ট্রাইব্যুনালে সালমান-আনিসুল-দীপু মনিসহ ১৯ জন

Newsdesk | প্রকাশিত: ৩:৪৬ অপরাহ্ন, ২০ এপ্রিল ২০২৫

জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গণহত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ১৯ জনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

রোববার সকাল ১০টায় প্রিজন ভ্যানে করে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহম্মেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান খানসহ ১৯ জনকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে শুনানি করবেন আজ। ট্রাইব্যুনালের বাকি দুই সদস্য হলেন, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গণহত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক ১২ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টাসহ ১৯ আসামিকে হাজির করার জন্য আজ ২০ এপ্রিল দিন ধার্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে ১৭ ডিসেম্বর জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গণহত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক ১২ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টাসহ ১৯ আসামিকে হাজির করার জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

তারা হলেন- বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, ফারুক খান, দীপু মনি, আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, গোলাম দস্তগীর গাজী, আমির হোসেন আমু, কামরুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী, সালমান এফ রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, জুনায়েদ আহমেদ পলক, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাংগীর আলম।

পরবর্তী খবর

দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা

| প্রকাশিত: ৭:৩৪ অপরাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশবাসীর মাথাপিছু আয় বেড়ে ৩ হাজার ২০ মার্কিন ডলার হয়েছে। যা টাকার হিসাবে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ১৫ পয়সা ধরে)।

গত অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। এ হিসাবে বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ২৫১ মার্কিন ডলার।

এদিকে দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), অর্থাৎ অর্থনীতির আকারও ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৫০১ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী আজ বুধবার (১০ জুন) এসব তথ্য প্রকাশ করে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগ ও সঞ্চয় স্থবিরতার মধ্যেও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

খাতভেদে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে সেবা খাতে। এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

এ ছাড়া শিল্পে ২ দশমিক ৮৬ এবং কৃষিতে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় কৃষি ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কমলেও শিল্প খাতে বেড়েছে।
পরবর্তী খবর

আমরা কেন আল্লাহকে দেখতে পাই না: ইসলাম কী বলে?

| প্রকাশিত: ৬:৩৮ অপরাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬


মানুষের মনে যুগে যুগে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খেয়েছে—যদি আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করে থাকেন, তবে আমরা তাঁকে দেখতে পাই না কেন? এই প্রশ্ন শুধু সাধারণ মানুষের নয়, বরং ইতিহাসে নবী-রাসুলদের যুগ থেকেও বিভিন্ন মানুষ এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন। ইসলাম এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ও যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।

আল্লাহ দৃশ্যমান জগতের সৃষ্টিকর্তা

ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস হলো, আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টি জগতের স্রষ্টা। তিনি সময়, স্থান ও বস্তুজগতের সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে। আমরা যে চোখ দিয়ে দেখি, তা মূলত সৃষ্ট বস্তু, আলো এবং নির্দিষ্ট আকৃতির জিনিস দেখার জন্য উপযোগী। কিন্তু আল্লাহ কোনো সৃষ্ট বস্তু নন, তাঁর কোনো আকৃতি বা সীমাবদ্ধ রূপ নেই। তাই মানুষের পার্থিব চোখ দ্বারা আল্লাহকে দেখা সম্ভব নয়।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে:

“দৃষ্টিসমূহ তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না, অথচ তিনি সকল দৃষ্টিকে আয়ত্ত করেন।” (সূরা আল-আনআম: ১০৩)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, মানুষের দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতা রয়েছে, কিন্তু আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতা সীমাহীন।

হযরত মূসা (আ.)-এর ঘটনা

আল্লাহকে দেখার আকাঙ্ক্ষা মানুষের মধ্যে নতুন নয়। কুরআনে উল্লেখ আছে, হযরত মূসা (আ.) আল্লাহর কাছে তাঁকে দেখার আবেদন করেছিলেন। তখন আল্লাহ বলেন, “তুমি আমাকে দেখতে পারবে না।” এরপর আল্লাহ একটি পাহাড়ের দিকে তাঁর নূরের সামান্য প্রকাশ ঘটালে পাহাড়টি ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং মূসা (আ.) অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, দুনিয়ার কোনো সৃষ্টি আল্লাহর মহিমা ও নূরের পূর্ণ প্রকাশ সহ্য করার ক্ষমতা রাখে না।

