মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপটে কমছে না ইন্টারনেটের দাম
অতিমাত্রায় দালাল ও কমিশনখোরদের নেটওয়ার্কের (মধ্যস্বত্বভোগী) দাপট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় ইন্টারনেটের দাম প্রত্যাশা অনুযায়ী কমানো যাচ্ছে না। শনিবার সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিভাগের এক বার্তায় এ কথা বলা হয় ৷
ইন্টারনেট পরিষেবা বিস্তৃতিতে সরকারকে এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে হচ্ছে বলে জানায় এ মন্ত্রণালয়।
সরকার দাবি করেছে, পুরানো লাইসেন্স নীতি অ্যাকসেস টু ইন্টারনেট, এক্সেস টু ডিভাইস এবং এক্সেস টু ফাইবার- এই তিনের কোনোটাই নিশ্চিত করতে পারেনি। তাই বাংলাদেশের ঘরে ঘরে, ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ফাইবার পৌঁছেনি, মোবাইল টাওয়ারে ফাইবার (২২ শতাংশ মাত্র) সেভাবে পৌঁছেনি। যেহেতু ফাইবার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ হয়নি, তাই ডেটা ব্যবহারের ভলিউম ভারতের তুলনায় পার ক্যাপিটা হিসেবে ৫০ ভাগের এক ভাগেই রয়ে গেছে।
এক দিকে ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) এবং ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জের আবেদন শেষ হয়ে গেছে। অর্থাৎ, নতুন কোনো কোম্পানি এই লাইসেন্স পেতে পারবে না এবং এই লাইসেন্সে ব্যবহৃত সুইচ ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির বয়সও শেষের দিকে। যন্ত্রপাতিগুলো পুরনো হয়ে গেছে৷ তাই এগুলো খুব তাড়াতাড়ি প্রতিস্থাপন করবে আইসিটি বিভাগ।
সরকারের বার্তায় বলা হয়, পুরানো লাইসেন্স পলিসিতে টেলিযোগাযোগ এখনও কানেকশনে থেকে গেছে। এই ইন্ডাস্ট্রিকে কানেকশন থেকে ডিজিটাল সার্ভিস বেইজে রূপান্তর করতে হবে। এখনো টেলিকমের প্রোডাক্ট মোবাইল ফোনের বান্ডেল এবং আইএসপির প্যাকেজনির্ভর। কিন্তু এখানে এডটেক, হেলথটেক, এগ্রিটেক, ফিনটেক, লজিস্টিক্স টেকসহ অপরাপর স্টার্টআপভিত্তিক ডিজিটাল সেবা পণ্য আসেনি।
নিরাপদ ইন্টারনেট কেন নিশ্চিত করা যায়নি তার ব্যাখ্যাও আছে এই বার্তায়। এতে বলা হয়, আইএসপি কিংবা মোবাইল ইন্টারনেট, এনটিটিএন কিংবা আইআইজি কোথাও কোয়ালিটি অফ সার্ভিস (QoS) ভিত্তিক ইন্টারনেটসেবা এবং ডিজিটালসেবার সূচনা হয়নি। বাংলাদেশে এখনও নিরাপদ ইন্টারনেটের ধারণা আসেনি। অধিকাংশ আইএসপি এবং মোবাইল ফোন অপারেটরের ইন্টারনেটসেবা অনিরাপদ। এখানে কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জাম বা সফটওয়্যার- যেমন হার্ডওয়্যার সিকিউরিটি মডিউল, প্যাম, ফায়ারওয়াল- কিছুই নেই। তাই ইন্টারনেট ব্যবসা এগিয়েছে অনিরাপদভাবে।
সরকার বলছে, ডিজিটাল ইকোনোমি উন্নয়নের জন্য ২৬ ধরনের জটিল লাইসেন্স বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সবকিছুর জন্য একক লাইসেন্স দেওয়া হয়নি, কারণ দেশীয় বাস্তবতা এবং মনোপলি বিষয়গুলো মাথায় রাখা হয়েছে। তবুও নতুন টেলিকম লাইসেন্সের চার স্তর খাতের প্রতিযোগিতা বাড়াবে এবং প্রতিটি স্তরের কোম্পানির কাজের সুযোগ আরও বেড়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু বগুড়া সিটি করপোরেশনের
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে বগুড়া।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে সিটি করপোরেশন চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদিন সকাল ৬টায় ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা দেন। সকাল ৯ টা ৫৫ মিনিটে তিনি বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছান। পরে বেলা সাড়ে ১১টায় পায়ে হেটে জেলা জজ আদালতে ই-বেইল বন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এরপর তিনি বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচন করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। উদ্বোধন শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নিজ পৈতৃক এলাকা বাগবাড়ীর উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন এবং পৈতৃক বাড়ি পরিদর্শনের কথা রয়েছে তার।
সফরের শেষপর্যায়ে বিকেল ৪টায় জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বক্তব্য শেষে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে বগুড়া প্রেসক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন। পরে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটেই বগুড়া বাইতুর রহমান কেন্দ্রীয় মসজিদের পূর্ণনির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন। সবশেষে সন্ধ্যা ৬টায় বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে তৎকালীন সরকার বগুড়া পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণ করে আশপাশের ৪৮টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করে এবং ওয়ার্ড সংখ্যা ১২ থেকে বাড়িয়ে ২১ করা হয়। সে সময় থেকেই বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার পরিকল্পনা থাকলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে বগুড়া সিটি করপোরেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল।
