অন্যদিকে, ‘লাইভ টিভি’ অনুমোদন পেয়েছে গত ১৪ জুলাই। আরিফুর রহমান নামের আরেকজন এই টিভির মালিকানায় রয়েছেন। তার প্রতিষ্ঠানের নাম ‘মিনার্ভা মিডিয়া লিমিটেড’। ঠিকানা ১৪৩ নম্বর সড়ক, গুলশান-১।
Magic Show!! SU Sikder || Magic Bangla TV
অজি কিশোর-কিশোরীদের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম বন্ধ শুরু করেছে মেটা
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডস থেকে অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে মেটা। দেশটিতে প্রথমবারের মতো অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার নতুন আইন কার্যকর হওয়ার আগেই এ পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন এই প্রযুক্তি জায়ান্ট।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে টিকটক ও ইউটিউবসহ প্রধান অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছে। এ আইন মানতে ব্যর্থ হলে কোম্পানিগুলোকে চার কোটি ৯৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (তিন কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪০০ কোটি টাকা) জরিমানা দিতে হবে।
গত মাসে মেটা জানিয়েছিল, ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী যেসব ব্যবহারকারী ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে সক্রিয়, তাদের ৪ ডিসেম্বর থেকে অ্যাকাউন্ট বন্ধের নোটিশ পাঠানো হবে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ফেসবুকের প্রায় দেড় লাখ ও ইনস্টাগ্রামের প্রায় সাড়ে তিন লাখ অ্যাকাউন্ট এ প্রক্রিয়ার আওতায় পড়বে। থ্রেডস ব্যবহার করতে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন হওয়ায় সেটিও প্রভাবিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মেটার একজন মুখপাত্র বলেন, “আইন মেনে চলা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বহুস্তরীয় প্রক্রিয়া হবে।” তিনি আরও জানান, যদিও মেটা আইন মানতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবু আরও ‘কার্যকর, মানসম্মত ও গোপনীয়তা-সুরক্ষিত পদ্ধতি’ প্রয়োজন।
মেটার প্রস্তাব, অ্যাপ ডাউনলোড করার সময় বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব অ্যাপ স্টোরগুলোর হওয়া উচিত এবং ১৬ বছরের নিচে হলে অভিভাবকের অনুমতি নিতে হবে। এতে কিশোর-কিশোরীদের বিভিন্ন অ্যাপে বারবার বয়স যাচাই করতে হবে না।
গত মাসে মেটা জানায়, যেসব ব্যবহারকারীকে ১৬ বছরের নিচে হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, তারা অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার আগে নিজেদের পোস্ট, ছবি, ভিডিও ও বার্তা ডাউনলোড করে রাখতে পারবে। যদি কেউ মনে করে তাকে ভুলভাবে অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাহলে ‘ভিডিও সেলফি’ জমা দিয়ে বয়স যাচাইয়ের আবেদন করতে পারবে। চাইলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বা সরকারি পরিচয়পত্রও দেওয়া যাবে।
মেটার তিন প্ল্যাটফর্ম ছাড়াও ইউটিউব, এক্স, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, রেডিট, কিক ও টুইচও অস্ট্রেলিয়া সরকারের নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে।
অস্ট্রেলীয় সরকারের দাবি, শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতেই এ আইন। তবে সমালোচকেরা বলছেন, এতে অনেক কিশোর–কিশোরী সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে এবং আরও নিয়ন্ত্রণহীন প্ল্যাটফর্মে ঝুঁকে যেতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বুধবার বলেন, নিষেধাজ্ঞার প্রথম কয়েক দিন কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও লক্ষ্য হচ্ছে ‘জেনারেশন আলফা’ বা ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের রক্ষা করা। তার ভাষায়, “একটি আইনই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এমন অ্যালগরিদমিক ফাঁদ থেকে বাঁচাতে পারে, যেগুলোকে প্রযুক্তির উদ্ভাবকেরাই আচরণগত কোকেন বলে তুলনা করেন।”
আনিকা আরও বলেন, শিশুরা স্মার্টফোন পাওয়ার মুহূর্ত থেকেই যেন ‘ডোপামিননির্ভর’ এক ধারাবাহিকতার মধ্যে পড়ে যায়।
প্রথমে নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পেয়েছিল ইউটিউব। পরে তারাও এর অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে এ আইনের সমালোচনা করে ইউটিউব বলেছে, শিশুদের অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করলে প্ল্যাটফর্মটি ‘বরং কম নিরাপদ’ হয়ে উঠবে।
