২২ বছরের মার্কেটিং পেশা-জীবনে শীর্ষস্থানীয় ১১টি কোম্পানির শীর্ষপদে কাজ করেন আশফাক

ডেস্ক রিপোর্ট | প্রকাশিত: ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, ২৬ জুন ২০২১

মাত্র ২২ বছরের দুর্দান্ত পেশা-জীবনে শীর্ষস্থানীয় ১১টি কোম্পানির শীর্ষপদে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশের কর্পোরেট অঙ্গনে রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন মেঘনা গ্রুপের এফএমসিজি ডিভিশনের চিফ মার্কেটি অফিসার Ashfaqur Rahman; তাঁর ডাকনাম আবীর। জন্ম, পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই। সরকারি ল্যবরেটরি হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করে নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি, তারপর আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও পুনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন।

আশফাকুর রহমানের চাকরি জীবন শুরু হয়েছিল বহুজাতিক বাটা সু কোম্পানিতে ১৯৯৯ সালে। চার বছরে কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে তিনি যখন সেখানকার হোলসেল-এর রিজিওনাল ম্যানেজার, তখনি সুযোগ আসে স্কয়ার ফুড এন্ড বেভারেজ-এর বিক্রয় বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের। তিনি জানান, ওই চাকরিটা পাওয়ার আগে পর্যন্ত আমি এফএমসিজি সেক্টরের খুঁটিনাটি কিছুই বুঝতাম/জানতাম না! কিন্তু যখনি সাক্ষাৎকারের জন্য ডাক পেলাম, পুরো দুই সপ্তাহ বিভিন্ন মার্কেট চষে বেড়ালাম। তৎকালীন এফএমসিজি সেক্টরে কর্মরত কয়েকজন এস.আর, টিএসও, এরিয়া ম্যানেজার ও রিজিওনাল ম্যানেজারকে খুঁজে বের করে তাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরে হাতে-কলমে তাঁদের কাজের ধরন শিখলাম; এই সংস্কৃতির সঙ্গে যতখানি সম্ভব নিজেকে মানিয়ে নিতে সচেষ্ট হলাম, তারপর ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে বিগত কয়েকদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে মেলে ধরলাম। ফলে অবধারিতভাবে অনেক যোগ্য প্রার্থীকে পিছনে ফেলে চাকরিটা পেয়েও গেলাম।

আশফাকুর রহমান সেখানে ছিলেন চার বছর। এরপর এসিআই কমোডিটি পণ্য বিক্রয় বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আরো দুই বছর। সেখান থেকে চলে আসেন পারটেক্স গ্রুপের পার্টিকেল বোর্ড-এর বিক্রয় বিভাগের প্রধান হয়ে। তিন বছর থাকার পর আরএফএল-এর একটি অংশের নেতৃত্ব দেন।

বছরখানেকের মধ্যেই ডরিন গ্রপের সাতঘোড়া সিমেন্ট-এর বিক্রয় বিভাগের প্রধান হন। এরপরের দুই বছর গোল্ডেন হারভেস্ট-এর আইসক্রিম ব্লুপ-এর হেড অব সেলস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারপর বোম্বে সুইটস-এর জিএম হিসেবে দেড় বছর কাটিয়ে আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজ-এর বিক্রয় বিভাগের প্রধান হন। সেখান থেকে পেপসি-তে যোগদান করেন। বর্তমানে মেঘনা গ্রুপের এফএমসিজি ডিভিশনের চিফ মাকেটি অফিসার (বেভারেজ) হিসেবে ১৭০০+ বিক্রয়-বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

বিগত ২২ বছরের পেশাগত জীবনের দিকে ফিরে তাকালে যে কারোরই মনে হবে- আশফাকুর রহমানের জন্মই হয়েছে শুধু সফলতার জন্য! বাংলাদেশের স্বনামধন্য ও সুপরিচিত ১১টি কোম্পানিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী এই কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব অন্তরঙ্গ আলাপনে এমন কিছু মূল্যবান কথা বলেছেন ও দিক নির্দেশনা দিয়েছেন- যা তরুণ প্রজন্মের পেশাজীবীদের জন্য অনেক শিক্ষণীয় হতে পারে।

আশফাকুর রহমান আলোচিত ১১টি চাকরির মধ্যে তিনটির সন্ধান পেয়েছিলেন পেশাদার হেড হান্টার-এর মাধ্যমে। বাকি আটটি চাকরি জুটিয়েছেন নিজের কর্পোরেট নেটওয়ার্ক-কে কাজে লাগিয়ে। তার মানে কোম্পানি থেকে কী পেলেন, তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আপনার চারপাশের পরিচিত সমাজে নিজেকে ঘিরে আওয়াজ তুলতে পারছেন কি না?

