এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর মানহানির অভিযোগে ৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

Newsdesk | প্রকাশিত: ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে ভুয়া, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর সম্পাদকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৫ জুন) বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলী আদালতে বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলাটি এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আদেশ দিয়েছেন।

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার আবেদনে শুনানিতে অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব ছাড়াও অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন শহলসহ আরও ১৪-১৫ জন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১, ৫০৪ ও ১০৯ ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন— দৈনিক ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার এবং বগুড়া প্রতিনিধি শামস। মামলার আবেদনে বলা হয়, বিবাদীরা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করে বাদী এবং বগুড়ার সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘এবার সাংবাদিকদের উপদেশ দিলেন রাস্তাকাণ্ডে বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম’ শিরোনামে একটি পোস্ট প্রচার করা হয়। এছাড়া ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সফর উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।

বাদী তানভীর আলম তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন, বিবাদীরা কোনো ধরনের নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব তথ্য প্রচার করেছেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব জানান, বাদীর আবেদন ও প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের পর মামলাটি সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হবে এবং এজাহার হিসেবে রেকর্ড করে পরবর্তী আইনানুগ তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল বাছেদ বলেন, ‘মামলার বিয়ষটি সম্পর্কে অবগত রয়েছি। আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমার বিশ্বাস।’
পরবর্তী খবর

রামগঞ্জে ছাত্রবাস থেকে শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

| প্রকাশিত: ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, ১৭ জুন ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্রবাস থেকে মেহেদী হাসান (১৫) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি—তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

এর আগে বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রবাস থেকে শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে ইছাপুর ইউনিয়নের রাঘবপুত গ্রামের জিয়াউদ্দিন জিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেহেদীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে—পরিবারের এমন অভিযোগের পর রাত ৮টার দিকে একাডেমির সামনে লোকজন জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটক ও অভ্যর্থনা কক্ষ ভাঙচুর করে এবং ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজেই মাইক হাতে উত্তেজিত এলাকাবাসীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি মাইকে ঘোষণা করেন, ‘পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন করা হবে।’ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ‘ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।’

তিনি আরও জানান, তাকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে উত্তেজিত এলাকাবাসী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়েছে। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

পরবর্তী খবর

প্রথমবার ইউএনএইচসিআর নির্বাহী কমিটির ব্যুরোর সভাপতির দায়িত্বে বাংলাদেশ

| প্রকাশিত: ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, ১৭ জুন ২০২৬

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) নির্বাহী কমিটির (এক্সকম) ব্যুরোর সভাপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহানের নেতৃত্বে এ দায়িত্ব গ্রহণকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয় এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান ইউএনএইচসিআরের নির্বাহী কমিটির ব্যুরোর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ১৯৫৯ সালে সংস্থাটির নির্বাহী কমিটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এই প্রথম বাংলাদেশ ব্যুরোর কোনো পদে দায়িত্ব পালন করছে।

চার সদস্যবিশিষ্ট নির্বাহী কমিটির ব্যুরো কমিটির কার্যক্রমে দিকনির্দেশনা প্রদান করে এবং বৈশ্বিক শরণার্থী ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি সংক্রান্ত বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তুলতে সহায়তা করে। ফলে এই নেতৃত্ব কাঠামোয় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি দেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ পরামর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সর্বসম্মত আঞ্চলিক প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়। পরে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে সেই মনোনয়ন সমর্থন করে। পরবর্তীতে নির্বাহী কমিটির ১১০টি সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন লাভ করে বাংলাদেশের প্রার্থিতা।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সভাপতির দায়িত্বে বাংলাদেশের নির্বাচন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে দেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন।

রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। তিনি রোম, জেনেভা ও কলকাতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া জর্ডানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং কানাডায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ অনুবিভাগের মহাপরিচালক থাকাকালে তিনি ইউএনএইচসিআরসহ বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থার সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন। একই সময়ে তিনি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (এফডিএমএন) বিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের সদস্য-সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের দাবিতে আন্তর্জাতিক পরিসরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এই বাস্তবতায় ইউএনএইচসিআরের নির্বাহী কমিটির ব্যুরোর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

