পত্নীতলায় সাংবাদিক ও পুলিশের হস্তক্ষেপে রেহাই পেলো অসহায় পরিবার
নওগাঁর পত্নীতলায় নির্মইল ইউনিয়নের হাটশাউলি গ্রামে দশ দিন ধরে একঘরে অবস্থায় ছিলো একটি পরিবার। সাংবাদিক ও প্রশাসনের হসÍক্ষেপে অবশেষে একঘরে অবস্থা থেকে মুক্তি পেলো ওই গ্রামের আব্দুর রউফ এবং তার পরিবার।
আজ সোমবার (২৩ আগস্ট) সরেজমিনে জানা যায়, নির্মইল ইউনিয়নের হাটশাউলি গ্রামের আব্দুর রউফ এর কন্যা লতা পারভীন (২০) কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকায় অবস্থান করে আসছিলো। ঢাকা থেকে বেশ কিছুদিন আগে সে তার গ্রামের বাসায় চলে আসে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তার পরিবার জানতে পারে তাদের মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা এবং এর অল্প ক’দিনের মধ্যে সে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করে।
বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, স্থানীয় ইউপি সদস্য ইয়াছিন আলী এবং গ্রামের কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তিবর্গ গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে ওই পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করে। সেই সালিশে সিদ্ধান্ত হয় সদ্যজাত শিশুটির পিতৃপরিচয় না দিতে পারলে তাদেরকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হবে। এছাড়াও বিভিন্নভাবে তাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। উপায়ন্তর না দেখে এবং লোক লজ্জার ভয়ে প্রসব করবার আট দিনের মধ্যেই লতা তার শিশু সন্তানকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। গ্রামের প্রভাবশালী এবং স্থানীয় ওই মেম্বার এখানেই ক্ষান্ত হননি ।
নতুন উদ্দ্যোমে ওই নিরীহ পরিবারের উপরে নিজেদের মনগড়া আইনে নতুন নতুন চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। গত দশ দিন যাবৎ পরিবারটিকে সমাজ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিছিন্ন করে রাখা হয়, যাতে কোথাও যোগাযোগ করতে না পারে সেজন্য কেড়ে নেয়া হয় তাদের মুঠোফোনটিও। নিজের একমাত্র সম্বল বসতবাড়িটি ছেড়ে অনত্র চলে যেতে বেঁধে দেওয়া হয় চারদিনের সময়সীমা। আজ সোমবার (২৩ আগস্ট) ছিলো সেই সময়সীমার শেষ দিন। প্রতিবেদক ওই ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পূর্বেই নিয়ে নেয়া হয় জরিমানার ৩০ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিভাবক লতার বাবা আব্দুর রউফ-এর সাথে কথা বললে তিনি সাংবাদিকদের জানান, জন্মের পর থেকে আমরা এই গ্রামে বসবাস করে আসছি। এই ভিটামাটি ছেড়ে আমি কোথায় যাবো! তাদেরকে অনুরোধ করেছিলাম আমি অসুস্থ গরীব মানুষ কাজ কর্ম ঠিকমতো করতে পারিনা, জরিমানার টাকাটা মাফ দেওয়া হোক। কিন্তু তারা টাকাটা নিয়েই ছাড়লো।
এ বিষয়ে নির্মইল ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য ইয়াছিন আলী’র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কোন সদুত্তর না দিয়ে বিষয়টিকে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেন।
তৎক্ষনাত বিষয়টি পত্নীতলা থানার ওসি শামসুল আলম শাহ্’কে জানানো হলে তিনি বিষয়টিকে আমলে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে র্ফোস পাঠান। অবস্থা বেগতিক দেখে পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই ইউপি সদস্য ঘটনাস্থলে এসে প্রশাসনের চাপের মুখে নিজের ভুল স্বীকার করে পরিবারটিকে আগের মতোই বসবাস করতে বলেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারটির প্রতি গ্রামবাসীকে সহনশীল হবার অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন সরকার-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। ভুক্তভোগী পরিবারটির সাথে যা হয়েছে সেটি অন্যায়। কাউকে তার নিজ বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ কারার এখতিয়ার কারোর নেই, এ জন্য প্রচলিত আইন রয়েছে।
যতক্ষণ প্রাণ থাকবে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের সমর্থনই আমাদের শক্তি। তাই যতক্ষণ আমাদের প্রাণ থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই দেশ এবং এই দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব।
তিনি আজ সকালে পিএমখালি ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখননের কাজ শুরুর পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ কথা বলেন।
বিএনপি জনগণের জন্য রাজনীতি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। আর বিএনপি সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায়।’
তিনি বলেন, খবরের কাগজগুলোতে দেখলাম, এবারের বাজেটের পরে এখন পর্যন্ত কোন জিনিসের দাম বাড়েনি। কারণ চাল, ডাল, তেল, নুনসহ সকল প্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর যে ট্যাক্স ছিল বর্তমান সরকার এই দুইদিন আগের বাজেটে ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে তা তুলে নিয়েছে। যেন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম না বাড়ে। এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য একটাই, দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে।'
দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে বিরোধী দল প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিরোধী দল বলছে যে এই গণবিরোধী বাজেট তারা মানে না।'
উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই, যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয় সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। যেই বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, যেই বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। তাহলে এবার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন?