তিনি বলেন, আমরা যে কোম্পানিতে চাকরি করি, তার কাছে কখনো বড় হই না, বড় হতে হয় নিজের প্রচেষ্টা ও যোগ্যতায়। আপনি যত বড় পদে ঢুকবেন, তত বেশি ছাড় দেওয়ার মানসিকতা পোষণ করেই চাকরিতে টিকে থাকতে হবে, নইলে যখন-তখন ছিটকে পড়তে পারেন! চাকরি ছেড়ে চলে আসার সময় কোম্পানির চোখে ভালো নাও থাকতে পারেন, কিন্তু আপনি সত্যিকারের ভালো মানুষ হলে কিছু প্রাক্তন সহকর্মী আড়ালে-আবডালে আপনার প্রশংসাই করবে।

তাঁর মতে, সদ্য চাকরিতে ঢুকেই আগের সবকিছু হুটহাট বাতিল করে দেওয়া উচিত নয়। নতুন কোনো চাকরিতে যোগ দিলে সেখানে নিজের মতো করে কিছুই পাবেন না। প্রথমে নিজেকে ওদের মতো করে সাজিয়ে নিতে হবে; সোজা বাংলায় মেনে ও মানিয়ে নিতে হবে। ওদের একজন হয়ে ওঠার পর বাকি সবাইকে নিজের মতো করে গড়ে নিতে হবে। তবে লোহা গরম থাকতে থাকতেই দু’-চারটা ঘা দেওয়ারও প্রয়োজন আছে বৈকি (অর্থাৎ নিজের অবস্থানকে জানান দিতে হয়, নইলে হঠাৎ একদিন আপনিই ‘নাই’ হয়ে যেতে পারেন।

তিনি বলেন, কোনো চাকরিতে ঢোকার পরে অনেকেই কোম্পানির অতীতের ভুলগুলো নিয়ে অথবা অতীতে যাঁরা কাজ করে গেছেন, তাঁদের সমালোচনা করে মহামূল্যবান সময়ের ৮০% অহেতুক নষ্ট করেন। এটা সব থেকে বড় ভুল এই কারণে যে, বারবার পেছন ফিরে ভুলগুলো দেখলে আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার গতি শ্লথ হয়ে যায়! পেছনের দিকে ফিরে সামনে দৌড়ানো যায় কি? ফেলে আসা দিনগুলোর ভুলের দিকে বড়জোর ১০% মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে যাতে সেই ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি না হয়। ভুল থেকে শিক্ষা নিলে একই ধরনের ভুল এড়ানো সম্ভব।

আশফাকুর রহমান বলেন, নেতা যেটা চাইবেন, আগে সেটা নিজেকে করে দেখাতে হবে। কাউকে পরিবর্তন করা যায় না, কেবলমাত্র নিজেকে বদলিয়ে অন্যকে বদলানোর পথ দেখাতে হয়। কোনো অবস্থাতেই নিজেকে over selling করা যাবে না। নিয়োগকর্তাকে অবশ্যই বড় স্বপ্ন দেখাবেন, তবে তাতে যেন বাস্তবতার ছোঁয়া থাকে। আকাশ-কুসুম আওয়াজ দিয়ে চাকরিটা পেতে পারেন, কিন্তু বেশিদিন টিকিয়ে রাখতে পারবেন না। যা বলবেন (আগাম অঙ্গীকার করবেন), তার কিছুটা হলেও বাস্তবায়ন করে দেখাতে হবে।

বারবার পণ্য ও ব্যবসার ধরন বদল করেও সফল বিক্রয়শিল্পী আশফাকুর রহমান মনে করেন- পণ্য বা সেবা যেটাই হোক না কেন, বিক্রির ধরন অনেকাংশে একই। যেটুকু আলাদা, সেটা শিখে নিতে যোগ্যতমের বেশি সময় লাগে না! তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে কমোডিটি প্রোডাক্ট বলে আলাদা কিছুই নাই, সবই এফএমসিজি। একইভাবে নিজেকেও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। চাকরি করতে এসে কখনোই আত্মবিশ্বাস হারাবেন না, হারালে নিজেকে আর খুঁজেই পাবেন না!

