কুড়িগ্রামে ভাঙ্গনে ঘর-বাড়ি হারানো ৮৩টি পরিবারকে সহায়তা

এ আর রাকিবুল হাসান ,কুড়িগ্রাম | প্রকাশিত: ৮:৪১ অপরাহ্ন, ২৫ ডিসেম্বর ২০২১

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের পাড়ারচর গ্রামে নদী ভাঙনের শিকার ৮৩টি পরিবারকে সহায়তা দিয়েছে উপজেলা ও জেলা প্রশাসন।

গত ২০দিন ধরে খোলা আকাশে আশ্রয় নেয়া এসব পরিবারের হাতে শনিবার শুকনা খাবার ও শীতবস্ত্র তুলে দিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম তাদের পুর্ণবাসনের আশ্বাস দেন। জানা যায়, ব্রহ্মপূত্র নদের তীব্র ভাঙ্গনে গত দুই মাসে যাত্রাপুর ইউনিয়নের পাড়ারচর গ্রামটির পঁচানববইভাগ এলাকা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।

এখন সামান্য অবশিষ্ট জায়গায় ঘরবাড়ি সড়িয়ে খোলা আকাশে আশ্রয় নিয়েছে তারা। এ বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) উত্তম কুমার রায়, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) রাসেদুল ইসলাম, সদর এসি ল্যান্ড ঘটনাস্ল পরিদর্শনে যান। সেখানে দুর্গতদের খোজখবর নেন। তাদেরকে শুকনা খাবার ও শীতবস্ত্র তুলে দেন।

এসময় জেলা প্রশাসককে ওই গ্রামের হাসেম, কামরুল ও সৈয়দ জানান, আমাদের এখন নিজস্ব কোন জায়গা জমি নাই। সব ব্রহ্মপূত্রের পেটে চলে গেছে। এখন পাশেই সরকারি ৪শ’ বিঘা খাসজমি রয়েছে। আমরা সেখানে বাড়ি নিয়ে গেলে প্রবাবশালীরা আমাদের ঘরবাড়ি ভাসিয়ে দেয়। তারা আমাদেরকে আশ্রয় না দেয়ায় এখান আমরা প্রায় ২০দিন ধরে মানবেতরভাব জীবন যাপন করছি। ওই গ্রামের শরিফুল মাস্টার জানান, যাত্রাপুর মেইনল্যান্ড এলাকার ৪টি প্রভাবশালী পরিবার ওই ৪শ’ বিঘা জমি ভোগদখল করে আসছে। আমাদের জন্য সামান্য একটু জায়গাও ছেড়ে দিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, সরজমিনে তাদের সার্বিক অবস্থটা দেখলাম। আপাতত তাঁদেরকে কিছু শুকনা খাবার ও শীতবস্ত্র দেয়া হল। নদী ভাঙনে এরা চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পাশ্ববর্তী এলাকায় একটি খাস চর রয়েছে সেখানে তাদেরকে বসবাসের ব্যবস্থা করা হবে।

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইলে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

| প্রকাশিত: ১২:৪৭ অপরাহ্ন, ২০ এপ্রিল ২০২৬
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে যাত্রীবাহী বাস ও বালুভর্তি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাসের চালক ও হেলপার নিহত হয়েছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৬টায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন, গোপালপুর উপজেলার  মনতলা গ্রামের লাল মামুদের ছেলে বাসের সুপারভাইজার আতিকুল ইসলাম (৪০) ও একই উপজেলার পাকুয়া গ্রামের মৃত আমজাদ হোসেন ছেলে বাসের হেলপার মজন মিয়া (৪৩)।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোকছেদুর রহমান বলেন, গোপালপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

এ সময় ঘটনাস্থলেই বাসের হেলপার ও চালক নিহত হয়। পরে দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়ার সময় স্থানীয় বিদ্যুৎ নামে এক যুবক মাথায় আঘাত পেয়ে আহত হন। এ সময় যান চলাচল বন্ধ হলেও পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