এসএসসি পরীক্ষা: প্রশ্নফাঁস রোধে সাইবার মনিটরিং জোরদার হচ্ছে
আসন্ন এসএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নফাঁস ও নকল প্রতিরোধে নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। সাইবার অপরাধ ঠেকাতে জোরদার করা হয়েছে অনলাইন মনিটরিং, গঠন করা হয়েছে বিশেষ মনিটরিং সেল। পাশাপাশি জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) যুক্ত করে চালু করা হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, যাতে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
সোমবার (২০ এপ্রিল) চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রশ্নফাঁস ও অনিয়ম ঠেকাতে সাইবার অপরাধের দিকেও বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র থানা থেকে যারা গ্রহণ করেন, তাদের তালিকা সংগ্রহ করে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম ঘটলে তা দ্রুত শনাক্ত করা যায়। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও চালু করা হয়েছে, যেখানে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) যুক্ত আছেন।
প্রশ্নফাঁস প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও বিতরণব্যবস্থার অনেক কিছুই পূর্ববর্তী সরকারের সময় নির্ধারিত ছিল, বর্তমান সরকার মূলত পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। তবে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা সচল আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পাবলিক পরীক্ষা আইন ১৯৮০ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এতে ডিজিটাল অপরাধের বিষয়গুলো যুক্ত করা হয়েছে। সংশোধিত আইনটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার আওতা ও কাঠামোতেও কিছু পরিবর্তন আনার উদ্যোগ রয়েছে।
খাতা মূল্যায়নের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষকদের যথেষ্ট সময় দিয়ে খাতা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মূল্যায়ন পদ্ধতি সঠিকভাবে অনুসরণ হচ্ছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে ‘মানবিক নম্বর’ দেওয়ার জন্য কোনো ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
কোচিং সেন্টার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শ্রেণিকক্ষে যথাযথ পাঠদান না হলে শিক্ষার্থীরা কোচিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তবে কোচিং সেন্টারগুলোর কোনো সরকারি নিবন্ধন বা তালিকা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি জানান, এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগও করা হয়েছে।
হরমুজে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তেহরানকে অনুরোধ ঢাকার
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানকে অনুরোধ জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে আনতালিয়া ডিপ্লোম্যাসি সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খতিবজাদেহর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা জানান। গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আনতালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে যোগ দিতে তুরস্কে গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
খলিলুর রহমান ইরানের মন্ত্রীকে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে জাহাজ পারাপারের জন্য বেছে নেওয়া ছয়টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করায় আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সার্বিক পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল। তবে ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এ বিষয়টি নিয়ে দুই নেতা যোগাযোগ অব্যাহত রাখবেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে মতবিনিময় করে।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আবারও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে ঘিরে বাংলাদেশের অবস্থান ভারসাম্যপূর্ণ ও স্থিতিশীল। সংঘাত নয়, বরং ধৈর্যশীলতার পরিচয় রেখে আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমস্যার নিরসনের ওপর জোর দেন তিনি। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, উভয় দেশের জন্য সুবিধাজনক সময়ে খলিলুর রহমান তেহরান সফর করবেন।
