান্ত্রিক মানবিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ বাজেট বলা হয়েছে। 

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের অন্তর্নিহিত দর্শন হলো মানব উন্নয়ন, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা। ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনকল্যাণমূলক খাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।সিপিডির মতে, বাজেটের এই দৃষ্টিভঙ্গি অনেকাংশে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। 

বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ এবং সামাজিক খাতের উন্নয়নের বিষয়গুলোতে মিল রয়েছে। বাজেটের সাফল্য আকারের ওপর নয়, বরং বাস্তবায়নের মানের ওপর নির্ভর করবে। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবায়ন দুর্বল হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায় না।

সিপিডি বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলছে, বাজেটের লক্ষ্য অর্জনে শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। এমন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যেগুলো দক্ষতার সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারবে এবং জনগণের কাছে দৃশ্যমান ফলাফল পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই বাজেট নতুন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও বটে। 

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শনের এটিই সরকারের প্রথম বড় সুযোগ। বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার যদি কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দিতে পারে, তাহলে তা দেশের অর্থনীতিকে আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এর আগে গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর বিপরীতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার ফলে সামগ্রিক বাজেটে নিট ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা (যার মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা) এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।