মিরসরাইয়ে ‘ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে’র জায়গায় হবে সমরাস্ত্র কারখানা
চট্টগ্রমের মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ করা জমিতে ‘প্রতিরক্ষা অর্থনৈতিক অঞ্চল’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সশস্ত্র বাহিনীর চাহিদা পূরণ ও সক্ষমতা বাড়াতে সেখানে সমরাস্ত্র তৈরির কারখানা স্থাপন করা হবে। এটি হবে দেশের দ্বিতীয় সমরাস্ত্র কারখানা।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
‘প্রতিরক্ষা অর্থনৈতিক অঞ্চল’ তথা ‘ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ তৈরির বিষয়টি বিডার মাস্টার প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে জানিয়ে আশিক চৌধুরী বলেন, সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পে বাংলাদেশকে অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ‘ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ স্থাপন করা হবে। ‘বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির’ উদ্যোগে সেখানে সামরাস্ত্র কারখানা স্থাপন করা হবে।
বর্তমানে দেশের একমাত্র সমরাস্ত্র কারখানাটি অবস্থিত গাজীপুরের শিমুলতলীতে। মিরসরাইয়ে প্রতিরক্ষা অর্থনৈতিক অঞ্চলে সমরাস্ত্র কারখানা স্থাপন করা হলে সেটি হবে দ্বিতীয়।
সোমবার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় মিরসরাইয়ের এই অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বিকেলে সভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিডার প্রধান আশিক চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সমরাস্ত্র কারখনা স্থাপনের যুক্তি তুলে ধরে আশিক চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা শিল্পে নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে দেখা গেছে, হাইটেক অস্ত্রের চেয়ে গোলাবারুদ ও মৌলিক সরঞ্জামের সংকটই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বাংলাদেশ সেনবাহিনী তাদের চাহিদা অনুযায়ী এ ধরনের অস্ত্র তৈরি করবে। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
মিরসরাইয়ের এ জায়গাটি ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ ছিল। আশিক চৌধুরী বলেন, ইন্ডিয়ান ইকোনোকি জোন প্রতিষ্ঠা করতে ৮০০ একর জমি বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। ইকোনোমিক জোন প্রকল্পটি বাতিল হওয়ায় জমিটি অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। সেখানেই প্রতিরক্ষা অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে।
বিডা, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সাড়ে ৬০০ একর জমি নিয়ে ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ (এফটিজেড) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস সভাটির সভাপতিত্ব করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এ সভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে আশিক মাহমুদ বলেন, ‘ফ্রি ট্রেড জোনে’ দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তরা উৎপাদন, পুনর্রপ্তানি ও কাঁচামাল সংরক্ষণ করতে পারবেন। ফ্রি ট্রেড জোন প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি সংস্কার করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, বিডা, বেজাসহ ছয় সংস্থার গভর্নিং বডির সভায় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর উপস্থিত ছিলেন।
ছয় বিনিয়োগ সংস্থা একীভূত হবে
বাংলাদেশের বিনিয়োগ অনুমোদন ও জমি বরাদ্দবিষয়ক ছয় সংস্থাকে একীভূত করে একটি সংস্থায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সভায়। ছয় সংস্থা হলো— বিডা, বেপজা, বেজা, বিসিক (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরশেন), বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ।
আগামী উপদেষ্টা পরিষদের সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে বলে জানান আশিক মাহমুদ।
বর্তমান বিধান অনুযায়ী, বিডা কেবল পৌর এলাকার বাইরে বিনিয়োগের অনুমতি ও জমি বরাদ্দ দিতে পরে। আইন সংশোধন করে এখন থেকে সারা দেশের পৌর এলাকাতেও বিনিয়োগের অনুমতি দেবে বিডা। এর মাধ্যমে পৌর এলাকায়, বিশেষ করে বিসিকের অব্যবহৃত প্লট ও বন্ধ থাকা রাষ্ট্রীয় মিল-কারখানাকে বেসরকারি পর্যায়ে দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান আশিক চৌধুরী।
সরকার কুষ্টিয়ার চিনিকলের ২০০ একর জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার পরিকল্পনা করছে বলেও জানান আশিক।
এদিকে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে প্রবাসীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার। এফডিআই স্কিমের আওতায় ‘ক্যাশব্যাক’ স্কিম নামের এই সুবিধায় কোনো বাংলাদেশি বিদেশি বিনিয়োগ আনলে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে মোট বিনিয়োগের মধ্যে থেকে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ অর্থ দেওয়া হবে।
অন্যদিকে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে বিডার এজেন্সি অফিস খোলা হবে বিদেশে। প্রথম দিকে চীন ও কোরিয়াতে অফিস খোলার অনুমতি দেওয়া হবে। অফিসের যাবতীয় খরচ বহন করবে এজেন্সি নেওয়া দেশের প্রতিষ্ঠান। তাদের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসা বিনিয়োগের বিপরীতে একটি অংশ কমিশন হিসেবে দেওয়া হবে।
মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধকে তামাদি হতে দেবে না সরকার: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশে সংঘটিত মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধকেই তামাদি হতে দেবে না।
তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা থেকে শুরু করে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড—সবগুলোই মানবতাবিরোধী অপরাধ। এ সকল অন্যায় ও নৃশংসতার বিচার নিশ্চিত করতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বদ্ধপরিকর।’
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে স্মারক গ্রন্থ ‘শহীদনামা’র মোড়ক উন্মোচন, তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শাপলা স্মৃতি সংসদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শাপলা চত্বরের সেই হত্যাকাণ্ডের বিভীষিকাময় স্মৃতি আজও আমাদের ব্যথিত করে। বর্তমান জাতীয় সংসদ তার প্রথম অধিবেশনেই শাপলা চত্বরের সকল শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক সম্মান ও শোকবার্তা জানিয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা জাতির কাছে এই বার্তাই দিয়েছি যে—যা অন্যায়, যা নৃশংসতা- এমন কোনো অপরাধকে আমাদের সরকার তামাদি হতে দেবে না।’
২০১৩ সালের ৫ মে’র প্রেক্ষাপট স্মরণ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকার যখন ঈমানি আন্দোলনে বাধা দিচ্ছিল এবং গণমাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যা বয়ান তৈরি করছিল, তখন জনগণের অভিভাবক হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সাহসিকতার সাথে সেই সমাবেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘বিএনপিই প্রথম রাজনৈতিক দল যারা এই ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করে দুই দিনের হরতাল ডেকেছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই ঘটনার দায় বিএনপির ওপর চাপাতে কয়েক’শ মামলা দেওয়া হয়। যার শতকরা ৯০ ভাগ আসামী করা হয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাকর্মীদের।’
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে সমাজের সকল স্তরের মানুষের রক্ত মিশে আছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, তাকে ধরে রাখতে হবে। এই ঐক্যই আমাদের সার্বভৌমত্ব ও স্বনির্ভরতার রক্ষাকবচ। ৫২, ৭০, ২০১৩ কিংবা ২০২৪—প্রতিটি ঘটনার সমৃদ্ধ ফলাফলই হচ্ছে আজকের সার্বভৌম বাংলাদেশ। রাজনৈতিক শক্তির সাথে সামাজিক ও ধর্মীয় শক্তির মেলবন্ধন ঘটলে এ দেশ অপরাজিত থাকবে।’
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘দেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ, স্বাধীনতা, স্বনির্ভরতা ও সমৃদ্ধির প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে পারলেই শহীদদের প্রতি প্রকৃত দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হবে।’
শাপলা স্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মাওলানা সাইদ উদ্দীন আহমাদ হানজালা, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, বিশিষ্ট আলেম ও গবেষক শায়খ মুসা আল হাফিজ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রমুখ।
অষ্টগ্রামে খালে তীব্র ভাঙনে, হুমকিতে ইউপি ভবন-বাজার
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদীর সংযোগস্থল গজিয়া খালে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই দিনে খালের তীব্র স্রোতে অন্তত ১০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে চরম হুমকির মুখে পড়েছে বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্মিত ভবন, স্থানীয় বাজার, বসতভিটা এবং কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অষ্টগ্রাম-নোয়াগাঁও সড়ক। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সময় স্রোতের গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের গজিয়া খালের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে বাজার থেকে উছমানপুর পর্যন্ত এলাকা জুড়ে ভয়াবহ ভাঙন চলছে। বড় বড় ফাটল ধরে মুহূর্তের মধ্যে বিলীন হচ্ছে তীরের মাটি, যা প্রবল স্রোতে নিমিষেই ভেসে যাচ্ছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে স্থানীয় মুসল্লিদের খালের তীরে দাঁড়িয়ে ভাঙন রোধে মহান আল্লাহর দরবারে মোনাজাত ও দোয়া করতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, বন্যার পানি নামতে শুরু করায় লাউড়া মাইজখোলা এলাকায় নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে গজিয়া খালে পানি প্রবাহের চাপ ও স্রোত অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এই তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।
গত দুই দিনেই প্রায় ১০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে দ্রুতই বাঙ্গালপাড়া বাজারের পূর্বাংশ, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও শত শত ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
ইতিমধ্যে বাজারের একমাত্র পণ্য খালাসের ঘাট সংলগ্ন সিঁড়ির নিচের মাটি সরে যাওয়ায় সেটি ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতা ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