বছরের শুরুর দিকে অস্ট্রেলীয় সরকারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় শিশুদের ৯৬ শতাংশই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে। তাদের সাতজনের মধ্যে ছয়জনই নারীবিদ্বেষী ও সহিংস কনটেন্টসহ খাদ্যাভ্যাসজনিত রোগ বা আত্মহত্যা-প্ররোচনামূলক কনটেন্টের মতো ক্ষতিকর বিষয়বস্তুর মুখোমুখি হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার এ কঠোর পদক্ষেপ কার্যকর হয় কি না, তা নিয়ে বিশ্ব জুড়ে সামাজিক মাধ্যমের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। তারা মনে করছে, অস্ট্রেলিয়া সরকারের এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে অন্য আরও দেশ তাদের অনুসরণ করতে পারে।
এদিকে মালয়েশিয়াও আগামী বছর থেকে ১৬ বছরের কমবয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে। নিউজিল্যান্ডও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আনতে চলেছে।
খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চাইলেন রাষ্ট্রপতি
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তার রোগমুক্তি কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) এক বার্তায় রাষ্ট্রপতি এ উদ্বেগ জানান। রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব গণমাধ্যমে বার্তাটি পাঠিয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি নিয়মিতভাবে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখছেন ও প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান।
প্রধান উপদেষ্টাও তিন মেয়াদের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। এ ছাড়া তার নির্দেশে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিশেষ সহকারী মনির হায়দার খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান।
শুক্রবার রাতে খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসও। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নয়। আমরা দূরত্ব বজায় রেখে তার (খালেদা জিয়া) সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি। তিনি আমাদের চিনতে পেরেছেন। আমরা সালাম দিয়েছি, তিনি উত্তর দিয়েছেন।
নানা রোগে আক্রান্ত প্রায় ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া ২৩ নভেম্বর ফুসফুসে সংক্রমণ এবং হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে আবারও হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সিসিইউতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ধারাবাহিক নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে।
মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপটে কমছে না ইন্টারনেটের দাম
অতিমাত্রায় দালাল ও কমিশনখোরদের নেটওয়ার্কের (মধ্যস্বত্বভোগী) দাপট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় ইন্টারনেটের দাম প্রত্যাশা অনুযায়ী কমানো যাচ্ছে না। শনিবার সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিভাগের এক বার্তায় এ কথা বলা হয় ৷
ইন্টারনেট পরিষেবা বিস্তৃতিতে সরকারকে এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে হচ্ছে বলে জানায় এ মন্ত্রণালয়।
সরকার দাবি করেছে, পুরানো লাইসেন্স নীতি অ্যাকসেস টু ইন্টারনেট, এক্সেস টু ডিভাইস এবং এক্সেস টু ফাইবার- এই তিনের কোনোটাই নিশ্চিত করতে পারেনি। তাই বাংলাদেশের ঘরে ঘরে, ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ফাইবার পৌঁছেনি, মোবাইল টাওয়ারে ফাইবার (২২ শতাংশ মাত্র) সেভাবে পৌঁছেনি। যেহেতু ফাইবার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ হয়নি, তাই ডেটা ব্যবহারের ভলিউম ভারতের তুলনায় পার ক্যাপিটা হিসেবে ৫০ ভাগের এক ভাগেই রয়ে গেছে।
এক দিকে ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) এবং ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জের আবেদন শেষ হয়ে গেছে। অর্থাৎ, নতুন কোনো কোম্পানি এই লাইসেন্স পেতে পারবে না এবং এই লাইসেন্সে ব্যবহৃত সুইচ ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির বয়সও শেষের দিকে। যন্ত্রপাতিগুলো পুরনো হয়ে গেছে৷ তাই এগুলো খুব তাড়াতাড়ি প্রতিস্থাপন করবে আইসিটি বিভাগ।