তারেক রহমান বলেন, ‘তাদের (বিরোধী দল) লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে অস্থিতিশীতা ও অশান্তি তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।’
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট উপস্থাপন করেন।
এদিকে বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, এখানে কেনো এসেছি বলেন তো? পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করতে। আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে এই খাল খনন করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এই খাল খননের ফলে ৪০ হাজার মানুষের উপকার হবে। উপকৃত হবে সাড়ে ৮ হাজার কৃষক। এ কারণে আমারা আগামী পাঁচ বছরে ২৩ হাজার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কিন্তু কৃষির সাথে সাথে আমাদেরকে শিল্প-বাণিজ্যেও গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্প- বাণিজ্যের উন্নতি ঘটলে আমাদের সন্তানদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। চাকরি বাকরি, ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবে। এ কারণে যে সকল দ্রব্য দেশে উৎপাদিত হয় অথচ একই জিনিস যেগুলো বিদেশ থেকে আসে সেগুলোর ওপর আমরা ট্যাক্স বাড়িয়েছি। যাতে করে দেশে উৎপাদিত দ্রব্যটি যারা উৎপাদন করে, সেই শিল্প কারখানাটি সাপোর্ট পায়, তার ব্যবস্থা আমরা এই বাজেটের মধ্যে রেখেছি। এটিও বিরোধী দলের পছন্দ নয়।’
তিনি বলেন, 'আমি বলতে চাই, এদেশের মালিক আপনারা। দেশের মালিক কোন রাজনৈতিক দল নয়, দেশের মালিক কোন পরিবার নয়, দেশের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশের ২০ কোটি জনগণ।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ আমাদের সকলের। এই দেশই আমাদের প্রথম ঠিকানা, এই দেশই আমাদের শেষ ঠিকানা। সেজন্যই আমরা বলি এই দেশকে গড়লে আমরাই ভালো থাকবো,আমাদের সন্তানরাই শান্তিতে থাকতে পারবে।’
তিনি বলেন, 'এই দেশকে যদি আমরা গড়তে না পারি তাহলে আমাদের সন্তানরা দুঃখ কষ্টে থাকবে। কেউ কি চায় নিজের সন্তান কষ্টে থাকুক? কেউ আমরা চাই না। সেজন্যই আমরা একটি কথাই বলি, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।'
কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, স্থ্নাীয় নেতা হারুনুর রশীদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এর আগে সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে এই খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী মুষল বৃষ্টির মধ্যেই ফ্লাইট থেকে নেমে সড়ক পথে পিএমখালীতে আসেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই নিজের হাতে কোদাল দিয়ে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রী খালের পাড়ে একটি খেজুর গাছের চারা রোপণ করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন --------ডিসি আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
বাংলাদেশ ৬৪ জেলায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজায়নের প্রত্যয় নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ১ টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের যৌথ উদ্যোগে এই বিশাল বৃক্ষরোপণ যজ্ঞের সূচনা ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপসচিব) ও পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন সুলতানা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডাঃ এ কে এম শাহাব উদ্দীন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক ড. মোঃ ইয়াছিন আলী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন, সামাজিক বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক নায়েমা আক্তার, হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) রুবিনা আনিস, অনুজ চন্দ সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অনুজ চন্দ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ আবু সাঈদ, জেলা কর্মসংস্থান ও জেলা জনশক্তি সহকারী পরিচালক আখলাক উদ জ্জামান, পরিসংখ্যান ব্যুরো উপ-পরিচালক রাজীব কুমার কর্মকার ও জেলা ফুড অফিস সাব ইন্সপেক্টর মোঃ শহিদুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ রফিকুল ইসলাম, হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ । উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর এই মহাপরিকল্পনা জেলার পরিবেশগত উন্নয়নে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে। এই কর্মসূচি সফল করতে তারা সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সামাজিক বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক নায়েমা আক্তার জানান, এই বছর এক লক্ষ চরাগাছ রোপন করা হবে এর মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে ২০০ টি করে চারাগাছ রোপণ, পৌরসভায় ১৫০০ টি চারা গাছ রোপন ও প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫০ টি চারা রোপণ, এছাড়াও সরকারি রাস্তার পাশে সরকারি জায়গায় অন্যান্য চারাগাছ রোপন করা হবে। অনুষ্ঠানে হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশাল কর্মসূচির সূচনা করা হয়।
কুষ্টিয়া সীমান্তে ১২ জনকে পুশইন চেষ্টা: পতাকা বৈঠকেও মেলেনি সমাধান
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ‘পুশ-ইন চেষ্টার শিকার ১২ জন নারী-শিশুসহ ব্যক্তি টানা এক রাত শূন্যরেখায় কাটিয়েছেন। ঘটনার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকেও তাদের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে ১৪৮ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভারতের রানীনগর বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ডার এসি সুনীল কুমার এবং ৪৭ বিজিবির সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা নেতৃত্ব দেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, শূন্যরেখায় অবস্থানরত ১২ জন প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় নাগরিক কি না, তা যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে বিএসএফ জানিয়েছে। এর আগ পর্যন্ত তাদের সীমান্তের শূন্যরেখাতেই অবস্থান করতে হবে।
বিজিবির কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, দুই বাহিনীর মধ্যে প্রায় ৩০ মিনিট পতাকা বৈঠক হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তিদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে বিএসএফ কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।