তিনি বলেন, বিক্রি তথা ব্যবসাকে গতিশীল রাখতে কিছুদিন পরপর যেমন পণ্যের রূপ (মোড়ক) বদলাতে হয়, এই কাজটা নিজের জন্যও করা উচিত। ভালো কিছু বই ও প্রশিক্ষকের সান্নিধ্য আপনাকে অনায়াসে সেই সুযোগটা তৈরি করে দিতে পারে। তাঁর মতে- চাকরি বদলের সময় পদবি ও বেতন দু’টোই বাড়িয়ে নিতে হবে। পদবি বাড়িয়ে নিতে পারলে বেতনও আপনাআপনিই বেড়ে যায়! সব সময় দেড়গুণ বেতন।

পরবর্তী খবর

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ

| প্রকাশিত: ৬:০১ অপরাহ্ন, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫



ঢাকা, ৯ নভেম্বরের ২০২৫: জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সকলেরঅবগতির জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। ৮ খন্ডের এই প্রতিবেদনেকমিশনের সুপারিশ, জুলাই জাতীয় সনদ ছাড়াও ঐকমত্যগঠন প্রক্রিয়ার সময় রাজনৈতিক দল ও জোট সমূহের দেয়ামতামত, দল ও জোট সমূহের সাথে আলোচনার সারসংক্ষেপ, কমিশনের অন্যান্য নথিপত্র এবং কমিশনের করাজনমত জরিপের ফলাফল রয়েছে। প্রতিবেদনের সবগুলোখন্ড https://reform.gov.bd ঠিকানার ওয়েব পেইজে দেয়াহয়েছে।  

 

জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন ছাড়াও এর আগে ও পরে গঠিতমোট ১১টি সংস্কার কমিশনের সকল প্রতিবেদনও এইওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

 

প্রসঙ্গত, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমানঅন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে গ্রহণের পর গত বছরের অক্টোবরমাসে এবংপরবর্তী বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট ১১টি সংস্কারকমিশন গঠন করে। এরমধ্যে প্রথম ধাপে গঠিত ৬টি সংস্কারকমিশনের কার্যক্রমের সমাপ্তিলগ্নে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদইউনূসকে সভাপতি এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধানপ্রফেসর আলী রীয়াজকে সহ-সভাপতি করে গঠন করা হয়জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। অপর ৫টি কমিশনের প্রধানদেরকেএই কমিশনের সদস্য হিসাবে রাখা হয়। যদিওপরবর্তী সময়েবিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন ও জনপ্রশাসন সংস্কারকমিশনের প্রধানগণের অপারগতার কারণে উক্ত দুইকমিশনের দু’জন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনেরসদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করাহয়।

 

চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারী জাতীয় ঐকমত্য কমিশনেরআনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর পর রাজনৈতিক দলসমূহ ও নাগরিকসমাজের সঙ্গে বিভিন্ন ধাপের ধারাবাহিকআলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে গত ৩১ জুলাইয়ের মধ্যেচুড়ান্ত করা হয় জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫। এরপর গত ১৭অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণেআনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়। ইতোমধ্যেইজাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের আলোকে সরকারজুলাই ‘জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান) আদেশ’ জারিকরেছে।

পরবর্তী খবর

নারী জাগরণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি, ৪ মহীয়সী নারীকে সম্মাননা

| প্রকাশিত: ৪:০৮ অপরাহ্ন, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫

নারীশিক্ষা, নারী অধিকার, মানবাধিকার এবং নারী জাগরণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবারও চার বিশিষ্ট নারীকে রোকেয়া পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাদের হাতে এই পদক তুলে দেন।

পদকপ্রাপ্তরা হলেন: নারীশিক্ষা শ্রেণিতে (গবেষণা) রুভানা রাকিব, নারী অধিকার শ্রেণিতে (শ্রম অধিকার) কল্পনা আক্তার, মানবাধিকার শ্রেণিতে নাবিলা ইদ্রিস এবং নারী জাগরণ শ্রেণিতে (ক্রীড়া) ঋতুপর্ণা চাকমা।

