মাটি ঘেঁষে আর চলতে হবে না মলিকে

ইএআর/জেডএইচ/এমকেএইচ | প্রকাশিত: ৯:০১ পূর্বাহ্ন, ০৩ মে ২০২১
পরবর্তী খবর

প্রধান উপদেষ্টাকে পাঠানো ছয় মানবাধিকার সংগঠনের চিঠিতে যা আছে

| প্রকাশিত: ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, ২১ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও করণীয় বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে যৌথ চিঠি লিখেছে ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা; যেগুলোর মধ্যে রয়েছে সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, ফোরটিফাই রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটস ও টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট।

গত ১৯ অক্টোবর হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) ওয়েবসাইটে ওই চিঠিটি প্রকাশ করা হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় সাইডলাইনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে সাক্ষাতের পরিপ্রেক্ষিতে এই চিঠি পাঠানো হয়, যার মধ‍্যে সরকারের জন্য অস্বস্তিকর কিছু বিষয় রয়েছে।

রাজনীতি ডটকমের পাঠকদের জন্য চিঠিটির অনুবাদ—

প্রিয় প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস,

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আপনার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মৌলিক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার, আইন সংস্কার শুরু করা এবং গুমসহ অন্যান্য গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।

২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে সীমিত সময়ের এই পরিসরে আমরা আপনাকে অনুরোধ করছি মানবাধিকার সুরক্ষাকে আরও প্রসারিত করতে এবং এমন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে, যা স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবে এবং ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক অধোগতি রোধ করবে।

আমরা উদ্বিগ্ন যে নিরাপত্তা খাত এখনও মূলত সংস্কারবিহীন রয়ে গেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য এখনও দায়মুক্তি ভোগ করছে ও জবাবদিহির প্রচেষ্টায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে না। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারে সরকারকে আরও পদক্ষেপ নিতে হবে, তবে একইসঙ্গে এখনও চলমান নির্বিচার গ্রেফতার ও আটক কার্যক্রম—বিশেষত আওয়ামী লীগ সদস্যদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রমাণবিহীন মামলা—অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে আপনি বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনই সংকটের একমাত্র সমাধান, এবং “তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে” নতুন আগত শরণার্থীদের “প্রত্যাবাসনের সুযোগ দিতে হবে।” রোহিঙ্গারা সবসময় তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে আগত ১ লাখ ৫০ হাজারসহ সব রোহিঙ্গার জন্য মিয়ানমারের কোনো অংশই এখনও নিরাপদ নয়, যা স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনকে অসম্ভব করে তুলেছে।

আমরা আপনাকে অনুরোধ করছি নিচের পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে, যাতে বাংলাদেশের সবার অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত হয়:

গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করুন

জুলাই বিপ্লব ও গত পনেরো বছরে সংঘটিত গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং নির্যাতনের ঘটনায় দায়ী ব‍্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনুন।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ইতোমধ্যে র‍্যাব ও ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই)-এর বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিযোগ ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে— যা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সামরিক বাহিনীকে এসব বিচার কার্যক্রমে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং আইসিটির এখতিয়ার মেনে চলতে হবে।

আমরা অনুরোধ করছি, আইসিটি যেন আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং সব রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক বিবেচনা নির্বিশেষে ন্যায্য বিচার সম্পন্ন করতে পারে। আইসিটির অধীন থাকা মামলাসহ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে সরকারকে অবিলম্বে স্থগিতাদেশ ঘোষণা করা উচিত।

নিরাপত্তা খাত সংস্কার করুন

্যাব বিলুপ্ত করা এবং ডিজিএফআই-এর ক্ষমতা সীমিত করা অপরিহার্য। র‌্যাবের দীর্ঘদিনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস প্রতিষ্ঠানটিকে সংস্কারের বাইরে নিয়ে গেছে। সামরিক সদস্যদের বেসামরিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা থেকে সরিয়ে নিন। ডিজিএফআই-এর ক্ষমতা ও ভূমিকা শুধুমাত্র সামরিক গোয়েন্দা কার্যক্রমে সীমিত করতে হবে এবং একটি স্পষ্ট আইনগত কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।

গুম অপরাধ হিসেবে দণ্ডনীয় করুন এবং অনুসন্ধান কমিশনের কার্যক্রম নিশ্চিত করুন

আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী “গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ”-এর খসড়া অবিলম্বে অনুমোদন করুন, তবে মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত ধারা বাদ দেওয়া উচিত। “কমিশন অব ইনকোয়ারি অন এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস” গঠন করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর পূর্ণ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংস্কার করুন

প্যারিস নীতিমালা অনুযায়ী কমিশনের স্বাধীনতা, অর্থায়ন এবং সদস্য নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কার করতে হবে। কমিশনকে নিরাপত্তা বাহিনীসহ রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের পূর্ণ ক্ষমতা দিতে হবে।


মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপকারী আইনসমূহ বাতিল বা সংশোধন করুন

সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট এবং মানহানির ফৌজদারি বিধানসমূহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডে সংশোধন করতে হবে। ২০২৩ সালের আইন বাতিলের পর প্রণীত সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫ এখনো অস্পষ্ট ও ব্যাপক ক্ষমতা দেয়— যা অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করে।

তথ্য সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার আইন সংশোধন করুন

“ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা অধ্যাদেশ” ও “জাতীয় তথ্য ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ” খসড়ায় রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত ছাড় বা ক্ষমতা সীমিত করতে হবে। এসব খসড়াকে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সংশোধন এবং নাগরিক সমাজের পরামর্শে চূড়ান্ত করতে হবে।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করুন

রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সাংবাদিকদের গ্রেফতার, হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ প্রমাণবিহীন বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি, সেগুলো বাতিল করতে হবে। মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের আন্তর্জাতিক মানসম্মত সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

নির্বিচার গ্রেফতার ও রাজনৈতিক মামলা বাতিল করুন

আগস্ট ২০২৪-এর আগে ও পরে দায়েরকৃত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা—যে দল বা মতেরই হোক—বাতিল করতে হবে। বিশেষত আওয়ামী লীগ সদস্য ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রমাণবিহীন অভিযোগ দ্রুত খারিজ করতে হবে।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করুন

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে আরোপিত দলীয় নিষেধাজ্ঞা মতপ্রকাশ, সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করছে। জাতিসংঘের ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, সরকার যেন “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এমন রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ থেকে বিরত থাকে।”

নাগরিক সমাজ ও এনজিওদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করুন

এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো এবং বিদেশি অনুদান (স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম) নিয়ন্ত্রণ আইন সংস্কার করতে হবে। নাগরিক সমাজের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ, আন্তর্জাতিক তহবিলে প্রবেশাধিকার, ও প্রশাসনিক বাধা কমাতে হবে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন থেকে রক্ষা করুন

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পূর্বে কোনো জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন করা যাবে না। ক্যাম্পে চলাচল, জীবিকা ও শিক্ষার সুযোগে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করতে হবে। সাহায্য হ্রাসের প্রেক্ষাপটে এসব সুযোগ রোহিঙ্গাদের স্বনির্ভরতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ।

আইসিসি’র তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করুন

বাংলাদেশ-মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আইসিসির চলমান তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং আদালতের চাহিদা অনুযায়ী অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও হস্তান্তর নিশ্চিত করতে হবে।

পরবর্তী খবর

কনশেন্স’ জাহাজে বাংলাদেশ— পতাকা হাতে বার্তা শহিদুল আলমের

| প্রকাশিত: ৪:১৩ অপরাহ্ন, ০৪ অক্টোবর ২০২৫

গাজার পথে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে ফের বার্তা দিয়েছেন আলোকচিত্রী ও অধিকার কর্মী শহিদুল আলম। এবার একটি ছবি পোস্ট করেছেন তিনি, যেখানে তিনি তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের পতাকা। জানিয়েছেন, ইসরায়েলের নির্যাতনের প্রতিবাদে যাত্রা করা বৈশ্বিক উদ্যোগ এই নৌ বহরে সঙ্গী করেছেন বাংলাদেশকেও।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নৌ বহরে থাকা আলোকচিত্রী শহিদুল আলম তার ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশ করেছেন একটি ছবি। সঙ্গে দিয়েছেন তিন শব্দের ক্যাপশন— Bangladesh on Conscience, যার বাংলা ‘কনশেন্স জাহাজে বাংলাদেশ’।

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের চলমান নির্যাতন এবং সমুদ্রপথে গাজার ওপর জারি রাখা অবরোধ ভেঙে দিতে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে গাজার পথে রওয়ানা হয়েছিল ৪০টিরও বেশি জাহাজ নিয়ে গঠিত গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। গাজায় পৌঁছানোর আগেই অবশ্য সবগুলো জাহাজেই একে একে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি নৌ বাহিনী। সেগুলোকে নিয়ে গেছে তাদের বন্দরে। বহরে থাকা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অধিকার কর্মীকে ফিরিয়ে দিচ্ছে নিজ নিজ দেশে।


এই সুমুদ ফ্লোটিলা বহরেই সঙ্গী হয়েছেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। ‘কনশেন্স’ জাহাজে অবস্থান করছেন তিনি। জাহাজটি হাজারও ম্যাডলিনের অন্যান্য নৌ যানের মাঝখান দিয়ে অগ্রসর হয়। দুপাশের যাত্রীদের কণ্ঠে তখন গর্জে ওঠে গান আর স্লোগান। ঢেউয়ের ওপরে জন্ম নেয় এক সংহতি— অসংখ্য জাতি, বহু ভাষা আর নানা সংস্কৃতির মানুষের মিলন, যাদের একমাত্র বন্ধন মানবতা ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ।

এর আগে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকালে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন শহিদুল আলম। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, গাজার সময়রেখায় পৌঁছে গেছেন তারা। ততক্ষণে অবশ্য সুমুদ ফ্লোটিলায় থাকা অন্য সব জাহাজকেই বন্দরে নিয়ে গেছে ইসরায়েলি নৌ বাহিনী।

শহিদুল আলম স্পষ্টভাবেই তার বার্তায় বলেন, সুমুদ ফ্লোটিলা বহরের জাহাজগুলো ত্রাণ বহন করলেও গাজায় নিছক ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এই বহরের প্রধান উদ্দেশ্য নয়। বরং সমুদ্রপথে ইসরায়েল যে অবৈধ অবরোধ দিয়েছে গাজার ওপর, তা ভেঙে দেওয়া এই বহরের অন্যতম উদ্দেশ্য।

এ ছাড়া গাজায় চিকিৎসক, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষদের যাতায়াত করা এবং সেখানে চলমান নির্যাতনের তথ্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার যে অধিকার, সেটি প্রতিষ্ঠা করাও এই বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রধানতম উদ্দেশ্য।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মানুষ সমুদ্রের ঢেউয়ের মধ্য দিয়ে একত্রিত হয়েছেন, শান্তি ও মানবাধিকারের পক্ষে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করেছেন। জাহাজের যাত্রীরা নানা জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ; যারা একত্রিত হয়েছেন মানবিক মূল্যবোধ ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের জন্য। এককথায় মানবতার সংহতি ও ন্যায়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক প্রতীকী নৌ বহর ‘কনশেন্স’।