সরকারের বার্তায় বলা হয়, পুরানো লাইসেন্স পলিসিতে টেলিযোগাযোগ এখনও কানেকশনে থেকে গেছে। এই ইন্ডাস্ট্রিকে কানেকশন থেকে ডিজিটাল সার্ভিস বেইজে রূপান্তর করতে হবে। এখনো টেলিকমের প্রোডাক্ট মোবাইল ফোনের বান্ডেল এবং আইএসপির প্যাকেজনির্ভর। কিন্তু এখানে এডটেক, হেলথটেক, এগ্রিটেক, ফিনটেক, লজিস্টিক্স টেকসহ অপরাপর স্টার্টআপভিত্তিক ডিজিটাল সেবা পণ্য আসেনি।
নিরাপদ ইন্টারনেট কেন নিশ্চিত করা যায়নি তার ব্যাখ্যাও আছে এই বার্তায়। এতে বলা হয়, আইএসপি কিংবা মোবাইল ইন্টারনেট, এনটিটিএন কিংবা আইআইজি কোথাও কোয়ালিটি অফ সার্ভিস (QoS) ভিত্তিক ইন্টারনেটসেবা এবং ডিজিটালসেবার সূচনা হয়নি। বাংলাদেশে এখনও নিরাপদ ইন্টারনেটের ধারণা আসেনি। অধিকাংশ আইএসপি এবং মোবাইল ফোন অপারেটরের ইন্টারনেটসেবা অনিরাপদ। এখানে কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জাম বা সফটওয়্যার- যেমন হার্ডওয়্যার সিকিউরিটি মডিউল, প্যাম, ফায়ারওয়াল- কিছুই নেই। তাই ইন্টারনেট ব্যবসা এগিয়েছে অনিরাপদভাবে।
সরকার বলছে, ডিজিটাল ইকোনোমি উন্নয়নের জন্য ২৬ ধরনের জটিল লাইসেন্স বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সবকিছুর জন্য একক লাইসেন্স দেওয়া হয়নি, কারণ দেশীয় বাস্তবতা এবং মনোপলি বিষয়গুলো মাথায় রাখা হয়েছে। তবুও নতুন টেলিকম লাইসেন্সের চার স্তর খাতের প্রতিযোগিতা বাড়াবে এবং প্রতিটি স্তরের কোম্পানির কাজের সুযোগ আরও বেড়ে যাবে।
ফেসবুকে বিকৃত ছবি, ঢাবি শিক্ষক মোনামীর মামলা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিকৃত ছবির পাশাপাশি ‘অশালীন’ মন্তব্য ও ‘মানহানিকর’ কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে মামলা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আনিম ভূঁইয়া মোনামী।
মামলায় সাংবাদিক মুজতবা খন্দকার, লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদ এবং নিরব হোসাইন ও আশফাক হোসাইন ইভানের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছেন ভুক্তভোগী ঢাবি শিক্ষক মোনামী।
সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালিদ মুনসুর বলেন, ঢাবি শিক্ষক মোনামী আমাদের থানায় মামলা করেছেন। তার অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সাংবাদিক ও অ্যাকটিভিস্ট মুজতবা খন্দকার তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মোনামীর ছবি অশালীনভাবে এডিট করে পোস্ট করেন। সেখানে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইনি, পোশাকের স্বাধীনতায় পরেছে বিকিনি’। অন্যদিকে লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট মহিউদ্দিন মোহাম্মদ তার ব্যক্তিগত আইডিতে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে মোনামীকে ‘যৌন-কল্পনার রসদ’ আখ্যা দিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।
এজাহার অনুযায়ী, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী নিরব হোসাইন ডেইলি ক্যাম্পাসের একটি পোস্টের কমেন্টে ঢাবি শিক্ষক মোনামীকে নিয়ে ‘অশালীন’ মন্তব্য করেন। এ ছাড়া আশফাক হোসাইন ইভান নিজের ফেসবুক আইডি থেকে মোনামীর এডিট করা অশালীন ছবি পোস্ট করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, এই চারজন ছাড়াও অজ্ঞাত আরও অনেক ব্যক্তি ফেসবুকে মোনামীর ছবি বারবার এডিট করে অশালীনভাবে পোস্ট করছে এবং তাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছে। এতে তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এসব ফেসবুক পোস্ট ও কমেন্টের আইডি ও স্ক্রিনশট এজাহারে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মোনামী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমানজনক মন্তব্য করা হচ্ছে। এতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সাগর-রুনি হত্যা: তদন্তে শেষবারের মতো সময় দিলেন হাইকোর্ট
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলা তদন্তে আরও ৬ মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে এটিকে ‘শেষবারের মতো’ বর্ধিত সময় বলে উল্লেখ করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুশফিকুর রহিম প্রমুখ। অন্যদিকে রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ ও শিশির মনির।