দুনিয়া হলো পরীক্ষা, প্রত্যক্ষ দর্শনের স্থান নয়

ইসলাম অনুযায়ী পৃথিবীর জীবন একটি পরীক্ষা। মানুষকে বিশ্বাস, বিবেক, চিন্তাশক্তি ও প্রমাণের ভিত্তিতে আল্লাহকে মেনে নিতে হয়। যদি সবাই আল্লাহকে সরাসরি দেখতে পেত, তাহলে ঈমান আনার পরীক্ষার অর্থ অনেকাংশে হারিয়ে যেত।

যেমন আমরা বাতাস দেখতে পাই না, কিন্তু তার অস্তিত্ব অনুভব করি; তেমনি আল্লাহকে চোখে না দেখলেও তাঁর সৃষ্টি, নিয়ম-কানুন এবং অসংখ্য নিদর্শনের মাধ্যমে তাঁর অস্তিত্ব উপলব্ধি করতে পারি।

জান্নাতে মুমিনদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার

ইসলামী আকিদা অনুযায়ী, দুনিয়ায় আল্লাহকে দেখা সম্ভব না হলেও আখিরাতে জান্নাতবাসী মুমিনদের জন্য আল্লাহকে দর্শন করার সৌভাগ্য হবে। এটি হবে জান্নাতের সবচেয়ে বড় নিয়ামত ও আনন্দ।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, জান্নাতবাসীরা তাদের প্রতিপালককে এমনভাবে দেখতে পাবে, যেমন তারা পূর্ণিমার চাঁদকে স্পষ্টভাবে দেখে।

অর্থাৎ, আল্লাহকে না দেখতে পাওয়া কোনো বঞ্চনা নয়; বরং এটি দুনিয়ার জীবনের একটি বাস্তবতা, আর তাঁর দর্শন হবে পরকালের বিশেষ পুরস্কার।

যুক্তির আলোকে বিষয়টি

মানুষের জ্ঞান ও ইন্দ্রিয়ের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা মহাবিশ্বের অসংখ্য বিষয় আজও পুরোপুরি বুঝতে পারিনি। এমনকি আত্মা, মাধ্যাকর্ষণ শক্তি বা অনেক প্রাকৃতিক শক্তিকেও আমরা সরাসরি দেখি না, বরং তাদের প্রভাব দেখি। সুতরাং শুধুমাত্র চোখে দেখা যায় না বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব অস্বীকার করা যুক্তিসঙ্গত নয়।

আল্লাহকে দেখা যায় না, কিন্তু তাঁর সৃষ্টির নিখুঁত বিন্যাস, প্রকৃতির বিস্ময়কর নিয়ম, মানবদেহের জটিলতা এবং মহাবিশ্বের শৃঙ্খলা তাঁর অস্তিত্ব ও ক্ষমতার সাক্ষ্য বহন করে।


“আমরা কেন আল্লাহকে দেখতে পাই না?”—এর উত্তর ইসলামে অত্যন্ত স্পষ্ট। আল্লাহ মানুষের দৃষ্টিশক্তির সীমার বাইরে, কারণ তিনি সৃষ্টির মতো নন এবং তাঁর মহিমা দুনিয়ার কোনো সৃষ্টির পক্ষে ধারণ করা সম্ভব নয়। পৃথিবী বিশ্বাস ও পরীক্ষার স্থান, আর আখিরাত হলো পুরস্কারের স্থান। তাই একজন মুমিন আল্লাহকে চোখে না দেখেও তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তাঁর নির্দেশনা অনুসরণ করে এবং সেই মহিমান্বিত দিনের অপেক্ষায় থাকে, যেদিন জান্নাতে আল্লাহর দর্শন লাভ হবে সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার হিসেবে।

আল্লাহকে দেখা না গেলেও তাঁর অসংখ্য নিদর্শন আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে আছে; আর সেই নিদর্শনগুলোই মানুষকে তাঁর পরিচয় ও মহত্বের দিকে আহ্বান জানায়।


সম্পাদনায় শেখ মো শাহিনুর রহমান উজ্জ্বল 

সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক 

পরবর্তী খবর

হাম উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

| প্রকাশিত: ৫:৪২ অপরাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬
দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩৯ জনে।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কেউ মারা না গেলেও সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে আটজনের।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯২ জনের প্রাণ গেছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে প্রাণহানির সংখ্যা ৫৪৭ জন।

প্রতিবেদনে উল্লেখিত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৯৪ জনের। এসময়ে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪৫ জন।

গত ১৫ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৯২৭ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ২৯ জন। একই সময়ে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৬৬ হাজার ৯৯৯ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৬৩ হাজার ১৪৫ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৫৬ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। এছাড়া বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেটে তিন এবং ময়মনসিংহ ও রাজশাহীতে দুজন করে মৃত্যুবরণ করেছে।