অন্যদিকে, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অষ্টগ্রাম-নোয়াগাঁও সড়কটিও এখন নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জানান, বিষয়টি আমি গত বছরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। এ বছর জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, স্থানীয় বাজার ও বহু মানুষের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এতে এলাকাবাসী এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাহবুব আলম জানান, বিষয়টি নিয়ে আমরা আগেও কাজ করেছি। এ বছরও দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ব্যাংককে চিকিৎসাধীন জুলাই যোদ্ধাদের পাশে জামায়াত আমির
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ভেজথানি ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ‘জুলাই বিপ্লবের’ আহত যোদ্ধাদের দেখতে গিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ শনিবার (৯ মে) তিনি সেখানে গিয়ে চিকিৎসাধীন আহতদের শরীরের খোঁজখবর নেন।
সফরকালে বিরোধীদলীয় নেতা গুরুতর আহতদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের চিকিৎসার সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহতদের সর্বোচ্চ ও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।
আহতদের সাহস ও আত্মত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের এই ত্যাগ জাতি চিরকাল শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।’
তিনি তাদের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করেন।
সাক্ষাৎকালে আহত যোদ্ধারা ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি আহ্বান জানান। ডা. শফিকুর রহমান তাদের দাবির বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করার আশ্বাস দেন।
সফরকালে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি।
প্রবাসীর স্ত্রী-সন্তানসহ একই পরিবারের ৫ জনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক প্রবাসীর স্ত্রী ও সন্তানসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৮ মে) রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন প্রবাসীর স্ত্রী ও তার তিন কন্যাসন্তান এবং শ্যালক। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রাউতকোনা এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন প্রবাসে থাকেন। বাড়িতে তার স্ত্রী ও সন্তানরাই থাকতেন। শুক্রবার রাত পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও শনিবার ভোরে ওই বাড়িতে পাঁচজনের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। তবে কারা, কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শরিফ উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
দুই দিনের ঢাকা সফরে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর পাকিস্তানের কোনো মন্ত্রীর এটিই প্রথম ঢাকা সফর। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যুতে যোগাযোগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার (৮ মে) ভোরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ঢাকায় পৌঁছার তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে মাদক চোরাচালান রোধ এবং সন্ত্রাস দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়া আন্তর্দেশীয় অপরাধ দমন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সাইবার নিরাপত্তা এবং ক্রিকেটে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পাবে বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ৫ মে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিক প্রটোকল নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়ে একটি নোট ভারবাল পাঠিয়েছিল ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশন। তাতে আরো জানানো হয়, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি শুক্রবার (৮ মে) ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৪২ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সফর শেষে তিনি ৯ মে রাত ৮টা ১০ মিনিটে বিজি-৩৪১ ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করবেন।
উচ্চশিক্ষাকে রপ্তানিযোগ্য 'সফট পাওয়ার' করার আহ্বান: আফ্রিকায় অফশোর ক্যাম্পাস স্থাপনে ড. আসিফ মিজানের গুরুত্বারোপ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতকে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে একটি শক্তিশালী "'সফট পাওয়ার' (Soft Power) বা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার এক অভূতপূর্ব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সোমালিয়াসহ আফ্রিকার উদীয়মান শিক্ষা-বাজারে বাংলাদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের "অফশোর (Offshore)" বা আন্তর্জাতিক ক্যাম্পাস স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষা-কূটনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন সম্ভব। এই ঐতিহাসিক ভূ-রাজনৈতিক ও শিক্ষাগত সুযোগকে কাজে লাগাতে সরকারের প্রতি দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক সংহতি প্রদানের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন সোমালিয়ার মোগাদিসুস্থ দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রখ্যাত বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।
আজ রাজধানীর শেরাটন হোটেলে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এইউবি) আয়োজিত "৪র্থ এইউবিআইসি-২০২৬ আন্তর্জাতিক কনফারেন্স" -এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। "গুড গভর্ন্যান্স, জাস্টিস অ্যান্ড এথিক্যাল লিডারশিপ" শীর্ষক এই উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (বিএসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ (Keynote Paper) উপস্থাপন করেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাতা ভাইসচ্যান্সেলর এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আবুল হাসান এম. সাদেক।
ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কের সেতুবন্ধন ও বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রযাত্রা
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন,
"সোমালিয়ায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী ও পেশাজীবীদের অনবদ্য অবদানের ফলে সেখানে বাংলাদেশের প্রতি একটি গভীর আস্থা ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিদ্যমান। একজন বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে আফ্রিকার শিক্ষা-প্রশাসনে একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব প্রদান আমার জন্য গৌরবের। আমি এই বিদ্যমান সুসম্পর্ককে দুই দেশের মধ্যে "অ্যাকাডেমিক সিনার্জি (Academic Synergy)" বা প্রাতিষ্ঠানিক সংহতি হিসেবে রূপান্তরের নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
আন্তঃসীমান্ত শিক্ষা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত
তিনি জানান, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার কারিকুলাম ও মানদণ্ডের প্রতি সোমালিয়ার শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের প্রবল আগ্রহ রয়েছে। এই চাহিদা পূরণের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সম্প্রতি "দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়" এবং 'এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের' মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব উভয় দেশের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়, যৌথ গবেষণা (Joint Research) এবং 'আন্তঃসীমান্ত শিক্ষাগত মিথস্ক্রিয়া (Cross-border Educational Interaction)' নিশ্চিত করবে।
নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা ও সফট পাওয়ার
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ড. মিজান আরও বলেন,
"সোমালিয়ার অ্যাকাডেমিক অঙ্গনে বাংলাদেশী শিক্ষার বিপুল চাহিদাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সেখানে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এইউবি)-র একটি অফশোর ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। সরকার যদি যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাইপূর্বক দ্রুত অনুমতি প্রদান করে, তবে এটি হবে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মেধা ও "শিক্ষাগত শ্রেষ্ঠত্ব (Academic Excellence)" রপ্তানির এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। এর মাধ্যমে আফ্রিকান মহাদেশে বাংলাদেশের 'সফট পাওয়ার' ও কূটনৈতিক অবস্থান সুসংহত হবে।"
অনুষ্ঠানে কীনোট স্পিকার প্রফেসর ড. আবুল হাসান এম. সাদেক-এর দূরদর্শী ও নৈতিক নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। বক্তারা উল্লেখ করেন, তাঁর প্রবর্তিত নৈতিক শিক্ষার আদর্শ শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশী স্কলারদের সফলতার পথ প্রশস্ত করেছে।
সেমিনারে দেশ-বিদেশের বরেণ্য গবেষক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সুশাসন, নৈতিক নেতৃত্ব এবং আন্তঃসীমান্ত শিক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজ রূপান্তরের আশাবাদের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক কনফারেন্সটির সমাপ্তি ঘটে।
জাতিসংঘ ফোরামে বাংলাদেশ: নিরাপদ অভিবাসনে বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান
অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা, অনিয়মিত অভিবাসন রোধ, অভিবাসন ব্যয় কমানো, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, জবাবদিহিতা জোরদার এবং অভিবাসীদের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
আজ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেশন রিভিউ ফোরামের সাধারণ বিতর্কে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ‘হোল-অফ-গভর্নমেন্ট অ্যান্ড হোল-অফ-সোসাইটি’ পদ্ধতির মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা জোরদার করছে এবং অভিবাসীদের ন্যায়বিচারে প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন (জিসিএম) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ‘মাইগ্রেশন কমপ্যাক্ট টাস্কফোর্স’ গঠন করা হয়েছে।
পাশাপাশি ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
আরিফুল হক চৌধুরী জানান, প্রথম আইএমআরএফে দেওয়া বাংলাদেশের ১০টি অঙ্গীকারের মধ্যে সাতটি ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ নতুন ছয়টি অঙ্গীকার জমা দিয়েছে এবং দুটি আঞ্চলিক উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনকে অভিবাসনের একটি ক্রমবর্ধমান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য নির্ভরযোগ্য অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
মন্ত্রী নিরাপদ অভিবাসন ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয়ও পুনর্ব্যক্ত করেন।
আজ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী
আজ ২৫ বৈশাখ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বহুমাত্রিক উৎকর্ষের মহানায়ক, নোবেলজয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী।