এর আগে, গত ৫ এপ্রিল বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদির সঙ্গে বৈঠক করেন বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জাহনাবাদিকে বাংলার জয়যাত্রা ও বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়া অপর একটি অপরিশোধিত তেল বহনকারী জাহাজকে নিরাপদে হরমুজ পার হওয়ার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান খলিলুর রহমান।
সে সময় ইরানের রাষ্ট্রদূত জানান, তেহরান কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর জন্য শোক প্রস্তাব আনায় বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
পাশাপাশি, ইরান দূতাবাসে রাখা শোকবইয়ে সই দেওয়ার জন্যেও বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি। উল্লেখ্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে শোক বইয়ে সই দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলি) মো. নজরুল ইসলাম।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া-এর প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
আজ সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এমপি’র সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স (ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া)-এর একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকটি মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার সংসদীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক লিনা রিক্কিলা তামাং (Leena Rikkila Tamang)। প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কনস্টিটিউশনাল গভর্নেন্স অ্যান্ড রুল অব ল প্রোগ্রামের প্রধান সুমিত বিসারিয়া (Sumit Bisarya)।
সাক্ষাৎটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের কার্যকারিতা, ‘জুলাই চার্টার’সহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সফররত দল বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক সংহতি জোরদার করার বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। আমীরে জামায়াত তাঁর বক্তব্যে গণতন্ত্র ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণে জামায়াতের ঐতিহাসিক ভূমিকা উল্লেখ করেন এবং একইসাথে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জামায়াতের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যাক্ত করেন।
এ সময় মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি’র সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য জনাব সাইফুল আলম খান মিলন, এমপি এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা দলের সদস্য জনাব আলী আহমাদ মাবরুর।
ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুস সাত্তার টেন্ডার বানিজ্যের হোতা...
জয়নাল আবেদীন যশোরীঃ
ফ্যাসিবাদ হাসিনা সরকারের পতন হলেও সচিবালয়ের ইডেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে ব্যাপক টেন্ডার বানিজ্যের অভিযোগ। তিনি এক মাস রির্জাভে থাকার পর ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ এ প্রাইজ পোষ্টিং বাগিয়ে নেন । তবে গণপূর্ত বিভাগ-২ এ বসার পর প্রধান প্রকৌশলীর প্রজ্ঞাপন অমান্য করে,এপিপির কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করেন তিনি। তবে সে তার পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে মোটা অংকের কমিশন বানিজ্য করছেন বলে অভিযোগ আছে । এপিপির শতকরা ৯০% ওটিএম পদ্ধতিতে আহবান করেছেন, যা প্রতিবেদকের কাছে সকল দরপত্র আইডি সংরক্ষিত আছে। এই আব্দুস সাত্তার ২০২২-২৩ ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে এপিপির কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করেন। যার ৮০% ভাগ ফ্যাসিবাদ সরকারের আওয়ামী সন্ত্রাসীদের প্রতিষ্ঠিত করতে ও ছাত্র হত্যায় অর্থ যোগান দিতে। কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুস সাত্তার ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র খেলায় মেতে ছিলেন। শুধু মাত্র ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের দরপত্র আই ডি গুলি Id.no.997257 Id.no.995451 Id.no.995450 Id.no.994903 Id.no.995449 Id.no.995447 Id.no.995448 Id.no.995452 Id.no.995453 Id.no.995446 Id.no.995442 Id.no.995443 Id.no.995444 Id.no.995445 Id.no.996439 Id.no.995440 Id.no.995441 Id.no.995455 Id.no.995456 Id.no.994899 Id.no.994900 Id.no.994901 Id.no.994902 ১৩ জুন ২০২৪ তারিখে ওপনিং হওয়ার পর ১৪ দিনের মধ্যে কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ না করে কোটি টাকা লোপাট করছেন। দরপত্র আই ডি Id.no.994215 ১২ জুন দরপত্র ওপেনিং দেখিয়ে দুইটি ফ্যাসিবাদ সরকারের মন্ত্রী মোকতাদির চৌধুরীর এপিএস এর রুমে কাজের মেরামত দেখিয়ে বিল উত্তোলন করে টাকা দেন তাকে।