এই পদক প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় দিবসটি পালন করছে।

প্রসঙ্গত, নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪৪তম জন্ম ও ৯২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি’।

নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বাঙালি নারী শিক্ষার অগ্রদূত এবং সমাজ সংস্কারক রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের অবদানকে স্মরণে যথাযথ মর্যাদায় আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রোকেয়া দিবস পালিত হচ্ছে।


পরবর্তী খবর

বিডিআর হত্যাকাণ্ডে দলগতভাবে জড়িত আওয়ামী লীগ, মূল সমন্বয়কারী তাপস: কমিশন

| প্রকাশিত: ৩:৪৭ অপরাহ্ন, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫


ঢাকা, ৩০ নভেম্বর ২০২৫: বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত বর্বরতম হত্যাযজ্ঞের বিষয় তদন্তের জন্য গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন আজ রোববার প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান ও অন্যান্য সদস্যরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন।


কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন: মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান বীর প্রতীক (অব.), মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ সচিব (অব.), ড. এম. আকবর আলী অতিরিক্ত আইজিপি (অব.), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন।


এসময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতি দীর্ঘদিন ধরে অন্ধকারে ছিলো। আপনারা সত্য উদ্‌ঘাটনে যে ভূমিকা রেখেছেন জাতি তা স্মরণে রাখবে। জাতির পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”


তিনি বলেন, ইতিহাসের এই ভয়াবহতম ঘটনা নিয়ে জাতির অনেক প্রশ্ন ছিলো, এই কাজের মধ্য দিয়ে সেসব প্রশ্নের অবসান ঘটবে।


তিনি বলেন, এই প্রতিবেদনে শিক্ষণীয় বহু বিষয় এসেছে। জাতির জন্য মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকবে এটি।


কমিশন প্রধান ফজলুর রহমান বলেন, তদন্তকাজ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত করার স্বার্থে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখা হয়েছে।


তিনি বলেন, আমরা যখন কাজ শুরু করি তখন ১৬ বছর আগের এই ঘটনার বহু আলামত ধ্বংস হয়ে গেছে। 

এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকে বিদেশে চলে গেছেন। 


“আমরা দুটো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছি। সাক্ষীদের ডাকলাম, কারো কারো ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বক্তব্য শুনেছি আমরা। যতক্ষণ তিনি বলতে চেয়েছেন। যারা তদন্তে জড়িত ছিল তাদের সঙ্গে কথা করেছি। তাদের তদন্তের রিপোর্ট কালেক্ট করেছি, অন্যান্য এলিমেন্ট কালেক্ট করেছি।”


তিনি বলেন, এই তদন্তের মাধ্যমে বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে থাকা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে, উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করা হয়েছে কার কী ভূমিকা ছিল। কেন সেনাবাহিনী দাঁড়িয়ে থাকল অ্যাকশন নিল না। 


তিনি বলেন, তদন্তে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে বহিঃশক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততা ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সরাসরি জড়িত থাকার শক্তিশালী প্রমাণ মিলেছে।


এসময় কমিশনের ফাইন্ডিংস সম্পর্কে জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার বলেন, এই ঘটনা কিছু বাহ্যিক ও প্রকৃত কারণ বের করেছে কমিশন।


তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত এবং এর পেছনে প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছিল তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস।


তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের রক্ষা করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। তারা ২০-২৫ জনের একটি মিছিল নিয়ে পিলখানায় ঢুকেছে এবং বের হবার সময় সেই মিছিলে দুই শতাধিক মানুষ ছিলো।


তিনি বলেন, পুরো ঘটনাটি সংঘটিত করার ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিলো। 


তিনি এই ঘটনার দায় নিরূপণের ক্ষেত্রে বলেন, দায় তৎকালীন সরকার প্রধান থেকে শুরু করে সেনাপ্রধানেরও। এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পুলিশ ও র‍্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও রয়েছে চরম ব্যর্থতা।


তিনি বলেন, ওই ঘটনার সময় কিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং কয়েকজন সাংবাদিকের ভূমিকা ছিলো অপেশাদার।


তিনি বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন) যেসব বিডিআর সদস্যদের সঙ্গে শেখ হাসিনা বৈঠক করেছে, তাদের সঠিক নাম পরিচয় ও তথ্য সংরক্ষণ করা হয়নি। 


কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বেশকিছু সুপারিশ করে, যাতে করে ভবিষ্যতে বাহিনীগুলোতে এই ধরনের ঘটনা এড়ানো যায় এবং এই ঘটনার ভিকটিমরা ন‍্যায় বিচার পায়।


বৈঠকে অন্যান্যের উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ ও স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি।

পরবর্তী খবর

গাঁজা বিক্রি করতে নিষেধ করায় খুন হন সাম্য: ডিবি

| প্রকাশিত: ৩:৪৬ অপরাহ্ন, ০৮ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রদল নেতা এস এম শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেছে মামলার তদন্তসংস্থা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাঁজা বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ারকে হত্যা করা হয়েছে।’

শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. আখতার মোর্শেদ অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে এই তথ্য জানান তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মামলার তদন্তসংস্থা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করে।

পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ বলেন, ‘এ মামলার অভিযোগপত্রে ৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।’

অভিযোগপত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর আখতার মোর্শেদ উল্লেখ করেন, সাম্য ও তার বন্ধুরা প্রায়ই উদ্যানে সময় কাটাতেন এবং মাদক বিক্রি বন্ধে স্থানীয়দের সচেতন করতেন। এতে মাদক বিক্রেতাদের সঙ্গে তাদের শত্রুতা তৈরি হয়। ১৩ মে রাতে সেই শত্রুতার জের ধরে সাম্যকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

অভিযোগপত্রে তালিকাভুক্ত আসামিরা হলেন মেহেদী হাসান, মো. রাব্বি ওরফে কবুতর রাব্বি, মো. রিপন ওরফে আকাশ, নাহিদ হাসান পাপেল, মো. হৃদয় ইসলাম, মো. হারুন অর রশিদ সোহাগ ওরফে লম্বু সোহাগ ও মো. রবিন।

এদিকে তালিকাভুক্ত আসামিদের প্রসঙ্গে ডিবি জানায়, তারা সবাই মাদককারবারি।

এছাড়া অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া আসামিরা হলেন তামিম হাওলাদার, সম্রাট মল্লিক, পলাশ সরদার ও সুজন সরকার।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মে দিবাগত রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হন শাহরিয়ার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন তিনি।

এ ঘটনায় পরদিন অর্থাৎ ১৪ মে সকালে নিহত সাম্যের বড় ভাই শরীফুল ইসলাম শাহবাগ থানায় ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তী খবর

ফেসবুকে বিকৃত ছবি, ঢাবি শিক্ষক মোনামীর মামলা

| প্রকাশিত: ৩:৪৪ অপরাহ্ন, ০৩ নভেম্বর ২০২৫

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিকৃত ছবির পাশাপাশি ‘অশালীন’ মন্তব্য ও ‘মানহানিকর’ কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে মামলা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আনিম ভূঁইয়া মোনামী।

মামলায় সাংবাদিক মুজতবা খন্দকার, লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদ এবং নিরব হোসাইন ও আশফাক হোসাইন ইভানের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছেন ভুক্তভোগী ঢাবি শিক্ষক মোনামী।

সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালিদ মুনসুর বলেন, ঢাবি শিক্ষক মোনামী আমাদের থানায় মামলা করেছেন। তার অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সাংবাদিক ও অ্যাকটিভিস্ট মুজতবা খন্দকার তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মোনামীর ছবি অশালীনভাবে এডিট করে পোস্ট করেন। সেখানে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইনি, পোশাকের স্বাধীনতায় পরেছে বিকিনি’। অন্যদিকে লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট মহিউদ্দিন মোহাম্মদ তার ব্যক্তিগত আইডিতে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে মোনামীকে ‘যৌন-কল্পনার রসদ’ আখ্যা দিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।

এজাহার অনুযায়ী, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী নিরব হোসাইন ডেইলি ক্যাম্পাসের একটি পোস্টের কমেন্টে ঢাবি শিক্ষক মোনামীকে নিয়ে ‘অশালীন’ মন্তব্য করেন। এ ছাড়া আশফাক হোসাইন ইভান নিজের ফেসবুক আইডি থেকে মোনামীর এডিট করা অশালীন ছবি পোস্ট করেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, এই চারজন ছাড়াও অজ্ঞাত আরও অনেক ব্যক্তি ফেসবুকে মোনামীর ছবি বারবার এডিট করে অশালীনভাবে পোস্ট করছে এবং তাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছে। এতে তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এসব ফেসবুক পোস্ট ও কমেন্টের আইডি ও স্ক্রিনশট এজাহারে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মোনামী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমানজনক মন্তব্য করা হচ্ছে। এতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

পরবর্তী খবর

৪ নভেম্বর ফুলকোর্ট সভা ডেকেছেন প্রধান বিচারপতি

| প্রকাশিত: ৪:০১ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৫

প্রধান বিচারপতির নির্দেশে আগামী মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টে ফুলকোর্ট সভার আয়োজন করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ-এর নির্দেশে বিকেল ৩টার সভাটি সুপ্রিম কোর্টের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হবে। এতে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের সকল বিচারপতি উপস্থিত থাকবেন।

শনিবার (১ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. আসিফ ইকবাল সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ফুলকোর্ট সভায় অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি ও পদোন্নতি, পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ফুলকোর্ট সভা বিচারপতিদের নিজস্ব ফোরাম হিসেবে কাজ করে, যেখানে নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

পরবর্তী খবর

সাগর-রুনি হত্যা: তদন্তে শেষবারের মতো সময় দিলেন হাইকোর্ট

| প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ন, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলা তদন্তে আরও ৬ মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে এটিকে ‘শেষবারের মতো’ বর্ধিত সময় বলে উল্লেখ করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুশফিকুর রহিম প্রমুখ। অন‍্যদিকে রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ ও শিশির মনির।

এর আগে, গত ২৩ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে বিভিন্ন এজেন্সির অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন চার সদস্যের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়। গত ২২ এপ্রিল টাস্কফোর্সকে ৬ মাস সময় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন সাগর ও রুনি। ঘটনার সময় বাসায় ছিল তাদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরোয়ার মেঘ। সাগর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙা আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন রুনির ভাই নওশের আলম।

মামলার আসামিরা হলেন– রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাড়ির দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খান। তাদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ জামিনে রয়েছে। বাকিরা কারাগারে আটক।

উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত ১২১ বারের মতো পিছিয়েছে সাগর-রুনির হত্যা মামলার প্রতিবেদন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী তারিখ আগামী ৩০ নভেম্বর।

পরবর্তী খবর

প্রধান উপদেষ্টাকে পাঠানো ছয় মানবাধিকার সংগঠনের চিঠিতে যা আছে

| প্রকাশিত: ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, ২১ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও করণীয় বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে যৌথ চিঠি লিখেছে ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা; যেগুলোর মধ্যে রয়েছে সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, ফোরটিফাই রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটস ও টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট।

গত ১৯ অক্টোবর হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) ওয়েবসাইটে ওই চিঠিটি প্রকাশ করা হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় সাইডলাইনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে সাক্ষাতের পরিপ্রেক্ষিতে এই চিঠি পাঠানো হয়, যার মধ‍্যে সরকারের জন্য অস্বস্তিকর কিছু বিষয় রয়েছে।

রাজনীতি ডটকমের পাঠকদের জন্য চিঠিটির অনুবাদ—

প্রিয় প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস,

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আপনার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মৌলিক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার, আইন সংস্কার শুরু করা এবং গুমসহ অন্যান্য গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।

২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে সীমিত সময়ের এই পরিসরে আমরা আপনাকে অনুরোধ করছি মানবাধিকার সুরক্ষাকে আরও প্রসারিত করতে এবং এমন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে, যা স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবে এবং ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক অধোগতি রোধ করবে।

আমরা উদ্বিগ্ন যে নিরাপত্তা খাত এখনও মূলত সংস্কারবিহীন রয়ে গেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য এখনও দায়মুক্তি ভোগ করছে ও জবাবদিহির প্রচেষ্টায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে না। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারে সরকারকে আরও পদক্ষেপ নিতে হবে, তবে একইসঙ্গে এখনও চলমান নির্বিচার গ্রেফতার ও আটক কার্যক্রম—বিশেষত আওয়ামী লীগ সদস্যদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রমাণবিহীন মামলা—অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে আপনি বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনই সংকটের একমাত্র সমাধান, এবং “তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে” নতুন আগত শরণার্থীদের “প্রত্যাবাসনের সুযোগ দিতে হবে।” রোহিঙ্গারা সবসময় তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে আগত ১ লাখ ৫০ হাজারসহ সব রোহিঙ্গার জন্য মিয়ানমারের কোনো অংশই এখনও নিরাপদ নয়, যা স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনকে অসম্ভব করে তুলেছে।

আমরা আপনাকে অনুরোধ করছি নিচের পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে, যাতে বাংলাদেশের সবার অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত হয়:

গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করুন

জুলাই বিপ্লব ও গত পনেরো বছরে সংঘটিত গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং নির্যাতনের ঘটনায় দায়ী ব‍্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনুন।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ইতোমধ্যে র‍্যাব ও ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই)-এর বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিযোগ ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে— যা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সামরিক বাহিনীকে এসব বিচার কার্যক্রমে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং আইসিটির এখতিয়ার মেনে চলতে হবে।

আমরা অনুরোধ করছি, আইসিটি যেন আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং সব রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক বিবেচনা নির্বিশেষে ন্যায্য বিচার সম্পন্ন করতে পারে। আইসিটির অধীন থাকা মামলাসহ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে সরকারকে অবিলম্বে স্থগিতাদেশ ঘোষণা করা উচিত।

নিরাপত্তা খাত সংস্কার করুন

্যাব বিলুপ্ত করা এবং ডিজিএফআই-এর ক্ষমতা সীমিত করা অপরিহার্য। র‌্যাবের দীর্ঘদিনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস প্রতিষ্ঠানটিকে সংস্কারের বাইরে নিয়ে গেছে। সামরিক সদস্যদের বেসামরিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা থেকে সরিয়ে নিন। ডিজিএফআই-এর ক্ষমতা ও ভূমিকা শুধুমাত্র সামরিক গোয়েন্দা কার্যক্রমে সীমিত করতে হবে এবং একটি স্পষ্ট আইনগত কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।

গুম অপরাধ হিসেবে দণ্ডনীয় করুন এবং অনুসন্ধান কমিশনের কার্যক্রম নিশ্চিত করুন

আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী “গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ”-এর খসড়া অবিলম্বে অনুমোদন করুন, তবে মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত ধারা বাদ দেওয়া উচিত। “কমিশন অব ইনকোয়ারি অন এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস” গঠন করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর পূর্ণ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংস্কার করুন

প্যারিস নীতিমালা অনুযায়ী কমিশনের স্বাধীনতা, অর্থায়ন এবং সদস্য নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কার করতে হবে। কমিশনকে নিরাপত্তা বাহিনীসহ রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের পূর্ণ ক্ষমতা দিতে হবে।


মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপকারী আইনসমূহ বাতিল বা সংশোধন করুন

সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট এবং মানহানির ফৌজদারি বিধানসমূহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডে সংশোধন করতে হবে। ২০২৩ সালের আইন বাতিলের পর প্রণীত সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫ এখনো অস্পষ্ট ও ব্যাপক ক্ষমতা দেয়— যা অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করে।

তথ্য সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার আইন সংশোধন করুন

“ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা অধ্যাদেশ” ও “জাতীয় তথ্য ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ” খসড়ায় রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত ছাড় বা ক্ষমতা সীমিত করতে হবে। এসব খসড়াকে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সংশোধন এবং নাগরিক সমাজের পরামর্শে চূড়ান্ত করতে হবে।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করুন

রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সাংবাদিকদের গ্রেফতার, হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ প্রমাণবিহীন বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি, সেগুলো বাতিল করতে হবে। মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের আন্তর্জাতিক মানসম্মত সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

নির্বিচার গ্রেফতার ও রাজনৈতিক মামলা বাতিল করুন

আগস্ট ২০২৪-এর আগে ও পরে দায়েরকৃত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা—যে দল বা মতেরই হোক—বাতিল করতে হবে। বিশেষত আওয়ামী লীগ সদস্য ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রমাণবিহীন অভিযোগ দ্রুত খারিজ করতে হবে।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করুন

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে আরোপিত দলীয় নিষেধাজ্ঞা মতপ্রকাশ, সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করছে। জাতিসংঘের ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, সরকার যেন “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এমন রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ থেকে বিরত থাকে।”

নাগরিক সমাজ ও এনজিওদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করুন

এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো এবং বিদেশি অনুদান (স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম) নিয়ন্ত্রণ আইন সংস্কার করতে হবে। নাগরিক সমাজের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ, আন্তর্জাতিক তহবিলে প্রবেশাধিকার, ও প্রশাসনিক বাধা কমাতে হবে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন থেকে রক্ষা করুন

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পূর্বে কোনো জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন করা যাবে না। ক্যাম্পে চলাচল, জীবিকা ও শিক্ষার সুযোগে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করতে হবে। সাহায্য হ্রাসের প্রেক্ষাপটে এসব সুযোগ রোহিঙ্গাদের স্বনির্ভরতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ।

আইসিসি’র তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করুন

বাংলাদেশ-মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আইসিসির চলমান তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং আদালতের চাহিদা অনুযায়ী অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও হস্তান্তর নিশ্চিত করতে হবে।

পরবর্তী খবর

গণপূর্তের ঢাকার তত্ত্বাবধায়ক মাহবুব কত টাকার মালিক?

| প্রকাশিত: ৯:৫১ অপরাহ্ন, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

জাওয়াদ নির্ঝর : 

গণপূর্ত অধিদপ্তর ঢাকার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান! কয়েকশো কোটি টাকার মালিক তিনি। গণপূর্তের এই প্রকৌশলীর অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জনের পিছনে সরকারি প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।


এই যেমন, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই)-এর একটি প্রকল্পে থেকে মাহবুব ১৭ কোটি ৮ লাখ ৮৩ হাজার একশত চুয়াল্লিশ টাকার অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


মাহবুবুর রহমান ই/এম সার্কেল-৩-এর আওতাধীন টেন্ডার ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব খাটিয়ে আসছে। তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, যন্ত্রপাতি ক্রয় ও সরবরাহে কারসাজি করার অভিযোগ রয়েছে।


বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক মাহবুব ইকবাল রোডে ৩৫০০ বর্গফুটের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস করে! আগারগাঁওয়ের ৬০ ফুট সড়কে রয়েছে চারতলা ভবন। বনশ্রী আমুলিয়া হাউজিং এলাকায় ১৫ বিঘা জমির মালিক তিনি। এগুলো তার অবৈধ সম্পদের ২/১ টা উদাহরণ।

পরবর্তী খবর

শান্তিতে নোবেল পেলেন ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদো

| প্রকাশিত: ৩:৪৫ অপরাহ্ন, ১০ অক্টোবর ২০২৫

২০২৫ সালের শান্তি পুরস্কার পেলেন ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদো। আজ শুক্রবার (১০ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায়) নরওয়ের রাজধানী অসলোর নোবেল ইনস্টিটিউট থেকে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।

নরওয়ের নোবেল কমিটি জানিয়েছে, মাচাদো ভেনিজুয়েলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একনায়কতন্ত্র থেকে শান্তিপূর্ণভাবে গণতন্ত্রে রূপান্তরের জন্য যে অক্লান্ত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তার জন্যই তিনি এই পুরস্কারের যোগ্য।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, এ বছর নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয় ৩৩৮ জনকে। যারমধ্যে ২৪৪ জন হলেন ব্যক্তি। আর বাকি ৯৪টি মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনকে। গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিল জাপানি সংগঠন নিহন হিদানকিও। তারা পারমাণবিক বোমা হামলার শিকার মানুষদের প্রতিনিধিত্ব এবং পারমাণবিক অস্ত্র মুক্ত বিশ্ব গড়তে কাজ করে।

এর আগে বছরের শুরু থেকেই শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের যোগ্য দাবিদার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, সাতটি যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁকে পুরস্কৃত করার জন্য মনোনয়ন দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন ইসরায়েল ও পাকিস্তানের সরকারপ্রধান। সুইডেন এমনকি নরওয়ের রাজনীতিবিদ ও আইনপ্রণেতারাও ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছিলেন।