ব্রাজিলে মাদকচক্র দমনে অভিযান, নিহত ৬৪
ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর বস্তিগুলোতে গত মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) পুলিশের ব্যাপক অভিযানে অন্তত ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। শহরের উত্তরাঞ্চলের কমপ্লেক্সো দা পেনহা ও কমপ্লেক্সো দো আলেমাঁও এলাকায় দেশটির প্রধান মাদক চক্রকে দমন করতে এই অভিযান চালানো হয়।
দেশের প্রধান মাদক চক্রকে লক্ষ্য করে পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় আড়াই হাজার সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। পুলিশ বস্তির মুখে থাকা ব্যারিকেডগুলো গুঁড়িয়ে দিতে দুটি হেলিকপ্টার, ৩২টি সাঁজোয়া যান এবং ১২টি ধ্বংসযন্ত্র ব্যবহার করে।
রাজ্য গভর্নর ক্লাউডিও কাস্ত্রো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি রাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অভিযান।’ তিনি জানান, এ অভিযানে ৬০ জন সন্দেহভাজন গ্যাং সদস্য ও চারজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত অভিযান চলেছে।
গভর্নর কাস্ত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে দেখা যায় গ্যাং-নিয়ন্ত্রিত ড্রোন পুলিশের ওপর বোমা ফেলছে। তিনি বলেন, ‘এটি সাধারণ অপরাধ নয়, এটি মাদক সন্ত্রাস।’
অভিযানটি নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। ব্রাজিলের কংগ্রেসম্যান হেনরিকে ভিয়েরা বলেন, ‘সরকার এ বস্তিগুলোতে গুলি চালানো ও হত্যার অনুমোদন দিয়ে এগুলোকে শত্রু অঞ্চলে পরিণত করছে।’
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা এক বিবৃতিতে এই সহিংসতাকে ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করে দ্রুত তদন্ত ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
গত বছর রিওতে পুলিশের অভিযানে প্রায় ৭০০ জন নিহত হয়েছিলেন। রিও রাজ্য আইনসভা মানবাধিকার কমিশনের প্রধান দানি মন্টেইরো বলেন, ‘রিওর ফাভেলাগুলো আবারও যুদ্ধের মঞ্চে পরিণত হয়েছে।’
সব পক্ষেরই নিপীড়নের শিকার ফিলিস্তিনিরা: জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও হামাসের দমনমূলক শাসনের মধ্যে ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণ কার্যত সব পক্ষের নিপীড়নের শিকার হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রকাশিত কমিশনের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিরা এমন এক বাস্তবতার মধ্যে আটকা পড়েছে যেখানে একদিকে রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের ‘চরম নৃশংসতা’, অন্যদিকে গাজায় রয়েছে হামাসের ‘কট্টরপন্থি শাসন’।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চল, পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরায়েলবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, অঞ্চলটির সংঘাতে জড়িত সব পক্ষের কর্মকাণ্ডের কারণে ফিলিস্তিনিরা ‘পদ্ধতিগত ও ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার’ হচ্ছে।
প্রতিবেদনে কমিশন তাদের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গণহত্যার আইনি মানদণ্ড পূরণ করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামাসের নেতৃত্বে পরিচালিত হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ এখন প্রায় তিন বছর ধরে চলছে। এ সময় গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি, অবকাঠামো ধ্বংস এবং মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীর, বিশেষ করে পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার জন্য ‘প্রাথমিকভাবে দায়ী’ ইসরায়েল। ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও দখলনীতি আরও জোরদার হয়েছে।
জাতিসংঘের কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর পশ্চিম তীরে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে ইসরায়েলি সেনা বা বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত এক হাজার ৮০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ফিলিস্তিনি হামলা কিংবা ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের মধ্যে অন্তত ৪৬ জন ইসরায়েলি সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন বলেছে, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং তা ইসরায়েলি নীতির প্রত্যক্ষ ফল। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা কার্যত রাষ্ট্রীয় নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।
কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নীতির লক্ষ্য হলো পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে স্থায়ী করা, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে কার্যত সংযুক্ত (অ্যানেক্স) করা এবং ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা। তবে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই এ তদন্ত কমিশনের বিরুদ্ধে ‘পদ্ধতিগত ইসরায়েলবিরোধী পক্ষপাতিত্বে’র অভিযোগ করে আসছে।
প্রতিবেদনে গাজায় ক্ষমতাসীন হামাসের ভূমিকাও কঠোরভাবে সমালোচনা করা হয়েছে। কমিশন বলেছে, গাজায় হামাস এবং তাদের সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো যুদ্ধের সময় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী।
গাজাবাসীরা এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, যেখানে তাদের শাসনের দাবি করা গোষ্ঠীই তাদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরালিধর বলেন, ‘অবিরাম ইসরায়েলি হামলা ও গাজার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ যে শূন্যতা তৈরি করেছে, হামাস-সংশ্লিষ্ট বাহিনী সেটির সুযোগ নিয়েছে।’
তবে মুরালিধর একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো— ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে কষ্ট চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা। তিনি বলেন, ‘উৎস ও উদ্দেশ্য ভিন্ন হলেও উভয় পক্ষের কর্মকাণ্ডের ফলে ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। আর উভয় ক্ষেত্রই এমন এক পরিবেশে ঘটছে, যা ইসরায়েলের তৈরি করা বাস্তবতার মধ্যে গড়ে উঠেছে।’
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের এই নতুন প্রতিবেদন মূলত একটি বিষয়ই সামনে এনেছে— দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, দখলদারিত্ব, সামরিক অভিযান ও অভ্যন্তরীণ দমননীতির মধ্যে সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা। পশ্চিম তীর হোক কিংবা গাজা, রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই জনগোষ্ঠী ক্রমেই নিরাপত্তা, অধিকার ও স্বাভাবিক জীবনের সুযোগ হারাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা নস্যাৎ করতেই বৈরুতে হামলা চালায় ইসরায়েল
আমেরিকাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ডন দাবি করেছে, ইসরায়েলের এই আকস্মিক আগ্রাসন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং এটি পুরো অঞ্চলকে একটি বড় ধরনের সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে ভূমিকা রাখছে।
সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ওমর শাকির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইসরায়েলের এই যুদ্ধংদেহী আচরণে মার্কিন প্রশাসন অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে যে খবর বেরিয়েছে, তা আদতে মাঠপর্যায়ে কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। তিনি স্পষ্ট করেন, হোয়াইট হাউস যতক্ষণ না পর্যন্ত তেল আবিবের ওপর তাদের মূল ক্ষমতার উৎসগুলো ব্যবহার করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এমন মৌখিক আপত্তিতে কোনো কাজ হবে না।
মানবাধিকার সংস্থাটি ওয়াশিংটনকে অনতিবিলম্বে ইসরায়েলের কাছে সব ধরনের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ স্থগিত করার জোর দাবি জানিয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
দিল্লির যন্তর মন্তরে তেলাপোকা জনতা পার্টির সমাবেশ
ভারতের বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে পরিচিত একদল তরুণ আন্দোলনকারী। সমাবেশে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে দেশে ফেরেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে
শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকেই রাজধানী দিল্লীর একমাত্র নির্ধারিত সমাবেশস্থল যন্তর মন্তরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে থাকে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিজিৎ দীপকে সরাসরি যন্তর মন্তরে পৌঁছান। সাদা টি-শার্ট, কালো জ্যাকেট ও টুপি পরিহিত অভিজিতের হাতে ছিল ভারতীয় সংবিধানের অন্যতম রূপকার ভীমরাও আম্বেদকরের আত্মজীবনী।
সমাবেশকে ঘিরে আগে থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তেলাপোকা-প্রতীকী এই আন্দোলনের সমাবেশ ঠেকাতে দিল্লি হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করা হলেও আদালত জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর দিল্লি পুলিশ শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা না দেওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথে নজরদারি বাড়ানো হয়।