শুধু এপি এস কে খুশি রাখার জন্য ফ্যাসিস্ট দোসর নির্বাহী প্রকৌশলী সাত্তার মেরামত কাজের অবস্থা করে। যা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রমান পাওয়া যায় যে কোন কাজ হয়নি। দরপত্র আই ডি Id.no.994218 Id.no.994214 Id.no.993487 Id.no. 992595 Id.no.992600 Id.no.992594 Id.no.992593 Id.no.992592 Id.no.992601 Id.no.992602 Id.no.992603 Id.no.992596 Id.no.992597 Id.no.992598 Id.no.992599 ৯ ও ১০ জুন ২০২৪ খ্রিঃ তারিখ ওপনিং হওয়ার পর ১৪ দিনের মধ্যে কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ না করে কোটি টাকা লোপাট করছেন। এটা শুধু মাত্র জুন ২০২৪ সের ওটিএম পদ্ধতিতে। দরপত্র আহবান করার ৩৪ টি আইডি তে অর্থ লোপাট করার চিত্র এইভাবে বাকি ১১ মাস একই চিত্র। ইডেন গণপূর্ত বিভাগের দুর্নীতির মহাউৎসব চলে তার মাধ্যমে। ইডেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালীন মোঃ আব্দুস সাত্তার ২০২৩ সালে মে ও জুন মাসে ৫০ টি ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করে। এবং তার পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে টাকা ভাগাভাগি করেন তিনি। এবার মজার বিষয় হলো ইডেন গণপূর্ত বিভাগের কাজ সচিবালয় হওয়ায় বিশেষ সুবিধা নিয়েছেন তিনি। তাদের দেওয়া কমিশন দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুস সাত্তার নিজেই ঠিকাদারী করেন। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি ছাত্রলীগ করতেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সহ ১৬ জন কর্মকর্তার নামে ছাত্র জনতা গনহত্যা মামলায় আসামী করা হলেও।তবে সুকৌশলে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ ও সাবেক ইডেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুস সাত্তার এর নাম বাদ পরে যায়। কিন্তু ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে ইডেন গণপূর্ত বিভাগে থাকাকালীন সাত্তার একটি কাজও আওয়ামী পন্থি ঠিকাদার ছাড়া অন্য কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পায়নি। যা ইডেন গণপূর্ত বিভাগের নথিপত্র যাচাই করলে প্রমান পাওয়া যাবে।
এই সব অনিয়ম দূর্নীতির বিষয় জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।
তবে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি তা
রেসপন্স করেন নাই যার কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যারা
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষে ৩৬ জনের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছে বিএনপি। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য জানিয়েছেন।
রিজভী জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিতে জাতীয় কমিটির সদস্যরা দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন। সাক্ষাৎকার শেষে মনোনয়ন বোর্ড ৩৬ জনকে মনোনীত করেছে।
মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন, সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।
এর আগে গেল শুক্র ও শনিবার রাজধানীর গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয় বিএনপি। এই মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মোট এক হাজার ২৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হলেও জমা দেন প্রায় ৯০০ জন।
তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট: লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না জ্বালানি,ভোগান্তিতে জনজীবন
আওরঙ্গজেব কামালঃ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকট এই দুই সমস্যার চাপে পড়ে দেশের সাধারণ মানুষ। যেন যৌন জীবন আজ চরম ভোগান্তির মুখে। একদিকে বাড়তি দামে তেল কিনতে হচ্ছে, অন্যদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ তেল পাচ্ছেন না ভোক্তারা। এতে করে শুধু যানবাহন চালকরাই নয়, সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী সবাই পড়েছেন বহুমাত্রিক সংকটে। জমিনে দেখা যায়,ফিলিং স্টেশনের সামনে প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি তেল না পাওয়ার অভিযোগ অনেকের। অথচ সরকার বলছে, ইতিহাসের সব থেকে বেশি পরিশোধিত জ্বালানির মজুত এই মুহূর্তে বাংলাদেশের হাতে রয়েছে।বাংলাদেশে কী পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে? আর তা দিয়ে কতদিন চলবে? মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরির পর থেকে ঘুরে ফিরেই আসছে এসব প্রশ্ন। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, ভোর থেকেই পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন। মোটরসাইকেল চালক, সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেটকার এমনকি পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না, আবার কোথাও কোথাও সরবরাহ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। এতে মানুষের সময়, শ্রম ও অর্থ—সবকিছুরই অপচয় ঘটছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজার ব্যবস্থায়। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়ছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে গেছে। অনেক পরিবহন চালক জানিয়েছেন, তেলের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হওয়ায় তারা নিয়মিত ট্রিপ দিতে পারছেন না, ফলে আয় কমে যাচ্ছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, দাম বাড়ানোর আগে যদি সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখা না যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ দ্বিগুণ ক্ষতির শিকার হয়। অনেকেই বলছেন,“অতিরিক্ত দাম দিয়ে তেল কিনব, সেটাও যদি না পাই, তাহলে আমাদের যাওয়ার জায়গা কোথায়?” সরকারের ভূমিকা নিয়ে এ সময় নানা প্রশ্ন উঠছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি খাত একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল খাত, যেখানে
পরিকল্পনা, মজুদ ব্যবস্থাপনা এবং সরবরাহ চেইন শক্তিশালী না হলে এ ধরনের সংকট তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তারা মনে করেন, বাজার তদারকি জোরদার করা, নিয়মিত মনিটরিং, এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকারি মহল থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা, ডলার সংকট, আমদানি প্রক্রিয়ার বিলম্বসহ বিভিন্ন কারণে সাময়িকভাবে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত উদ্যোগ
নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এদিকে পেট্রোল পাম্প মালিকদের ভূমিকাও আলোচনায় এসেছে। অনেক ভোক্তার অভিযোগ, কিছু পাম্পে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি
করে সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, যাতে পরবর্তীতে বেশি দামে বিক্রি করা যায়। বক্তাদের অভিযোগ তারা বাজারে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা লিটার দরে অকটেন বিক্রি করছে। ইতিমধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনেক জায়গায় অভিযান চালিয়ে অনেক মজুদ তেল আটক করেছে এবং জরিমানা করেছে তাদেরকে। যদিও পাম্প মালিকদের একাংশ বলছেন, তারা সরবরাহকারী সংস্থা থেকে যে পরিমাণ তেল পাচ্ছেন, সেটিই নির্ধারিত নিয়মে বিক্রি করছেন। তাদের মতে, মূল সমস্যাটি সরবরাহ ব্যবস্থায়, পাম্প পর্যায়ে নয়। সিন্ডিকেটের বিষয়টিও বারবার সামনে আসছে। ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, জ্বালানি খাতে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে, যারা বাজার
নিয়ন্ত্রণ করে। এই সিন্ডিকেট কখনও সরবরাহ কমিয়ে, কখনও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি
এই সিন্ডিকেট ভেঙে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে এ ধরনের সমস্যা ভবিষ্যতেও বারবার ফিরে আসবে। অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতাদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অনেক সময় আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তাই প্রয়োজন সচেতনতা, যাতে কেউ অপ্রয়োজনীয় মজুদ না করেন এবং সবার জন্য সমানভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট মোকাবেলায় তিনটি স্তরে কার্যকর পদক্ষেপ
প্রয়োজন। প্রথমত, সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও নীতিগত সিদ্ধান্ত; দ্বিতীয়ত, পাম্প মালিকদের স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল আচরণ; এবং তৃতীয়ত,
ভোক্তাদের সচেতন ও সংযত ব্যবহার। এই তিনটি দিক একসঙ্গে কাজ করলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সর্বোপরি, জ্বালানি খাতের এই অস্থিরতা
দীর্ঘস্থায়ী হলে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া ভোগ তারা মনে করছেন ন্যায় সকল পাম্পে যথা নিয়মে তেল সরবরাহ করা হোক। তাহলে হয়তো এ সমস্যা থাকবে না।
তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে প্রায় ১৪–৩১ দিনের, এবং সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে।
লেখক ও গবেষকঃ
আওরঙ্গজেব কামাল
সভাপতি