এর আগে, গত ২৩ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে বিভিন্ন এজেন্সির অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন চার সদস্যের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়। গত ২২ এপ্রিল টাস্কফোর্সকে ৬ মাস সময় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন সাগর ও রুনি। ঘটনার সময় বাসায় ছিল তাদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরোয়ার মেঘ। সাগর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙা আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন রুনির ভাই নওশের আলম।
মামলার আসামিরা হলেন– রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাড়ির দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খান। তাদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ জামিনে রয়েছে। বাকিরা কারাগারে আটক।
উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত ১২১ বারের মতো পিছিয়েছে সাগর-রুনির হত্যা মামলার প্রতিবেদন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী তারিখ আগামী ৩০ নভেম্বর।
প্রধান উপদেষ্টাকে পাঠানো ছয় মানবাধিকার সংগঠনের চিঠিতে যা আছে
বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও করণীয় বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে যৌথ চিঠি লিখেছে ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা; যেগুলোর মধ্যে রয়েছে সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, ফোরটিফাই রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটস ও টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট।
গত ১৯ অক্টোবর হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) ওয়েবসাইটে ওই চিঠিটি প্রকাশ করা হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় সাইডলাইনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে সাক্ষাতের পরিপ্রেক্ষিতে এই চিঠি পাঠানো হয়, যার মধ্যে সরকারের জন্য অস্বস্তিকর কিছু বিষয় রয়েছে।
রাজনীতি ডটকমের পাঠকদের জন্য চিঠিটির অনুবাদ—
প্রিয় প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস,
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আপনার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মৌলিক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার, আইন সংস্কার শুরু করা এবং গুমসহ অন্যান্য গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।
২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে সীমিত সময়ের এই পরিসরে আমরা আপনাকে অনুরোধ করছি মানবাধিকার সুরক্ষাকে আরও প্রসারিত করতে এবং এমন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে, যা স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবে এবং ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক অধোগতি রোধ করবে।
আমরা উদ্বিগ্ন যে নিরাপত্তা খাত এখনও মূলত সংস্কারবিহীন রয়ে গেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য এখনও দায়মুক্তি ভোগ করছে ও জবাবদিহির প্রচেষ্টায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে না। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারে সরকারকে আরও পদক্ষেপ নিতে হবে, তবে একইসঙ্গে এখনও চলমান নির্বিচার গ্রেফতার ও আটক কার্যক্রম—বিশেষত আওয়ামী লীগ সদস্যদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রমাণবিহীন মামলা—অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে আপনি বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনই সংকটের একমাত্র সমাধান, এবং “তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে” নতুন আগত শরণার্থীদের “প্রত্যাবাসনের সুযোগ দিতে হবে।” রোহিঙ্গারা সবসময় তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে আগত ১ লাখ ৫০ হাজারসহ সব রোহিঙ্গার জন্য মিয়ানমারের কোনো অংশই এখনও নিরাপদ নয়, যা স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনকে অসম্ভব করে তুলেছে।
আমরা আপনাকে অনুরোধ করছি নিচের পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে, যাতে বাংলাদেশের সবার অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত হয়:
গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করুন