যন্তর মন্তরে স্থাপন করা অস্থায়ী মঞ্চে উঠে আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেন। পাশাপাশি ‘জয় ভীম’, ‘বন্দে মাতরম’, ‘গোদি মিডিয়া চোর হ্যায়’সহ বিভিন্ন স্লোগানও শোনা যায়। অংশগ্রহণকারীদের হাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অভিজিৎ দীপকে বলেন, দেশের তরুণ সমাজ আর ভয় পাবে না। তারা নিজেদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার আন্দোলনের দাবির দিকে নজর না দিয়ে কেবল এর সংগঠকদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ রাখতে হবে এবং কোনো ধরনের উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না। অংশগ্রহণকারীদের রাজনৈতিক দলের পতাকা না এনে বই, জাতীয় পতাকা ও সংবিধান সঙ্গে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশ চলাকালে পোকা মারার স্প্রে হাতে এক ব্যক্তিকে আন্দোলনকারীরা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এছাড়া ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে দিতে একদল ব্যক্তি সমাবেশস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাদের পরবর্তী বড় সমাবেশ আগামী ২৩ জুন দিল্লির রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া এই আন্দোলন সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন পেয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে সমালোচনাও করা হয়েছে। তবুও আয়োজকদের দাবি, তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ফোনালাপে তিক্ততা, অনিশ্চয়তায় ইরান আলোচনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে সাম্প্রতিক এক ফোনালাপকে ঘিরে দুই নেতার সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েনের আভাস মিলেছে। লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে মতবিরোধের জেরে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সোমবার (১ জুন) দুই নেতার মধ্যে ফোনে কথা হয়। ফোনালাপে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র ভাষায় গালমন্দ করেন এবং তার প্রতি ‘অকৃতজ্ঞতার’ অভিযোগ তোলেন। পরে বুধবার (৩ জুন) সম্প্রচারিত ‘পড ফোর্স ওয়ান’ পডকাস্টে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প জানান, আলোচনার সময় তিনি নেতানিয়াহুর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তবে তিনি দাবি করেন, এটি রাগের বহিঃপ্রকাশ ছিল না; বরং লেবাননে সংঘাত অব্যাহত রাখার বিষয়ে ইসরায়েলের অবস্থান তাকে বিরক্ত করেছিল। একইসঙ্গে তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো এবং তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও ইতিবাচক।
অন্যদিকে নেতানিয়াহু এই ঘটনাকে বড় কোনো সংকট হিসেবে দেখতে নারাজ। সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যেও কৌশলগত বিষয়ে মতপার্থক্য হতে পারে। তবে সেসব বিষয় সাধারণত দ্রুতই সমাধান হয়ে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে পার্থক্যই বর্তমান অস্বস্তির মূল কারণ। ওয়াশিংটন যখন ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে, তখন ইসরায়েল লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এ অবস্থায় তেহরানও স্পষ্ট করেছে, লেবাননের পরিস্থিতির উন্নতি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ইসরায়েল প্রশ্নে চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে ইসরায়েল সম্পর্কে মার্কিন জনমতের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পাশাপাশি প্রশাসনের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তাও মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে সমালোচনামুখর হয়েছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বাস্তবতায় ট্রাম্পের জন্য নেতানিয়াহুর সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব বজায় রাখা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইতিহাস বলছে, নেতানিয়াহুর সঙ্গে একাধিক মার্কিন প্রেসিডেন্টের নীতিগত মতবিরোধ হয়েছে। বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা ও জো বাইডেনের সময়ও এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। তবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই ঘনিষ্ঠ বলে বিবেচিত হয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা দুই দেশের সম্পর্ক ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