ঢাকা প্রেস ক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব
সারাদেশে হামের টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
এর আগে, গত ৫ এপ্রিল প্রথম ধাপে শুরু হওয়া কর্মসূচি আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত এবং ১২ এপ্রিল শুরু হওয়া কর্মসূচি ১২ মে পর্যন্ত চলবে। দেশব্যাপী এই বিশেষ ক্যাম্পেইন সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০ মে পর্যন্ত এবং দেশের অন্যান্য স্থানে ১২ মে পর্যন্ত চলবে।
এদিকে, যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই সময়ে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বগুড়া জজ আদালতে ই-বেইল বন্ড সেবার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
বগুড়ায় সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জজ আদালতে ই-বেইল বন্ড সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউস থেকে পায়ে হেঁটে কোর্ট চত্বরে পৌঁছান তিনি। পরে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে এ সেবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সময় তিনি বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির নবনির্মিত ভবনের নামফলক উন্মোচন করেন। এর আগে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে সড়কপথে ঢাকার বাসভবন থেকে রওনা হয়ে বগুড়া শহরের সার্কিট হাউজে পৌঁছান তিনি।
ই-বেইল বন্ড সেবার উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচন এবং সিটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম ঘোষণা করবেন বলে জানা গেছে।
দিনের দ্বিতীয়ার্ধে তিনি গাবতলী উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে খাল খনন কার্যক্রম, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নিজ পৈতৃক বাড়ি পরিদর্শন করবেন এবং বিকেলে পুনরায় শহরে ফিরে আসবেন। বিকেল ৪টায় জেলা বিএনপির আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে বগুড়া শহরসহ আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রবেশমুখে নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ভিড় করছেন এবং তাকে একনজর দেখতে অপেক্ষা করছেন।
দৈনিক আজকালের কণ্ঠ’ বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আলোকবর্তিকা:- প্রফেসর ড. আসিফ
নিজস্ব প্রতিবেদক |
সত্যের জয়গান আর বস্তুনিষ্ঠতার অঙ্গীকার নিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হলো ‘দৈনিক আজকালের কণ্ঠ’ পত্রিকার ৫ম বর্ষপূর্তি। এইদিন সকালে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রফেসর ড. আসিফ মিজান পত্রিকাটির অদম্য যাত্রার প্রশংসা করে বলেন, "একটি সংবাদপত্রের প্রাণ হলো তার সত্যনিষ্ঠা। সুদূর সোমালিয়ার মোগাদিসু থেকে এই মাটির টানে এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রতি মমত্ববোধ থেকেই মূলত আমি আজ আপনাদের এই উৎসবে শামিল হয়েছি।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ হলেও ‘দৈনিক আজকালের কণ্ঠ’ তা সফলভাবে করে দেখিয়েছে। এই অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্য কারিগর হিসেবে তিনি পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক জনাব মোঃ মিজানুর রহমান (মিজান)-এর দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "মিজান সাহেবের অদম্য সাহস এবং সত্যের পথে আপসহীন ভূমিকা আজ এই পত্রিকাকে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করেছে।"
অনুষ্ঠানে প্রফেসর আসিফ আশা প্রকাশ করেন যে, শিক্ষার প্রসারের মতো সংবাদমাধ্যমও জাতির সঠিক পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে যাবে। দক্ষ সংবাদকর্মীদের হাত ধরে এই পত্রিকা কেবল জাতীয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশিদের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্পাদক ও প্রকাশক জনাব মোঃ মিজানুর রহমান (মিজান) সহ দেশের বরেণ্য সাংবাদিক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক শুভানুধ্যায়ী উপস্থিত ছিলেন। কেক কাটা এবং বেলুন উড়ানোর মাধ্যমে উৎসবের শুভ সূচনা করা হয়।
উল্লেখ্য যে, বিদেশে প্রথম বাংলাদেশি ভাইসচ্যান্সেলর, দারুসসালাম ইউনিভার্সিটি, সোমালিয়া এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা কর্তৃক "হিউম্যান রাইটস চ্যাম্পিয়ন ২০২৬" পদকপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. আসিফ মিজান একজন সুশাসন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ।
সংবাদপত্রসহ সকল মিডিয়ার অবাধ স্বাধীনতা নিশ্চিত করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার; বিশেষ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।