তিনি বলেন, দৌলতপুরের প্রাগপুর ইউনিয়নের চরবিলগাথুয়া সীমান্তে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের পুশ ইন মেনে নেওয়া হবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে আছেন।
বিজিবি জানায়, শুক্রবার ভোরে বিএসএফ নারী ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয়রা বাধা দেয়। পরে তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর থেকেই তারা দুই দেশের মাঝামাঝি শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
প্রসঙ্গত, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে ‘পুশ ইন’ বন্ধে বাংলাদেশের আহ্বানের পর বিএসএফ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছিল। সেই আশ্বাসের মধ্যেই নতুন করে এ ঘটনা ঘটল।
কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ শনিবার সকাল ৯টা ৫৩ মিনিটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছেন। এর আগে তিনি সকাল ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান রয়েছেন। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সড়ক পথে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি পিএমখালী ইউনিয়নে পাতলী খাল পুন:খনন কর্মসূচির অনুষ্ঠানস্থলে যান। খাল পুনঃখননের পর তিনি সেখানে একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।
প্রধানমন্ত্রীর দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে - ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন, মাছুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পেকুয়া উপজেলায় ২০২৪ সালের জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ মো. ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ।
এছাড়া নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বিকেলে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন তিনি।
পরে প্রধানমন্ত্রী মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন করবেন। সন্ধ্যায় লং বিচ হোটেলে এক সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।
বৃক্ষরোপণ ও খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাতে বিমানে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।
দেড় দশকের বেশি সময় লন্ডনে অবস্থানের পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম কক্সবাজার সফর।
কুষ্টিয়া সীমান্তে ১২ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ ইন) চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় সীমান্তবাসী।
শুক্রবার (১২ জুন) ভোরে প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায়।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জন অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয়রা তা প্রতিহত করে। পুশ ইনের চেষ্টাকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন পুরুষ, চারজন নারী এবং চারজন শিশু রয়েছে। বর্তমানে তারা ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের বাইরের অংশে অবস্থান করছে।
প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল বলেন, ভোরের দিকে ভারত থেকে ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় জনগণ ও বিজিবি যৌথভাবে তাদের প্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করেছে।
প্রাগপুর বিওপির দায়িত্বপ্রাপ্ত সুবেদার আসাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, ১২ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। যাতে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ কাজে স্থানীয় সীমান্তবাসীও সহযোগিতা করছে।
টেকনাফে র্যাবের অভিযানে ৫ লাখ পিস ইয়াবাসহ দুই মিয়ানমার নাগরিক আটক
বিশেষ প্রতিনিধি: কামরুল ইসলাম, টেকনাফ (কক্সবাজার)
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫) এর বিশেষ অভিযানে ৫ লাখ পিস ইয়াবাসহ দুই মিয়ানমার নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাবরাং খালের দক্ষিণ পাশে মন্ডলপাড়া এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সীমান্ত অতিক্রম করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টাকালে দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। তবে অভিযানের সময় তাদের সহযোগী আরও ৪ থেকে ৫ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের বাসিন্দা মো. সাজেদ (৩২) ও এনামুল হাসান (৩৩)। তাদের কাছ থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটক দুই ব্যক্তি একটি আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে সীমান্তপথে বাংলাদেশে পাচার করে আসছিলেন।
র্যাব-১৫ জানায়, উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
মধ্যরাতে গ্রিল কেটে প্রবেশ, লুটপাটের পর যৌন সহিংসতা
চকরিয়ায় সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫, পলাতক আরও কয়েকজন
কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়ায় গভীর রাতে একটি বসতবাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির পর এক নারী ও তার অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার ওপর যৌন সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। আলোচিত এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকায় তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৪০ মিনিটের মধ্যে উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ডলনীঘোনা এলাকার একটি পাকা বসতবাড়িতে হামলা চালায় ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে তারা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে।এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, লুটপাটের একপর্যায়ে ওই পরিবারের এক নারী ও তার অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যা যৌন সহিংসতার শিকার হন। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।সংবাদ পেয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের নির্দেশনায় চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে এবং চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে চকরিয়া থানা পুলিশ ও মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা অংশ নেন।পুলিশ জানায়, অভিযানের একপর্যায়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— তারেক (২৫), তোফাজ্জল হোসেন ওরফে বাবু (২৩), মেহেদী (২৪), তানজীদ (২৫) এবং কেফায়েত হোসেন (২৫)। তারা সবাই চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।এ ঘটনায় চকরিয়া থানায় পেনাল কোডের ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারাসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০২৫)-এর ৯(৩)/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ময়মনসিংহে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