জুলাই বিপ্লব ও গত পনেরো বছরে সংঘটিত গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং নির্যাতনের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনুন।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ইতোমধ্যে র্যাব ও ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই)-এর বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিযোগ ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে— যা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সামরিক বাহিনীকে এসব বিচার কার্যক্রমে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং আইসিটির এখতিয়ার মেনে চলতে হবে।
আমরা অনুরোধ করছি, আইসিটি যেন আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং সব রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক বিবেচনা নির্বিশেষে ন্যায্য বিচার সম্পন্ন করতে পারে। আইসিটির অধীন থাকা মামলাসহ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে সরকারকে অবিলম্বে স্থগিতাদেশ ঘোষণা করা উচিত।
নিরাপত্তা খাত সংস্কার করুন
্যাব বিলুপ্ত করা এবং ডিজিএফআই-এর ক্ষমতা সীমিত করা অপরিহার্য। র্যাবের দীর্ঘদিনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস প্রতিষ্ঠানটিকে সংস্কারের বাইরে নিয়ে গেছে। সামরিক সদস্যদের বেসামরিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা থেকে সরিয়ে নিন। ডিজিএফআই-এর ক্ষমতা ও ভূমিকা শুধুমাত্র সামরিক গোয়েন্দা কার্যক্রমে সীমিত করতে হবে এবং একটি স্পষ্ট আইনগত কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।
গুম অপরাধ হিসেবে দণ্ডনীয় করুন এবং অনুসন্ধান কমিশনের কার্যক্রম নিশ্চিত করুন
আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী “গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ”-এর খসড়া অবিলম্বে অনুমোদন করুন, তবে মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত ধারা বাদ দেওয়া উচিত। “কমিশন অব ইনকোয়ারি অন এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস” গঠন করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর পূর্ণ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংস্কার করুন
প্যারিস নীতিমালা অনুযায়ী কমিশনের স্বাধীনতা, অর্থায়ন এবং সদস্য নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কার করতে হবে। কমিশনকে নিরাপত্তা বাহিনীসহ রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের পূর্ণ ক্ষমতা দিতে হবে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপকারী আইনসমূহ বাতিল বা সংশোধন করুন
সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট এবং মানহানির ফৌজদারি বিধানসমূহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডে সংশোধন করতে হবে। ২০২৩ সালের আইন বাতিলের পর প্রণীত সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫ এখনো অস্পষ্ট ও ব্যাপক ক্ষমতা দেয়— যা অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করে।
তথ্য সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার আইন সংশোধন করুন
“ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা অধ্যাদেশ” ও “জাতীয় তথ্য ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ” খসড়ায় রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত ছাড় বা ক্ষমতা সীমিত করতে হবে। এসব খসড়াকে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সংশোধন এবং নাগরিক সমাজের পরামর্শে চূড়ান্ত করতে হবে।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করুন
রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সাংবাদিকদের গ্রেফতার, হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ প্রমাণবিহীন বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি, সেগুলো বাতিল করতে হবে। মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের আন্তর্জাতিক মানসম্মত সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।
নির্বিচার গ্রেফতার ও রাজনৈতিক মামলা বাতিল করুন
আগস্ট ২০২৪-এর আগে ও পরে দায়েরকৃত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা—যে দল বা মতেরই হোক—বাতিল করতে হবে। বিশেষত আওয়ামী লীগ সদস্য ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রমাণবিহীন অভিযোগ দ্রুত খারিজ করতে হবে।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করুন
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে আরোপিত দলীয় নিষেধাজ্ঞা মতপ্রকাশ, সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করছে। জাতিসংঘের ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, সরকার যেন “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এমন রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ থেকে বিরত থাকে।”
নাগরিক সমাজ ও এনজিওদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করুন
এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো এবং বিদেশি অনুদান (স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম) নিয়ন্ত্রণ আইন সংস্কার করতে হবে। নাগরিক সমাজের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ, আন্তর্জাতিক তহবিলে প্রবেশাধিকার, ও প্রশাসনিক বাধা কমাতে হবে।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন থেকে রক্ষা করুন
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পূর্বে কোনো জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন করা যাবে না। ক্যাম্পে চলাচল, জীবিকা ও শিক্ষার সুযোগে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করতে হবে। সাহায্য হ্রাসের প্রেক্ষাপটে এসব সুযোগ রোহিঙ্গাদের স্বনির্ভরতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ।
আইসিসি’র তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করুন
বাংলাদেশ-মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আইসিসির চলমান তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং আদালতের চাহিদা অনুযায়ী অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও হস্তান্তর নিশ্চিত করতে হবে।
নেক্সট টিভি’ ও ‘লাইভ টিভি’ নামে নতুন চ্যানেলের অনুমোদন দিল সরকার
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার যে প্রক্রিয়ায় বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের (টিভি) লাইসেন্স দিত, সেই একই প্রক্রিয়ায় নতুন দুটি টিভির অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। চ্যানেল দুটির নাম ‘নেক্সট টিভি’ ও ‘লাইভ টিভি’।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুন নেক্সট টিভির অনুমোদন দেওয়া হয়। এটি ‘৩৬ মিডিয়া লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার করাতিটোলা লেন। ‘৩৬ মিডিয়া লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. আরিফুর রহমান তুহিন।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এই টিভি চ্যানেলের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন বগুড়ার বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম হাফিজুর রহমানের ছেলে এ কে এম গোলাম হাসনাইন। তিনি সৌদি আরব প্রবাসী এবং সৌদি আরব (পূর্বাঞ্চল) বিএনপির সভাপতি।
বর্তমানে দেশে অনুমোদিত ৫০টি বেসরকারি টিভি চ্যানেল রয়েছে। এর মধ্যে পূর্ণ সম্প্রচারে রয়েছে মাত্র ৩৬ প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া ১৪টি সম্প্রচারের অপেক্ষায় আছে।
অনুমোদিত আইপি টিভি (ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিভিশন) রয়েছে ১৫। টিভি চ্যানেলের আরও কিছু আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আবেদনের সঙ্গে বেশ কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হয়। এগুলো হলো জাতীয় পরিচয়পত্র, আর্টিকেল অব মেমোরেন্ডাম (প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্র), সার্টিফিকেট অব ইনকরপোরেশন, ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর সনদ, ব্যাংক সলভেন্সি সনদ, প্রকল্প প্রস্তাব এবং চ্যানেল চালানোর সামর্থ্য আছে মর্মে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা।
আবেদন করার পর তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। বেসরকারি টিভি লাইসেন্স পাওয়ার পর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছ থেকে ‘ফ্রিকোয়েন্সি ক্লিয়ারেন্স’ নিতে হয়। মূলত সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের ‘সবুজ সংকেত’ থাকলেই তরঙ্গ পাওয়া যায়।
আজ ম্যাজিক বাংলা টিভির চেয়ারম্যান মো ছফির উল্লাহ শিকদার এর শুভ জন্মদিন