পরবর্তী খবর

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীদের আরও ঘন ঘন বাংলাদেশে আসার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

| প্রকাশিত: ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ এক ‘গুরুত্বপূর্ণ সময়’ অতিক্রম করছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীদের আরও ঘন ঘন বাংলাদেশ সফরের আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার নিউইয়র্কের একটি হোটেলে অধ্যাপক ইউনূস রবার্ট এফ. কেনেডি মানবাধিকার সংস্থার সভাপতি কেরি কেনেডির নেতৃত্বে শীর্ষ মানবাধিকার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক করেন। বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনাদের নিয়মিত বাংলাদেশ সফর করা। প্রত্যেকবার আপনারা এলে ভুলে যাওয়া বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় আসে। শেষ পর্যন্ত আপনারাই জনগণের কণ্ঠস্বর।”

বৈঠকে তিনি প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন, চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার সুরক্ষায় নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা একটি ভেঙে পড়া ব্যবস্থা পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছি। গত বছরের হত্যাকাণ্ড তদন্তে আমরা জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়কে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তাদের প্রতিবেদনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রকাশ পেয়েছে। এরপর আমরা জাতিসংঘ মানবাধিকার মিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি, যা একটি বড় অগ্রগতি।”

প্রধান উপদেষ্টা জানান, জোরপূর্বক গুম করে ফেলার অভিযোগ তদন্তে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। “মানুষ ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে সামনে আসছে। প্রত্যেকটি ঘটনা ভয়াবহ। বছরের পর বছর ধরে ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে। অনেক মানুষকে আয়না ঘরে রাখা হয়েছিল, অনেক সময় তারা জানতও না কেন সেখানে রাখা হয়েছে। কমিশন এখনও পূর্ণ প্রতিবেদন দেয়নি, তবে নিয়মিত আপডেট দিচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংস্কারের জন্য ১১টি কমিশন গঠন করা হয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এরই মধ্যে সংস্কার প্রস্তাবসমূহ পর্যালোচনা করছে।  রাজনৈতিক দলগুলোও এই প্রক্রিয়ার অংশ। আশা করছি, জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্কারগুলো অক্টোবরের মধ্যে খসড়া আকারে তৈরি হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলো তাতে স্বাক্ষর করবে।”

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আমরা চাই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হোক অবাধ ও শান্তিপূর্ণ—এমন নির্বাচন যা বাংলাদেশে আগে কখনো হয়নি। বছরের পর বছর ভোটার তালিকায় অনেকের নাম থাকলেও তারা ভোট দিতে পারেনি। এবার আমরা বিশেষভাবে নারীদের ভোটদানে উৎসাহিত করতে চাই এবং তাদের অংশগ্রহণ উদযাপন করতে চাই। ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পর্কে মানুষকে জানাতে আমরা ব্যাপক প্রচারণা চালাব। আমাদের লক্ষ্য দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা।”

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “কিছু আন্তর্জাতিক মহল নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। কিছু শক্তি রয়েছে যারা চায় না নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। আমরা জানি না তারা কার হয়ে কাজ করছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢালা হচ্ছে, যার সুবিধাভোগী রয়েছে দেশের ভিতরে ও বাইরে। তারা সুসংগঠিত—এটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয়। সামনে কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

অধ্যাপক ইউনূস অর্থ পাচার প্রতিরোধে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। আমি আশা করি মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিষয়ে আওয়াজ তুলবে, যেন কোনো ব্যাংক এমন অর্থ লুকিয়ে রাখতে না পারে। এটি সত্যিকার অর্থেই জনগণের অর্থ।”

বৈঠকে উপস্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা তাসনিম জারা বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা কাঠামোগত সংস্কারের জন্য আন্দোলন করেছে, যাতে দেশ আর কখনো সেই পরিস্থিতিতে না ফিরে যায় যা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে।

মানবাধিকার কর্মীরা দেশের সকল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক জন সিফটন বলেন, “যত বেশি সম্ভব সংস্কার নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে, যেন সংসদ গঠনের পরও তারা এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে।”

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন—ক্যাথরিন কুপার, আইনজীবী, রবার্ট এফ. কেনেডি মানবাধিকার সংস্থা; মনদীপ তিওয়ানা, সাধারণ সম্পাদক, সিভিকাস; ম্যাথিউ স্মিথ, প্রধান নির্বাহী ও প্রতিষ্ঠাতা, ফোর্টিফাই রাইটস; সাবহানাজ রাশিদ দিয়া, নির্বাহী পরিচালক, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট; ক্যারোলিন ন্যাশ, এশিয়া বিষয়ক পরিচালক, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল; মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান, ভিজিটিং আন্তর্জাতিক পণ্ডিত, ওহাইও বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেসেলিনা রানা, জাতিসংঘ উপদেষ্টা, সিভিকাস।

পরবর্তী খবর

শেখ হাসিনাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞপ্তি

| প্রকাশিত: ৭:৩০ অপরাহ্ন, ১৭ জুন ২০২৫

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার আরেক আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) এ বিজ্ঞপ্তি জারি করেন ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার এ এস এম রুহুল ইমরান। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের নির্দেশে পত্রিকাতেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসামিরা আত্মসমর্পণ না করলে তাদের অনুপস্থিতিতেই এ বিচারকাজ চলবে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া সত্ত্বেও তারা পলাতক ও আত্মগোপনে থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৬ জুন) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় শুনানির জন্য আগামী ২৪ জুন দিন নির্ধারণ করেন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সাত দিনের মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ না করলে এ দিন তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ শুরু হবে।

