লোহাগড়ায় বিএনপির করোনা হেল্প সেন্টারের উদ্বোধন

ফরহাদ খান, নড়াইল প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১০:৩৭ অপরাহ্ন, ২০ জুলাই ২০২১

আর্তমানবতার সেবায় নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় করোনা হেল্প সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জুলাই) দুপুরে লোহাগড়ার লক্ষীপাশা মোল্যার মাঠ এলাকায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিগত সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী শরীফ কাসাফুদ্দোজা কাফি।
তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় করোনা পর্যবেক্ষণ ও হেল্প সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ফ্রি অক্সিজেন সেবা, ডাক্তারি পরামর্শসহ করোনা বিষয়ে অন্যান্য সহযোগিতা করা হবে।  

নড়াইল জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব টিপু সুলতানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি জুলফিকার আলী মন্ডল।

প্রধান বক্তা ছিলেন-জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার রিজভী জর্জ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন-লোহাগড়া পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মোল্যা নজরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক সৈয়দ আব্দুস সবুর, লোহাগড়া পৌর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক শামসুল হক আজাদ, লোহাগড়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আহাদুজ্জামান বাটু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফরিদ হোসেন বিশ্বাস, বিএনপি নেতা খন্দকার কিয়ামুল হাসান, মোহাম্মদ মুসা মোল্যা, তারিকুল ইসলামসহ অনেকে।

পরবর্তী খবর

মানহানির মামলায় আত্মসমর্পণের জন্য আদালতে এমপি আমির হামজা

| প্রকাশিত: ৪:৫৪ অপরাহ্ন, ১৪ জুন ২০২৬

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে করা মানহানির মামলায় আত্মসমর্পণের জন্য সিরাজগঞ্জ আদালতে হাজির হয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা।

রোববার (১৪ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছালে সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আদালত চত্বরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম মল্লিক জানান, হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেওয়ার পর নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করবেন আমির হামজা। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন আদালত।


গত ২ এপ্রিল মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়। একইদিন আদালত তাকে ২১ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করেন।

তবে নির্ধারিত দিনে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরবর্তীতে আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ১৭ মে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কর্মকার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।


পরবর্তী খবর

কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, বেনজীর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ৪:৫০ অপরাহ্ন, ১৪ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় জাতীয় সংসদে কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, শিগগিরই তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংশদের অধিবেশনে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, “সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করে হয়েছে। শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়”


এর আগে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়। আজ রোববার দুপুরে বাংলাদেশ পুলিশের কয়েকটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে।

তবে পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রগুলো জানায়, গত ১২ জুন ইন্টারপোল বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করে। তবে তাকে ঠিক কবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তিনি দেশ ছেড়ে চলে যান।

পরবর্তী খবর

দুর্ভিক্ষপীড়িত রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন জিয়াউর রহমান: মির্জা ফখরুল

| প্রকাশিত: ২:৩৮ অপরাহ্ন, ১৪ জুন ২০২৬
বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলতে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল তার। তিনি আরও ১০ বছর বেঁচে থাকলে আজকে বাংলাদেশ একটি অনন্য দেশ হিসেবে গড়ে উঠতো এবং সমাজে এতো নেতিবাচকতা তৈরি হতো না।

রবিবার (১৪ জুন) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘গণমাধ্যম ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শিরোনামের এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় প্রেসক্লাব। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের স্বার্থে সবাইকে জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরবর্তী প্রজন্মকে জিয়ার আদর্শ ও অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত করতে হবে। এখনই সুযোগ এসেছে আবার জিয়াকে গভীরভাবে স্মরণ করার।

গণমাধ্যমের প্রসঙ্গে টেনে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মাঝে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। গণমাধ্যমের বিদ্যমান সমস্যাগুলো তার কাছে অবহিত করা দরকার। একই সঙ্গে চাটুকারিতার সংস্কৃতি থেকে গণমাধ্যমকে টেনে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
পরবর্তী খবর

