ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর এক দিনে রেকর্ড ৫৫ হামলার দাবি হিজবুল্লাহর
লেবানন সীমান্ত ও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর এক দিনে রেকর্ড ৫৫টি হামলা চালানোর দাবি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। হিজবুল্লাহর ইতিহাসে এক দিনে এটিই সর্বোচ্চসংখ্যক হামলার ঘটনা।
আজ শনিবার (২১ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
অন্যদিকে, লেবানন সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের সংঘাত অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে । দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় খিয়াম ও তাইবেহ এলাকায়ও হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।
শনিবার লেবাননের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলীয় কুরা এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করলে হিজবুল্লাহর হামলার মুখে পড়ে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ক্রমেই অবনতি হচ্ছে লেবাননের সামগ্রিক পরিস্থিতি। রাজধানী বৈরুতেও আজ দুটি শক্তিশালী হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা চলমান সংঘাতের তীব্রতা আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ডলারের বদলে চীনা মুদ্রা দিয়ে ইরানের তেল কিনছে ভারত
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিলের সুযোগে দীর্ঘ প্রায় নয় বছর পর ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানিতে সক্রিয় হয়েছে ভারত। তবে এই লেনদেনে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে চীনের মুদ্রা ইউয়ান ব্যবহার করছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি তেল শোধনাগারগুলো।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আইসিআইসিআই ব্যাংকের সাংহাই শাখার মাধ্যমে এই তেলের মূল্য পরিশোধ করা হচ্ছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরান ও রাশিয়ার তেল সমুদ্রপথে কেনাবেচার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ৩০ দিনের জন্য শিথিল করে। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন। সেই সুযোগেই ইরানি তেল আমদানিতে সক্রিয় হয় ভারত।
সূত্রগুলো জানায়, ভারতের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ‘ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন’ প্রায় নয় বছর পর প্রথমবারের মতো প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করেছে। এই চালানের মূল্য প্রায় ২০ কোটি ডলার।
একই সঙ্গে বেসরকারি জ্বালানি জায়ান্ট রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য ইরানি তেলবাহী চারটি জাহাজ ভারতীয় বন্দরে ভিড়তে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ ইতোমধ্যে তেল খালাস সম্পন্ন করেছে।
সূত্রের দাবি, এই দুই প্রতিষ্ঠানই আইসিআইসিআই ব্যাংকের মাধ্যমে ইউয়ানে ইরানের তেলের মূল্য পরিশোধ করেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি তেলের মূল্য পরিশোধ প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছিল। ফলে অনেক ক্রেতাই আগ্রহ হারিয়েছিল। কিন্তু সাময়িক ছাড়ের ফলে বিকল্প মুদ্রা ব্যবহারের পথ তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে দেওয়া এই ছাড়ের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। ফলে ইরানি তেল কেনাবেচায়নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। ফলে ইরানের তেল কেনায় এই ছাড় আজই শেষ হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ না তোলা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে হরমুজ প্রণালি: আইআরজিসি
বিজেপি জিতলে গরুর মাংস খাওয়া চলবে না: মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনি মাঠে গরুর মাংস খাওয়া বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
কোচবিহারের এক নির্বাচনি জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানান, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে গরুর মাংস খাওয়া ও গরু পাচার—উভয়ই কঠোর হস্তে বন্ধ করা হবে। তার এই মন্তব্যের পর রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
নির্বাচনি জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে আর যাই হোক, গরুর মাংস খাওয়া চলবে না। অনেকেই মনে করছেন, মেরূকরণের রাজনীতিকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতেই গরুর মাংসকে হাতিয়ার করছে গেরুয়া শিবির।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ‘নিরামিষাশী’ দলের তকমা পাওয়া বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্য সংস্কৃতিতে হস্তক্ষেপ করা হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে দলটির নেতারা বিভিন্ন সময় সতর্কবার্তাও দিয়েছেন।
হিমন্ত শর্মা অবশ্য দাবি করেন, তৃণমূল এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আসামে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকলেও সাধারণভাবে মাছ-মাংস খাওয়ার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে গরুকে পবিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাই বাংলার ক্ষমতায় পরিবর্তন এলে গরুর মাংস খাওয়া ও গরু পাচার দুইই কঠোর
মার্কিন অবরোধেও অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে সক্ষম ইরান
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যেও অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হবে বলে দাবি করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফোয়াদ ইজাদি।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারের মন্তব্যের জবাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থনীতিকে চাপ দিয়ে দমিয়ে ফেলছে—এমন দাবি বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
ইজাদি বলেন, ইরান প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার স্থলসীমান্ত দ্বারা বেষ্টিত, যা বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
তিনি আরও জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর সহায়তা—বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বের দেশগুলো—ইরানকে বিকল্প পথ দিচ্ছে, ফলে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি দেশটিকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।
ইজাদি দাবি করেন, নৌ অবরোধ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ হতে পারে, কারণ এটি বেসামরিক জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌ অবরোধ আরোপ করা হলে তা আন্তর্জাতিক আইনে বিতর্কিত হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৭৬ জন নিহত এবং ২৬ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছেন।
যুক্তরাজ্য থেকে ইসরায়েলে পাঠানো অস্ত্রের চালান জব্দ করলো বেলজিয়াম
যুক্তরাজ্য থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে পাঠানো সামরিক যন্ত্রাংশের দুটি চালান বেলজিয়ামে জব্দ করা হয়েছে। ইসরায়েলের জন্য সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী কোনো উড়োজাহাজ বেলজিয়ামের মাটি স্পর্শ করা বা দেশটির আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত মাসে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডিক্লাসিফাইড, বেলজিয়ান এনজিও ভ্রেইডেসাক্টি, আইরিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডিচ এবং প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্ট বেলজিয়ামের লিয়েজ বিমানবন্দর হয়ে ইসরায়েলে অস্ত্র যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ব্রাসেলস কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিল। এর পরেই গত ২৪ মার্চ লিয়েজ বিমানবন্দরে তল্লাশি চালিয়ে এই চালানগুলো জব্দ করা হয়, যা আগের দিন যুক্তরাজ্য থেকে রওয়ানা হয়েছিল।
বেলজিয়ামের এক বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী জব্দ করা মালামাল পরীক্ষা করে সেখানে অগ্নিনির্বাপক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সামরিক বিমানের যন্ত্রাংশ খুঁজে পেয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই মালামালগুলো যথাযথভাবে ঘোষণা দিয়ে পাঠানো হয়নি। বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় ইতিমধ্যে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে।
যদিও তদন্তের স্বার্থে জড়িত সংস্থাগুলোর নাম প্রকাশ করতে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তবে দক্ষিণ বেলজিয়ামের ওয়্যালুন আঞ্চলিক সরকার জানিয়েছে যে, এর মধ্যে অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান হলো আমেরিকান অ্যারোস্পেস কোম্পানি ‘মুগ’। এই কোম্পানির যুক্তরাজ্যের উলভারহ্যাম্পটনে অবস্থিত কারখানা থেকে এর আগেও গত ডিসেম্বরে বেলজিয়াম হয়ে ইসরায়েলে সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছিল।
তদন্তকারী সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই যন্ত্রাংশগুলো যুক্তরাজ্যের একটি ওপেন ইন্ডিভিজুয়াল এক্সপোর্ট লাইসেন্সের আওতায় রপ্তানি করা হচ্ছিল এবং এগুলোকে সামরিক সরঞ্জামের পরিবর্তে সাধারণ ‘বিমানের যন্ত্রাংশ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মুগ কোম্পানি থেকে অন্তত ১৭টি চালান একইভাবে যুক্তরাজ্য থেকে লিয়েজ বিমানবন্দর হয়ে ইসরায়েলের পথে গিয়েছে।
মুগ মূলত এম-৩৪৬ বিমানের অ্যাকচুয়েটর তৈরি করে, যা ইসরায়েলি পাইলটদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়। একটি তথ্য অধিকার আইনের আওতায় জানা গেছে, বেলজিয়াম হয়ে ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো নথিপত্র নেই।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ সরকার ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানির ৩৫০টি লাইসেন্সের মধ্যে ৩০টি স্থগিত করেছিল। গাজায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য বিভাগ জানিয়েছে, গাজায় সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হতে পারে এমন সব সরঞ্জামের লাইসেন্স স্থগিত রয়েছে, তবে এফ-৩৫ প্রোগ্রামের জন্য বিশেষ কিছু ছাড় রয়েছে।
অন্যদিকে ওয়্যালুন সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, জব্দ করা এই মালামাল পরিবহনের জন্য অবশ্যই ট্রানজিট লাইসেন্সের প্রয়োজন ছিল। বেলজিয়াম সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কোনো ট্রানজিট লাইসেন্সের আবেদন করা হয়নি; আবেদন করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হতো।
আজ আলোচনায় বসছেন ইসরায়েল ও লেবাননের নেতারা
ইসরায়েল ও লেবাননের নেতারা আজ বৃহস্পতিবার সরাসরি একে অপরের সঙ্গে কথা বলবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার রাতে এ কথা বলেছেন।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, ‘ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির অবকাশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। দুই নেতার মধ্যে অনেক দিন, প্রায় ৩৪ বছর কথা হয়নি। এটি আগামীকাল হবে।’
এই ঘোষণাটি এসেছে মঙ্গলবার স্টেট ডিপার্টমেন্টে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটারের মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের পর।
এই বৈঠকটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা, স্টেট ডিপার্টমেন্টের উপদেষ্টা মাইকেল নিডহ্যাম এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।
ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেছিলেন, তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লেবাননে হামলা কমাতে অনুরোধ করেছিলেন এবং জানানো হয়েছিল, ইসরায়েল তার অভিযান কমিয়ে আনবে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও, ২ মার্চ হিজবুল্লাহর সীমান্ত অতিক্রম করে চালানো হামলার পর ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মার্চ মাস থেকে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
অবরোধ অব্যাহত থাকলে লোহিত সাগর বন্ধের হুমকি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগরেও বাণিজ্যপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে এ কঠোর হুমকি দেয়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে এ বিবৃতিটি প্রচারিত হয়েছে। বিবিসির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত সোমবার থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে যাতায়াত করা জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকরের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এ হুমকি দিল ইরান।
ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলি আবদুল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের অবরোধ অব্যাহত রাখে এবং ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাংকারের জন্য নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে, তবে তা হবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মতোই।
তিনি আরও বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগরে কোনও ধরনের আমদানি বা রফতানি কার্যক্রম চলতে দেবে না।
এদিকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর অপরিশোধিত তেলের দাম আবার ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। জ্বালানি বাজার খোলা মাত্রই সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের মূল্য ৭.৫ শতাংশ বেড়ে ১০২.৩৭ ডলার দাঁড়ায়। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড অয়েলের মূল্য ৮.৩ শতাংশ বেড়ে ১০৪.৫৬ ডলারে পৌঁছে।
গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন, যা সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে। এ ছাড়া হরমুজে স্থাপন করা মাইন অপসারণে ন্যাটো সহায়তা করতে আগ্রহী বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তার এসব ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালিতে নজরদারি জোরদার করেছে ইরান। এবার লোহিত সাগরেও বাণিজ্যপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিল দেশটি।
বিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন রণবীর-দীপিকা?
ইরান যুদ্ধ ‘শেষের খুবই কাছাকাছি’ : ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ ‘শেষের খুবই কাছাকাছি’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মার্কিন বাহিনী ইরানে এখনও তার কাজ ‘শেষ করেনি’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় ইরান যুদ্ধ শেষের পথে। হ্যাঁ, মানে আমি দেখতে পাচ্ছি যে এই যুদ্ধ শেষের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।”
“ আমি আরও বলব, যদি এখনই আমি ইরান থেকে সবকিছু গুটিয়ে নেই— তাহলে দেশ পুনর্গঠন করতে তাদের ২০ বছর লাগবে…এবং আমরা এখনও (অভিজান) শেষ করিনি। আমরা দেখব কী হয়। আমার মনে হয় তারা খুব তীব্রভাবে একটি চুক্তিতে আসতে চাইছে।”
ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটিতে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
এই যুদ্ধবিরতেকে স্থায়ী যুদ্ধাবসানের দিকে নিয়ে যেতে গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকারি প্রতিনিধিরা।
বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর। কিন্তু ২২ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও কোনো চুক্তিস্বাক্ষর ছাড়াই শেষ হয়েছে ইসলামাবাদ বৈঠক।
তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বলেছেন, শিগগিরই ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে বসবেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা।
সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল
সমঝোতা হয়নি, আবার মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
আলজাজিরা জানায়, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক উত্তেজনা আর না বাড়াতে দুদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আলোচনায় অগ্রগতির অভাবে হতাশা প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়া। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। আলাপে তারা যুদ্ধবিরতির অবস্থাসহ সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন।
ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাজ্য ও আরও কয়েকটি দেশ হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণকারী নৌযান পাঠাবে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্টকম শনিবার জানায়, তারা মাইন অপসারণের প্রস্তুতি শুরু করেছে।
রয়টার্স লিখেছে, পাকিস্তান ত্যাগ করার আগে ইসলামাবাদে গতকাল সকালে সংবাদ সম্মেলন করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেখানে তিনি বলেন, ‘২১ ঘণ্টার আলোচনায় সমঝোতা হয়নি, এটি একটি দুঃসংবাদ। আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমি মনে করি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর। আমরা ফিরে যাচ্ছি। আমাদের রেডলাইনগুলো কী, তা আমরা খুব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি।’
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শনিবার শান্তিচুক্তির আলোচনা শুরু হয়। উচ্চ পর্যায়ের এ দীর্ঘ বৈঠকের পর উভয় পক্ষ লিখিত প্রস্তাব বিনিময় করে। পরে সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরান সরকার জানায়, ইসলামাবাদে দুই দেশের কারিগরি দল এখন বিস্তারিত প্রস্তাব ও ‘বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের খসড়া’ বিনিময় করেছে। কিছু বিষয়ে এখনও মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়েছে এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৮ মিনিটে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ‘এয়ারফোর্স টু’ উড়োজাহাজে চড়ে পাকিস্তান ছাড়েন। উড়োজাহাজে ওঠার সময় সিঁড়ির ওপর থেকে তিনি দায়িত্বরত পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হাত নেড়ে বিদায় জানান। পাকিস্তানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান– উভয় প্রতিনিধি দলই ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছে।
পাকিস্তান সফররত ইরানের প্রতিনিধি দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির ফার্স নিউজ এজেন্সি বলেছে, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু বিষয় দাবি করেছে, যা তারা যুদ্ধের মাধ্যমেও অর্জন করতে পারেনি। হরমুজ প্রণালি, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি ও আরও বেশ কিছু বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী শর্তগুলো তেহরান মেনে নেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও ফিল্ড মার্শালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পাকিস্তান অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো স্পষ্টভাবে ইরানকে জানিয়েছে। তবে ইরান তাতে রাজি হয়নি।
ভ্যান্স বলেন, ‘সহজ কথা হলো, আমাদের এমন একটি জোরালো প্রতিশ্রুতি দেখতে হবে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এমনকি দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম– এমন কোনো সরঞ্জাম বা প্রযুক্তিও তারা অর্জনের চেষ্টা করতে পারবে না।’
আলজাজিরা জানায়, ভ্যান্সের সংবাদ সম্মেলনের আগে একটি বিবৃতি দেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু দাবি অতিরিক্ত ও বেআইনি। ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে মেনে নেওয়ার ওপর আলোচনার সাফল্য নির্ভরশীল বলে তিনি জানান।
সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক
- ১ ডলারের বদলে চীনা মুদ্রা দিয়ে ইরানের তেল কিনছে ভারত
- ২ যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ না তোলা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে হরমুজ প্রণালি: আইআরজিসি
- ৩ বিজেপি জিতলে গরুর মাংস খাওয়া চলবে না: মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত
- ৪ মার্কিন অবরোধেও অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে সক্ষম ইরান
- ৫ যুক্তরাজ্য থেকে ইসরায়েলে পাঠানো অস্ত্রের চালান জব্দ করলো বেলজিয়াম