সন্দেহজনক হামেও সবচেয়ে বেশি ২২৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এরপর ৮৬ জন মারা গেছে রাজশাহীতে। সেই সঙ্গে সিলেটে ৬৬, ময়মনসিংহে ৫০, চট্টগ্রামে ৪৭, বরিশালে ৩৮, খুলনায় ২৩ ও রংপুরে আটজন প্রাণ হারিয়েছে।
পরবর্তী খবর

সব এমপির নির্বাচনি এলাকায় সমান উন্নয়ন হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ৫:৪০ অপরাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬
সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) নির্বাচনি এলাকার মতোই বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকাতেও সমান গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সব নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। সরকারদলীয় সদস্যরা যেভাবে নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবেন, একইভাবে বিরোধী দলের সদস্যদের এলাকাতেও সমানভাবে উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হবে।

অর্থনৈতিক খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে সুদের হার পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ পর্যন্ত ৬০ হাজার পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে আরও ৪১ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাপমাত্রা সহনশীল রাখা এবং দূষণ কমানোর লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আসন্ন বর্ষা মৌসুমেই ৩ কোটি ১৪ লাখ গাছ রোপণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৯৫৬ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে।
পরবর্তী খবর

যেমনে পারি ডাক্তার দেব--ডেঙ্গু রোগী বেশি হলে--স্বাস্থ্যমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬

আমার একটাই কথা, একটাকে সবাই মিলে মোকাবিলা করতেছি। অনেকটা এগোচ্ছি আরেকটা আসতেছে। আপনারা দয়া করে যার যার অবস্থান থেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবেন। ডেঙ্গুর প্রটোকল মেনটেইন করবেন।’

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ৪৫ তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে’ এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার একটাই কথা, একটাকে সবাই মিলে মোকাবিলা করতেছি। অনেকটা এগোচ্ছি আরেকটা আসতেছে। আপনারা দয়া করে যার যার অবস্থান থেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবেন। ডেঙ্গুর প্রটোকল মেনটেইন করবেন।’



চিকিৎসকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের অনেক বিরাট বড় সার্কেল সারা বাংলাদেশে। সবাইকে বলবেন, ওই যে বড় বড় ডাক্তাররা যেগুলো বলেছে, অ্যান্টিবায়োটিক না দেওয়া বা আপনার প্লাজমা লিক শুরু হলে প্রত্যেকটা রোগীর প্রতি খেয়াল রাখা। প্লাজমা লিকে সঙ্গে সঙ্গে ফ্লুইড দেওয়া যাতে করে শকে না চলে যায়। এই জিনিসগুলো আপনারা আপনাদের বন্ধুবান্ধবদের বলবেন। যদি সমস্যা হয়, রোগী বেশি হয়ে যায়, আমাদের জানাবেন। আমরা যেমনে পারি ডাক্তার দেব। প্রয়োজনে আপনাদের বাইটা (ভাগ করে) দিয়ে দিব। তবু আমাদের মানুষদের বাঁচাতে হবে।’

জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক অবদানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সিপাহি বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণ জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং রাজনীতির পথ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন।’ এ সময় জিয়াউর রহমান এবং তাঁর সন্তান আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দেশের জন্য তাঁর নেতৃত্বের সফলতা কামনা করেন মন্ত্রী।

পরবর্তী খবর

প্রাথমিকের পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে সংগীত, নৃত্য, নাট্য ও চারুকলা বই

| প্রকাশিত: ৩:২৯ অপরাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষায় শিল্প ও সংস্কৃতিভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২০২৮ সালের নতুন কারিকুলামে সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারুকলাকে পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এর আগে ২০২৭ সালে চতুর্থ শ্রেণির শিল্প ও সংস্কৃতি পাঠ্যবইয়ে চারটি পৃথক অধ্যায়ে এসব বিষয় যুক্ত করা হবে।

বুধবার (১০ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।


প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার বিস্তার, নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন এবং দক্ষ শিক্ষক তৈরির লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারিত হলে ভবিষ্যতে বিপুলসংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে। এর ফলে সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা, নাট্যকলা ও ক্রীড়া বিষয়ে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং এসব বিষয়ে একটি টেকসই পেশাগত পথ গড়ে উঠবে।

তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতা কামনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা চান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। এ লক্ষ্যে কীভাবে তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষকতা-সংক্রান্ত প্রস্তুতি যুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করতে চায় সরকার।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সংগীত, নাট্যকলা ও নৃত্যকলাকে শুধু সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে নয়, শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার। এজন্য কারিকুলাম উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ শিক্ষক তৈরির পরিকল্পনাও এখন থেকেই নেওয়া হচ্ছে।

সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


পরবর্তী খবর

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ এখন স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য নাম: সেনাপ্রধান

| প্রকাশিত: ৩:২৭ অপরাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ এখন একটি স্বীকৃত ও অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য নাম বলে মন্তব্য করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বুধবার (১০ এপ্রিল) ঢাকার সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, ১৯৮৮ সাল থেকে জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বশান্তিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে এবং বর্তমানে বিশ্বের ৯টি মিশনে ৪ হাজার ২১২ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিয়োজিত রয়েছেন।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৯টি শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩ হাজার ৬০৮ জন, নৌবাহিনীর ৩০২ জন, বিমান বাহিনীর ২৬৭ জন এবং পুলিশের ৩৫ জন সদস্যসহ মোট ৪ হাজার ২১২ জন শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারী শান্তিরক্ষীরাও অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ৩ হাজার ৯০৫ জন নারী শান্তিরক্ষী সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ২৯৪ জন নারী শান্তিরক্ষী নিয়োজিত রয়েছেন।’

বর্তমান বিশ্বে শান্তিরক্ষা মিশনের ধরন ও চ্যালেঞ্জ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা উন্নত প্রশিক্ষণ, নৈতিক মূল্যবোধ, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। জাতিসংঘের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, চিকিৎসা ও প্রকৌশল সহায়তা এবং নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে কাজ করছে বাংলাদেশ।’


তিনি আরও জানান, জাতিসংঘের নতুন উদ্যোগ হিসেবে হাইতিতে গঠিত ‘গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্সে’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা অংশ নেবেন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার আরও জোরালো হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিদেশি অতিথিদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেন, ‘জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ তার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রাখবে। একইসঙ্গে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ কাজ করে যাবে।’

বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের দক্ষতা, সাহস, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ ও পেশাদারিত্ব বিশ্বে দেশের মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন সেনাপ্রধান।

তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সার্বিক সহযোগিতার কারণেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।’

অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান সেনাপ্রধান। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেশি-বিদেশি অতিথিদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

পরবর্তী খবর

খালাস পেলেন নাসির-তামিমা, মামলা খারিজ

| প্রকাশিত: ৩:২৫ অপরাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬

আইনগতভাবে বিচ্ছেদের আগেই নতুন করে বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জশিতা ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। ব্যভিচারের অভিযোগ এনে তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হোসেন ২০২১ সালে এ মামলা করেছিলেন। এরপর থেকে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলছিলো আলোচিত এই মামলা।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালে রাকিবের সঙ্গে তামিমার বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। কিন্তু বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন।


২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি জানতে পারেন রাকিব। পরে তিনি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের সেপ্টেম্বরে নাসির, তামিমা ও তামিমার মা সুমি আক্তারকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।

২০২২ সালে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে নাসির ও তামিমার বিচার শুরু হয়। তবে তামিমার মা সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ এবং অব্যাহতির বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ পৃথক আবেদন করলেও ২০২৩ সালে আদালত উভয় আবেদনই খারিজ করে দেন। এর মধ্য দিয়ে মামলার বিচার কার্যক্রমের আইনি বাধা দূর হয়।

মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। চলতি বছরের মার্চে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে নাসির ও তামিমা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। পরে আদালতে সাফাই সাক্ষ্য দিয়ে তামিমা বলেন, আগের স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটিয়ে বৈধভাবেই তিনি নাসির হোসেনকে বিয়ে করেছেন।

নাসিরের বিরুদ্ধে দুটি এবং তামিমার বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচার পরিচালিত হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাসিরের সর্বোচ্চ সাত বছর এবং তামিমার সর্বোচ্চ ২১ বছরের কারাদণ্ড হতে পারত। তবে বিচার শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দুজনকেই খালাস দেন।

পরবর্তী খবর

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যু-আহত হলে ১০ লাখ পর্যন্ত অনুদান দেবে ইসি

| প্রকাশিত: ৩:২১ অপরাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬

নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচনে এবং ভোটার তালিকা প্রণয়ন কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকালে কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বড় ধরনের শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলে তাদের এবং তাদের পরিবারকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত এককালীন আর্থিক অনুদান দেওয়ার লক্ষ্যে একটি নতুন নীতিমালা জারি করেছে। 