যতক্ষণ প্রাণ থাকবে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব : প্রধানমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ৪:৪৫ অপরাহ্ন, ১৩ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের সমর্থনই আমাদের শক্তি। তাই যতক্ষণ আমাদের প্রাণ থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই দেশ এবং এই দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব।

তিনি আজ সকালে পিএমখালি ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখননের কাজ শুরুর পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ কথা বলেন। 

বিএনপি জনগণের জন্য রাজনীতি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  'বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। আর বিএনপি সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায়।’ 

তিনি বলেন, খবরের কাগজগুলোতে দেখলাম, এবারের বাজেটের পরে এখন পর্যন্ত কোন জিনিসের দাম বাড়েনি। কারণ চাল, ডাল, তেল, নুনসহ সকল প্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর যে ট্যাক্স ছিল বর্তমান সরকার এই দুইদিন আগের বাজেটে ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে তা তুলে নিয়েছে। যেন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম না বাড়ে। এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য একটাই, দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে।'

দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে বিরোধী দল প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিরোধী দল বলছে যে এই গণবিরোধী বাজেট তারা মানে না।'


উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই, যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয় সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। যেই বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, যেই বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। তাহলে এবার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন?

তারেক রহমান বলেন, ‘তাদের (বিরোধী দল) লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। তাদের উদ্দেশ্য একটাই,  সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে অস্থিতিশীতা ও অশান্তি তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।’

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট উপস্থাপন করেন।

এদিকে বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন,  এখানে  কেনো এসেছি বলেন তো? পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করতে। আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে এই খাল খনন করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এই খাল খননের ফলে ৪০ হাজার মানুষের উপকার হবে। উপকৃত হবে সাড়ে ৮ হাজার কৃষক। এ কারণে আমারা আগামী পাঁচ বছরে ২৩ হাজার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কিন্তু কৃষির সাথে সাথে আমাদেরকে শিল্প-বাণিজ্যেও গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্প- বাণিজ্যের উন্নতি ঘটলে আমাদের সন্তানদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। চাকরি বাকরি, ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবে। এ কারণে  যে সকল দ্রব্য দেশে উৎপাদিত হয় অথচ একই জিনিস যেগুলো বিদেশ থেকে আসে সেগুলোর ওপর আমরা ট্যাক্স বাড়িয়েছি। যাতে করে দেশে উৎপাদিত দ্রব্যটি যারা উৎপাদন করে, সেই শিল্প কারখানাটি সাপোর্ট পায়, তার ব্যবস্থা আমরা এই বাজেটের মধ্যে রেখেছি। এটিও বিরোধী দলের পছন্দ নয়।’

তিনি বলেন, 'আমি বলতে চাই, এদেশের মালিক আপনারা। দেশের মালিক কোন রাজনৈতিক দল নয়, দেশের মালিক কোন পরিবার নয়, দেশের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশের ২০ কোটি জনগণ।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ‘দেশ আমাদের সকলের। এই দেশই আমাদের প্রথম ঠিকানা, এই দেশই আমাদের শেষ ঠিকানা। সেজন্যই আমরা বলি এই দেশকে গড়লে আমরাই ভালো থাকবো,আমাদের সন্তানরাই শান্তিতে থাকতে পারবে।’

তিনি বলেন, 'এই দেশকে যদি আমরা গড়তে না পারি তাহলে আমাদের সন্তানরা দুঃখ কষ্টে থাকবে। কেউ কি চায় নিজের সন্তান কষ্টে থাকুক? কেউ আমরা চাই না। সেজন্যই আমরা একটি কথাই বলি, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।'

কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, স্থ্নাীয় নেতা হারুনুর রশীদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে এই খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী মুষল বৃষ্টির মধ্যেই ফ্লাইট থেকে নেমে সড়ক পথে পিএমখালীতে আসেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই নিজের হাতে কোদাল দিয়ে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রী খালের পাড়ে একটি খেজুর গাছের চারা রোপণ করেন।


পরবর্তী খবর

সমতা ও ন্যায্যতা: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টেকসই ভিত্তি-- প্রফেসর ড. আসিফ মিজান

| প্রকাশিত: ১২:২৫ অপরাহ্ন, ১৩ জুন ২০২৬


বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আলোচনায় প্রায়শই ভ্রাতৃত্ব, গভীর বন্ধুত্ব এবং ঐতিহাসিক বন্ধনের মায়াজাল তৈরি করা হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতির রূঢ় বাস্তবতা হলো—যেকোনো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তখনই অর্থবহ ও টেকসই হয়ে ওঠে, যখন তা পারস্পরিক স্বার্থ, সার্বভৌম সমতা এবং দৃশ্যমান ন্যায্যতার শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। এই মৌলিক উপাদানগুলোর অনুপস্থিতিতে কেবল ‘ভ্রাতৃত্বের’ সুদৃশ্য স্লোগান কূটনৈতিক সৌজন্যতার বাইরে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হতে বাধ্য।


ভৌগোলিক বাস্তবতা ও ঐতিহাসিক মনস্তত্ত্বঃ

ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রতিবেশী পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের সাথে চার হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ স্থল সীমান্ত শেয়ার করে। দুই দেশের মানুষের মধ্যে রয়েছে সহস্রাব্দের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও নিবিড় অর্থনৈতিক মেলবন্ধন। স্বাভাবিক নিয়মেই এই দুই রাষ্ট্র পরস্পরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু এই দীর্ঘ ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক নৈকট্য সত্ত্বেও, ভারতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের 'বিগ ব্রাদার' বা একাধিপত্যবাদী আচরণ উপমহাদেশের অন্যান্য রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনেও এক ধরনের দূরত্ব ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জনগণের সাথে টেকসই মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্ক উন্নয়নের চেয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা দলের প্রতি অতিমাত্রায় ঝুঁকে থাকার যে প্রবণতা দেখা গেছে, তা এদেশের সচেতন সমাজ ইতিবাচকভাবে নেয়নি। ফলশ্রুতিতে, ভারতের এই একপেশে বা ব্যক্তি-কেন্দ্রিক নীতি শেষ পর্যন্ত খোদ দিল্লির জন্যও কোনো দীর্ঘমেয়াদি ভূ-রাজনৈতিক স্বস্তি বা কৌশলগত লাভ বয়ে আনতে পারেনি।


'রাজনৈতিক দূত' ও নতুন কূটনৈতিক সমীকরণঃ

৫৫ বছরের দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম ভারত তার কোনো পেশাদার কূটনীতিকের (Career Diplomat) পরিবর্তে একজন ঝানু রাজনীতিবিদকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে প্রেরণ করেছে। ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং প্রবীণ সংসদ সদস্য দিনেশ ত্রিবেদীর এই নিযুক্তি প্রমাণ করে যে, ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার এখন ঢাকার সাথে সম্পর্ককে আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক স্তরে ভিন্ন গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।

কিন্তু দিল্লির সাউথ ব্লককে এটি গভীরভাবে অনুধাবন করতে হবে যে, বাংলাদেশের জনগণের মনস্তত্ত্ব এবং সার্বভৌম আকাঙ্ক্ষাকে পাশ কাটিয়ে কোনো চতুর বা একপেশে কূটনীতি দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে পারে না। কখনও কখনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা বিভিন্ন সস্তা প্রচারণায় যখন ‘দুই দেশ এক করার’ মতো অবাস্তব রাজনৈতিক আওয়াজ তোলা হয়, তখন তা এদেশের মানুষের মনে নতুন করে সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকির আশঙ্কা তৈরি করে। যদি সত্যিই একাত্মতা ও সৌহার্দের সদিচ্ছা থাকে, তবে রাজনৈতিক বা ভৌগোলিক একীকরণের এই সস্তা আলাপের আগে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ‘অমিমাংসিত ক্ষত’ গুলোর দিকে নজর দেওয়া জরুরি।


অভিন্ন নদীর জলবণ্টন: একতরফা নীতির অবসানঃ

দুই দেশের জনগণকে এক করার অবাস্তব প্রতিশ্রুতির চেয়ে বড় পরীক্ষা হলো—অভিন্ন নদীগুলোর ওপর থেকে আন্তর্জাতিক আইন বহির্ভূত ও একতরফা কৃত্রিম কৃচ্ছ্রসাধন তুলে নেওয়া। দুই দেশের মানুষকে এক করার আগে, ভারত কর্তৃক একতরফাভাবে আটকে রাখা জলরাশিকে মুক্ত করে কৃত্রিম বাঁধের দুই পাশের জলকে প্রাকৃতিক নিয়মে একসাথে মিশে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া উচিত।

তিস্তাসহ ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না করে ‘ভ্রাতৃত্বের ফাঁকা বুলি’ কেবলই এক ধরনের কূটনৈতিক পরিহাস ও সময়ের অপচয় মাত্র। বিশেষ করে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন এবং তিস্তার দীর্ঘমেয়াদি অমীমাংসিত সংকট নিরসনই হবে দিল্লির সদিচ্ছার প্রথম ও প্রধান পরীক্ষা।


ইতিহাসের পুনর্পাঠ ও বিভাজনের রাজনীতিঃ

ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, এই অঞ্চলকে এক করার চেয়ে বিভাজনের রাজনীতিতেই ভারতের তৎকালীন কিছু উগ্র ঘরানার নেতার ভূমিকা ছিল মুখ্য। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রেক্ষাপটে শরৎ বসু ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ‘স্বাধীন অখণ্ড বাংলা’র প্রস্তাবকে নস্যাৎ করার পেছনে শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির মতো নেতাদের উগ্র সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক অবস্থানই ছিল প্রধান কারণ।

সেদিন যদি তৎকালীন বাংলা ভাগ না হতো, তবে পূর্ব ও পশ্চিম বাংলা মিলে এই উপমহাদেশে এক বিশাল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরাশক্তির উত্থান ঘটত। সেই ঐতিহাসিক সত্যকে আড়াল করে আজকে যখন নতুন করে মৈত্রীর সস্তা বয়ান তৈরি করা হয়, তখন তা স্বভাবতই এদেশের মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়।


একটি টেকসই 'উইন-উইন' কূটনীতির রূপরেখাঃ

ভারতকে বুঝতে হবে যে, সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণ এবং পরস্পরের স্বার্থ রক্ষাকারী একটি ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’ (Win-Win Situation) বা পারস্পরিক লাভজনক ব্যবস্থার মাধ্যমেই কেবল স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা সম্ভব। ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী যতই প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদ হোন না কেন, বাংলাদেশে তাঁর আগমন ঘটেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি তথা কূটনীতিক হিসেবে, কোনো রাজনৈতিক প্রচারক হিসেবে নয়।

সুতরাং, অমূলক ও সস্তা রাজনৈতিক বয়ান পরিহার করে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ও দৃশ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে মনোযোগী হওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে নিচের বিষয়গুলোতে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রয়োজন:

১। সার্বভৌম সমতা: একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ ও আধিপত্যবাদী মনোভাব পরিহার করা।

২। সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামানো: সীমান্তকে সম্পূর্ণ অহিংস রাখা এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সীমান্ত সুরক্ষার নীতি বজায় রাখা।

৩। বাণিজ্যিক ভারসাম্য: অশুল্ক ও আধা-শুল্ক বাধা দূর করে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা।

৪। নদীর ন্যায্য হিস্যা: আন্তর্জাতিক নদী আইন মেনে অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানিবণ্টন চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করা।


যেকোনো ধরনের জেদাজেদি, একতরফা সিদ্ধান্ত বা ভুল বোঝাবুঝি উভয় রাষ্ট্রের জন্যই কেবল ক্ষতির কারণ হবে। সমতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের পথে এগিয়ে যাওয়াই বাংলাদেশ ও ভারত—উভয় রাষ্ট্রের টেকসই সমৃদ্ধির একমাত্র পরম যৌক্তিক পথ।


লেখক: প্রফেসর ড. আসিফ মিজান, উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়া এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক।

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ১২:১১ অপরাহ্ন, ১৩ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ শনিবার সকাল ৯টা ৫৩ মিনিটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছেন। এর আগে তিনি সকাল ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান রয়েছেন। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, পাট ও  বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম ও কক্সবাজারের  জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সড়ক পথে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি পিএমখালী ইউনিয়নে পাতলী খাল পুন:খনন কর্মসূচির অনুষ্ঠানস্থলে যান। খাল পুনঃখননের পর তিনি সেখানে একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।

প্রধানমন্ত্রীর দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে - ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন, মাছুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পেকুয়া উপজেলায় ২০২৪ সালের জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ মো. ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ।

এছাড়া নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বিকেলে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন তিনি।

পরে প্রধানমন্ত্রী মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন করবেন। সন্ধ্যায় লং বিচ হোটেলে এক সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।

বৃক্ষরোপণ ও খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাতে বিমানে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।

দেড় দশকের বেশি সময় লন্ডনে অবস্থানের পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম কক্সবাজার সফর।

পরবর্তী খবর

সংকটমোচন থেকে গণতান্ত্রিক উত্তরণ: সেনাপ্রধান ও নতুন বাংলাদেশের রূপান্তর--প্রফেসর ড. আসিফ মিজান

| প্রকাশিত: ৩:০৭ অপরাহ্ন, ১১ জুন ২০২৬


ইতিহাসের গতিপথ সবসময় সরলরেখায় চলে না। কিছু মাহেন্দ্রক্ষণ আসে যখন একটি সঠিক সিদ্ধান্ত কিংবা একজন ব্যক্তির অবিচল নেতৃত্ব একটি পুরো জাতিকে ধ্বংসের অতল গহ্বর থেকে টেনে তুলতে পারে। ২০২৪ সালের অভূতপূর্ব ছাত্র-জনতার বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশ যে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল, তা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক ও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রাপ্ত নির্বাচিত সরকার গঠন- আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অধ্যায়। এই সমগ্র রূপান্তর ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের নেপথ্যে যিনি সুরক্ষাদাতা হিসেবে কাজ করেছেন, তিনি আর কেউ নন- আমাদের বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জ্জামান।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতার পটপরিবর্তনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বহু বিতর্ক ও সমীকরণ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ক্রান্তিকালে বর্তমান সেনাপ্রধান যে প্রজ্ঞা, ধৈর্য এবং দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন, তা তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও ব্যতিক্রমী এক সেনাপ্রধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে আমরা প্রায়শই দেখি, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হলে সামরিক নেতৃত্বের একটি বড় অংশ ক্ষমতার মোহে আক্রান্ত হয়। কিন্তু জেনারেল ওয়াকার সেখানে এক অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল ব্যতিক্রম। ২০২৪ সালের সেই উত্তাল আগস্ট থেকে শুরু করে ২০২৬-এর নির্বাচন পর্যন্ত, যখন চারদিকে তীব্র উস্কানি ও চরম অনিশ্চয়তা, তখন তিনি ক্ষমতার লোভকে তুচ্ছ করে হিমালয়ের মতো স্থির এবং মহাসমুদ্রের মতো গম্ভীর থেকেছেন। বন্দুকের নল দিয়ে ক্ষমতা দখলের চেনা ছক ভেঙে তিনি দাঁড়িয়েছেন মজলুম জনতা, ন্যায় এবং সর্বোপরি একটি টেকসই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে। সূক্ষ্ম ও নিখুঁত নিশানায় জাতিকে এক জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ড থেকে মুক্ত করে ভোটের অধিকারের মাধ্যমে শান্ত সরোবরে পৌঁছে দেওয়ার এই কৃতিত্ব ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

সেনাবাহিনী একটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। কিন্তু বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে এই বাহিনীকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টা করা হয়েছিল। ইউনিফর্মের আড়ালে থাকা কিছু উচ্চাভিলাষী অনুচরের কারণে বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছিল। বিশেষ করে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় সশস্ত্র বাহিনীতে দাড়ি রাখা বা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলাকে অত্যন্ত নেতিবাচক ও বিপজ্জনক হিসেবে দেখার এক অলিখিত সংস্কৃতির জন্ম দেওয়া হয়েছিল। দাড়ি রাখলেই তাকে 'মৌলবাদী' বা 'চরমপন্থী' ট্যাগ দিয়ে সুনির্দিষ্ট আইন থাকা সত্ত্বেও বাহিনীর ভেতরে অনেককেই মনস্তাত্ত্বিক ও আইনি হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এমন একটি দমবন্ধ ও ভীতিকর পরিবেশের অবসান ঘটিয়ে আজ এক স্বাধীন ও মুক্ত আবহ তৈরি হয়েছে।

আজকের এই গৌরবময় পটপরিবর্তনের পর, পবিত্র হজ্ব পালন শেষে সেনাপ্রধানের লুকে যে নতুন পরিবর্তন এসেছে- যা আমরা (সংযুক্ত ছবিতে) তাঁর সুন্নতি ও হালকা দাড়ি সংবলিত সৌম্য মুখাবয়বে প্রত্যক্ষ করছি- তা কেবল একটি সাধারণ ব্যক্তিগত বাহ্যিক পরিবর্তন নয়। ফ্যাসিস্ট আমলে যেখানে এমন একটি দৃশ্য অকল্পনীয় ছিল, সেখানে আজ বাহিনীর সর্বোচ্চ প্রধানের এই রূপান্তর একটি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক, মনস্তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার প্রতীক। এটি প্রমাণ করে যে, নতুন বাংলাদেশে প্রতিটি নাগরিকের- তা তিনি সাধারণ মানুষ হোন বা সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ কর্মকর্তা- নিজস্ব ধর্মবিশ্বাস ও অনুশাসন স্বাধীনভাবে চর্চার মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই ব্যক্তিত্বসম্পন্ন অবয়ব দেশবাসীকে এই সুদৃঢ় বার্তাই দেয় যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং দেশের সার্বিক নিরাপত্তা আজ এক সঠিক, নীতিবান ও খোদাভীরু মানুষের হাতে সম্পূর্ণ নিরাপদ।

"হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়বিচারের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য দাও, যদিও তা তোমরা নিজেদের, পিতা-মাতা কিংবা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে যায়।" (সূরা আন-নিসা, ৪:১৩৫)

পবিত্র কোরআনের এই শাশ্বত বাণী আজ আমাদের সামগ্রিক রাষ্ট্র সংস্কারের মূলমন্ত্র। ২০২৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত জেনারেল ওয়াকারের দায়িত্বকালের যে সময়টুকু বাকি রয়েছে, তা নির্বাচিত সরকারের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাষ্ট্রকে সুসংহত করার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সময় কখনো সংক্ষিপ্ত, আবার কখনো সুদূরপ্রসারী পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট। আজ দেশবাসী, নির্বাচিত সরকার এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের প্রত্যাশা- বিগত সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া নৃশংস বিডিআর হত্যাকাণ্ড এবং অগণিত গুম-খুনের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সেনাপ্রধান তাঁর পেশাদারী সহযোগিতা ও ঐতিহাসিক ভূমিকা অব্যাহত রাখবেন। বাহিনীর ভেতরে লুকিয়ে থাকা স্বৈরাচারের অবশিষ্টাংশ ও দোসরদের সম্পূর্ণ বিতাড়িত করে ওয়ান-ইলেভেন পূর্ববর্তী পেশাদারিত্ব, দেশপ্রেম ও আদি গৌরব পুনরুদ্ধার করাই হবে এই সময়ের সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য।

