জামায়াত নেতা নিহত: বিএনপি প্রার্থীসহ সাড়ে ৪শ জনের বিরুদ্ধে মামলা
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম (৪০) নিহতের র ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় এই মামলা করেন।
এতে শেরপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলসহ ২০০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও আড়াই শ জনকে আসামি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার দুপুরে ঝিনাইগাতীতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠান চলাকালীন চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে এই হট্টগোল ভয়াবহ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকশ চেয়ার ভাঙচুর এবং বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। নিহত হয়েছেন জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম।
নিম্ন আদালতে বিচারাধীন মামলা ৪০ লাখের বেশি: সংসদে আইনমন্ত্রী
২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিম্ন আদালতে ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
ফৌজদারি কার্যবিধি আইন (সংশোধন)-২০২৬ পাসের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, উক্ত বিলে এসএমএস ও ভয়েস কলের মাধ্যমে সমন জারি করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে আরজি ও লিখিত জবাব দাখিল করা এবং সরাসরি জেরা করার বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে। এ ছাড়া, ডিক্রি জারির জন্য পৃথক মামলা না করে মূল মামলায় সরাসরি দরখাস্ত দাখিলের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
মামলার জট নিরসনে ৮৭১ আদালত এবং ২৩২টি বিচারকের পদ সৃজন করা হয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। এ ছাড়া আরও ৩০৪টি বিচারকের পদ সৃজন প্রক্রিয়াধীন আছে। নতুন ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগ কার্যক্রম চলমান আছে। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে অধস্তন আদালতের স্টেনো-টাইপিস্ট, স্টেনোগ্রাফার, অফিস সহায়ক ও চালকের শূন্যপদে ৭০৮ জন বিচার বিভাগীয় কর্মচারী নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। বিভিন্ন পদে আরও ৫৫৩ কর্মচারী নিয়োগ চলমান আছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং মামলার জট নিরসনে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিরোধী দলের এমপি শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা ছিল না। তবে, ফ্যাসিস্ট সরকার বিচারকদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্যকে মুখ্য মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে দলের প্রতি অনুগত বিচারকদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করত এবং যাঁরা স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনার চেষ্টা করতেন, সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় তাঁদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বদলির মাধ্যমে কার্যত শাস্তি দেওয়া হতো।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সেই পথ ধরে না হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সততা-দক্ষতা এবং বিচারকদের বিচারিক আচরণই হবে মানদণ্ড। সে লক্ষ্যেই আইন মন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্টে সুপারিশ করবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের। সরকারের এ ক্ষেত্রে একক ক্ষমতা নেই।
বিএনপি দলীয় এমপি ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের যেসব আইন বর্তমান প্রেক্ষাপটে অকার্যকর বা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণপূর্বক সরকার পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা নতুনভাবে প্রণয়ন করবে। এ লক্ষ্যে ল কমিশন কাজ করছে এবং কমিশন হতে সুপারিশ প্রাপ্তির পর সরকার তা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সরকারদলীয় এমপি মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ২০২৫ সালে ৪৬৭টি বিচারককে পেশাগত দক্ষতা, আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং বিচার কার্য পরিচালনায় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ দিয়েছে সরকার। এ ছাড়া ২০২৬ সালের এখন পর্যন্ত ৯৩ বিচারককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে ২টি জেলায় ই-ফ্যামিলি কোর্ট চালু রয়েছে। এই ব্যবস্থায় পারিবারিক মামলা দায়ের, শুনানিসহ মামলার যাবতীয় কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করা হচ্ছে, যার ফলে মামলা পরিচালনা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও কম খরচে সম্পন্ন হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও দূরবর্তী এলাকার মানুষ এই সুবিধার মাধ্যমে সহজে বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ পাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় ই-ফ্যামিলি কোর্ট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আছে। বিচার ব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্যে ‘ই-জুডিশিয়ারি’ শীর্ষক প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণের আলোকে ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ চলমান আছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বিচারপ্রার্থী মানুষের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে।
স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা দায়েরের সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ থাকে না। ফলে কোন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ভুয়া মামলাগুলোর মধ্যে কত সংখ্যক মামলা তদন্তে বা আদালতের রায়ে মিথ্যা/ভিত্তিহীন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা সম্ভব নয় এবং এ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই।
সরকার দলীয় এমপি মনোয়ার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়ে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ সচেতন এবং এ লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মামলা প্রত্যাহারের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটির নীতিগত সিদ্ধান্তে কোনো হত্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে বর্তমান সরকার কমিটি গঠন করেছে। রাজনৈতিক মামলা মামলাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রত্যাহারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সরকার দলের এমপি রফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তিতে গড়ে কত সময় লাগে তা নিয়ে কোনো সমীক্ষা হয়নি। এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য সরকারের কাছে নেই। ফৌজদারি দণ্ডবিধি অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮০ দিন ও দায়রা আদালতে ৩৬০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিধান আছে। দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তির কোন সময়সীমা না থাকলেও কিছু গাইডলাইন রয়েছে। মামলার প্রকৃতি ও জটিলতা ভেদে কোনো মামলা এক বছরে নিষ্পত্তি হতে পারে। আবার কোনো মামলায় ৫ বছর বা তার থেকে বেশি সময় লাগতে পারে।
কারাগার থেকে বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে রিট ব্যারিস্টার সুমনের
কারাগারে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তার পক্ষে অ্যাডভোকেট লিটন আহমেদ এ রিটটি দায়ের করেন। রিটে আইন সচিব, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এবং ঢাকা জেলা প্রশাসন–কে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১৯ মে অনুষ্ঠিতব্য ‘বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচন-২০২৬’-এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক ব্যারিস্টার সুমন। তবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে নির্ধারিত ফরমে তার স্বাক্ষর প্রয়োজন, যা বর্তমানে কারাগারে থাকার কারণে সম্ভব হচ্ছে না।
এর আগে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। ওই আবেদনে ব্যারিস্টার সুমনের পক্ষে অ্যাডভোকেট লিটন আহমেদ উল্লেখ করেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত ফরমে প্রার্থীর স্বাক্ষর নিশ্চিত করা জরুরি। তাই তাকে কারাগার থেকেই ফরমে স্বাক্ষরের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী।
রিটে ব্যারিস্টার সুমনের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করার সুযোগ দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে হাইকোর্টের শুনানির পর পরবর্তী আদেশ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
টিকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আবেদন
হাম ও অন্যান্য রোগের টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তপূর্বক সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. নূরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ ও ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরে সাগর দুদক চেয়ারম্যান বরাবর এ আবেদন দাখিল করেন।
স্বাস্থ্য খাতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের স্বাস্থ্য ও অর্থ খাত রক্ষা এবং শিশুদের জীবন রক্ষায় জনস্বার্থে এ জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক তদন্ত করা আবশ্যক। হাম ও অন্যান্য রোগের টিকা ক্রয় এবং প্রদানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কোনো প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আবেদনে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবে প্রায় শতাধিক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি রাষ্ট্রের একজন সচেতন নাগরিক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে আমাকে মারাত্মক ব্যথিত, উদ্বিগ্ন এবং চিন্তিত করেছে।
এতে আরও বলা হয়, সরকারিভাবে শিশুদের হামসহ অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রোগের টিকার সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট হাম রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়া ও শিশুর মৃত্যুর সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, যা সত্যিই উদ্বেগজনক। হামে আক্রান্ত হয়ে একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. নূরজাহান বেগমের দায় রয়েছে বলে রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মতামত ব্যক্ত করেছেন।
এছাড়াও বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হামের টিকা এবং সিরিঞ্জের অভাবকে পূর্ববর্তী সরকারের সৃষ্ট সমস্যা বলে মন্তব্য করছে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়ের পদ্ধতিতে কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই পরিবর্তন আনে। স্বাস্থ্য খাতে যথেষ্ট (প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা) বাজেট থাকা সত্ত্বেও তারা সময়মতো হামসহ অন্যান্য রোগের টিকা ক্রয় এবং শিশুদের টিকা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়।