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। 

ইসি জানায়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জারি করা এই নীতিমালার আওতায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে দুর্বৃত্তদের হামলা বা দুর্ঘটনায় কেউ প্রাণ হারালে তার পরিবারকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং আকস্মিক অসুস্থতা বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নীতিমালার মাধ্যমে দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যেকোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা, অঙ্গহানি বা চিকিৎসার ব্যয়বহুল আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নির্বাচন কমিশন নিজস্ব বাজেট থেকে এই বড় অঙ্কের অনুদান নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।  

কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনে ও ভোটার তালিকা প্রণয়ন সংক্রান্ত কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ/গুরুতর অসুস্থ/আহত/গুরুতর আহত কর্মকর্তা/কর্মচারী ও মৃত ব্যক্তির পরিবারকে আর্থিক সহায়তা/অনুদান প্রদান নীতিমালা-২০২৬ শিরোনামের এই নীতিমালাটি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে নিয়োজিত সব কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এই নীতিমালার আওতায় আর্থিক সুবিধার সুবিধাভোগী হবেন।

এই নীতিমালার অধীনে অনুদানের হারকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমত, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি দুর্বৃত্তদের হামলা অথবা কোনো দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, তবে তার পরিবারকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। একই কারণে কেউ গুরুতর আহত বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা, গুরুতর আহত বা সাময়িকভাবে অক্ষম হলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা এবং সাধারণ আহতের ক্ষেত্রে আঘাতের ধরন বিবেচনা করে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে। 

দ্বিতীয়ত, দায়িত্ব পালনকালে কেউ যদি আকস্মিকভাবে অসুস্থ বা মৃত্যুবরণ করেন, তবে তার পরিবার সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা অনুদান পাবেন। এছাড়া আকস্মিক গুরুতর অসুস্থতা বা স্থায়ী অক্ষমতার জন্য সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা, সাময়িক অসুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা, হাসপাতালে ভর্তির পর ব্যয়বহুল চিকিৎসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা এবং সাধারণ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, নীতিমালায় অনুদান প্রাপ্তির ক্ষেত্রে পরিবারের উত্তরাধিকার নির্ধারণের জন্য অর্থ বিভাগের সর্বশেষ সরকারি কর্মচারী পেনশন সহজীকরণ আদেশ অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। যদি মৃত ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী থাকে তবে অনুদানের টাকা তাদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হবে এবং এক্ষেত্রে স্ত্রীদের যৌথভাবে আবেদন করতে হবে। তবে অনুদান পাওয়ার আগে স্বামী বা স্ত্রী পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে এই সুবিধা পাবেন না। মৃত ব্যক্তির কোনো স্বামী বা স্ত্রী জীবিত না থাকলে তার অনূর্ধ্ব ২৫ বছর বয়সী ছেলে বা অবিবাহিত মেয়ে এবং সন্তান না থাকলে বাবা-মা এই অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। নাবালক সন্তান থাকলে অভিভাবক নির্ধারণের ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালত অর্ডিন্যান্স ১৯৮৫ প্রযোজ্য হবে। এছাড়া অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে বাবা-মা বা ভাই-বোন এবং কোনো সন্তান না থাকলে স্বামী বা স্ত্রী অর্ধেক এবং বাকি অর্ধেক বাবা-মা বা অবিবাহিত ভাই-বোন সমহারে পাবেন। কোনো উপযুক্ত উত্তরাধিকারী না থাকলে বিবাহিত মেয়েরাও প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ আবেদন করতে পারবেন।

এছাড়া আর্থিক সহায়তার জন্য যেকোনো দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ছকে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বা অফিস প্রধানের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব বা সচিব বরাবর আবেদনপত্র পাঠাতে হবে। আবেদনের সঙ্গে নির্ধারিত আবেদন ফরম, আবেদনকারীর সত্যায়িত ছবি, উত্তরাধিকার সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এবং সিভিল সার্জন বা সরকারি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রদত্ত চিকিৎসাজনিত বা মৃত্যুর সনদ সংযুক্ত করতে হবে।

এই আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়নের জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-১ উইংয়ের যুগ্মসচিবকে সভাপতি এবং বাজেট ও অর্থ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিবকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের একটি যাচাই-বাছাই ও সুপারিশ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রতি অর্থবছরে অন্তত দুইবার প্রাপ্ত আবেদনসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে অনুদানের পরিমাণ নির্ধারণপূর্বক সচিবের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবে। পরে এই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে এককালীন এই অনুদানের অর্থ সরাসরি দেওয়া হবে। প্রতি অর্থবছরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নিজস্ব বাজেট থেকে এই কল্যাণমূলক অনুদানের অর্থ সংস্থান করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।



পরবর্তী খবর

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ১৭৫ বাংলাদেশি শহীদ হয়েছেন : প্রধানমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ৩:১৯ অপরাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা দিবসের এইদিনে আমি সারা বিশ্বের সেইসব সাহসী শান্তিরক্ষীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, যারা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আত্মত্যাগ করেছেন।

বুধবার সকালে (১০ জুন) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় ২০২৫ সালে সুদানে শাহাদাতবরণকারী ছয় সেনাসদস্যের স্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ওই হামলাসহ সম্প্রতি চলমান মিশনগুলোতে আহত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের হাতেও সম্মাননা তুলে দেন তিনি।

এছাড়া বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। আমি আল্লাহর দরবারে তাদের মাগফিরাত কামনা করছি। হতাহতদের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সহানুভূতি এবং সমবেদনা।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ বছর যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, আজকের এই বিশেষ দিনে তাদের পরিবারকে সম্মাননা জানিয়ে আমি আমার বিশ্বাস থেকে একটি কথা বলতে চাই, শুধু বাংলাদেশের জন্য নয় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে শহীদদের এই আত্মদান, যুদ্ধবিরোধী শান্তিকামী মানুষের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয় জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে যেকোনো মূল্যে শান্তি রক্ষায় বদ্ধ পরিকর।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি যতদূর জানতে পেরেছি, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশের ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি শান্তিরক্ষা মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানেও প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০টি শান্তিরক্ষা মিশনে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীতে পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশের  সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য সাহসের সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমি বিশ্বাস করি, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষাবাহিনীতে নারী সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অবশ্যই এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আগামী দিনগুলোতেও নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে, আপনাদের নিষ্ঠা, কর্তব্যবোধ এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের কারণেই বিশ্বমঞ্চে অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সুনাম ও অবস্থান সুদৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এটি আপনাদের সাহস এবং গভীর দায়িত্ববোধের প্রতিফলন বলেই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। বিশ্ব শান্তি রক্ষায় আমাদের এই গৌরবের ইতিহাস একদিনে রচিত হয়নি। প্রায় চার দশক ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী একটি আস্থা ও নির্ভরতার নাম।

একটি দেশের সশস্ত্রবাহিনী দেশের স্বাধীনতা সম্মান এবং সাহসের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই গৌরব এবং অহংকার অবশ্যই আমাদের সশস্ত্রবাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। সুতরাং, এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয় সেটি রক্ষা করা সশস্ত্রবাহিনীর কর্তব্য।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর ভূমিকা সুখ্যাতি পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি আরও বলেন, তবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে, দেশে সশস্ত্রবাহিনীর কিংবা সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে কিছু অপ তৎপরতা কখনো কখনো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণ হয়েছে। দেশে বিদেশে সশস্ত্রবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট করতে নানারকম তৎপরতাও বিদ্যমান ছিল। সমস্ত ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ৭৫ এর সাত নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

তারেক রহমান বলেন, এরপরও বিভিন্ন সময়ে নানারকম ঘটনায় সশস্ত্রবাহিনীর ঐক্য বিনষ্টের তৎপরতা চললেও ২০০৯ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে সশস্ত্রবাহিনীর উপর সর্বগ্রাসী আঘাতটি এসেছিল।  সেই আঘাতটির ফলে বাংলাদেশে কি ঘটেছিল সেটি আমাদের সবার জানা। সুতরাং, ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রধান বার্তাটি হলো, ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অব কমান্ড’ ছাড়া সম্মান এবং মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুই অতীত চর্চা নয় বরং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সামনে স্বমহিমায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যারা সশস্ত্রবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন অথবা সরকারে কিংবা জনপ্রশাসনে রয়েছেন, আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। এই দেশটা আমাদের সবার। আমরা দেশে কিংবা বিদেশে যেখানে যেই দায়িত্ব পালন করছি সেই দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করাই হোক আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার।

বর্তমান বিশ্ব এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি এখন সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট, নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায়। তাই আমাদের ভবিষ্যৎ মিশনগুলো হতে হবে আরও আধুনিক, দূরদর্শী এবং প্রযুক্তিনির্ভর । এমন পরিস্থিতিতে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর মর্ডানাইজেশনের লক্ষ্যে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।