তিনি আরও বলেন, ঘাটাইল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পরবর্তী খবর

বগুড়া জজ আদালতে ই-বেইল বন্ড সেবার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ১২:৩৯ অপরাহ্ন, ২০ এপ্রিল ২০২৬

বগুড়ায় সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জজ আদালতে ই-বেইল বন্ড সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউস থেকে পায়ে হেঁটে কোর্ট চত্বরে পৌঁছান তিনি। পরে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে এ সেবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সময় তিনি বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির নবনির্মিত ভবনের নামফলক উন্মোচন করেন। এর আগে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে সড়কপথে ঢাকার বাসভবন থেকে রওনা হয়ে বগুড়া শহরের সার্কিট হাউজে পৌঁছান তিনি। 

ই-বেইল বন্ড সেবার উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচন এবং সিটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম ঘোষণা করবেন বলে জানা গেছে।

দিনের দ্বিতীয়ার্ধে তিনি গাবতলী উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে খাল খনন কার্যক্রম, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নিজ পৈতৃক বাড়ি পরিদর্শন করবেন এবং বিকেলে পুনরায় শহরে ফিরে আসবেন। বিকেল ৪টায় জেলা বিএনপির আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে বগুড়া শহরসহ আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রবেশমুখে নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ভিড় করছেন এবং তাকে একনজর দেখতে অপেক্ষা করছেন।

পরবর্তী খবর

সোমবার বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেড়শ বছরের পুরোনো বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বগুড়ায় গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রটোকল অফিসার-১ উজ্জ্বল হোসেন।

সবশেষ ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে পৌরসভার চার পাশের ৪৮টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করে বগুড়া পৌরসভার আয়তন ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। সে সময় ১২টি ওয়ার্ড থেকে ২১টি ওয়ার্ডে উন্নীত হয় বগুড়া পৌরসভা। 

পৌরসভাকে বৃহৎ আকার দেওয়ার মধ্য দিয়ে পরে বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার পরিকল্পনা ছিল সে সময়। কিন্তু সরকারের নানা জটিলতার কারণে বগুড়া পৌরসভা আর সিটি কর্পোরেশন হয়নি। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে বগুড়াবাসীর পক্ষ থেকে বার বার সিটি কর্পোরেশনের দাবি জানানো হলেও তাও বাস্তবায়ন হয়নি। 

অন্তবর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসলে বগুড়ার তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হোসনা আফরোজা বগুড়াকে সিটি করপোরেশন করার প্রস্তাব দেন। এরপর এক চিঠিতে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার জন্য গণবিজ্ঞাপ্তি জারি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত ও আপত্তি নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়। 

পরে গত বছরের ২০ অক্টোবর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খান পৌরসভার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন এসে জানান ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিজয় দিবসের আগেই সিটি করপোরেশন ঘোষণা করা হবে। কিন্তু পরে আর সেটিও হয়নি।

এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ইমতিয়াজ মোরশেদ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানা যায়, বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বন্দরকে নতুন উপজেলা ঘোষণাসহ আটটি উন্নয়ন প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য রবিবার প্রাক-নিকার (প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস–সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি) সচিব কমিটির সভা হয়। সেখানে বগুড়া সিটি করপোরেশন উন্নীতকরণের বিষয়টি অনুমোদন হয়। 
পরবর্তী খবর

জিলকদ মাসের চাঁদ দেখতে সন্ধ্যায় কমিটির সভা

| প্রকাশিত: ১২:০৯ অপরাহ্ন, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলকদ মাসের তারিখ নির্ধারণ ও চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনায় আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সভায় বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এই সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নিম্নোক্ত টেলিফোন নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। টেলিফোন নম্বর : ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭।

পরবর্তী খবর

মওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ৬:৪৯ অপরাহ্ন, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিটে টাঙ্গাইলের সন্তোষে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক সমাধি প্রাঙ্গণে পৌঁছান তিনি। দেশের প্রখ্যাত এই রাজনৈতিক নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও কবর জিয়ারতের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তাঁর টাঙ্গাইল সফরের বিশেষ একটি অংশ সম্পন্ন করেন।

মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে মওলানা ভাসানীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর তিনি মওলানা ভাসানীর রুহের মাগফিরাত কামনায় সুরা ফাতেহা পাঠ করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় আয়োজিত বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

মন্ত্রিসভার সদস্য, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। জিয়ারত শেষে উপস্থিতদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মওলানা ভাসানী ছিলেন এদেশের গণমানুষের নেতা। তাঁর আপসহীন আদর্শ ও অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বর্তমান সরকার তাঁর দেখানো গণমুখী পথ অনুসরণ করেই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনের যে স্বপ্ন মওলানা ভাসানী দেখেছিলেন, সেই লক্ষ্যেই আজ টাঙ্গাইল থেকে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
পরবর্তী খবর

কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ২:২০ অপরাহ্ন, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বেলা ১২টা ২০মিনিটে বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন তিনি। এর আগে সকালে সড়ক পথে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওয়ানা করেন প্রধানমন্ত্রী। পথে পথে গাড়ির মধ্য থেকে বাইরের সমর্থকদের প্রতি হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।

টাঙ্গাইলের এই আয়োজন থেকেই সারা দেশের ২০ হাজার বেশি কৃষকের মাঝে কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
পরবর্তী খবর

আজ চৈত্র সংক্রান্তি

| প্রকাশিত: ১২:০৩ অপরাহ্ন, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

আজ চৈত্র সংক্রান্তি বা চৈত্র মাসের শেষ দিন। আমাদের জীবন থেকে বিদায় নিচ্ছে ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। চৈত্র মাসের শেষ দিন চৈত্র সংক্রান্তি। আবার এটি বাংলা বর্ষ ও বসন্ত ঋতুর শেষ দিনও। আবহমান বাংলার চিরায়ত নানা ঐতিহ্যকে ধারণ করে এই চৈত্র সংক্রান্তি। 

বছরের শেষ দিন হিসেবে পুরাতনকে বিদায় ও নতুন বর্ষকে বরণ করার জন্য প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে থাকে নানা অনুষ্ঠান-উৎসবের আয়োজন। এই চৈত্র সংক্রান্তি আবহমান বাংলার চিরায়িত বিভিন্ন ঐতিহ্যকে ধারণ করে আসছে। বছরের শেষ দিন হিসেবে পুরাতনকে বিদায় ও নতুন বর্ষকে বরণ করার জন্য প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে থাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান-উৎসবের আয়োজন। মনে করা হয়, চৈত্র সংক্রান্তিকে অনুসরণ করেই পহেলা বৈশাখ উদযাপনের এত আয়োজন। তাই চৈত্র সংক্রান্তি হচ্ছে বাঙালির আরেক বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব। 

সনাতন ধর্মাবলম্বীরা চৈত্র সংক্রান্তির দিন শাস্ত্র মেনে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস করে থাকেন। নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী, অন্য ধর্মাবলম্বীরাও নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন। বছর বিদায়ের উৎসব পালন করেন ব্যবসায়ীরাও।

 শুচি-শুদ্ধ হয়ে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও নতুন করে সাজিয়ে তোলেন। আগের পুরোনো সব জঞ্জাল পরিষ্কার করেন। পুরোনো সব হিসাব চুকিয়ে নতুন হালখাতা খোলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। নতুন বছরের প্রথম দিনে হালখাতা খোলা হয়। এছাড়াও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে নানা ধরনের মেলা ও উৎসব হয়। 

হালখাতার জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাজানো, লাঠিখেলা, গান, সংযাত্রা, রায়বেশে নৃত্য, শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে উদযাপিত হয় চৈত্র সংক্রান্তি। চৈত্র সংক্রান্তির প্রধান উৎসব চড়ক। চড়ক গাজন উৎসবের একটি প্রধান অঙ্গ। এ উপলক্ষ্যে গ্রামের শিবতলা থেকে শোভাযাত্রা শুরু করে অন্য গ্রামের শিবতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। 

একজন শিব ও একজন গৌরী সেজে নৃত্য করে এবং অন্য ভক্তরা নন্দি, ভৃঙ্গী, ভূত-প্রেত, দৈত্য-দানব সেজে শিব-গৌরীর সঙ্গে নেচে চলে। চৈত্র সংক্রান্তির মাধ্যমে পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সফলতা ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় দেখা দেবে নতুন ভোর পহেলা বৈশাখ। পুরোনো বছরের সব জরাজীর্ণ মুছে ফেলে মঙ্গলবার বাঙালি মিলিত হবে পহেলা বৈশাখের সর্বজনীন উৎসবে। 

জরাজীর্ণতা, ক্লেশ ও বেদনার সবকিছু বিদায় জানানোর পাশাপাশি সব অন্ধকারকে বিদায় জানিয়ে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার থাকবে গোটা জাতির। পহেলা বৈশাখ উৎসবের মধ্যদিয়ে বাঙালি স্বাগত জানাবে নতুন বাংলা বর্ষ ১৪৩৩।

পরবর্তী খবর

দীঘিনালায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই ৯ দোকান

| প্রকাশিত: ৬:৫৪ অপরাহ্ন, ১১ এপ্রিল ২০২৬

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে কবাখালী ইউনিয়নের পাবলাখালী শান্তিপুর এলাকায় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই আশপাশের লোকজন তা নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করায় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। পরে খবর পেয়ে দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর আগেই ৯টি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।

দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার পঙ্কজ কুমার বড়ুয়া বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী উৎপল দেওয়ান বলেন, বৈসাবি, বিঝু ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে দোকানে নতুন মালামাল তোলা হয়েছিল। রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় যাওয়ার পর আগুনের খবর পান। এসে দেখেন তার দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। চা ও ফটোকপির দোকানদার সুরেশ চাকমা জানান, সকালে এসে তিনি দেখেন তার দোকানের কিছুই অবশিষ্ট নেই।


দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা হঠাৎ ঘটে যায়, বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে এ ধরনের ঝুঁকি বেশি থাকে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।




পরবর্তী খবর

শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বর্জন জামায়াত প্রার্থীর

| প্রকাশিত: ৫:৩৩ অপরাহ্ন, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থগিত থাকা শেরপুর-৩ আসনে নানা অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুদুর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ৩টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন তিনি।

জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ কিছু কেন্দ্র থেকে তাঁর এজেন্ট বের করে দেওয়াসহ জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া ভিপিসহ জামায়াতের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, বেলা ২টা পর্যন্ত এই আসনে ৩৯ শতাংশ ভোট পড়েছে।

আজ সকাল সাড়ে ৭টায় উৎসবমুখর পরিবেশে শেরপুর-৩ আসনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এদিকে শ্রীবরদী সরকারি কলেজে সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্য আহত হন। এই আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হচ্ছেন বিএনপি মনোনীত সাবেক তিনবারের এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াত প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) মিজানুর রহমান।

উল্লেখ্য, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন স্থগিত করা হয়।

পরবর্তী খবর

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ, ট্রাইব্যুনালে হাজির ৬ আসামি

| প্রকাশিত: ১২:২৪ অপরাহ্ন, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। 

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করা হবে।

রায় ঘোষণা উপলক্ষে ছয় আসামিকে সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। 



ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, রায় ঘোষণার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

গত ৫ মার্চ রায়ের জন্য আজকে দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে গত ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন গত বছরের ২৬ জুন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেওয়া হয়। পরে প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করলে ৩০ জুন তা আমলে নেওয়া হয়।

মামলার ৩০ আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন—পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আমীর হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বেরোবির প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী আকাশ, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল এবং কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।



গত বছরের ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পলাতক আসামিদের পক্ষে গত ২২ জুলাই রাষ্ট্রীয় খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলন তীব্র হয় এবং এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়।