ফলে বর্তমানে হামের প্রকোপ বেড়ে গেছে, যা একটি মহামারি আকার ধারণ করছে। বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা যায় যে, এরই মধ্যে শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এবং হাজার হাজার শিশু অপ্রতুল প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। হাম একটি সংক্রামক ব্যাধি যা দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা ক্রয়ে নতুন পদ্ধতি গ্রহণ এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয় না করার বিষয়টি সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ না করা এবং স্বাস্থ্য খাতে যথেষ্ট বাজেট থাকা সত্ত্বেও অর্থের সঠিক ব্যবহার না করা দুর্নীতি ও অনিয়মের ইঙ্গিত প্রদান করে। বিভিন্ন সংবাদপত্র এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে এরই মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে সরাসরি অনিয়মের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
জামিন পেলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী
জামিন পেয়েছেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। রবিবার (১২ এপ্রিল)। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, শিরীন শারমিনকে আজ আদালতে তোলা হয়নি। তার পক্ষে আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয় থেকে নেওয়া হয় আদালতে। সবশেষ আদালতের নির্দেশে পাঠানো হয় কারাগারে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুরের ঘটনায় রাজধানীর লালবাগ থানায় করা একটি মামলায় এদিন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান আদালত। এর আগে আটকের পর ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।
হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই, ট্রাইব্যুনালে আবু সাঈদের ভাই
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন তার পরিবার।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার রায় শুনতে এসে আবু সাঈদের দুই ভাই রমজান আলী ও আবু হোসেন সাংবাদিকদের কাছে এই দাবির কথা জানান।
ট্রাইব্যুনালের এজলাসে প্রবেশের সময় আবু সাঈদের মেজো ভাই আবু হোসেন বলেন, আজ এ মামলার রায় হবে। আমরা চাই আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসি হোক। আর এখনো যারা পলাতক রয়েছেন, তাদের দ্রুত সময়ে গ্রেপ্তার করে যে রায় হবে তা যেন কার্যকর করে সরকার।
বড় ভাই রমজান আলী বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্ট। দেখা যাক রায় কি হয়। আমাদের পরিবার থেকে চাওয়া আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের যেন সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড হয়।
হত্যাচেষ্টা মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরী কারাগারে
জামিনে মুক্ত জামায়াতের নারী কর্মী বিবি সাওদা
ভোলায় আটক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী সাওদা বিবি সুমি অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে বিষয়টি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
এর আগে রোববার (৫ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে ভোলা পৌরসভার নিজ বাসা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন শাখার এসআই জুয়েল হোসেন খানের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিবি সাওদা তার ফেসবুক আইডি থেকে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করেছেন।
আদালতে দেওয়া আবেদনে বলা হয়, বিশ্বস্ত সূত্র ও সাইবার পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে জানতে পারি, বিবি সাওদা তার ব্যবহৃত ‘Redmi Note 9’ মোবাইলে লগইনকৃত ফেসবুক আইডি ‘Sawoda Sumi’ থেকে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী পোস্ট করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর তার মোবাইল ফোন হেফাজতে নেওয়া হয়।
তনু হত্যার ১০ বছর পর তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ
ড. ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ
প্রতারণার মামলায় আবারও কারাগারে গায়ক নোবেল
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীর কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালত এই আদেশ দেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী নাসিদুস জামান নিশান (প্রিন্স) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আসামি বাদীর সঙ্গে জামিনের আপসের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। বিয়ে করার কথা থাকলেও, আসামি জামিনে মুক্তি পেয়ে আর বিয়ে করেননি। টাকাও ফেরত দেয়নি। এজন্য আমরা তার জামিন বাতিলের প্রার্থনা করি। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একই আদালত আপসের শর্তে নোবেলকে জামিনের আদেশ দেন।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে নোবেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরেরদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। পরে মামলার ধার্য তারিখ ২ এপ্রিল পর্যন্ত তাকে জামিন দেন আদালত।
গত বছরের ১৩ আগস্ট নোবেল, তার মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, নোবেলের পরিচিত ছোট ভাই মাসুদ রানা এবং তার অ্যাসিস্ট্যান্ট মুনেম শাহ সৌমিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন আনাননিয়া শবনম রোজ (অনন্যা)। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে গত ৭ জানুয়ারি পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক নুরুজ্জামান পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। গত ২ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, নোবেল বাদীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ২৫ অগস্ট থেকে গত বছরের জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা প্রতারণা করে নিয়ে আত্মসাৎ করে। বাদীকে আটকে রেখে হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টা করেন। আর এতে অপর আসামিরা তাকে সহযোগিতা করে।