বাংলাদেশ যাদুকর পরিষদের সভাপতি মো: ছফির উল্লাহ শিকদার সাংস্কৃতিক মনা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাদু পদর্শন করে খ্যাতি কুড়িয়েছেন। আমেরিকা, জাপান, চীন, কোরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশগুলোতে জাদু প্রদর্শন করে নামি-দামি পদক লাভ করেছেন। তার ভাই মরহুম আব্বাস উল্লাহ শিকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা। মহাখালী থেকে বনানী যেতে চেয়ারম্যান বাড়ি স্টপেজ। সেই চেয়ারম্যান বাড়িটাই উনার বাবার। দেশে ফিরে মু*ক্তি*যো*দ্ধা হিসেবে কোন সুবিধা নেবার চেষ্টাও করেননি আব্বাস উল্ল্যাহ শিকদার। অভিনয়ের নে*শা ছিলো। জড়িয়ে পড়েন সাংস্কৃতিক অংগনের সঙ্গে। অভিনয় করতেন যে কোন ছোট চরিত্রে। এলাকার নাটক মঞ্চায়নে সহযোগিতা করতেন। চলচ্চিত্র নির্মাণেও তার সহযোগিতা পেয়েছে অনেকেই। ১৯৮০ দশকে মতিউর রহমান পানুর সঙ্গে 'নি*র্যা*ত*ন' ছবিটি প্রযোজনার মাধ্যমে সরাসরি জড়িয়ে পড়েন চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে। বাংলাদেশ এবং পশ্চিম বংগের সবচেয়ে ব্যাবসা সফল "বেদের মেয়ে জোসনা" ছবির অন্যতম প্রযোজক তিনি। বাংলাদেশে বহুল আলোচিত সিনেমাস্কোপ "মনের মাঝে তুমি" ছবিটিও তাঁর প্রযোজনার। চলচ্চিত্র শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তিনি ছিলেন সবার প্রিয় আব্বাস ভাই। তিনি ছিলেন আনন্দ টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। দীর্ঘদিন রোগাক্রান্ত থাকার পর ২০২০ সালের ১৮ জানুয়ারি প্রয়াত হন আব্বাস উল্ল্যাহ শিকদার। তাঁর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রার্থনা করি, মহান আল্লাহ যেন তাঁর সকল গুনাহ মাফ করেন এবং বেহেশত নসীব করেন।
সাইবার স্পেসে জুয়ার শাস্তি ২ বছরের কারাদণ্ড
অনলাইন জুয়া, জালিয়াতি ও প্রতারণার ক্ষেত্রে অপরাধী ব্যক্তি দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। সদ্য জারি হওয়া সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ এ এই শাস্তির বিধান রয়েছে।
আজ এক সরকারি তথ্যবিবরণীতে একথা জানানো হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি বা অন্য কোন সংস্থা সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার নিমিত্ত কোন পোর্টাল বা অ্যাপস্ বা ডিভাইস তৈরি করেন বা পরিচালনা করেন বা জুয়া খেলায় অংশগ্রহণ করেন বা খেলায় সহায়তা বা উৎসাহ প্রদান করেন বা উৎসাহ প্রদানের জন্য বিজ্ঞাপনে, অনলাইনে, ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অংশগ্রহণ এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রচার বা বিজ্ঞাপিত করেন তাহলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ এর ২০ ধারা অনুযায়ী বর্ণিত অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে অনধিক দুই বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
এছাড়া, অনলাইন জুয়া বন্ধে প্রয়োজনীয় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে।
তথ্যবিবরণীতে বলা হয়, জুয়া খেলায় সহায়তা বা উৎসাহ প্রদান বা উৎসাহ প্রদানের জন্য বিজ্ঞাপনে অংশগ্রহণ এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রচার বা বিজ্ঞাপিত করা থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। অপরাধ দমন ও সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অনলাইন জুয়ার সব গেটওয়ে, অ্যাপ্লিকেশন, লিংক, ওয়েবসাইট এবং বিজ্ঞাপন জনস্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ, ব্লক বা অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট সব ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অবহিত করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও চীন হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাবে : প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীন তাদের ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে একসাথে এগিয়ে যাবে, যা উভয় দেশ ও বিশ্বের জনগণের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখ বয়ে আনবে।
গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বুধবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে চীনা দূতাবাস আয়োজিত এক জমকালো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এক ভিডিও বার্তায় এই মন্তব্য করেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭৬তম বার্ষিকী এবং বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকীতে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রতি চীনের দীর্ঘস্থায়ী আস্থা, সহায়তা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং জনগণের সেবার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে অর্জিত উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি এর অনুপ্রেরণা ও অবদানের প্রশংসা করেন।
চীনকে বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের প্রতি চীনের দীর্ঘস্থায়ী আস্থা, সহায়তা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন অনুষ্ঠানে বলেন, ২০২৫ সাল কেবল গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নয়, বরং জাতিসংঘের ৮০তম বার্ষিকীও।
তিনি আট দশক আগে বিশ্ব শান্তি রক্ষায় চীনের অপরিসীম ত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শক্তিশালী রেকর্ডসহ একটি প্রধান শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার কথা তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, “চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শক্তিশালী নেতৃত্বে, চীনা জনগণ নিরঙ্কুশ দারিদ্র্য দূরীকরণের অলৌকিক সাফল্য অর্জন করেছে। চীন সর্বদা বিশ্বে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির জন্য একটি শক্তি হিসেবে থাকবে।”
রাষ্ট্রদূত ইয়াও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের গ্লোবাল গভর্নেন্স ইনিশিয়েটিভের উপর জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে তিনি ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমর্থন পেয়েছেন, যা বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার একটি নজির।
ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে তিনি বলেন, দুই দেশ শ্রদ্ধা, আন্তরিকতা, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও সমান সমান সহযোগিতার দ্বারা পরিচালিত সুসম্পর্কেও ভিত্তিতে সর্বদা "ভালো প্রতিবেশী, আন্তরিক বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হয়ে থাকবে।"
তিনি আরও বলেন, "চীন বাংলাদেশকে তার আধুনিকীকরণের যাত্রায় সহায়তা ও সমর্থন অব্যাহত রাখতে এবং ভবিষ্যতে একটি চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায় গঠনে একটি নতুন অধ্যায় লিখতে প্রস্তুত।"
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের উন্নয়ন অবকাঠামো, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবাতে চীনের অবদানের প্রশংসা করেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে, এই ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশী জনগণের জন্য বাস্তব সুবিধা প্রদান করেছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, দুটি দেশ জনগণের মধ্যে গভীর বন্ধন গড়ে তুলেছে। চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, প্রধান রাজনৈতিক দলের জ্যেষ্ঠ নেতা, বিদেশী কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, চীনা সম্প্রদায়ের সদস্য, শিক্ষাবিদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং থিঙ্ক ট্যাঙ্ক বিশেষজ্ঞ সহ ৬০০ জনেরও বেশি অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
সন্ধ্যায় ইউনান গোল্ডেন অ্যান্ড সিলভার বার্ড আর্ট ট্রুপ এবং কোয়ানঝো আর্ট ট্রুপের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, জাতিগত নৃত্য, অ্যাক্রোব্যাটিক্স এবং ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। দর্শকদের কাছে তা খুবই উপভোগ্য ছিল।
অতিথিরা চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন এবং জাপানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চীনা জনগণের প্রতিরোধ যুদ্ধ এবং বিশ্ব ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুদ্ধে বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী উদযাপনের প্রদর্শনীও পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানস্থলে এন্টারপ্রাইজ বুথ, পর্যটন প্রচারণা এবং সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা কর্নারও ছিল, যা দর্শকদেরও ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল।