এগিয়ে যাচ্ছে সমাজ-দেশ, এগিয়ে যাচ্ছেন নারীরাও। নারীর ক্ষমতায়নে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এখন বাংলাদেশ।
নারী শক্তি এখন আর শুধু ঘরের চার দেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশের নারীরা তাদের সক্ষমতার বিকাশ ঘটিয়ে বাইরের দুনিয়ায় সমান পারদর্শিতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সমাজ-দেশ, এগিয়ে যাচ্ছেন নারীরাও। নারীর ক্ষমতায়নে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এখন বাংলাদেশ।
খেলাধুলা,বিজ্ঞান,গবেষণা,আবিষ্কার,রাজনীতি,প্রশাসন,পররাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সব ক্ষেত্রেই নারীর সরব উপস্থিতি লক্ষণীয়। নারীদের জন্যকল্যাণমুখী সরকারের নানা পদক্ষেপ ও নীতির কারণেই স্ব স্ব ক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছেন তারা।
সেরা নারী পেসার মারুফা আক্তার
মারুফা আক্তার- আইসিসির ২০২৩ সালের বর্ষসেরা নারী উদীয়মান ক্রিকেটার মনোনীতদের তালিকায় উঠে এসেছেন বাংলাদেশি এই নারী পেসার। চারজনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় অন্যরা হলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার ফিবি লিচফিল্ড, ইংল্যান্ডের পেসার লরেন বেল ও স্কটল্যান্ডের অলরাউন্ডার ডার্সি কার্টার। ১৮ বছর বয়সী মারুফা নিজের প্রথম আইসিসি ইভেন্টেই নজর কাড়েন। পরবর্তীতেও বাংলাদেশের হয়ে বিভিন্ন ইভেন্টে ভালো করে চলেছেন।
জানা যায়, মারুফা আক্তারের জন্ম নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের ঢেলাপীর এলাকায়। বাবা আইমুল্লাহ হক বর্গাচাষি আর মা মর্জিনা বেগম গৃহিণী। মা-বাবা, চার ভাইবোনসহ ছয়জনের বেশ বড়সড় পরিবার। বড় ভাই আল-আমিন অনার্স করছেন নীলফামারী সরকারি কলেজে। মেজো ভাই আহসান হাবিব দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছেন স্থানীয় কলেজে। তার পিঠাপিঠি বড় বোন মাহফুজা আক্তারের বিয়ে হয়েছে। গৃহিণী এই বোনের স্বামী কৃষিকাজ করেন। কেবল ভিটেমাটি ছাড়া আর কোনো জায়গা-জমি নেই মারুফাদের। ঘরের যেই ভিটে তাও মারুফার নানার দেওয়া। তবে এখন বদলে যাচ্ছে সব। কেবল নিজের পরিবারই নয়, মারুফা বদলে দিচ্ছেন দেশের লাখো মেয়েদের চিন্তাভাবনা। দেখাচ্ছেন নতুন দিনের স্বপ্ন।
মারুফার বাবা আইমুল্লাহ হক বলেন,‘আমার সেই ছোট্ট মেয়েটি আজ দেশের হয়ে সুনাম কুড়াচ্ছে, এর চেয়ে গর্বের আর কী হতে পারে। আমার চার সন্তানের মধ্যে সবার ছোট সন্তান মারুফা। বড় সন্তানের নামে কেউ আমাকে এখন ডাকে না। সবাই মারুফার বাবা বলে আমায় সম্বোধন করেন। এই ডাক শুনে আমার আনন্দে বুক ভরে যায়। মারুফার এই পর্যন্ত পথ পাড়ি দেওয়া সহজ ছিল না। মেয়েটি আমার খুব কষ্ট করেছে জীবনে। আমার নিজের কোনো জমি কিংবা বসতভিটা নেই। শ্বশুরের দেওয়া বাড়িতে থাকি। অন্যের জমি বর্গাচাষ ও দিনমজুরি করে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছি। আশা করি, সে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারবে। এ জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।’
তুমুল আত্মবিশ্বাসী ও পরিশ্রমী মারুফার কাছে আগামীর স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন এখন জাতীয় দলের বোলিংয়ে নেতৃত্ব দেওয়া। এই স্বপ্নটা আজকের নয়; সেই ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি। বাংলাদেশকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। কেউ যেন আমাদের এই লাল-সবুজের দেশের দিকে আঙুল তুলে কথা বলতে না পারে!’
সেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় গাউসিয়া ও সেঁজুতি সাহা
সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সাময়িকী এশিয়ান সায়েন্টিস্ট। সাময়িকীটি ২০১৬ সাল থেকে প্রতি বছর এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকা প্রকাশ করে আসছে।
২০২৩ সালের তালিকায় উঠে এসেছেন বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখা গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানীরা। সেরাদের এ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক- বিজ্ঞানী গাউসিয়া ওয়াহিদুন্নেসা চৌধুরী। গবেষণা করেছেন প্লাস্টিক দূষণ এবং প্রকৃতি ও মানুষের জীবনের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে। অণুজীব বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা কাজ করছেন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন’-এর পরিচালক হিসেবে।
১শ’ বিজ্ঞানীর মধ্যে স্থান পাওয়া দুই বাঙালি বিজ্ঞানীই নারী। এই তালিকায় স্থান পাওয়া সেঁজুতি সাহা মনে করেন, এই অর্জনের ফলে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের নারীরা বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যে এগিয়ে যাচ্ছেন সেই বার্তা পৌঁছে যাবে বিশ্বের কাছে। তবে ভালো লাগার পাশাপাশি কিছুটা ভয়ও লাগছে সেঁজুতির। তার মতে, ‘এতে দায়িত্ব আরও অনেক বেড়ে গেল। তবে আমি বিশেষভাবে আমার প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ,এ স্বীকৃতিটাও এশিয়াভিত্তিক। যা দেশে ফিরে না এলে কখনও সম্ভব হতো না।’
ফোর্বসে নবনীতা
ফোর্বস প্রথমবারের মতো ‘৩০ আন্ডার ৩০ লোকাল টরেন্টো’ তালিকা প্রকাশ করে। ফোর্বসের মতে, বর্তমানে কানাডায় ব্যবসা ও প্রযুক্তি জীবনের কেন্দ্রে অবস্থান করছে টরন্টো। এখানে তরুণরা নানা উদ্ভাবনী ধারণা ও উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন; যা ভবিষ্যৎ দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দেবে। সে কারণেই টরেন্টোর জন্য আলাদা তালিকা করেছে ফোর্বস।
তালিকায় তরুণ গবেষক ও উদ্যোক্তা হিসেবে স্থান পান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নবনীতা নাওয়ার ও থাই বংশোদ্ভূত পিমুয়াপা মানসিয়ংকুল। তারা দু’জন এইচডিএএক্স থেরাপিউটিকস নামে টরেন্টো ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। ফোর্বসের মতে, নবনীতা ও পিমুয়াপার এইচডিএএক্স থেরাপিউটিকস প্রথমবারের মতো পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথির চিকিৎসা বা ওষুধের উন্নয়নে কাজ করছেন; যা বিশ্বের তিন কোটির বেশি মানুষের কাজে লাগবে। এইচডিএএক্স ২০২৫ সালের প্রথম দিকে রোগীদের আশা জাগানোর মতো ওষুধ তৈরি করতে যাচ্ছে। নারী নেতৃত্বে চলা দলটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা পিএন রোগীদের জীবন রঙিন করে তুলতে পারে। ক্যান্সার গবেষণার সেরা ক্লিনিকগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোতে পাঁচ বছরের গবেষণার পর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এইচডিএএক্স।
বিবিসির ১০০ নারীর তালিকায় জান্নাতুল
২০২৩ সালে বিবিসির প্রকাশ করা বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় উঠে এসেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস আইভি। এ তালিকায় স্থান পাওয়া আইভি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়,মর্মান্তিক অগ্নিদুর্ঘটনায় শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া এ তরুণী চিত্রনির্মাতা, লেখক ও অধিকারকর্মী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেন।
জানা যায়, ১৯৯৭ সালে এক অগ্নিদুর্ঘটনায় তার শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে যায়। এ মর্মান্তিক ঘটনা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে তিনি একজন চিত্রনির্মাতা, লেখক ও অধিকারকর্মীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।