বিশ্বব্যাপী বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম তহবিল সংকটের মুখে পড়েছে। এমন সময়ে বাংলাদেশের এই দায়িত্ব গ্রহণ মানবিক সংকট মোকাবিলা, আন্তর্জাতিক সংহতি এবং দায়িত্ব ভাগাভাগির প্রশ্নে দেশটির অবস্থানকে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে।


সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইউএনএইচসিআরের নির্বাহী কমিটির ব্যুরোর সভাপতির দায়িত্ব লাভ মানবিক মূল্যবোধ, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের অবদানের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।


পরবর্তী খবর

এখনই সরছে না চার বাস টার্মিনাল: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী

| প্রকাশিত: ৭:৩৪ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬
ঢাকার ভেতর থেকে বাস টার্মিনালগুলো এখনই সরছে না বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।  

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।

গতকাল সোমবার রাজধানীর যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন সংক্রান্ত সভায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকার চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। চারটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল হচ্ছে- ফুলবাড়িয়া-গুলিস্থান বাস টার্মিনাল, গাবতলী বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, একটা স্ট্যান্ডে (টার্মিনালে) বাস ১২-১৮-২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকছে। আমরা মনে করছি বাস ডিপোতে থাকবে, ছাড়ার কিছুক্ষণ আগে সেই স্ট্যান্ডে (টার্মিনালে) আসবে। প্যাসেঞ্জার নিয়ে বাস স্ট্যান্ডের যে ইউজ, সেইটা হবে। কিন্তু, দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাস স্ট্যান্ডে থেকে যে যানজট তৈরি হচ্ছে, যে অব্যবস্থাপনা তৈরি হচ্ছে— ওইটার পরিবর্তন চাচ্ছি।  

তিনি বলেন, যেমন ধরুন, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থাকছে আপাতত। এইটা স্থায়ীভাবে সরানো হবে উত্তরার একটা জায়গায়। সেখানে ৫০ বিঘা জায়গা অধিগ্রহণ করার একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু, মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে যে জট তৈরি হচ্ছে বাসের, সেখানে সার্ভিসটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বিধায় যেসব বাস ছাড়বে, সেটা মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ব্যবহার করবে। অতিরিক্ত যেসব বাস, ১২ ঘণ্টা তাকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, তারপর সে ট্রিপে যাবে। সে ১২ ঘণ্টা মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করতে পারবে না। সে ৩০০ ফিটের আমাদের ওখানে একটা জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে অস্থায়ীভাবে, ওখানে ডিপো হিসেবে ব্যবহার করবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বাসস্ট্যান্ড সবগুলিই সরবে, কিন্তু এই যে রাতারাতি সরে যাচ্ছে আমি তা বলছি না। যেমন ধরুন, সায়দাবাদ বাসস্ট্যান্ড (টার্মিনাল), সেটাকে কাঁচপুরে একটা জায়গায় শেড করা হচ্ছে, বাসস্ট্যান্ড করা হচ্ছে। স্থায়ী শেড না, সে ওখানে শিফট হয়ে যাবে। পর্যাপ্ত সুবিধার পরেই কেবলমাত্র চলে যাবে। এখন ডিপো হিসেবে ব্যবহার হবে শুধুমাত্র ওই স্ট্যান্ড থেকে যে বাসগুলি দ্রুততম সময়ে ছাড়বে, একটা নির্দিষ্ট টাইম ওই স্ট্যান্ডে (সায়েদাবাদ) থাকবে। বাকি টাইম সে ওই পাশের ডিপোতে গিয়ে থাকবে। এইটা হচ্ছে সিদ্ধান্ত।  


প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে যাবেন। সেখানে কি কোনো চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা আছে- এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, যেসব প্রকল্প চীনের আগ্রহ থাকবে এবং চীন যে প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করতে চায়— তা বাংলাদেশের স্বার্থে হবে। প্রকল্পের স্বার্থে হবে, আমাদের অর্থনীতির স্বার্থে হবে, সেইগুলিই নিয়ে হয়তো আলোচনা হবে। সেখানে চীনের যে প্রস্তাবনা আছে, সেটা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত হবে।  

তিনি বলেন, চীনের অনেক প্রস্তাব ব্যক্তিগতভাবে যদি আপনি বলেন আমাদের মন্ত্রণালয়ে আছে। তারা রেল, রোড এবং নৌ খাতে বিনিয়োগ করতে চায়। এখন এই বিনিয়োগগুলি নিয়ে আলোচনা হয়, নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন প্রকল্পের স্বার্থ দেখে আলোচনা হয়। সেখানে অনেকগুলি প্রকল্প আছে যাতে চীনের আগ্রহ আছে এবং তাদের প্রস্তাবনাগুলো ইতিবাচক। আমরা সেগুলি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। নিশ্চয়ই চীন এগিয়ে আসতে চায়, অতীতেও, এখনো। আমরাও আমাদের উন্নয়নের স্বার্থে, টেকনোলজিক্যাল একটু আমরা সাউন্ড হবো সেই স্বার্থে, এগুলি বিবেচনায় নেবো এবং উভয় দেশের স্বার্থ এবং রাইট রক্ষা করে, বেনিফিট রক্ষা করে, যেসব প্রকল্পগুলি একমত হওয়া যাবে, অনলি সেইগুলিই গ্রহণ করা হবে।  

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন ‌‘মৈত্রী’ ও ‘বন্ধন’ চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে রেলমন্ত্রী বলেন, সেটার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সেটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা আছে এবং অনেক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষারও প্রয়োজন আছে। নতুন করে এই লাইনটি কতটুকু বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়ার স্বার্থে ব্যবহার হবে, সেটা নিয়ে পর্যালোচনা হচ্ছে।  
পরবর্তী খবর

সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন : মির্জা ফখরুল

| প্রকাশিত: ৭:২৩ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এ তথ্য জানান। 

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ । 

মির্জা ফখরুল বলেন, বাজেটের প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে এই নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন হবে। নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও একই সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচন আয়োজনের আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ চলছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়। এই প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চলতি জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনের বিস্তারিত ব্যয় নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

নতুন অর্থবছর শুরু হলে নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ শুরু করবে বলেও জানান তিনি।
পরবর্তী খবর

বেনজীরকে দেশে ফেরাতে আরব আমিরাতকে দুদকের চিঠি

| প্রকাশিত: ৭:২১ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) এ চিঠি দেওয়া হয়।

বেনজীর আহমেদের তথ্য নিতে দুদকে এসেছে ইন্টারপোলের স্থানীয় সমন্বয় সংস্থা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। দুপুরে এনসিবির দুই সদস্যের একটি টিম দুর্নীতি দমন কমিশনে আসেন।

গেল ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পর বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে দুদক। বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ ৬টি দুর্নীতির মামলা রয়েছে। ইতোমধ্যে জ্ঞাত আয়–বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের নামে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৪৫ বিঘা জমি ও বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য উঠে আসে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে থাকা তার একটি ফ্ল্যাটও জব্দ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিশ’ জারি করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)।
পরবর্তী খবর

অপরাধীদের চাপাতির আঘাতে জখম হলেন আদাবর থানার ওসি-এসআই

| প্রকাশিত: ৭:২০ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬
রাজধানীর আদাবরে চাপাতি ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় অপরাধীদের ধরতে গিয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তা চাপাতির আঘাতে জখম হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) আদাবরের ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে ছিনতাইকারীদের আস্তানায় পুলিশ অভিযান চালালে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি করলে দুই ছিনতাইকারী গুলিবদ্ধ হয়।

আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সকালে আদাবরে চাপাতি ঠেকিয়ে দোকানে ঢুকে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পরে দুপুরে আদাবরের ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে ছিনতাইকারীদের আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ছিনতাইকারীর চাপাতির আঘাতে আমি ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) তরুণ আহত হই।

পরে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। স্পটে এখনো পুলিশ অবস্থান করছে। আটকরা হলেন- গুলিবদ্ধ রুবেল ও আমির। বাকি দুজন কাশেম ও মো. জয়।

এর আগে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদাবরের ৭ নম্বর সড়কে বিকাশের দোকানিকে কুপিয়ে তিন লাখ টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায় কিশোর গ্যাং কবজি কাটা গ্রুপ।

ভুক্তভোগী শফিকুলের স্বজন মো. মুসলিম বলেন, আমার ভাই বাসা থেকে নগদ তিন লাখ টাকা নিয়ে দোকানে আসে। সে দোকান খুলে বসা মাত্রই ৪ থেকে ৫ জন চাপাতি হাতে দোকানে আসে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার ডান হাতে কোপ দিয়ে টাকা ও বিকাশ ব্যবহার করার মোবাইল নিয়ে যায়।

কবজি কাটা গ্যাংটি আদাবর ১০, ১৭, শ্যামলী হাউজিং, তুরাগ হাউজিং এবং মোহাম্মদপুর থানার ঢাকা উদ্যান, নবীনগর, চন্দ্রিমা হাউজিংসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও দখলের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
পরবর্তী খবর

বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে’, প্রতিহতের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

| প্রকাশিত: ৬:৪৩ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬


রিপোর্ট : তাজউদ্দীন আহমদ 

বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে’ উল্লেখ করে তাদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আমরা সবসময় সবকিছু সোজা পথে পাই না। আজকে আবার বিভিন্নভাবে বিভিন্ন গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তারা বিভিন্নভাবে সমস্যা তৈরি করছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করছেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সোশাল মিডিয়াতে যে সমস্ত প্রচার-প্রচারণা-অপপ্রচার হচ্ছে, এই সবকিছু মিলিয়ে কিন্তু সমাজকে আবার ভিন্ন পথে পরিচিত করবার একটা উদ্যোগ আছে। একটা সচেতন চেষ্টা আছে। সেই চেষ্টাকে যেন আমরা সবাই মিলেই প্রতিরোধ করতে পারি, প্রতিহত করতে পারি এবং সঠিকভাবে এগিয়ে যেতে পারি সেই চেষ্টাটা আমাদের করা দরকার।’

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদপত্রের কালো দিবস (১৬ জুন) উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। বিএনপিকে ‘সবচেয়ে নিরাপদ’ রাজনৈতিক দল উল্লেখ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এ দলের নেতৃত্বাধীন সরকার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করবার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘আজকে দেখুন, যখন একটা রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা একটা স্বাধীনতা পেয়েছি। এখন অন্তত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করার একটা ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত যেটা লক্ষ্য করছি যে বর্তমান সরকার এই সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে রক্ষা করবার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ আছে এবং তারা কাজ করছে। কিন্তু অন্যদিকে সংবাদপত্রের মালিকরা যারা বিভিন্ন হাউজগুলোয় আছেন, তারা কিন্তু অন্যায়ভাবে সাংবাদিকদের নির্যাতন করছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়, উদার গণতান্ত্রিক দল। আমি এর আগেও বলেছি যে আমি ব্যক্তি হিসাবে কিন্তু একেবারে ‘লিবারেল ডেমোক্রেট’। আমি এখানে আমরা কোন ধর্ম-বর্ণ বা অন্য কোনো কিছুর ভিত্তিতে এখানে বিভাজনের পক্ষে নই।”


তিনি বলেন, “আমি সকলকে সমান অধিকার দেওয়ার পক্ষপাতী মানুষ। এই জন্যই আমি সবসময় বলে থাকি যে বিএনপিকে আপনারা যদি কেউ মনে করেন, যে বিএনপি একটা বিপ্লবী দল, সেই বিপ্লবী দল কিন্তু বিএনপি নয়; বিএনপি একটা ‘লিবারেল ডেমোক্রেটিক’ দল। এটা সবসময় মনে রাখতে হবে আমাদেরকে।”

‘এই জন্যেই আমরা মনে করি যে বিএনপি হচ্ছে সবচাইতে নিরাপদ একটা রাজনৈতিক দল। যে দলের মধ্যে সাংবাদিক বলুন, অন্যান্য পেশাজীবী যারা আছেন তারা কিন্তু সবসময় নিরাপদ থাকতে পারেন। বিএনপি অন্যের মত সহ্য করবার একটি রাজনৈতিক দল। এবং সেইটাই আমরা বরাবর করে এসেছি,” যোগ করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

বিএনপি যখনই সরকারে এসেছে, সাংবাদিক দমন বা নির্যাতন সবচেয়ে কম হয়েছে দাবি করেন মির্জা ফখরুল। এ ছাড়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে পাশে দাঁড়নো সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সংবাদমাধ্যমগুলো পুনরায় চালু করতে সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমার দীর্ঘ এই রাজনীতি করা জীবনের থেকে আমি একটা জিনিস উপলব্ধি করেছি— আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র কখনোই একসাথে যায় না, আগেও যায়নি। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের জন্মের পরেও যায়নি এবং এই বিগত ‘ফ্যাসিবাদের’ সময় তো যায়নি।”

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত আলোচনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিইউজে সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম। সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী।



পরবর্তী খবর

সরকার সংবাদমাধ্যম উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে: তথ্যমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬

রিপোর্ট : তাজউদ্দীন আহমদ 

সরকার সংবাদমাধ্যম উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, ‘একদিকে যেমন শিল্পের সমস্ত আইন-কানুন বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না রাষ্ট্র তা দেখবে; অপরদিকে এই ধরনের সৎ শিল্প উদ্যোক্তাদেরকে আমরা যাতে রাষ্ট্র সহযোগিতা করতে পারি, ইনসেন্টিভ দিতে পারি, সেটাও আমাদের চিন্তার মধ্যে আছে।’

তিনি বলেছেন, ‘সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানই লাভের জন্য নয়; সভ্যতার এই পর্বে কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান থাকতেই পারে, যা জনকল্যাণের জন্য। আমরা মনে করি, গণমাধ্যম জগতে শিল্প উদ্যোক্তারা সৎভাবে যেন এগিয়ে আসতে পারেন।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র অন্যান্য মুনাফাভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠানকে যেভাবে দেখে, আমাদের সরকার নিশ্চয়ই এই ধরনের শিল্প উদ্যোগ তাদেরকে সেই দৃষ্টিতে দেখবে না। আপনারা জানেন উদ্ভাবনী শিল্প পৃথিবীতে যেখানে যেখানেই আছে, সেখানেই সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া তা চলে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সৃষ্টিশীলতা এবং প্রতিভা চর্চা যারাই করেন, তাদের কোনো না কোনোভাবে রাষ্ট্র এবং সমাজের পৃষ্ঠপোষকতা দরকার হয়। কারণ এই ধরনের প্রতিভাকে পৃষ্ঠপোষকতা না দিলে সভ্যতা নতুন পথ খুঁজে পায় না। গণমাধ্যম জগৎ সেরকম একটা জগৎ।’

সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।

রাষ্ট্র আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে চোখ রাঙিয়ে কথা বললেও এখন সহযোগী অংশীদারে পরিণত হতে চায় মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেবলমাত্রই সমস্যার আলাপের মধ্যে নিজেদেরকে আটকে রাখলে চলবে না; সমস্যার যে নতুন চেহারা ধারণ করেছে, সেই নতুন চেহারাকেও আমাদের কিন্তু উপলব্ধি করতে হবে, অনুভব করতে হবে এবং তার সমাধানকে উদ্ভাবন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের সাংবাদিকতার মতো এরকম উদ্ভাবনী এবং সৃষ্টিশীল পেশার মানুষরা সম্মিলিতভাবে সমস্যাকেও যেমন আপনারা পোস্টমর্টেম করতে পারবেন, তেমনই সমস্যার সমাধানও আপনারা বের করতে পারবেন। পার্থক্য শুধু এইটুকুই— তখন রাষ্ট্র চোখ রাঙিয়ে কথা বলত, এখন রাষ্ট্র আপনাদের সঙ্গে সমস্যা সমাধানের যে প্রক্রিয়া, তার একজন সহযোগী অংশীদারে পরিণত হতে চায়।’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘গণমাধ্যম নিয়ে যখন কথা বলতে হয়, তখন অতীতে এই তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের সামনে থাকা উচিত। এমনকি আমরাও যখন নতুন কোনো পরিকল্পনা চিন্তা করব, তখন আমরাও যাতে অতীতের এই সমস্ত ভাইরাসে আক্রান্ত না থাকি, সে কারণেও আমাদেরকে অতীতের ফ্যাসিবাদকে বারবার পাঠ করা দরকার।’


তিনি বলেন, ‘তাহলে গণমাধ্যমের ভূমিকা কিন্তু কোনো ক্ষুদ্র গোষ্ঠী, কোনো ব্যক্তি অথবা আমাদের ডেমোগ্রাফির কোনো পকেটের জন্য না। গণমাধ্যমের ভূমিকা কিন্তু সম্পূর্ণভাবেই আমাদের দেশের সমস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য।’ বাস্তবতার নিরিখে এখন আর নাগরিক সাংবাদিকতাকে অস্বীকার বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন জহির উদ্দিন স্বপন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি গণমাধ্যমের বিশেষ করে সাংবাদিক ভাইজানদেরকে অনুরোধ করব যে, নিয়মিত যে গণমাধ্যম অথবা মূলধারার যে গণমাধ্যম অথবা সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে যে গণমাধ্যম— এর বাইরেও এখনকার পৃথিবীতে সিটিজেন জার্নালিজম এমনভাবে তৈরি হয়েছে, যাকে আমরা অস্বীকারও করতে পারব না, আর যাকে চাইলেও আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না। এই বাস্তবতা সম্পর্কে বিভিন্ন সময় আমরা গীবত গাই বটে, এই বাস্তবতা নিয়ে আমরা বিভিন্ন সময় আমাদের অস্বস্তিও প্রকাশ করি বটে; কিন্তু খুব কম লোকই পাওয়া গিয়েছে এই বাস্তবতাকে কাঠামোবদ্ধ করার জন্য।’

মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোকে প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেই গণমাধ্যম সিটিজেন জার্নালিজম, সেই গণমাধ্যমের মন্দ নিয়ে আমরা কথা বলব একভাবে। কিন্তু যেই গণমাধ্যম শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করবে, তাকে অবশ্যই বাংলাদেশ সরকারের অথবা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যেকোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান তার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগকৃত ব্যক্তিদের যে নিরাপত্তা মর্যাদা দেয়, সেটা সে দেয় কি দেয় না— এটা দেখার দায়িত্ব অবশ্যই সরকারের।’

সভায় ডিইউজে সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী।


পরবর্তী খবর

ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন ডা. জাহেদ উর রহমান

| প্রকাশিত: ২:৪৮ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬

ভারতের নয়াদিল্লি বিমানবন্দর থেকে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্তকে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি ওখানে ব্যক্তি হিসেবে যাইনি, সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে গেছি। ফলে আমার সঙ্গে ওখানে যা হয়েছে ইন্সট্যান্ট একটা প্রতিবাদ করা দরকার। সে কারণে আমি আসলে ব্যাক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একটা পর্যায়ে তারা খুব চেষ্টা করেছে যেন আমি ভারতে প্রবেশ করি এবং আমার যে নিয়মিত কর্মকাণ্ড সেটায় অংশগ্রহণ করি। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে তখন আমার মনে হয়েছে রাষ্ট্র বা সরকারের পক্ষ থেকে একটা সিগনেচার থাকা দরকার।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমার কখনো এই উদ্দেশ্য নেই যে এটার মাধ্যমে পাল্টা-পাল্টি কোনো নেগেটিভ পরিস্থিতি তৈরি হোক। আমার মনে হয়েছে একটা মেসেজ এই দেশ ও এই দেশের বাইরে সবার কাছে যাওয়া দরকার, সেটা হচ্ছে এটা শেখ হাসিনার সরকার না। এটা জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত একটা সরকার।

তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকারকে দেশের ভেতরে ও বাইরে সব জায়গায়, সেটা মাথায় রেখেই চলতে হয়। একই সঙ্গে অন্যদেরও সেই জিনিসটা কগনিজেন্সে নিতে হয়। সেই কারণেই আসলে কাজটা করা। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত না শুধু, অন্য যে কোনো দেশের সঙ্গে ভবিষ্যতে যে কোনো এনগেজমেন্টে আমরা আমাদের একটা সুস্পষ্ট নীতি আছে। কোনোভাবেই আমরা চাই না, কোনো দেশের সঙ্গে খুব খারাপ কোনো পরিস্থিতি হোক, কোনো শত্রুতা তো দূরেই থাকুক। 

কিন্তু একটা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে, আমাদের স্লোগানের মধ্যে আছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। মানে আমরা বাংলাদেশকে রাখব, তার মাধ্যমে প্রত্যেকটা দেশের সঙ্গে আমাদের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এনগেজমেন্ট হবে। সেটা কোনোভাবেই রাষ্ট্রের আত্মসম্মান, আত্মমর্যাদা বিকিয়ে দিয়ে বা আমার ক্ষতি করে কাউকে কোনো সুবিধা দেওয়া, এই নীতিতে এই সরকার কোনো দেশের সঙ্গে, আমি আবারও বলছি এটা শুধু ইন্ডিয়া না, কোনো দেশের সঙ্গে এই সরকার যাবে না, বলেন জাহেদ উর রহমান।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কূটনৈতিক পাসপোর্ট আমি নেইনি। নেইনি মানে অন্য কোনো কারণে না, একটু নিচ্ছি, নেব করতে করতে হয়েছে। কূটনৈতিক পাসপোর্ট কোনো কারণ না। কারণ, আমার পাসপোর্টে সার্ক স্টিকার দেওয়া হয়েছে, তার মানে কূটনৈতিক পাসপোর্ট যেভাবে কাজ করে, এটা সেভাবেই ইফেক্টিভ হওয়ার কথা। সো ইটস নট অ্যাট অল এ রিজন। কেউ কেউ বলছেন এই কূটনৈতিক, মানে আমি যদি কোনোদিনও কূটনৈতিক পাসপোর্ট নাও নেই, আমার কি বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ হবে?


তিনি বলেন, আমি কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিতে কিন্তু বাধ্যও না। ওটা একটা প্রিভিলেজ, হুইচ আই ক্যান অ্যাভেইল। আমি আমার জায়গা থেকে এটা আমি নিতে পারি চাইলে। কিন্তু এটা আমাকে নিতেই হবে এমন কোনো কথা নেই এবং কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন যে পাসপোর্ট কারণ ছিল, পাসপোর্ট কারণ ছিল না। অন্য কারণ ছিল, এগুলো আপনারা ইন্ডিয়ান মিডিয়াতেও এলেও কম বেশি এসেছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমি একটা প্রতিনিধি দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলাম। আমার সঙ্গে আরও মানুষজন ছিলেন। তারা তাদের ইমিগ্রেশন পার করে চলে গেলেন। আমার ইমিগ্রেশন যখন শুরু হলো, আমি মুহূর্তেই বুঝতে পারলাম তারা (ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ) দেরি করছেন, তাদের সময় লাগছে। তারা তারপরে নানান জনের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন। আমাদের হাই কমিশনার প্রথম থেকে আমার সঙ্গে ওখানে ছিলেন, এটা সবচেয়ে জরুরি কথা। আমাদের হাই কমিশনার সম্পর্কেও অনেক কথাবার্তা বলা হয় যে, তার দুর্বলতা, গাফিলতি কিছু ছিল কিনা। আমি এখানে স্পষ্টভাবে বলছি, আমি ওখানে ল্যান্ড করার পর থেকে, শেষে আমি ইন্ডিয়ান টাইম রাত সাড়ে বারোটায় একটা ফ্লাইটে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফিরেছি, কারণ আমি চাইনি ভারতের ইমিগ্রেশন ক্রস করব, সেজন্য আমারও বেশ কিছু ঝুটঝামেলা হয়েছে। পুরো সময়টা হাই কমিশনার পাশে ছিলেন, তিনি তার জায়গা থেকে সলভ করার চেষ্টা করেছেন বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে।

‘কিন্তু দুই ঘণ্টার মাথায় আমি ডিসাইড করেছি, ইটস টু মাচ, আমি আসলে আর ঢুকব না এবং এই সময়টাতেও যে আমি, এই রাষ্ট্রের, আমি আবারো বলছি আমি ব্যক্তি না, আমি এই রাষ্ট্রের একটা পদে আছি, সেই পদের প্রতি যে সৌজন্য সেটা ল্যাক করেছে বলে আমার মনে হয়েছে। আর সে কারণেই আমি সিদ্ধান্তটা নিয়েছি।’

এ ঘটনা দু-দেশের সম্পর্কে চাপ তৈরি করবে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা চাপ তৈরি করা কোনোভাবেই উচিত না। আমাকে যদি বলেন, আমি অলরেডি বলেছি যে এখানে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেটার একটা ইনস্ট্যান্ট রিঅ্যাকশন হিসেবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে, সরকারের পক্ষ থেকে আমি এ পদক্ষেপ নিয়েছি। এটা আমি মনে করি আমাদের জায়গা থেকে এর পরবর্তী সময়ে যা যা হচ্ছে, এখন আমরা আর কি করব না করব, সেই ব্যাপারে আমি আসলে বলব না, বলছি না। কারণ এটা আপনারা অলরেডি দেখেছেন আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এটা চলে গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যা যা করণীয় করছে।

দিল্লিতে সোমবার শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠকে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান রোববার সন্ধ্যায় ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ওই বৈঠকে তার বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল।

কূটনৈতিক চিঠি দিয়ে আগে জানানোর পরও রোববার সন্ধ্যায় ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে দিল্লিতে ঢুকতে বাধা দিয়েছে। পরে উচ্চ মহলের নির্দেশে অনুমতি দেওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দিল্লিতে প্রবেশে অস্বীকৃতি জানান এবং কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। আজ সোমবার দুপু‌রে তিনি ঢাকায় ফি‌রে‌ছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ওই বৈঠকে উপদেষ্টার অংশ নেওয়ার বিষয়টি গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল।


পরবর্তী খবর

একনেকে ৭ হাজার কোটি টাকার ৫ প্রকল্প অনুমোদন

| প্রকাশিত: ২:৪৫ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মোট ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ৫টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। অনুমোদিত এই ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকার জোগান দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন তারেক রহমান। এবারের সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৩টি সম্পূর্ণ নতুন এবং ২টি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে।

সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন একটি বিশেষ প্রকল্প রয়েছে, যা হলো ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’। এছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিনটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেনী জেলাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়) প্রকল্প, করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প এবং পদ্মা নদীর ভাঙন হতে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলাধীন তালবাড়িয়া এবং কুমারখালী উপজেলাধীন শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকা রক্ষা (১ম সংশোধিত) প্রকল্প। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘১০০টি উপজেলায় ১টি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্পটিও আজকের সভায় অনুমোদন পায়।

এই ৫টি প্রধান প্রকল্পের পাশাপাশি সভায় পরিকল্পনামন্ত্রীর মাধ্যমে এর আগে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত আরও ৪টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক কমিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারে বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প, নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ সাভার স্থাপন প্রকল্প, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী স্টেশন শমসেরনগর বিদ্যমান বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষাদান সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প এবং প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক ও ক্রিপিটক শিক্ষা কার্যক্রম ৪র্থ পর্যায় প্রকল্প।