প্লট দুর্নীতি: শেখ হাসিনা-ববি-টিউলিপের মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি
ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে করা একটি মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আজ রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে এ দিন ধার্য করেন।
এই মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি আসামি করা হয়েছে তার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক এবং ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি পূর্বাচল প্রকল্পসংক্রান্ত আরেকটি দুর্নীতি মামলাতেও শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ১৭ জন সদস্যের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্যও ২ ফেব্রুয়ারি দিনটি ধার্য করেন আদালত। ওই মামলায় শেখ হাসিনার দুই ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকও আসামি।
গত বছর ২৭ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বরের মধ্যে চারটি পৃথক দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনাকে মোট ২৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। এসব মামলার একটিতে তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং বোন শেখ রেহানাকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
দুদক গত বছরের ১২ থেকে ১৪ জানুয়ারির মধ্যে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১–এ পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে ছয়টি পৃথক মামলা দায়ের করে।
দুদকের অভিযোগ, রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে শেখ হাসিনা নিজের এবং তার ছেলে জয়, পুতুল, বোন শেখ রেহানা, তার ছেলে ববি এবং মেয়ে আজমিনার জন্য পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের কূটনৈতিক অঞ্চলে অবৈধভাবে ১০ কাঠার ছয়টি প্লট অবৈধভাবে বরাদ্দ নিয়েছেন।
গত বছরের ২৫ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশন ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে ছয়টি অভিযোগপত্র দাখিল করে। ছয়টি মামলাতেই হাসিনাকে সাধারণ আসামি করা হয়েছে।
পরে ৩১ জুলাই হাসিনা, রেহানা, জয়, পুতুল, ববি, টিউলিপ এবং আজমিনাসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশু এবং হামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার হাম বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮০৪ শিশু। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১৬৫ শিশুর। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেরই সর্বোচ্চ ১৪৮টি শিশু রয়েছে।
এসময় সারা দেশে ১ হাজার ১৯৭টি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা যায়। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮০৪টি শিশু। এর মধ্যে ৫৬৩টি শিশুই ঢাকা বিভাগের।
এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৬৪৫টি শিশু গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিভাগের ৩০০ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা গেছে মোট ২৩ হাজার ৬০৬টি শিশুর মধ্যে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫ হাজার ৩২৬টি শিশু।
তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৪৪৩ জনের হাম শনাক্ত হয়। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ৩৯৬।
সৌদি আরব পৌঁছেছেন ৪ হাজার ৪৫৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা
সময়মতো হামের টিকা না দিয়ে বিগত দুই সরকার ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে: প্রধানমন্ত্রী
বিগত দুই সরকারের সময় ঠিকমতো হামের টিকা না দেওয়া ক্ষমাহীন অপরাধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলনে যোগ দিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত দুই সরকারের গাফিলতিতে হাম ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু শিশুর মৃত্যু হয়। সময়মতো হামের টিকা না দিয়ে ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে দুই সরকারই। বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় হামের প্রাদুর্ভাব থেকে বহু শিশুর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই সম্মেলন শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, এটি স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি।’
তারেক রহমান বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা থাকবে। এ লক্ষ্যে ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দেন কিউর’ নীতিতে এগিয়ে যাবো আমরা।’
স্বাস্থ্যখাতে ক্রমান্বয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা শক্তিশালী করা এবং নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেবে সরকার। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে পূর্ণাঙ্গ মাতৃত্ব ও শিশুস্বাস্থ্য সেবার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’
স্বাস্থ্যকর্মীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকার করে সরকার প্রধান বলেন, ‘এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। যার ৮০ শতাংশ নারী থাকবে।’
দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল স্বাস্থ্যতথ্য সংরক্ষণ ও সহজ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যাবে।’
এ সময় স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার নেতৃত্ব, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধে কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে কাঠামোগত ও জনবল ঘাটতি দূর করার পরিকল্পনা রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা জোরদার করা হবে।’
মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্যসেবা যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) মডেলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের চলাচলের জন্য গাড়ির তেল ও চালকের ব্যবস্থা করা হবে। তবে এজন্য আন্তর্জাতিক সমস্যা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছে সরকার।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান সরকার প্রধান।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। সম্মেলনে সারা দেশ থেকে আসা পাঁচ শতাধিক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অংশ নেন।