সময়ের হিসাবে ১৬৫ বছর পেরিয়ে গেলেও কবিগুরু আজও বাঙালির মনন, সংস্কৃতি ও জীবনবোধে সমানভাবে জীবন্ত। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ, ইংরেজি ৭ মে ১৮৬১ সালে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র।
দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদাসুন্দরী দেবীর সন্তান রবীন্দ্রনাথ শৈশবেই অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দেন। মাত্র আট বছর বয়সে কবিতা লেখা শুরু করা সেই শিশুই পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।
রবীন্দ্রনাথ ছিলেন একাধারে কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সুরস্রষ্টা, শিক্ষাচিন্তক, ভাষাবিদ, চিত্রশিল্পী, দার্শনিক ও মানবতাবাদী। তার সৃষ্টিকর্মের পরিধি যেমন বিস্তৃত, তেমনি গভীরতাও অসাধারণ। তিনি রচনা করেছেন ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধগ্রন্থ, অসংখ্য ছোটগল্প, চিঠিপত্র এবং ২ হাজারের বেশি গান। বাংলা সাহিত্যে এমন বহুমাত্রিক প্রতিভার উদাহরণ খুবই বিরল।
তার সাহিত্যকর্মে মানুষের আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বিরহ, নিঃসঙ্গতা, প্রতিবাদ এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষাসহ মানবজীবনের নানা অনুভূতি গভীরভাবে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক আত্মীয়তার চেয়েও গভীরতর। তার পূর্বপুরুষরা খুলনার রূপসা উপজেলার পিঠাভোগে বসবাস করতেন। জমিদারি তদারকির কাজে তিনি দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও নওগাঁর পতিসরসহ বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে। বাংলাদেশের প্রকৃতি, মানুষ ও জনজীবন তার সাহিত্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ রবীন্দ্রনাথেরই রচনা। এর মধ্য দিয়ে এই ভূখণ্ডের সঙ্গে তার সম্পর্ক রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পেয়েছে।
রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বাংলা ভাষার বিশ্বস্বীকৃতিরও এক ঐতিহাসিক ঘটনা। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা ভাষাকে বিশ্বমঞ্চে বিশেষ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেন। এই অর্জন আজও বাঙালির অন্যতম সাংস্কৃতিক গর্ব।
জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আজ দেশব্যাপী নানা আয়োজনে স্মরণ করা হচ্ছে কবিগুরুকে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় যথাযথ মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে দিবসটি উদ্যাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কুষ্টিয়ার শিলাইদহসহ কবির স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন জেলায় নেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি। এ বছর কুষ্টিয়ার শিলাইদহে তিন দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
কুষ্টিয়ার পাশাপাশি কবির স্মৃতিবিজড়িত নওগাঁর পতিসরেও আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা।
সেখানে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর।
এ ছাড়া খুলনার দক্ষিণডিহিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
জাতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। এতে থাকবে নৃত্য, সংগীত ও আবৃত্তি।
ঢাকাসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রচনা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হবে। একই সঙ্গে কবির ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমি বিশেষ স্মরণিকা ও পোস্টার মুদ্রণ ও বিতরণ করেছে।
বরাবরের মতো ছায়ানটও বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদ্যাপন করছে।
এদিকে কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ২৮ বৈশাখ (১১ মে) বাংলা একাডেমি ‘রবীন্দ্র পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান করবে। এবার রবীন্দ্রসাহিত্য গবেষণায় অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ এবং রবীন্দ্রসংগীত চর্চায় শিল্পী বুলবুল ইসলাম এ পুরস্কার পাচ্ছেন।
শিক্ষা সিলেবাসে শাপলা গণহত্যার ঘটনা অন্তর্ভুক্তি” শীর্ষক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত
রিপোর্ট : তাজউদ্দীন আহমদ
০৭ মে, ২০২৬ ইং, রোজ বৃহস্পতিবার, বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে মদিনাতুস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
“ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দুঃশাসনের আমলে শাপলা চত্বর গণহত্যা, সারাদেশে গুম-খুন, ২৪ এর গণহত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার ও শিক্ষা সিলেবাসে শাপলা গণহত্যার ঘটনা অন্তর্ভুক্তি” র দাবীতে অনুষ্ঠিত সেমিনারে যেসব লিখিত দাবী উপস্থাপন করেন বক্তারা--
১. শাপলা চত্বরে সংঘটিত গণহত্যাসহ বিগত সময়ে সংঘটিত সকল বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও মানবাধিকার
ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উত্থাপন । ২. ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সত্য ইতিহাস জানানোর লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষা কারিকুলাম ও পাঠ্যপুস্তকে শাপলা চত্বর গণহত্যার
৩. বিডিআর হত্যাকাণ্ড ও ২৪ এর গণহত্যার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার
আহ্বান। উক্ত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন: হাফেজ মাহমুদুল হক হাফেজ্জী দা.বা.
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব রাশেদ খাঁন, বিএনপি নেতা ৷
বিশেষ অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন * হযরত মাওলানা গোলাম কিবরিয়া, হেফাজতে ইসলাম, লন্ডন। মুফতি আবু তাহের আল মাদানী, চেয়ারম্যান জাতীয় ইমাম খতিব সংস্থা বাংলাদেশ, মাওলানা শোয়াইব আহমেদ- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, লন্ডন, মুফতি আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী - নেজামী ইসলাম পার্টি নির্বাহী চেয়ারম্যান । মাওলানা ক্বারী আবুল হোসাইন - চেয়ারম্যান ইমাম সমাজ বাংলাদেশ।মাওলানা রুহুল আমীন সাদী (সাইমুম সাদী) - চেয়ারম্যান ফজর ইনিষ্টিটিউট, লেখক, গবেষক।মুফতী রহমতুল্লাহ আরাবী - ইমাম, চকবাজার শাহী মসজিদ । মাওলানা মির্জা ইয়াসিন আরাফাত আজহারী - মহাসচিব খেলাফতে ইসলামি বাংলাদেশ। মাওলানা ইমরানুল বারি সিরাজী - প্রচার সম্পাদক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। মুফতী আব্দুল কাইয়ুম সাহেব - প্রিন্সিপাল, ইসলামবাগ বড় মাদ্রাসা । মাওলানা আব্দুল গাফফার সাহেব - সম্পাদক, সবার খবর পত্রিকা।মুফতী আজহারুল ইসলাম আশরাফী - মুহদ্দিস, বড় কাটারা মাদ্রাসা ।এ ছাড়া দেশের বিশিষ্ট আলেম-ওলামা,শিক্ষাবীদ,আইনজীবী,মানবাধিকার কর্মী,সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।
সাংবাদিকদের অধিকার কড়ায় গণ্ডায় বুঝিয়ে দিতে হবে
'
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৭মে, ২০২৬ খ্রী: জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে ৭মে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের দাবি সমাবেশে নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, রাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী সাংবাদিকদের অধিকার এবং প্রাপ্য কড়ায় গণ্ডায় বুঝিয়ে দিতে হবে। ৫৫ বছরের ইতিহাসে সাংবাদিকদের অধিকার মর্যাদাতো দূরের কথা সবকিছুতেই তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। সাংবাদিকতা পেশায় জড়িতদের জীবনমান উন্নয়নে কোনো সরকার এগিয়ে আসেনি বরং তাদেরকে প্রতিপক্ষ মনে করছে। সরকার গুলো সবসময় কথার ফুলঝুরি দিয়ে আর জাতির বিবেক বলে এদেরকে ঘুম পড়িয়ে রাখে। সাংবাদিকরা এবার জেগেছে। তাদের দমিয়ে রাখা যাবেনা, অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকরা কী চায় তা রাষ্ট্রের পক্ষে সরকারকে শুনতে হবে এবং এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল ভুমিকা নিতে হবে। সমাজের নানা পেশাজীবীদের দক্ষতা, মর্যাদা এবং রুটিরুজির নিশ্চয়তায় রাষ্ট্রের সরব ভুমিকা রয়েছে। কিন্তু সাংবাদিকদের প্রশ্নে রাষ্ট্র নীরব, যা দূ:খজনক। তবে সরকারের তথ্য মন্ত্রী ইতিমধ্যে সাংবাদিকদের তালিকা, সুরক্ষা আইন নিয়ে কথা বলছেন তাকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রধান মন্ত্রী এবং তথ্য মন্ত্রীকে সাংবাদিকদের সমস্যার কথা সরাসরি শুনতে হবে। মুষ্টিমেয় কিছু কুলীন সাংবাদিকের কথা শুনলে হবেনা। কতিপয় কুলীন সাংবাদিক এবং আমলাদের কথামত বিগত সরকার ৭ বছর ধরে সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করছিল কিন্তু তা আলোর মুখ দেখাতে পারেনি। কুলীন সাংবাদিকদের কথাতো এ যাবত শুনেছেন, এখন ৬৩ জেলার সাংবাদিকের কথা শুনুন, তাদের কী সমস্যা? তাদের দাবি কি?
নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারকে অবশ্যই জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিসহ সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবির কথা শুনতে হবে। এতে দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে। পুরানো ধাঁচের সাংবাদিকতা চলবেনা। গণমাধ্যমকে পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে। সরকারকে নতুন করে আইন প্রণয়ন করে অকার্যকর প্রেস কাউন্সিলকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে তথ্য কমিশন গঠনের মাধ্যমে মিডিয়া এবং সাংবাদিক সংগঠন গুলোকে নিয়ন্ত্রণ এবং নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং ছাড়া গুজব পরিবেশন করে দেশ ও জনগনকে বিভ্রান্তি করা যাবেনা। যা ইতিমধ্যে তথ্য মন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বলেছেন। মন্ত্রী সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা এবং সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের কথাও বলেছেন। যা দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে হবে। সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়নের কথা বলে মুলা ঝুলিয়ে রাখা যাবেনা। ইতিপূর্বে বহুবার আইন প্রণয়ন করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছিল, নতুন করে কেউ যেনো তা না করে । এই সরকারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সাংবাদিকদের দাবি গুলো শুনে সংসদে উত্থাপন করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। ৫৫ বছরের এই দেশে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কোনও দাবি, অধিকার আজও পূরণ হয়নি। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিসহ ১৪ দফা দাবি পূরণ করতে সরকারের নিকট আহবান জানান। সারাদেশের সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে দাবি সমাবেশে নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত কথা গুলো বলেছেন।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সরকারকে পেশাদার সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়ন করে প্রকাশ, সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা তৈরি, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন সহ ১৪ দফা দাবি মেনে নিতে আহবান জানান।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর এতে সভাপতিত্ব করেন।অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিকদের সর্ববৃহৎ জোট এ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অর্গানাইজেশনের সদস্য সচিব ও এডিটরস ফোরামের সভাপতি ওমর ফারুক জালাল, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মোস্তাক আহমেদ খান, জাতীয় মানবাধিকার সমিতির মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈশা, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরামের মহাসচিব কবি অশোক ধর, আরজেএফের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, সাংবাদিক সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের মহাসচিব সুজন মাহমুদ, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সংস্থার সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, সম্মিলিত সাংবাদিক জোটের সভাপতি মিজানুর রহমান মোল্লা, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সংস্থার চেয়ারম্যান বীথি মোস্তফা, বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের সভাপতি আবুল হোসেন, জার্নালিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গাজী মামুন।
সমাবেশে আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো: আবুল হোসেন, সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোকন আহম্মেদ হীরা, যুগ্ম সম্পাদক নুরুল হুদা বাবু, সহ-সম্পাদক সবুজ হোসেন রাজা, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজি, আব্দুল বাতেন বাচ্চু, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আবদুল্লাহ মাহমুদ, কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সৈয়দ খায়রুল আলম, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর ইমন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন তালুকদার, সদস্য জামাল হোসেন, শাওন বাঁধন, আসমা আক্তার, মৌসুমি আক্তার, রোজি আক্তার, মরিয়ম আক্তার মারিয়া, রোমানা সানজু, খিলক্ষেত প্রেস ক্লাব সভাপতি হাবিব সরকার স্বাধীন, বিএমএসএফের ছাতক উপজেলা শাখার সভাপতি মুশাহিদ আলী, নারায়নগঞ্জ বন্দর শাখার সাধারণ সম্পাদক জিকে রাসেল, বরগুনা জেলা শাখার সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম, কুমিল্লার আব্দুল কাদের অপু, লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার ফারুক আহমেদ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশ শেষে একটি শোভাযাত্রা রমনা পার্কে গিয়ে শেষ হয়।