সূত্র: বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্রে ৬ জনকে হত্যার পর বন্দুকধারীর আত্মহত্যা
ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প বৈঠক করলেও সিদ্ধান্ত আসেনি
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে একটি চুক্তির বিষয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বৈঠক হলেও এরপর চুক্তি নিয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কোনো ধরনের স্পষ্টতা ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয়।
শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। পাশাপাশি উভয় দিকের জন্য ‘অবাধ নৌ চলাচলের’ উপযোগী করে হরমুজ প্রণালিকে পুনরায় খুলে দিতে হবে এবং ওই জলপথে পাতা সব মাইন ধ্বংস করতে হবে।
বৈঠকের কথা জানিয়ে পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, আমি এখন সিচুয়েশন রুমের বৈঠকে যাচ্ছি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।
ওই বৈঠক থেকে আর কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, সিচুয়েশন রুমে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বৈঠকটি হয়েছে। কিন্তু বৈঠকে ট্রাম্প কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কিছু জানাননি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুধু তখনই একটি চুক্তি করবেন যখন সেটি আমেরিকার জন্য ভালো হবে আর তার শর্তগুলো পূরণ করবে। প্রধান শর্ত, ইরান কখনোই একটি পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।
চুক্তি নিয়ে একই অচলাবস্থা ইরানেও। দেশটির এক ঊর্ধ্বতন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, কিন্তু এখনো অনুমোদন পায়নি।
ইরানের আধাস্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা ফার্স বিভিন্ন সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ট্রাম্পের মন্তব্যগুলো একটি মনগড়া বিজয় চিত্রিত করার চেষ্টা।
ইরানের ওই ঊর্ধ্বতন সূত্র নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তিটিতে পারমাণবিক সংক্রান্ত কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত নেই।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা অবশ্যই ইরান ও ওমানের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
ফার্স বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করার পর তেহরানের শর্তের অধীনে হরমুজ প্রণালি আবার উন্মুক্ত করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট ব্যাসেন্ট বলেছেন, চুক্তি হলে মার্কিন অবরোধ ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়া হবে।
ফার্স জানিয়েছে, জব্দ থাকা ইরানের এক হাজার ২০০ কোটি ডলার অবমুক্ত করার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।
আজ শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা
গত সোমবার শুরু হয়েছে পবিত্র হজ। এরপর মঙ্গলবার (২৬ মে) আরাফাত ময়দানে সমবেত হয়েছেন ১৬ লাখেরও বেশি হাজি।
আজ ১০ জিলহজ, বুধবার। ফজরের নামাজ পড়ার পর হাজিরা মুজদালিফা ত্যাগ করে মিনার দিকে রওনা হন। সেখানে তারা জামারাত আল-আকাবায় বড় শয়তানকে প্রথম পাথর নিক্ষেপ করেন।
১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ—এই তিন দিন ধরে হাজিরা জামারাতের তিনটি স্তম্ভেই (আল-উলা বা ছোট, আল-উস্তা বা মেজ এবং আল-আকাবা বা বড় শয়তান) পাথর নিক্ষেপ করেন।
শয়তানের প্রতীকী তিনটি স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপের জন্য আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখা পাথরগুলো ব্যবহার করবেন হাজিরা।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি থাকলেও এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লক্ষাধিক মুসল্লি হজ পালন করতে এসেছেন।
ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি হলো হজ। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করা ফরজ।
এবারের হজ মৌসুমে, পবিত্র নগরী মক্কায় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। তাই সৌদি কর্তৃপক্ষ হাজিদের বেশি বেশি পানি পান এবং রোদ থেকে সুরক্ষিত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
ইরানে আবারও হামলা শুরু যুক্তরাষ্ট্রের
চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং পারস্য উপসাগরে মাইন স্থাপনের চেষ্টায় নিয়োজিত স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে এই আত্মরক্ষামূলক হামলা চালানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক হামলা এমন এক সময়ে এল যখন দুই দেশের মধ্যে সংঘাত অবসানে কাতারের দোহায় কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল। মঙ্গলবারের (২৬ মে) বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, দক্ষিণ ইরানের কৌশলগত বন্দর নগরী এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি বন্দর আব্বাসের নিকটবর্তী এলাকায় এই সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে। বন্দর আব্বাস শহরটি হরমুজ প্রণালীর প্রবেশদ্বারে অবস্থিত হওয়ায় এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চল।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল যে বন্দর আব্বাসে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করছেন। মার্কিন মুখপাত্র বলেন, চলমান যুদ্ধবিরতির সময়ে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর পাশাপাশি মার্কিন বাহিনী তাদের সৈন্যদের নিরাপত্তা রক্ষায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
এই হামলার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, তবে এটি চলমান শান্তি আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। সপ্তাহান্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই পক্ষ চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে বলে আভাস দিলেও, পরবর্তীতে তিনি তার আলোচকদের তাড়া না করার নির্দেশ দেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবারের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছিলেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, অনেক বিষয়ে অগ্রগতি হলেও চুক্তি স্বাক্ষর এখনই আসন্ন—এমন দাবি কেউ করতে পারে না।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে মূলত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় আহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই বর্তমানে একটি অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করায় তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা আলোচনার গতিকে মন্থর করছে।
এছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল অবমুক্ত করা এবং পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণের মতো জটিল বিষয়গুলো চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পথে বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরুতে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল, যা দিয়ে সহজেই পারমাণবিক বোমা তৈরি সম্ভব। সোমবার রাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হয় অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, অথবা ইরানের মাটিতেই তা সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়। পরবর্তীতে গত ৮ এপ্রিল থেকে উভয় পক্ষ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি পালন করে আসছিল, যা এই নতুন হামলার মাধ্যমে বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ল।
আরাফাতের ময়দানে সমবেত ১৬ লাখেরও বেশি হজ পালনকারী
পবিত্র হজের সবচেয়ে পবিত্র ও আধ্যাত্মিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পালনের জন্য আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন ১৬ লাখেরও বেশি মুসল্লি। হাজিরা ইবাদত, দোয়া ও আত্মসমর্পণের পরিবেশে দিনটি কাটাচ্ছেন।
জিলহজ মাসের নবম দিন ভোর থেকেই হাজিরা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হতে থাকেন। সেখানে তাঁরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় মশগুল থাকবেন।
ইসলামী ঐতিহ্যে আরাফাতে অবস্থান বা উকুফে আরাফাকে হজের মূল রুকন এবং সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা:) বলেছেন, হজ হলো আরাফা, যা এই সমাবেশের অপরিহার্য গুরুত্বকে তুলে ধরে।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, আরাফার দিন ইসলামী ক্যালেন্ডারের অন্যতম পবিত্র দিন এবং এটি রহমত, ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দিনটি মহানবী (সা:)-এর ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের বিদায় হজের স্মৃতিও বহন করে, যখন তিনি আরাফাতের জাবাল আর-রাহমাহ বা রহমতের পাহাড়ে শেষ খুতবা প্রদান করেছিলেন। সেই খুতবায় ন্যায়বিচার, সাম্য এবং জীবন ও সম্পদের পবিত্রতার কথা তুলে ধরা হয়।
দুপুরে হাজিদের উদ্দেশে আরাফার খুতবা প্রদান করা হবে। এতে দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। এরপর হাজিরা সুন্নাহ অনুযায়ী জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে ও সংক্ষিপ্ত আকারে আদায় করবেন।
মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরাফাত একটি উন্মুক্ত প্রান্তর। এখানে অবস্থিত জাবাল আর-রাহমাহ বা রহমতের পাহাড়ে বহু হাজিকে ইবাদত ও ধ্যানে মগ্ন দেখা যায়। এই স্থান আদম ও হাওয়ার পুনর্মিলনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে গভীর প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে।
আরাফাতে যাত্রার আগে হাজিরা মিনায় ‘ইয়াওমুত তারবিয়াহ’ পালন করেন, যেখানে গতকাল সোমবার (২৫ মে) তাঁরা হজের সবচেয়ে কঠিন ধাপের জন্য আধ্যাত্মিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নেন।
হাজিদের চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, চিকিৎসা সেবা, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং জরুরি সেবাদানকারী ইউনিট।
ভারত যা চাইবে, তা-ই পাবে : ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে দিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফোনে সরাসরি যুক্ত হয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নিজেকে মোদির বড় ভক্ত উল্লেখ করে বলেন, ভারত যা চাইবে, তাই পাবে।রবিবার (২৪ মে) রাতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের দূত সার্জিও গোর।
তাদের পেছনে স্থাপিত বিশাল পর্দায় ফোনের মাধ্যমে বক্তব্য দেন ট্রাম্প।ট্রাম্প বলেন, সার্জিও, আপনাকে আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। তবে আমি সবার প্রতি শুভেচ্ছা জানাতে চাই। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি। মোদি অসাধারণ। তিনি আমার বন্ধু।
তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কখনো এত ঘনিষ্ঠ ছিল না। ভারত শতভাগ আমার এবং আমাদের দেশের ওপর ভরসা করতে পারে। তাদের কোনো সহায়তা প্রয়োজন হলে তারা জানে কোথায় ফোন করতে হবে। তারা এখানেই ফোন করবে। আমরা ভালো করছি। আমরা একের পর এক রেকর্ড গড়ছি।
ট্রাম্প বলেন, আমাদের অর্থনীতি রেকর্ড অবস্থানে রয়েছে, শেয়ারবাজারও রেকর্ড উচ্চতায়। আর ভারত যা চাইবে, তাই পাবে। আমি প্রধানমন্ত্রী মোদির বড়, খুবই বড় ভক্ত।
এ সময় তিনি মার্কো রুবিওরও ভূয়সী প্রশংসা করেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব শেষ করবেন। যখন আপনার কাছে মার্কো, সার্জিওর মতো মানুষ থাকে, তখন আপনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোই পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, আমি জানি, আপনারা আমাদের ভালোভাবে প্রতিনিধিত্ব করবেন। সবাই সন্ধ্যাটা উপভোগ করুন। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে শুভেচ্ছা জানাতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। তাকে জানিয়ে দেবেন, আমি তার একজন বড় ভক্ত।
এর আগে শনিবার সার্জিও গোর ট্রাম্পের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ভবিষ্যতে হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ জানান।
মার্কো রুবিওর ভারত সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নীতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসরত অনেক অভিবাসীকে দেশ ছাড়তে এবং বিদেশ থেকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে।
এরই মধ্যে রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তার ভাষায়, চুক্তিটি হবে উপকারী, টেকসই এবং উভয় দেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের শুল্ক ও বাণিজ্য নীতিকে কেন্দ্র করে কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর দুই দেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। এ প্রেক্ষাপটে রুবিওর সফরকে সম্পর্কের প্রতি আস্থা পুনঃস্থাপন এবং একটি বিস্তৃত বাণিজ্য কাঠামো নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রুবিও বলেন, এটি শুধু ভারতকে ঘিরে নয়। তিনি উল্লেখ করেন, বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগের কারণে ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী মিত্রদেরসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কেও একই ধরনের আলোচনা চলছে।
তার মতে, বর্তমান প্রশাসনের অবস্থান একটি আরও ন্যায্য বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।
রুবিও বলেন, ভারত একটি বিশাল অর্থনীতি এবং আমাদের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য অংশীদার। ভারতের সঙ্গে আমাদের ব্যাপক বাণিজ্য রয়েছে। এত বড় অর্থনীতির সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য পুনর্গঠন স্বাভাবিকভাবেই ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।