৪১৯ যাত্রী নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট জেদ্দায় পৌঁছেছে
চলতি বছরের হজ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট সৌদি আরবে পৌঁছেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত বিজি-৩০০১ ফ্লাইটটি সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২০ মিনিটে কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ অবতরণ করে। ফ্লাইটটিতে মোট ৪১৯ জন হজযাত্রী ছিলেন।
জেদ্দা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তাদের হাতে রিফ্রেশমেন্ট কিট তুলে দেওয়া হয়।
হজযাত্রীদের অভ্যর্থনা জানান সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ দেলওয়ার হোসেন এবং কাউন্সিলর (হজ) মোঃ কামরুল ইসলাম।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেদ্দায় বাংলাদেশ কনসুলেটের কনসাল জেনারেল মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, সহকারী মৌসুমি হজ অফিসার মোঃ রুহুল আমিন, জেদ্দা হজ টার্মিনালের হেড অব অপারেশন ইহাহিয়া রাদি এবং হাজিদের অভ্যর্থনায় নিয়োজিত সৌদি প্রতিষ্ঠান নুসুক মারহাবা-এর ম্যানেজার রায়েদ বাকশাউন।
এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ হজ ফ্লাইট-২০২৬ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো বাংলাদেশের ২০২৬ সালের হজযাত্রা কার্যক্রম।
হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
হজ ক্যাম্প ও হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম ফ্লাইটে হজ যাত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে হজ ক্যাম্প উদ্বোধন করেন। সেখানে তিনি হাজীদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
‘‘পরে প্রধানমন্ত্রী হজের প্রথম ফ্লাইট, অর্থাৎ বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে উঠেন এবং হাজীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দোয়া করেন, যেন তারা নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছান। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হজ ক্যাম্প ও হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করলেন।”
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হজযাত্রীদের দেশ ও জাতির জন্য দোয়া করতে অনুরোধ জানিয়েছেন।
“প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, হজের সময় যেসব সমস্যা হয়, তা নিরসনে সরকার কাজ করেছে। আগামীতে এই ব্যবস্থা আরো উন্নত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।”
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জ্বল হোসেন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ, ধর্ম সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ, বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী রাতে ১০টা ৫০ মিনিটে আশকোনা হজ ক্যাম্পে যান, সেখানে তিনি হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে সেখানে একটি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন করেন তিনি।
রাত ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের প্রথম ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা।
নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অসহায় ও ভূমিহীনদের উন্নয়ন শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা:
নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অসহায়, দরিদ্র ও ভূমিহীন মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ভূমি ও গৃহহীন হাউজিং লিমিটেডের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল নিউজ ক্লাবের আয়োজনে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ, তোপখানা সড়কে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা প্রেসক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন না হলে কখনোই একটি সুন্দর ও উন্নয়নশীল বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলা বছরের শুরুতেই সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং দৈনিক মাতৃ জগত পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক খান সেলিম রহমান। তিনি বলেন, “আমরা শুধু সাংবাদিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না, বরং দেশের দরিদ্র মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে চাই। সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জাতীয় দৈনিক ‘মানবাধিকার প্রতিদিন’ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ আবুল হাসান। তিনি বলেন, “ঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতির নেতৃত্বে আমরা সমাজের বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে কাজ করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন দক্ষিণাঞ্চল সাংবাদিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা ও দৈনিক খবরের সময় পত্রিকার প্রকাশক আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া। তিনি বলেন, “আমাদের সামান্য সহযোগিতাও সমাজের দরিদ্র মানুষের জন্য বড় উপকার বয়ে আনতে পারে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অল মিডিয়া প্রেসক্লাবের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনতার দলিল পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, “সরকারের পাশাপাশি যদি আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াই, তাহলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোঃ এ. মান্নান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সম্মিলিত প্রেসক্লাবের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহিনুর রহমান মিলু, বাংলাদেশ ন্যাশনাল নিউজ ক্লাবের যুগ্ম মহাসচিব কবি শাহ কামাল সবুজ, লালমোহন প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক আমজাদ হোসেন, নিরাপদ ঢাকা উন্নয়নের চেয়ারম্যান সাংবাদিক আতাউর রহমান, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম রাজু, দৈনিক সময়ের অর্থনীতি পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক সাংবাদিক জিল্লুর রহমান এবং সাংবাদিক রফিক মাহমুদ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল নিউজ ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রফিকুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ভূমিহীন ও গৃহহীন হাউজিং লিমিটেডের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজহার আলী।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অর্থ সম্পাদক মোঃ ইউনুছ আলী, প্রচার সম্পাদক মো: জুয়েল, মিসেস কহিনুর বেগম, মাহমুদ আক্তার, শারমিন আক্তার, মিসেস মমতাজ মহল, মোঃ সানাউল্লাহসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয় এবং উপস্থিত অতিথিদের মাঝে তাবারুক বিতরণ করা হয়।
২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় সরকার
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে শেষে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদসচিব ড. নাসিমুল গনি।
এ সময় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণ, দুটি নতুন জাতীয় দিবস ঘোষণা ও বিভিন্ন নীতিমালা সহজ করা নিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
তিনি জানান , সরকারি মালিকানাধীন জমি ব্যবহার করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন খাতে বড় আকারের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে বেসরকারি উদ্যোক্তারা অংশ নিতে পারবেন। এ লক্ষ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চূড়ান্ত অনুমোদনের পর কয়েক দিনের মধ্যেই এটি কাজ শুরু করবে। প্রয়োজনে নীতিমালা সংশোধন ও নতুন আইন প্রণয়ন করে দ্রুত কার্যক্রম চালু করা হবে।
নীতিমালা প্রসঙ্গে নাসিমুল গনি বলেন, ‘বিদ্যমান নীতিমালা সহজ করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারি জমি, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল-সংলগ্ন জায়গা ব্যবহার করে ছোট ও বড় আকারের বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’
তবে আগের কিছু সৌর প্রকল্প কাঙ্ক্ষিতভাবে কার্যকর না হওয়ায় নতুন করে নীতিমালা ও বাস্তবায়ন কাঠামো পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সচিব জানান, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৬ জুলাইকে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এটি ‘খ শ্রেণিভুক্ত’ দিবস হবে। ছুটি থাকবে না এবং প্রতিবছর উদ্যাপন করা হবে। এ ছাড়া ৭ নভেম্বরকে আগের মতোই জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ের জ্বালানি সংকট ও যানজট পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নাসিমুল গনি বলেন, ‘সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সরকার কাজ করছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে বাজারে অস্থিরতা ও ব্যাবসায়িক প্রবণতার কারণে জ্বালানি বিতরণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।’
সচিব জানান, বিদ্যুৎ খাতের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতকে আরো বেশি যুক্ত করা হবে এবং সরকারি সহায়তায় বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আলোচিত বিষয়গুলো নিয়ে গঠিত কমিটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে দ্রুতই কাজ শুরু করবে।’
৪ লাখ ৬৮ হাজার সরকারি পদ শূন্য: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি শূন্য পদ রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী। সরকারি দপ্তরের শূন্যপদ পূরণে পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় এমপি সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনবল সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি বিশেষ রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৬ মাসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ২ হাজার ৮৭৯টি, ১ বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৯টি এবং ৫ বছরের মধ্যে ৩ হাজার ১১০টি শূন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে মোট পাঁচ লাখ শূন্যপদে জনবল নিয়োগই সরকারের লক্ষ্য। এ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে তাদের শূন্যপদ ও নিয়োগের সর্বশেষ তথ্য পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
‘স্ট্যাটিসটিক্স অব পাবলিক সার্ভেন্টস ২০২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে সরকারি চাকরিতে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম থেকে নবম গ্রেডে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেডে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি পদ খালি রয়েছে। অন্যান্য গ্রেডেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে।
এই বিপুল শূন্যপদ পূরণের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
‘ই-হেলথ কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ, শুরুতে পাবেন যারা’
সরকার জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় এই কার্ড দেওয়া হবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘ই-হেলথ কার্ড’ বিষয়ক একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি জানান, খুলনা, এই ই-হেলথ কার্ড ইলেকট্রনিক রোগী ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদীর জনসাধারণকে ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।
দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইংরেজি বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না? হলে, কবে নাগাদ তা করা হবে? চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের ইশতেহারে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাদানের মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ - আইন-আদালত
- ১ নিম্ন আদালতে বিচারাধীন মামলা ৪০ লাখের বেশি: সংসদে আইনমন্ত্রী
- ২ কারাগার থেকে বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে রিট ব্যারিস্টার সুমনের
- ৩ টিকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আবেদন
- ৪ জামিন পেলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী
- ৫ হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই, ট্রাইব্যুনালে আবু সাঈদের ভাই