এর আগে গত ১ জুন শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার এবং শহিদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার। সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন ৮১ জন।

গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এই অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে ১ জুন তা ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন টিম। সেদিন আদালতের কার্যক্রম সরাসরি বিটিভিতে সম্প্রচার করা হয়।

ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে জুলাই-আগস্টের নৃশংসতার ‘মাস্টারমাইন্ড, হুকুমদাতা ও সুপিরিয়র কমান্ডার’ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

পরবর্তী খবর

মে দিবসের ইতিহাস

| প্রকাশিত: ১১:২১ পূর্বাহ্ন, ০১ মে ২০২৫

বিশ্বের কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষের জন্য ১ মে একটি স্মরণীয় দিন। এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মে দিবস নামে আমরা চিনি। এটি এমন একটি দিন, যা শুধু ছুটি কিংবা আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি এক ঐতিহাসিক আন্দোলন ও আত্মত্যাগের স্মারক। আজকের দিনে শ্রমিকরা যে অধিকার ভোগ করেন, সেগুলোর পেছনে রয়েছে শতবর্ষের রক্ত-ঘাম-অশ্রু মাখা সংগ্রাম। মে দিবস সেই সংগ্রামের ইতিহাস বুকে লালন করে।

১৮শ শতকের শেষের দিকে শিল্প বিপ্লবের পর পাশ্চাত্য জগতে কারখানার উৎপাদন বেড়ে যায়। যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের কাজের চাহিদাও বাড়ে। কিন্তু সেই সময় শ্রমিকদের জন্য কাজের পরিবেশ ছিল অমানবিক। দিনে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা টানা কাজ করতে হতো। বিশ্রামের সুযোগ থাকত না, নিরাপত্তার বালাই ছিল না, এবং মজুরি ছিল খুবই কম। নারী ও শিশুরাও এই শ্রমের যন্ত্রণা থেকে বাদ পড়েনি। মালিকেরা শ্রমিকদের মানুষ হিসেবে না দেখে কেবল উৎপাদন যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতেন।

এই অমানবিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করে। তারা সংগঠিত হতে থাকেন। তাদের প্রধান দাবি ছিল কাজের সময় নির্ধারণ করা—দিনে ৮ ঘণ্টা কাজ, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম এবং ৮ ঘণ্টা অবসর। এই দাবিকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন। অবশেষে ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শুরু হয় এক ঐতিহাসিক ধর্মঘট। লাখো শ্রমিক কারখানার কাজ বন্ধ রেখে রাস্তায় নামেন, শান্তিপূর্ণভাবে তারা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি জানান।

শুরুতে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকলেও ৩ মে ও ৪ মে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ৪ মে শিকাগোর হে মার্কেট স্কয়ারে শ্রমিকদের একটি সমাবেশ চলছিল। তখন হঠাৎ একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে, যার উৎস আজও স্পষ্ট নয়। পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়, প্রাণ হারান কয়েকজন শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য। এই ঘটনার পর পুলিশ বহু শ্রমিক নেতাকে গ্রেপ্তার করে এবং আটজনকে বিচারের নামে শাস্তি দেয়। তাদের মধ্যে চারজনকে ফাঁসি দেওয়া হয়, যদিও কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ ছিল না যে তারা বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। এদের অনেকেই ছিলেন সমাজতন্ত্রী, নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কণ্ঠস্বর।

এই ভয়াবহ ঘটনার পর সারা বিশ্বে নিন্দার ঝড় উঠে। শ্রমিক আন্দোলন নতুন গতি পায়। ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সমাজতন্ত্রী কংগ্রেসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ১৮৮৬ সালের ১ মে শিকাগো শহরের শ্রমিকদের আত্মত্যাগের স্মরণে এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত করা হবে। সেই থেকে প্রতি বছর ১ মে দিনটি বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা স্মরণ করে পালিত হচ্ছে

বাংলাদেশে মে দিবস পালনের ইতিহাস তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও, এই অঞ্চলে শ্রমিক আন্দোলনের শিকড় অনেক পুরনো। ব্রিটিশ শাসনামলে ভারত উপমহাদেশে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তারা কাজের সময়, মজুরি, নিরাপদ পরিবেশ ইত্যাদি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে। তবে স্বাধীন বাংলাদেশের পর শ্রমিকদের সংগঠিত আন্দোলনের ভিত্তি আরও দৃঢ় হয়। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার ১ মে-কে সরকারিভাবে শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে নির্ধারণ করে।

বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে এই খাত থেকে। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক এই খাতে কর্মরত, যার অধিকাংশই নারী। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই বিশাল শ্রমশক্তি আজও শোষণ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ধস এই বাস্তবতার নির্মম প্রমাণ। সেই ঘটনায় সহস্রাধিক শ্রমিক প্রাণ হারান, হাজার হাজার মানুষ পঙ্গু হন। এই ঘটনার পর দেশে-বিদেশে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে আলোচনার ঢেউ উঠে। কিন্তু বাস্তবে আজও অনেক সমস্যার সমাধান হয়নি।

শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্য সেবা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, কাজের পরিবেশের নিরাপত্তা—এসব মৌলিক দাবি অনেকাংশেই অধরাই রয়ে গেছে। এমনকি আজকের প্রযুক্তিনির্ভর যুগে, যেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাজের ধরন বদলে যাচ্ছে, সেখানেও শ্রমিকেরা নতুন ধরনের শোষণের মুখোমুখি হচ্ছেন। রাইড-শেয়ারিং, ফুড ডেলিভারি, ফ্রিল্যান্সিং—এসব খাতে কর্মরত মানুষদের ‘শ্রমিক’ হিসেবে স্বীকৃতি নেই, নেই কোনো সামাজিক নিরাপত্তা বা স্থায়ী সুবিধা।

এই বাস্তবতায় মে দিবস আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এটি শুধু ইতিহাস স্মরণের দিন নয়, এটি বর্তমানের চাহিদা ও ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণের দিন। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শ্রমিকের অধিকার কোনো করুণার বিষয় নয়, এটি তার প্রাপ্য। একটি সমাজ কতটা মানবিক ও উন্নত—তা নির্ধারিত হয় সেই সমাজ কীভাবে তার শ্রমজীবী মানুষদের মূল্যায়ন করে তার ভিত্তিতে।

মে দিবসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি বিখ্যাত স্লোগান—“আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা বিশ্রাম, আট ঘণ্টা অবসর।” এই স্লোগান কেবল সময় বণ্টনের নয়, এটি শ্রমিকের ব্যক্তিগত জীবনের মর্যাদার প্রতীক। আজকের দ্রুতগামী সমাজে যখন মানুষ কেবল কাজের যন্ত্রে পরিণত হচ্ছে, তখন এই স্লোগান আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়।

বাংলাদেশসহ অনেক দেশে এখনও শিশু শ্রম একটি বড় সমস্যা। দরিদ্র পরিবারের শিশুরা স্কুল ফেলে শ্রমবাজারে আসছে জীবিকার তাগিদে। তাদের কাজের পরিবেশ দুর্বিষহ, মজুরি সামান্য, এবং কোনো আইনগত সুরক্ষা নেই। মে দিবস এই ধরনের সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আওয়াজ তোলে।

একটি দেশের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সেই উন্নয়নের সুফল ভোগ করে। শুধু দালানকোঠা, রাস্তা বা বড় প্রকল্প গড়ে উন্নত দেশ হওয়া যায় না, যদি শ্রমিকরা অবহেলিত থাকে। তাই মে দিবসে আমাদের উচিত শ্রমজীবী মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং নীতি-নির্ধারকদের কাছ থেকে জবাবদিহিতা চাওয়া—তারা যেন শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করেন।

মে দিবস আমাদের শিক্ষা দেয় সংগঠিত হওয়ার গুরুত্ব। শ্রমিকরা যখন একতাবদ্ধ হয়ে কথা বলেন, তখন সমাজে পরিবর্তন আসে। ইতিহাস তার সাক্ষী। আজকের তরুণ প্রজন্মকেও এই বার্তা পৌঁছানো জরুরি—অধিকার নিজে আদায় করে নিতে হয়, আর একতা ও প্রতিবাদ ছাড়া কোনো পরিবর্তন আসে না।

অতএব, ১ মে কেবল একটি দিন নয়, এটি একটি আদর্শ, একটি অনুপ্রেরণা। এটি মনে করিয়ে দেয়, যেকোনো প্রাপ্তির পেছনে সংগ্রাম থাকে। আমরা যদি সত্যিকারের ন্যায্য ও মানবিক সমাজ গড়তে চাই, তাহলে শ্রমিকদের অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। শ্রদ্ধা, মর্যাদা ও সুবিচারের ভিত্তিতে গড়ে উঠুক এমন একটি সমাজ, যেখানে কেউ অবহেলিত থাকবে না।

সূত্র: বিবিসি


পরবর্তী খবর

গণঅভ্যুত্থানকালে আগের সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি: জাতিসংঘ

| প্রকাশিত: ১০:২০ অপরাহ্ন, ০৭ মার্চ ২০২৫

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় জানিয়েছে, তাদের তথ্য-অনুসন্ধান কমিশন গত বছর বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং তাদের কর্মীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ক্ষমতাচ্যুত সরকার কোনো ‘উপযুক্ত কোনো পদক্ষেপ’ নেয়নি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, বাংলাদেশের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ আইনে নিশ্চিত করা সত্বেও নিরাপত্তা বাহিনীর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে কোনো তদন্ত করা হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট নিরাপত্তা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের তদন্ত করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা তো দূরের কথা, আগের সরকারের কোনো উপযুক্ত প্রচেষ্টা ওএইচসিএইচআর নিশ্চিত করতে পারেনি। এতে আরো বলা হয়েছে, নির্যাতন ও গুরুতর দুর্ব্যবহারের অভিযোগগুলো তদন্ত করা হয়নি, যদিও সাবেক কর্মকর্তারা ওই সময়ে বিরাজমান চাপের মধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন। তারা দাবি করেছেন, কোনো ভুক্তভোগী তখন অভিযোগ দায়ের করেন নি।

তবে ওএইচসিএইচআর বলেছে, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিশ্বস্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত অসংখ্য প্রতিবেদনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিশদ বিবরণ ও বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠীর প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো তাদের (ওএইচসিএইচআর) নিজস্ব উদ্যোগে তদন্ত শুরু করার জন্য যথেষ্ট কারণ ছিল।

মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে বাংলাদেশে মানবাধিকার নিয়ে বিদেশি ও আন্তর্জাতিক নেতাদের উদ্বেগ সম্পর্কিত তথ্যও ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টের শুরুতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাও ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৭ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনজন বিচারকের নেতৃত্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। যেখানে সমস্ত ঘটনার জন্য ‘বিরোধী দলের উস্কানিদাতা’ ও ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করা হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহতের ঘটনা, সহিংসতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তের পরিধিতে শুধু বিক্ষোভকারীদের কর্মকাণ্ডে একচেটিয়া দৃষ্টি দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এরফলে নিরাপত্তা বাহিনীকে আরো ব্যাপক সহিংসতার সুযোগ দেওয়া হয়।