মকবুল হোসেন,
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি
“উদ্ভাবন নির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিভাগীয় পর্যায়ে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলা-২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ১১জুন বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের আয়োজনে এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের পৃষ্ঠপোষকতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার জন কেনেডি জাম্বিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধানঅতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। তাই শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেই লক্ষ্য অর্জনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চর্চার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারলে দেশও উন্নতির পথে আরও এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দিয়েই আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। উদাহরণ হিসেবে চীনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার ব্যাপক বিস্তারের কারণেই দেশটি দ্রুত উন্নয়ন করেছে। বাংলাদেশকেও এগিয়ে নিতে বিজ্ঞান শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বিজ্ঞান মেলার জন্য শুধু প্রকল্প তৈরি করলেই হবে না, অবসর সময়েও নতুন নতুন উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে হবে। বিদ্যালয়ের পাঠদানের পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার মাধ্যমে নিজেদের সৃজনশীলতা বিকাশ করতে হবে। এ সময় তিনি শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিজ্ঞান ক্লাব ও বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম যেন শুধু মেলার সময় সীমাবদ্ধ না থাকে। সারা বছর নিয়মিত বিজ্ঞান চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যত বেশি হাতে-কলমে বিজ্ঞান শিক্ষা গ্রহণ করবে, তত বেশি নতুন কিছু আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, বিজ্ঞান শিক্ষায় নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা ও সমস্যা থাকলেও কোনো সমস্যাই স্থায়ী নয়। শিক্ষকরা আন্তরিকভাবে কাজ করলে এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করলে এসব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে একটি উদ্ভাবননির্ভর, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ড. মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস।এ সময় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা বৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক -শিক্ষার্থীবৃন্দ, বিজ্ঞান অনুরাগী বৃন্দ এবং গণমাধ্যম কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভাগীয় পর্যায়ে বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও উদ্ভাবকদের মধ্যে থেকে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয় এবং তাদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন: নেত্রকোনায় আ.লীগ নেতাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নেত্রকোনার জেলা শহরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২৫ জন নেতাকর্মীকে নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন সরকার। মামলার বাদী আহত জুলাই যোদ্ধা ও এনসিপি নেত্রকোনা জেলা কমিটির সিনিয়র সদস্যসচিব মুশফিকুর রহমান মিন্টু। বুধবার রাতে তিনি মামলাটি দায়ের করেন
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান খান অভ্র, সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল হাফিজ রেশিম ও দেওয়ান রনি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আরিফুজ্জামান রনি ও সাধারণ সম্পাদক আরেফিন কায়সার শুভ, যুবলীগ নেতা দেওয়ান বাঁধন এবং ছাত্রলীগ নেতা কৌশিক রায় ও গৌরব আহমেদ খানসহ আরও অনেকে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এজাহারে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মরণে নেত্রকোনা শহরের জয়নগর মোড়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। গত ১০ জুন সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে বাদী জানতে পারেন, রাতের আঁধারে একদল ব্যক্তি স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয় এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
বাদীর অভিযোগ, এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন সরকার বলেন, “এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাতে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকার জয়নগর মোড়ে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
দিনাজপুর বীরগঞ্জে ‘সবুজ ও পরিচ্ছন্ন কর্মসূচির উদ্বোধন
রনজিৎ সরকার রাজ দিনাজপুর প্রতিনিধি :দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলাকে সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে “সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বীরগঞ্জ” কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনিক প্রাঙ্গণ থেকে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করা হয়। বীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ স্কাউটস বীরগঞ্জ এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বীরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপংকর বর্মন-এর সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিবেদিতা দাস, বীরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর বাদশা রনি, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. শাহিদা হকসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। “সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বীরগঞ্জ” কর্মসূচির মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য বীরগঞ্জ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
আয়োজকরা জানান, কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বীরগঞ্জকে একটি মডেল সবুজ ও পরিচ্ছন্ন উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হবে।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা বীরগঞ্জকে সবুজ, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে সকলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।