গত ২৬ মার্চ ২০২৬ মহান স্বাধীনতা দিবসে, নির্বাচিত সরকার গঠনের অল্প কিছুদিন পর, এই মহানায়কের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কুশল বিনিময়ের এক দুর্লভ সুযোগ আমার হয়েছিল। তাঁর প্রত্যয়, দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা আমাকে দারুণভাবে আশান্বিত করেছে। ক্ষমতার চরম সুযোগ হাতছানি দেওয়ার পরও যিনি নিজের মোহ সংবরণ করে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণকে মসৃণ করেছেন এবং জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান জনপ্রিয় সরকারকে চমৎকারভাবে দেশ পরিচালনায় এক অবিচল নিরাপত্তা-বেষ্টনী জোগান দিচ্ছেন, জাতি তাকে যুগ যুগ ধরে বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে।

আজকের বাংলাদেশ এক নতুন ও আলোকময় দিগন্তে পা রেখেছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জেনারেল ওয়াকারের সুদৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার হারানো গৌরব পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করবে এবং একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনগণের নির্বাচিত সরকারের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে কাজ করে যাবে। মহান সৃষ্টিকর্তা সত্য ও ন্যায়ের এই ঐতিহাসিক যাত্রায় তাঁর সহায় হোন।

লেখকঃ প্রফেসর ড. আসিফ মিজান, উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজনীতি বিশ্লেষক।

পরবর্তী খবর

সব এমপির নির্বাচনি এলাকায় সমান উন্নয়ন হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ৫:৪০ অপরাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬
সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) নির্বাচনি এলাকার মতোই বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকাতেও সমান গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সব নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। সরকারদলীয় সদস্যরা যেভাবে নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবেন, একইভাবে বিরোধী দলের সদস্যদের এলাকাতেও সমানভাবে উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হবে।

অর্থনৈতিক খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে সুদের হার পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ পর্যন্ত ৬০ হাজার পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে আরও ৪১ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাপমাত্রা সহনশীল রাখা এবং দূষণ কমানোর লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আসন্ন বর্ষা মৌসুমেই ৩ কোটি ১৪ লাখ গাছ রোপণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৯৫৬ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে।
পরবর্তী খবর

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ১৭৫ বাংলাদেশি শহীদ হয়েছেন : প্রধানমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ৩:১৯ অপরাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা দিবসের এইদিনে আমি সারা বিশ্বের সেইসব সাহসী শান্তিরক্ষীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, যারা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আত্মত্যাগ করেছেন।

বুধবার সকালে (১০ জুন) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় ২০২৫ সালে সুদানে শাহাদাতবরণকারী ছয় সেনাসদস্যের স্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ওই হামলাসহ সম্প্রতি চলমান মিশনগুলোতে আহত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের হাতেও সম্মাননা তুলে দেন তিনি।

এছাড়া বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। আমি আল্লাহর দরবারে তাদের মাগফিরাত কামনা করছি। হতাহতদের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সহানুভূতি এবং সমবেদনা।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ বছর যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, আজকের এই বিশেষ দিনে তাদের পরিবারকে সম্মাননা জানিয়ে আমি আমার বিশ্বাস থেকে একটি কথা বলতে চাই, শুধু বাংলাদেশের জন্য নয় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে শহীদদের এই আত্মদান, যুদ্ধবিরোধী শান্তিকামী মানুষের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয় জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে যেকোনো মূল্যে শান্তি রক্ষায় বদ্ধ পরিকর।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি যতদূর জানতে পেরেছি, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশের ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি শান্তিরক্ষা মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানেও প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০টি শান্তিরক্ষা মিশনে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীতে পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশের  সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য সাহসের সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমি বিশ্বাস করি, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষাবাহিনীতে নারী সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অবশ্যই এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আগামী দিনগুলোতেও নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে, আপনাদের নিষ্ঠা, কর্তব্যবোধ এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের কারণেই বিশ্বমঞ্চে অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সুনাম ও অবস্থান সুদৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এটি আপনাদের সাহস এবং গভীর দায়িত্ববোধের প্রতিফলন বলেই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। বিশ্ব শান্তি রক্ষায় আমাদের এই গৌরবের ইতিহাস একদিনে রচিত হয়নি। প্রায় চার দশক ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী একটি আস্থা ও নির্ভরতার নাম।

একটি দেশের সশস্ত্রবাহিনী দেশের স্বাধীনতা সম্মান এবং সাহসের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই গৌরব এবং অহংকার অবশ্যই আমাদের সশস্ত্রবাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। সুতরাং, এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয় সেটি রক্ষা করা সশস্ত্রবাহিনীর কর্তব্য।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর ভূমিকা সুখ্যাতি পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি আরও বলেন, তবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে, দেশে সশস্ত্রবাহিনীর কিংবা সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে কিছু অপ তৎপরতা কখনো কখনো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণ হয়েছে। দেশে বিদেশে সশস্ত্রবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট করতে নানারকম তৎপরতাও বিদ্যমান ছিল। সমস্ত ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ৭৫ এর সাত নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

তারেক রহমান বলেন, এরপরও বিভিন্ন সময়ে নানারকম ঘটনায় সশস্ত্রবাহিনীর ঐক্য বিনষ্টের তৎপরতা চললেও ২০০৯ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে সশস্ত্রবাহিনীর উপর সর্বগ্রাসী আঘাতটি এসেছিল।  সেই আঘাতটির ফলে বাংলাদেশে কি ঘটেছিল সেটি আমাদের সবার জানা। সুতরাং, ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রধান বার্তাটি হলো, ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অব কমান্ড’ ছাড়া সম্মান এবং মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুই অতীত চর্চা নয় বরং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সামনে স্বমহিমায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যারা সশস্ত্রবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন অথবা সরকারে কিংবা জনপ্রশাসনে রয়েছেন, আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। এই দেশটা আমাদের সবার। আমরা দেশে কিংবা বিদেশে যেখানে যেই দায়িত্ব পালন করছি সেই দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করাই হোক আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার।

বর্তমান বিশ্ব এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি এখন সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট, নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায়। তাই আমাদের ভবিষ্যৎ মিশনগুলো হতে হবে আরও আধুনিক, দূরদর্শী এবং প্রযুক্তিনির্ভর । এমন পরিস্থিতিতে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর মর্ডানাইজেশনের লক্ষ্যে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

পরবর্তী খবর

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে বৃটিশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত

| প্রকাশিত: ৩:১৬ অপরাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬


আজ ১০ জুন (বুধবার) সকাল ১১:৩০ টায়  জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি’র সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মান্যবর ব্রিটিশ হাইকমিশনার মিস সারাহ কুক এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের হেড অব পলিটিক্যাল মি. টিমোথি ডাকেট এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) মিস কেট ওয়ার্ড।


সৌজন্য সাক্ষাৎটি অত্যন্ত আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।


বৈঠকে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় বাজেট, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা, বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের বিভিন্ন দিকসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।


বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করা, বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের ভূমিকার প্রশংসা, জামায়াতের ছায়া সরকার ও ছায়া বাজেটের প্রশংসা এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়।


উভয় দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও গতিশীল হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


বৈঠকে আমীরে জামায়াতের সঙ্গে মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, এমপি এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা টিমের সদস্য জনাব আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।