সরকারের ঊর্ধ্বতন সাবেক দুই কর্মকর্তার সাক্ষ্য অনুসারে, এই বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি কখনো কোনো অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। এমনকি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যখন এটি তদন্তের কাজ বন্ধ করে দেয়, তখন এর কার্যকলাপের কোনো রেকর্ডও রেখে যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ সংঘটিত লঙ্ঘনের সত্যতা দমন করতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

ওএইচসিএইচআর আরো জানিয়েছে, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হাসপাতালগুলোতে তাদের উপস্থিতি বজায় রাখত। সেখানে চিকিৎসাধীন অনেক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণসহ রেকর্ডও জব্দ করেছে তারা।

প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, হত্যাকাণ্ড গোপন করতে কিছু ক্ষেত্রে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে গেছে, পরিবারের কাছ থেকে মরদেহ লুকিয়ে রেখেছে অথবা পুড়িয়ে ফেলেছে। কিছু ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভুক্তভোগীদের মরদেহ থেকে প্রজেক্টাইল অপসারণ করা হয়েছে ও তাদের ওপর হামলার উৎস সম্পর্কিত কোনো রেকর্ড ছাড়াই পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জাতিসংঘের অধিকার কার্যালয় জানিয়েছে, তারা পুলিশ ও র‌্যাবের ইউনিটগুলোকে রেকর্ডহীন গোলাবারুদ বরাদ্দ দেওয়ার তথ্য পেয়েছে। যাতে তাদের ব্যাপক গুলিবর্ষণের পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে না ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, র‌্যাব তখন দাবি করেছিল অভ্যুত্থানের সময় মোতায়েনকৃত তাদের ১৫টি ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১৪টির একটিও রাইফেলের গুলি চালায়নি, যা ওএইচসিএইচআরের নথিভুক্ত বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের ওপর র‌্যাবের গুলিবর্ষণের ঘটনার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষ অভ্যুত্থানে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার, আইনজীবী, সাংবাদিক ও অন্যান্যদের ভয় দেখিয়েছিল, যারা জবাবদিহিতার দাবি করে নিরাপত্তা বাহিনীর হত্যাকাণ্ডের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন।

এতে আরও বলা হয়, কর্তৃপক্ষ অন্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে নিরাপত্তা বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘন গোপন করার চেষ্টা করেছিল। উল্লেখ্য, আবু সাঈদ হত্যার প্রতীকী মামলার সঙ্গে জড়িত কয়েকশ’ লোককে ভুলভাবে অভিযুক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। যদিও ব্যাপকভাবে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য স্পষ্ট করে দেয়, পুলিশই তাকে হত্যা করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) তার নিজস্ব এখতিয়ারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করা ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা দিতেও ব্যর্থ হয়েছে।

তবে ওএইচসিএইচআর উল্লেখ করেছে, এনএইচআরসি ৩০ জুলাই একটি ‘অস্পষ্ট বিবৃতি’ দিয়েছিল, যেখানে প্রাণহানির ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন’ বলে বর্ণনা করা হয়। 

বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষকে গণগ্রেপ্তার না করতেও আহ্বান জানানো হয়। তবে এই জাতীয় অধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা ৫ আগস্ট পর্যন্ত পুরো সময় আর কোনো প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ করেনি বা কোনো তদন্ত শুরু করেনি।

পরবর্তী খবর

অবশেষে বাংলাদেশের জাতীয় কবির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলেন কাজী নজরুল ইসলাম।

| প্রকাশিত: ১১:৪০ অপরাহ্ন, ০২ জানুয়ারী ২০২৫

অবশেষে বাংলাদেশের জাতীয় কবির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলেন কাজী নজরুল ইসলাম। ১৯৭২ সালের ৪ মে বাংলাদেশে আসার তারিখ থেকে তাঁকে বাংলাদেশের ‘জাতীয় কবি’ ঘোষণা করে গেজেট প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। 

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান স্বাক্ষরিত এক গেজেট প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত ডিসেম্বরে উপদেষ্টা পরিষদের এক সভায় অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি ঘোষণা করা হয়েছে এবং এটি সকলের অবগতির জন্য গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি ঘোষণা করে গেজেট প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

কবি কাজী নজরুল ইসলামের জাতীয় কবির মর্যাদার বিষয়টি ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত সত্য এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও স্বীকৃত। বাংলাদেশের জনগণ তাঁকে তাঁর ঢাকায় আগমনের তারিখ থেকে জাতীয় কবি ঘোষণা করে সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রত্যাশা করে আসছিল। উপদেষ্টা পরিষদ এ প্রত্যাশা অনুযায়ী এ প্রস্তাব অনুমোদন করে। 

এ বিষয়ে কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক লতিফুল ইসলাম শিবলী বলেন, এই চাওয়া দীর্ঘ দিনের। অনেক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নজরুল ভক্তরা এই দাবিতে রাজপথ থেকে শুরু করে আদালত পর্যন্ত দৌড়েছেন। অনেক লেখালেখি হয়েছে, জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রীর টেবিল পর্যন্ত পৌঁছানোর পর ফ্যাসিস্ট  আওয়ামী রেজিমের এক জনপ্রিয় সংস্কৃতিমন্ত্রী এই দাবি নাকচ করে দিয়েছিলেন। সেসব এখন ইতিহাস।

লতিফুল ইসলাম শিবলী বাসসকে বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের ফসল বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের এ সিদ্ধান্তটি ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ দেশের সাধারণ মানুষের আন্তরিক প্রত্যাশা সত্ত্বেও অতীতে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো সরকার এ সিদ্ধান্তটি নেয়নি। বর্তমান সরকারের আন্তরিকতার কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। সে জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, যাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ছাড়া এই কাজ সম্ভব হত না তাদেরকে আমি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি আর ধন্যবাদ জানাচ্ছি, তারা হলেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ভাই, উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকি। আরও আছেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান ভাই এবং তার টিমের কর্মকর্তাদেরকে।

লতিফুল ইসলাম শিবলী বলেন, ‘কবি নজরুল ইন্সটিউটের দায়িত্ব পাওয়ার পর ৪ মাসের মধ্যে একটা দীর্ঘ দিনের দাবি বাস্তবায়িত করতে পেরে মহান আল্লাহর শুকরীয়া আদায় করছি- আলহামদুলিল্লাহ। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পরই প্রথম জানতে পারলাম যে জাতীয় কবি হিসেবে নজরুলের প্রত্যক্ষ অফিসিয়াল কোন স্বীকৃতি নেই। যেটা আছে সেটা পরোক্ষভাবে নজরুল ইনস্টিটিউট এর অর্ডিন্যান্স হিসেবে, এবং মুখে মুখে প্রচলিত স্বীকৃতি।’

তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম দিন নজরুলের কবর জেয়ারত করে পণ করেছিলাম যে এই কাজটা আমি করব। আলহামদুলিল্লাহ সেটা করতে পেরেছি। আর নতুন বাংলাদেশ এখন দাঁড়িয়ে আছে নজরুলের দ্রোহ প্রেম ও সাম্য চেতনার ওপর। ইনশাল্লাহ এই চেতনাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য আমরা কাজ করে যাব।’

খুব তাড়াতাড়ি এই খুশি উদযাপন করবেন বলেও জানান কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক।

কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কলকাতা থেকে সরকারি উদ্যোগে সপরিবারে ঢাকায় আনা হয় এবং তাঁর বসবাসের জন্য ধানমন্ডির ২৮ নম্বর (পুরাতন) সড়কের ৩৩০-বি বাড়িটি বরাদ্দ প্রদান করা হয়।

এরপর ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তাকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বেসামরিক সম্মানসূচক পদক একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। 

১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তারিখে বঙ্গভবনে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদউল্লাহ নজরুলকে ডি. লিট উপাধিতে ভূষিত করেন। 

কবি নজরুল ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ইন্তেকাল করেন। নজরুল তার একটি গানে লিখেছেন, ‘মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই, যেন গোরে থেকেও মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই’। এই ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

তার নামাজে জানাজায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ শরিক হন। জানাজার পর রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, রিয়াল এডমিরাল এম এইচ খান, এয়ার ভাইস মার্শাল এ জি মাহমুদ, মেজর জেনারেল দস্তগীর জাতীয় পতাকা-মোড়ানো নজরুলের মরদেহ বহন করে সোহরাওয়ার্দী ময়দান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নিয়ে যান। বাংলাদেশে তার মৃত্যু উপলক্ষে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালিত হয়। 

পরবর্তীকালে তাঁকে জাতীয় কবি হিসেবে সম্বোধন করে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৮ জারি করা হয়।

১৯২৯ সালের ১০ ডিসেম্বর অবিভক্ত ভারতের কলকাতার এলবার্ট হলে সমগ্র বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে নেতাজী সুবাস চন্দ্র বসু, বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, এস, ওয়াজেদ আলী, দীনেশ চন্দ্র দাশসহ বহু বরণ্যে ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ‘জাতীয় কাণ্ডারী’ এবং ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। 

কিন্তু সর্বক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে স্বীকৃত হলেও কবি কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা করে ইতিপূর্বে সরকারিভাবে কোনো গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।

পরবর্তী খবর

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আলাদা অধিদপ্তর করা হবে: তারেক রহমান

| প্রকাশিত: ১১:১১ অপরাহ্ন, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সমাজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের চ্যালেঞ্জ মোটানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আলাদা অধিদপ্তর গঠন করবে।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘এলজিইডি-আরডিইসি’ ভবন মিলনায়তনে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। 
 
এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

‘সমাজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য একটি পৃথক অধিদপ্তর গঠনের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি পরিচালনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাজের সমন্বয় করবে।
 
বিএনপি প্রতিবন্ধী নাগরিক সংগঠনের পরিষদ (পিএনএসপি)  সম্বন্বয়ে এই অনুষ্ঠানের আযোজন করে। বিভিন্ন সংস্থার প্রায় ১৫০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি এ মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।

পিএনএসপি’র সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুবের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিষদেও বিশেষ অনুরোধে পরবর্তীতে এ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বিএনপি প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছে। তাঁর দল বিএনপি সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে চায়, যাতে তাদের একজনও  সামাজিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়।

তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচত হয়ে ক্ষমতায় গেলে আমরা সকল গণপরিবহন এবং সরকারি ও বেসরকারি ভবনকে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিবান্ধব করার জন্য একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিতে চাই।’

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে কিন্তু প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের চাকরি পেতে অনেক সময় সমস্যা হয়।

এ বিষয়ে বিএনপির একটি পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বৃহৎ কোম্পানিগুলোকে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নিতে চাই’। যদি কোন কোম্পানি নির্দিষ্ট শতাংশ প্রতিবন্ধী নাগরিক নিয়োগ করে, তাহলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের কর মওকুফের সুবিধা প্রদান করা হবে বলেও তারেক রহমান উল্লেখ করেন।

এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. পারভেজ রেজা কাকন ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’র আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সাথে তারেক রহমানের আজকের মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারজানা শারমিন পুতুল, জাতীয় প্রেসক্লাবে স্থায়ী সদস্য সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম রনি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে’র সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক এম সাঈদ খান, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক ফারহান আরিফ।

দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে আসা অন্তত দেড় শতাধিক প্রতিবন্ধী নাগরিক এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

পিএনএসপির সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব (তিনি হুইল চেয়ারে বসা প্রতিবন্ধী) এবং আরেকজন সঞ্চালক ইফতেখার মাহবুব (তিনি নিজেও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী)।

তারেক রহমান বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমস্যা সমাধানের জন্য আলাদা অধিদপ্তর গঠন, জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে বিশেষায়িত ইউনিট স্থাপন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোবাইল হেলথ ক্লিনিক চালু, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সহায়ক উপকরণসমূহ দেশে তৈরির কারখানা স্থাপন, প্রতিবন্ধী শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট, প্রান্তিক থেকে কেন্দ্রীয় পর্যন্ত খেলাধুলার সিস্টেমেটিক ডেভেলপমেন্ট এবং টুর্নামেন্টের মাধ্যমে প্যারা অলিম্পিকের সহায়তা করা হবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা যারা আপনাদের মতন কঠিন শারীরিক বা মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হইনি তারা কিন্তু অনেক সময় বুঝতে পারি না কি অসীম বাধা অতিক্রম করে আপনারা স্বপ্ন দেখেন এবং আমাদেরকে স্বপ্ন দেখান বা দেখতে শিখান।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কথা শুনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজকে এখানে এসে আমার কাছে নতুন জগৎ উন্মোচিত হয়েছে। এখানে না আসলে এর সঙ্গে পরিচিত হতে পারতাম না। আমরা আপনাদের সহযাত্রী। ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আপনাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

পরবর্তী খবর

আলোচিত বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেছেন গুম-সংক্রান্ত কমিশন

| প্রকাশিত: ৭:৪৭ অপরাহ্ন, ০৩ অক্টোবর ২০২৪

আলোচিত বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেছেন গুম-সংক্রান্ত কমিশনের সভাপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। আয়নাঘরের বর্ণনা ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সকালে গুম-সংক্রান্ত কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এরই মধ্যে বিভিন্ন আয়নাঘরে নানা পরিবর্তনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মুছে ফেলা হয়েছে। অনেক দেয়ালে রঙ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কক্ষ ভেঙে ফেলারও প্রমাণ মিলেছে। তবে কোনো ভুক্তভোগীকে পাওয়া যায়নি।মিশনের সদস্যরা জানান, তারা লিখিতভাবে আয়নাঘরে সব ধরনের পরিবর্তন স্থগিত করার জন্য বলেছেন। অভিযুক্তদের তলব করে বিষয়টি ব্যাপকভাবে খতিয়ে দেখা হবে। গুমে অভিযুক্ত যেসব ব্যক্তি পালিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কমিশন অব ইনকোয়ারির সদস্য সাজ্জাদ হোসেন জানান, গুম-সংক্রান্ত যে বর্ণনাগুলো তারা পেয়েছেন, সেই অনুযায়ী এখন সেলগুলো অনেকাংশে নেই। বেশ কিছু জিনিস পরিবর্তন করা হয়েছে, কিছু ভেঙে ফেলা হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির কাছে মাত্র ১৩ কার্যদিনে ৪০০টি গুমের অভিযোগ জমা পড়েছে। এগুলোর বেশির ভাগই র‌্যাবের বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে ডিবি, সিটিটিসি, ডিজিএফআই; এসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধেও গুমের অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তী খবর

জুলাই-আগস্ট গণহত্যা নিয়ে আইসিসিতে অভিযোগ করতে পারে বাংলাদেশ : প্রধান উপদেষ্টাকে আদালতটির প্রধান প্রসিকিউটর

| প্রকাশিত: ১০:৩৫ অপরাহ্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)'র প্রধান প্রসিকিউটর করিম এ এ খান বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন (ইউএনজিএ)'র ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাতকালে করিম এ এ খান অধ্যাপক ইউনূসকে ২০১৯ সালে আইসিসি কর্তৃক রোহিঙ্গা নির্যাতন তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন।
এ সময় তিনি বলেন, তিনি এ বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশ সফর করবেন।
তিনি রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে নতুন গতি আনতে অধ্যাপক ইউনূসের তিন দফা প্রস্তাবের প্রশংসা করেন।
বুধবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এই প্রস্তাব দেন। এ সময় সেখানে আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটরও বক্তব্য রাখেন।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার নিমিত্তে জাতিসংঘ প্রধানের একটি জরুরি সম্মেলন আয়োজন ও করণীয় প্রস্তাব, রোহিঙ্গাদের মানবিক সংকটে নিরসনে যৌথ সহায়তা পরিকল্পনা জোরদার এবং ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত গণহত্যার বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে আন্তরিক আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা।
করিম খান বলেন, ‘এ তিন দফা যথার্থ।’
অধ্যাপক ইউনূস করিম খানের কাছে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের সময় গণহত্যার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইসিসিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান। এ বিপ্লবে কমপক্ষে ৭০০ জন শহিদ হয়েছেন এবং ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
করিম খান বলেন, বাংলাদেশ অবশ্যই হেগ-ভিত্তিক আদালতে অভিযোগ দায়ের করতে পারে। তবে তিনি বলেন, আইসিসিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়েরের জন্য যথাযথ নিয়মাবলী অনুসরণ করতে হয়।