তিনি বলেন, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেছি ভয়েস অ্যান্ড ভিউজ। এ মানবাধিকার সংগঠন দগ্ধ নারীদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছে।
আগামীর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস আইভি বলেন, ‘যেদিন আমার শরীরে আগুন লেগেছিল, তার আগ পর্যন্ত সব যেন ঠিকঠাকই চলছিল। তারপর বদলাতে থাকে সময়। বদলাতে থাকে শরীরের ভাষা। সেই পোড়ার যন্ত্রণা আজও বয়ে বেড়াচ্ছি। হয়তো আজন্ম বয়ে বেড়াতে হবে। তবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়িনি আমি। এ জন্য আমার পরিবারকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারব না। আমি জানি পোড়ার শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার কথা। এই যন্ত্রণা নারীদের ক্ষেত্রে আরও বেড়ে যায়। সেখান থেকেই ভয়েস অ্যান্ড ভিউজ-এর যাত্রা শুরু হয়। আগামীতে সংগঠনটির কার্যক্রম আরও বাড়াতে চাই। সেই সঙ্গে নিজেকেও ছাড়িয়ে যেতে চাই সৃজনশীল ও মানবিক কাজ দিয়ে।’
ফুটবলের তারকা সাগরিকা, কল্পনা, সাবিনা-তহুরারা
অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে নিয়েছেন সাগরিকা। পেয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারও। সাফের প্রথম ম্যাচে তার জোড়া গোলে নেপালকে হারায় বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে তার একমাত্র গোলে জেতে বাংলাদেশ। সাগরিকার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের রাঙ্গাটুঙ্গি গ্রামে। বাবা লিটন আলী আর মা আনজু বেগম। চা বিক্রি করে সংসার চালানো লিটন আলীর পরিবারে অভাব-অনটন যেন নিত্যসঙ্গী। এর মধ্যে মেয়ে খেলতে চায় ফুটবল।
সমাজের কটু কথার ভয়ে মেয়েকে ফুটবল খেলতে বারণ করতেন বাবা। কিন্তু মেয়ের আগ্রহ আর জেদের কাছে হেরে যান লিটন আলী। বললেন,‘আমরা যে পরিবার,তাতে ফুটবল খেলা একটা বিলাসিতাই মনে হয়েছিল। তাছাড়া আমার একটা শঙ্কা ছিল,ফুটবল খেললে সবাই কী বলবে! কিন্তু এখন বুঝতে পারছি,আমি পুরোপুরি ভুল ছিলাম।’
গত অক্টোবরে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও বেশ ভালো করেছে বাংলাদেশ। প্রথম সেমিফাইনালে হ্যাটট্রিক করেন তহুরা খাতুন। দুই গোল করেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। একটি করে গোল করেছেন মনিকা চাকমা ও মাসুরা পারভিন ।
শহর থেকে গ্রাম; সর্বস্তরেই এখন নারীর অগ্রযাত্রা। নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই আপন গতিতে এগিয়ে চলেছে বাঙলার কন্যা, ভগিনী ও জায়ারা। এ অগ্রযাত্রার যাত্রী যারা তাদের দেখানো পথ ধরে, অদম্য সাহসিকতা ও অনুপ্রেরণায় ভর দিয়ে এগিয়ে যাবে আগামীর বাংলাদেশ।
অতীতে ছাত্রলীগ করলেও এনসিপিতে যোগ দিতে পারবে: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, কোনো নেতাকর্মীর অতীত রাজনৈতিক পরিচয় দলের কাছে মুখ্য নয়; বরং এনসিপির আদর্শই প্রধান বিবেচ্য।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের নেতাদের যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, অতীতে কেউ ছাত্রদল, ছাত্রশিবির বা ছাত্রলীগ—যেখানেই থাকুক না কেন, এনসিপিতে যোগ দেওয়ার পর তাকে দলের নেতা-কর্মী হিসেবেই কাজ করতে হবে এবং দলের আদর্শ ধারণ করতে হবে।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ফ্যাসিবাদ, গণহত্যা, চাঁদাবাজি বা দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি এনসিপিতে স্থান পাবেন
তিনি আরও বলেন, যারা বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে বিশ্বাসী এবং ‘দায় ও দরদের রাজনীতি’ প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাদের নিয়েই দল এগিয়ে যেতে চায়। একই সঙ্গে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর চেতনা ধারণ করে আগামীর পথচলার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন যোগদানকারীরা এতদিন ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে থাকলেও মূলত একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছিলেন। এখন তারা আনুষ্ঠানিকভাবে একত্রিত হয়েছেন। দেশের তরুণসহ সব শ্রেণির মানুষকে এনসিপিতে যোগ দিয়ে দলকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া তিনি বলেন, দেশে নতুন করে কোনো স্বৈরতন্ত্র যাতে গড়ে না ওঠে, সে জন্য তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। জনগণের দেওয়া সংস্কারের পক্ষে রায় বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশু এবং হামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার হাম বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮০৪ শিশু। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১৬৫ শিশুর। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেরই সর্বোচ্চ ১৪৮টি শিশু রয়েছে।
এসময় সারা দেশে ১ হাজার ১৯৭টি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা যায়। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮০৪টি শিশু। এর মধ্যে ৫৬৩টি শিশুই ঢাকা বিভাগের।
এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৬৪৫টি শিশু গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিভাগের ৩০০ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা গেছে মোট ২৩ হাজার ৬০৬টি শিশুর মধ্যে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫ হাজার ৩২৬টি শিশু।
তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৪৪৩ জনের হাম শনাক্ত হয়। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ৩৯৬।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী এই সভায় সভাপতিত্ব করেন। এতে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পানি বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাতসহ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে এ্যানি সাংবাদিকদের বলেন, সামনে বর্ষা আসছে। বন্যা ও প্লাবন হতে পারে। এক্ষেত্রে আমাদের আগাম কি কি কাজ করা দরকার সে সব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনাগুলো তাঁকে অবহিত করেছি।
তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি অব্যাহত আছে। আগামী ২৭ এপ্রিল যশোর এবং ২ মে সিলেটে প্রধানমন্ত্রী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
এর আগে দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে সচিবালয় দফতরে আসেন প্রধানমন্ত্রী। এটি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের প্রথম সভা ছিল।
সৌদি আরব পৌঁছেছেন ৪ হাজার ৪৫৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী
সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন কর্মকর্তা
সিআরবিতে নতুন স্থাপনা নয়, সাফ জানিয়ে দিলেন মেয়র ও আন্দোলনকারীরা
চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র সিআরবি’র প্রাণপ্রকৃতি ধ্বংস করে কোনো হাসপাতাল বা নতুন স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন। স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করা হলে তা শক্ত হাতে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে ‘সিআরবি রক্ষা মঞ্চ’।
আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে নগরীর জামালখানে জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় মেয়র এই অবস্থান ব্যক্ত করেন। একই সময়ে সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণ উদ্যোগের প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে 'সিআরবি রক্ষা মঞ্চ'।
মেয়র জানান, তিনি এ বিষয়ে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং মন্ত্রীও সিআরবি রক্ষা করে বিকল্প উপায়ে পুরনো হাসপাতালটি আধুনিকীকরণের বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।
সিআরবি প্রসঙ্গে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমি গতকাল মাননীয় রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে কথা বলেছি। ওনাকে স্পষ্ট জানিয়েছি—শতবর্ষী গাছ কেটে সিআরবিতে কোনো হাসপাতাল বা নতুন স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না; কারণ চট্টগ্রামবাসী তা কখনোই মেনে নেবে না। মন্ত্রী মহোদয়ও আমার এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।”
মেয়র আরও বলেন, “বর্তমানে সিআরবিতে যে পুরনো রেলওয়ে হাসপাতালটি রয়েছে, সেটি সংস্কার বা নতুনভাবে গড়ে তোলার বিষয়ে মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। ওই হাসপাতালের জরাজীর্ণ অবকাঠামো ভেঙে কীভাবে একটি আধুনিক ও সুন্দর হাসপাতাল করা যায়, সেটি এখন সময়ের দাবি; কারণ বর্তমান হাসপাতালটিতে তেমন কোনো রোগী আসে না। আমরা সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল করার প্রস্তাব দিয়েছি। তবে সব হবে পুরনো ভবনের জায়গাতেই, নতুন কোনো জায়গায় নয়।”
মেয়র বলেন, ‘এখানে আমরা ডেন্টাল কলেজের কথা বলেছি ইতিমধ্যে। একটা পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল হসপিটাল এবং কলেজের কথা বলেছি। কাজেই ওই জায়গায় আমরা হয়তো–বা আশা করতে পারি, পুরোনো বিল্ডিংয়ে, কিন্তু নতুন কোনো স্থাপনা সেখানে হবে না।’
হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ প্রতিহতের ঘোষণা রক্ষা মঞ্চের
সিআরবিতে হাসপাতাল বা কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করা হলে তা শক্ত হাতে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে ‘সিআরবি রক্ষা মঞ্চ’।
রোববার সকালে সিআরবি এলাকায় আয়োজিত সমাবেশে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা বলেন, যে কোনো মূল্যে চট্টগ্রামের শ্বাস নেওয়ার এই উন্মুক্ত স্থানটি রক্ষা করা হবে। বক্তারা অভিযোগ করেন, এক বছরের বেশি সময় আন্দোলনের পর যে প্রকল্প বাতিল হয়েছিল, তা পুনরায় চালুর চেষ্টার পেছনে বিশেষ মহলের অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে।
সিআরবি রক্ষা মঞ্চ আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের সিআরবি এ শহরের ফুসফুস। এই সিআরবি প্রাণ-প্রকৃতির আঁধার। শুধু উন্মুক্ত পরিসর নয়, একই সঙ্গে এখানে বিপুল পরিমাণ ঔষধি গাছ রয়েছে। তাই এখানে হাসপাতালের মতো কোনো ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা করা যাবে না। বুকের রক্ত দিয়ে হলেও তা প্রতিহত করা হবে।
সমাবেশে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ইমরান বিন ইউনুস বলেন, সিআরবি নিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের অনেক স্মৃতি রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, শহরের সুন্দর সুন্দর জায়গাগুলো নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। এখন তাদের চোখ পড়েছে সিআরবিতে। একটা নির্বাচিত সরকার কীভাবে টাকার ফাঁদে পড়ল? সিআরবি চট্টগ্রামের শ্বাস নেওয়ার জায়গা, ঐতিহ্যের জায়গা। এখানে কোনো হাসপাতাল হবে না, এটাই চূড়ান্ত। এ নিয়ে যুক্তিতর্কও চলবে না।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ এক বছরের বেশি সময় আন্দোলন করে এখানে হাসপাতাল নির্মাণের প্রকল্প রুখে দিয়েছিলেন। কিন্তু পুরোনো শকুন আবার সিআরবিকে গিলে খেতে চায়। তবে তা আবার প্রতিহত করা হবে।
রেলওয়ে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এম আর মঞ্জু বলেন, ‘অনেক দিন আগে থেকে এখানে হাসপাতাল করার পাঁয়তারা চলছে। কিন্তু আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় সে হাসপাতাল নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এখন যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা আমরাও জানতাম না। কারা এ উদ্যোগ নিয়েছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। এ নিয়ে রেলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। আমরা রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। মন্ত্রীকে জানিয়ে দিয়েছি, এখানে হাসপাতালের নামে কোনো কিছু করা যাবে না।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম নগর কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরের ফুসফুস সিআরবিকে কেউ দখলের চেষ্টা করলে সে হাত ভেঙে দেওয়া হবে। আশা করি, দখলদারদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে, তারা সিআরবিতে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ থেকে সরে আসবে।’
সিআরবি রক্ষা মঞ্চের আহ্বায়ক চিকিৎসক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন নারী নেত্রী আসমা আক্তার, দীপা মজুমদার, পরিবেশকর্মী মনিরা পারভীন, রাজনীতিবিদ চিরঞ্জন চিরু, জাহেদুল আলম, ছাত্রনেতা শওকত ওসমান, প্রকাশক সাহাব উদ্দিন হাসান প্রমুখ।
বিশ্ববাজারে দ্বিগুণ হলেও দেশে তেলের দাম বাড়ল সামান্য: জ্বালানিমন্ত্রী
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য দ্বিগুণ হওয়া সত্ত্বেও সরকার জনগণের কথা বিবেচনা করে দেশে দাম অত্যন্ত সীমিত পরিসরে বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানিতে সরকারের ওপর বিশাল অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হলেও ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণ হওয়ার পরেও সরকার জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দেশে তেলের দাম খুব সামান্য বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানিতে এরইমধ্যে সরকারের দুই বিলিয়ন ডলার বাড়তি খরচ হয়েছে।
ইকবাল হাসান বলেন, ‘যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের যা দাম ছিল, বর্তমান বাজারে তা প্রায় দ্বিগুণ। এই বিপুল দাম বৃদ্ধির ফলে সরকারের ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। তবুও আমরা জনগণের স্বস্তির কথা চিন্তা করে সেই অনুপাতে দাম বাড়াইনি।’
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সরকার ভর্তুকি দিয়ে হলেও বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। জনগণের ভোগান্তি কমাতে এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই সরকার এই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা নিজে বহন করছে এবং অত্যন্ত সীমিত পরিসরে দাম সমন্বয় করেছে।
ঢাকায় শেষ হলো ‘আন্তর্জাতিক ফাইট নাইটের আসর’
রাজধানীতে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ‘আন্তর্জাতিক ফাইট নাইট’। তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (টিবিজি) পৃষ্ঠপোষকতায় শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির জুলকান ইনডোর অ্যারেনায় দেশি-বিদেশি ২৪ জন ফাইটারের লড়াইয়ে মুখরিত ছিল গ্যালারি। মুইয়েথাই, মিক্সড মার্শাল আর্ট ও বক্সিংয়ের ১২টি বাউটে বাংলাদেশসহ থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুরের প্রতিযোগীরা অংশ নেন, যেখানে লড়াকু পারফরম্যান্স দেখিয়ে দর্শকদের মাতান লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
দেশ-বিদেশের ফাইটিং স্টারদের ফাইট দেখতে দর্শকদের গুঞ্জরণে মুখরিত হয়ে ছিল জুলকান ইনডোর অ্যারেনা। এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (টিবিজি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান।
বিশেষ এই প্রতিযোগিতাটি দর্শক গ্যালারিতে থেকে উপভোগ করেন সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান ও ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াশা সোবহান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এমিল আহমেদ সোবহান।
তিন ডিসিপ্লিনের এই ফাইটে মুখোমুখি লড়েছেন বাংলাদেশ , থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুরের প্রতিযোগীরা। ফাইট কার্ডে ছিল বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় ম্যাচআপ। ১২ বাউটের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন দেশ-বিদেশের ২৪ জন প্রতিযোগী।
এর মধ্যে বাউট ১ এ অংশ নেয় বাংলাদেশের ইয়াহসান হাসিন এবং আজিজুল সরকার। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন বাংলাদেশের ইয়াহসান হাসিন।
বাউট ২ এ বাংলাদেশের আজিদ বেবি লড়েছেন সিঙ্গাপুরের নিক চুয়া এর বিপক্ষে। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন নিক চুয়া ।
বাউট ৩ এ বাংলাদেশের আব্দুল হামিদ নূরের বিপরীতে লড়েছেন সিঙ্গাপুরের শন রাফায়েল স্যানি। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন শন রাফায়েল স্যানি।
বাউট ৪ এ বাংলাদেশের ইমন তঞ্চঙ্গ্যা লড়েছেন ফিলিপাইনের রকি ব্যাকটলের বিপক্ষে। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন ইমন তঞ্চঙ্গ্যা।
বাউট ৫ এ বাংলাদেশের হোসাইন আহমেদ লড়েছেন থাইল্যান্ডের উইরাওয়াত সাপনলার বিপক্ষে। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন হোসাইন আহমেদ।
বাউট ৬ এ ফিলিপাইনের মার্ক জোসেফ অ্যাব্রিলো লড়েছেন থাইল্যান্ডের নাট্টাওয়াত কাওখানচুমের বিপক্ষে। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন
নাট্টাওয়াত কাওখানচুমের।
বাউট ৭ এ বাংলাদেশের ইসার কবির লড়েছেন স্বদেশী রোনাল্ড হালদারের বিপক্ষে। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন ইসার কবির।
বাউট ৮ এ বাংলাদেশের গাজ্জালী বেনজাদিদ জিদান লড়েছেন স্বদেশী কাজী জারিফ এর বিপক্ষে। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন গাজ্জালী বেনজাদিদ জিদান।
বাউট ৯ এ বাংলাদেশের মাসাদুল রেজা অমিও লড়েছেন বাংলাদেশের কালেব চাক এর বিপক্ষে। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন মাসাদুল রেজা অমিও।
বাউট ১০ এ বাংলাদেশের মনজুর আলমের প্রতিপক্ষ ছিল ফিলিপাইনের জন ইজেকিয়েল পাগালাঙ্গান। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন মনজুর আলম।
বাউট ১১ এ নারীদের বক্সিংয়ে বাংলাদেশের সানজিদা জান্নাত লড়েছেন থাইল্যান্ডের পর্নপিমন পংপেও এর বিপক্ষে। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন সানজিদা জান্নাত।
বাউট ১২ এ বাংলাদেশের মোহাম্মদ রাশেদ লড়েছেন থাইল্যান্ডের সিংথং সর সিঙইউ এর বিপক্ষে। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন মোহাম্মদ রাশেদ।
এই মেগা ইভেন্টটির আয়োজনে ছিল তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (টিবিজি)। তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করতে তারা এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছেন ।
ক্রীড়াবিদ ও আয়োজকরা মনে করছেন, এই ধরনের ইভেন্ট দেশের কমব্যাট স্পোর্টসকে জনপ্রিয় করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই ধরনের আয়োজন দেশের তরুণ ফাইটারদের জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চ তৈরি এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বাতিঘর হয়ে উঠবে।
তেলের দাম বৃদ্ধি ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’: জামায়াত আমির
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে তেলের দাম বাড়ানোয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‘দুঃখজনক’ ও সাধারণ মানুষের জন্য ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ বলে অভিহিত করেন।
ডা. শফিকুর রহমান তার পোস্টে লিখেন, বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষ এমনিতেই জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। জনজীবনে যখন নাভিশ্বাস ওঠার দশা, ঠিক সেই মুহূর্তে দর সমন্বয়ের অজুহাতে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি মানুষের সংকটকে আরও চরম পর্যায়ে নিয়ে যাবে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যেখানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমছে, সেখানে দেশের বাজারে এই মূল্য বৃদ্ধি কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে পরিবহন ভাড়া থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়বে, যা সাধারণ মানুষের কষ্টকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
সোমবার বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
সর্বশেষ - খেলাধুলা
- ১ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু, টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
- ২ বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে এডহক কমিটি গঠন
- ৩ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের জয়ে স্পিকারের অভিনন্দন
- ৪ ভারতে হারিয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
- ৫ টাইব্রেকারে ভারত বধ, টানা দ্বিতীয়বার সাফে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের যুবারা