বিপিএল খেলতে দেশে আসছে যেসব তারকা ক্রিকেটার
আগামী ২৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার) চায়ের দেশ সিলেটে পর্দা উঠছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরের। মাঠের লড়াই শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি।
তাই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। দেশি ক্রিকেটারদের পাশাপাশি টুর্নামেন্টে অংশ নিতে বিদেশি তারকারাও বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছেন।
২৩ ডিসেম্বর সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার নিজ নিজ দলের সাথে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সিলেট টাইটান্স: দলটির অন্যতম প্রধান ভরসা পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির গতকাল রাতেই সিলেটে এসে পৌঁছেছেন।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: বিদেশি ক্রিকেটারদের আগমনে সবচেয়ে এগিয়ে আছে রাজশাহী। দলটির হয়ে খেলতে বাংলাদেশে এসেছেন পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান, অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নাওয়াজ ও হুসেইন তালাত।
এ ছাড়া নেপালের স্পিন তারকা সন্দীপ লামিচানে এবং লঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দো দলের সাথে যোগ দিয়েছেন।
রংপুর রাইডার্স: রংপুরের বিদেশি বহরের মধ্যে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পা রেখেছেন পাকিস্তানি ব্যাটার খুশদিল শাহ।
এখনো পর্যন্ত চট্টগ্রাম রয়্যালস, ঢাকা ক্যাপিটালস এবং নোয়াখালীর বিদেশি ক্রিকেটাররা বাংলাদেশে এসে পৌঁছাননি। তবে বিপিএল কর্তৃপক্ষ ও দলগুলোর সূত্রমতে, আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই সব দলের বিদেশি ক্রিকেটাররা ক্যাম্পে যোগ দেবেন বলে জানা যায়।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু, টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বেলা ১১টায় মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচে টসে জিতে স্বাগতিক বাংলাদেশকে ফিল্ডিংয়ে পাঠিয়েছে নিউজিল্যান্ড।
ম্যাচ শুরুর আগেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ দল। হাঁটুর চোটে শেষ মুহূর্তে ছিটকে গেছেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। তার পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন শরীফুল ইসলাম, যিনি সম্প্রতি পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) দারুণ পারফরম্যান্স করে নজর কাড়েন।
অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে নিয়মিত দল নিয়েই মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। মোস্তাফিজের অনুপস্থিতিতে পেস আক্রমণে থাকছেন শরিফুলের সঙ্গে তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা। স্পিন বিভাগে আছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন এবং অলরাউন্ডার মিরাজ।
ব্যাটিংয়ে ওপেনিং জুটিতে দেখা যাবে সাইফ হাসান ও তানজিদ তামিমকে। এরপর মিডল অর্ডারে থাকছেন জমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়, আফিফ হোসেন ধ্রুব।
স্বাগতিক বাংলাদেশ অবশ্য রয়েছে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে টাইগাররা।
অন্যদিকে, তুলনামূলক অনভিজ্ঞ দল নিয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছে নিউজিল্যান্ড। আইপিএল ও পিএসএলে ব্যস্ত থাকায় দলটির একাধিক তারকা ক্রিকেটার অনুপস্থিত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে খেলা একাদশের আটজন ক্রিকেটারকেই আজকের ম্যাচে পাচ্ছে না কিউইরা।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৪ সালের পর থেকে বাংলাদেশে কোনো ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিততে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ২০০৮, ২০১০ ও ২০১৩ সালে তারা প্রথম ম্যাচে হেরেছে, আর ২০২৩ সালের ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছিল। ফলে ইতিহাসও বাংলাদেশের পক্ষেই কথা বলছে।
দুই দলের একাদশ
বাংলাদেশ একাদশ: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন কুমার দাস (উইকেটকিপার), তাওহিদ হৃদয়, আফিফ হোসেন ধ্রুব, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।
নিউজিল্যান্ড একাদশ: উইল ইয়াং, টম ল্যাথাম (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), হেনরি নিকোলস, নিক কেলি, মুহাম্মদ আব্বাস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ব্লেয়ার টিকনার, জেডেন লেনক্স ও উইলিয়াম ও’রুর্কি।
বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে এডহক কমিটি গঠন
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের জয়ে স্পিকারের অভিনন্দন
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশের জয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অভিনন্দন জানিয়েছেন।
শুক্রবার মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে বাংলাদেশ ও ভারত মুখোমুখি হয়। নির্ধারিত সময়ে সমতা থাকার পর ট্রাইবেকারে বাংলাদেশ ৪-৩ গোলে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জেতে।
স্পিকার অনূর্ধ্ব-২০ বাংলাদেশ ফুটবল দলের খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানান।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামীতেও বাংলাদেশ ফুটবল দলের এই জয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে।
ভারতে হারিয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতে বাংলাদেশ দল। প্রধানমন্ত্রী এই সাফল্যকে জাতির গর্ব বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অর্জন ভবিষ্যতে দেশের ফুটবলে আরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
টাইব্রেকারে ভারত বধ, টানা দ্বিতীয়বার সাফে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের যুবারা
আক্রমণ-পালটা আক্রমণে জমে উঠেছিল ম্যাচ। তবে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় ডেডলক ভাঙতে পারেনি কেউ। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মালদ্বীপের মালে জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। টাইব্রেকারে স্নায়ুর লড়াইয়ে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রেখেছে বাংলাদেশের যুবারা।
টাইব্রেকারে স্যামুয়েল মিস করলেও বাংলাদেশের হয়ে গোলের দেখা পান মুর্শেদ আলি, চন্দন রায়, আব্দুল রিয়াদ ফাহিম ও রোনান।
অন্যদিকে টাইব্রেকারে ভারতের ঋষি সিংয়ের প্রথম শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন ইসমাইল হোসেন মাহিন। এরপর লক্ষ্যভেদ করেন মোহাম্মদ আরবাস, স্যামসন ও বিশাল যাদব। পঞ্চম শটে বাইরে মারেন দোদুম। তাতেই নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের যুবাদের শিরোপা।
টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বেও মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সে ম্যাচ শেষ হয়েছিল ১-১ ড্রয়ে। ফাইনাল ম্যাচেও জমজমাট লড়াইয়ের আভাস ছিল।
সানি দাসের বদলে আব্দুল রিয়াদ ফাহিমকে নিয়ে প্রথম একাদশ সাজিয়েছিলেন বাংলাদেশের কোচ মার্ক কক্স। নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালে বদলি হিসেবে নেমে আলো ছড়ালেও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ডিফেন্ডার ডেকলান সুলিভানকে ফাইনালে বেঞ্চেই রাখেন তিনি।
ডেকলানের ভাই রোনান অবশ্য শুরু থেকেই আক্রমণ শানিয়ে যেতে থাকেন ফাইনালে। সপ্তম মিনিটে শটও নিয়েছিলেন গোলপোস্টে। দুর্বল সে শট জালের দেখা পায়নি। ১৩ মিনিটে রোনান বক্সে ক্রস করলে মিঠু চোধুরি হেড করেন, তবে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দুই মিনিট পরেই মানিকের বক্সে ফেলা বলে চেষ্টা করেও পা লাগাতে পারেননি রোনান। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে নিচু হয়ে আসা পাস সাইড ভলি করেছিলেন তিনি। সে শটও উড়ে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।
ভারতের যুবারাও একের পর এক পালটা আক্রমণ শানাতে থাকেন। বিশেষ করে রোহেন সিং ডান প্রান্ত ধরে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিলেন। ৩৬ মিনিটে দারুণ এক কর্নারের পর ছোট ডি-বক্সে ঋশিকান্ডা বল পেয়ে যান। রক্ষণের দৃঢ়তায় সে বল ক্লিয়ার হলেও জদরিক আব্রানাচেস হেড করেন। দুর্বল সে হেড অবশ্য গ্লাভসে ধরে নেম ইসমাইল। শক্তিশালী রক্ষণের কারণেই ভারতের যুবারা বারবার চেষ্টা চালিয়েও জালের দেখা পেতে ব্যর্থ হন।
শোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু দুই দলেরই জমাট রক্ষণের কারণে ফরোয়ার্ডরা জাল খুঁজে পাননি। ৮০ মিনিটের পর অবশ্য টানা দুই মিনিয়মটে দুর্দান্ত দুটি সুযোগ পেয়ে যায় ভারত। একবার শট ওপরের জালে জড়ায়। আরেকবার গোলপোস্টের সামনে বল পেয়েও পা লাগাতে ব্যর্থ ভারতের ফরোয়ার্ড।
শেষ পর্যন্ত তাই টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচ। সেখানে ইসমাইল-রোনানদের নৈপুণ্যে শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসে বাংলাদেশ।
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় শিরোপা। আগের শিরোপা এসেছিল সবশেষ আসর ২০২৪ সালে। মোট আটবারের এ টুর্নামেন্টে চারবার সেরা হয়েছে ভারত, দুইবার নেপাল।
কক্সবাজার হবে আন্তর্জাতিক 'স্পোর্টস ট্যুরিজম হাব': ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
কক্সবাজারের প্রস্তাবিত ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জরাজীর্ণ অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এই অঞ্চলকে একটি আধুনিক 'স্পোর্টস ভিলেজ' হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
আজ সকালে স্টেডিয়াম এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে এখানে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ট্যুরিজম প্রসারে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।
স্টেডিয়ামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের মতো মনোরম একটি জায়গায় বর্তমান অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত নাজুক এবং জরাজীর্ণ। মাঠের অবস্থা কিছুটা গ্রহণযোগ্য হলেও খেলোয়াড় ও পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এখানে নেই বললেই চলে। বিগত সময়ে এই প্রকল্পের আশানুরূপ অগ্রগতি না হলেও বর্তমান সরকার নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করতে চায়।
প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, শুধু ক্রিকেট নয় বরং ফুটবল, ইনডোরসহ সব ধরনের খেলার সুবিধাসম্পন্ন একটি পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস কমপ্লেক্স বা স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের চিন্তা রয়েছে তাদের।
প্রকল্পের কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আমিনুল হক জানান, ঢাকায় ফিরে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ক্রিকেট ও ফুটবল বোর্ডের নীতি-নির্ধারকদের সাথে জরুরি আলোচনায় বসবেন। বিশেষ করে বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় ফ্লাড লাইট স্থাপনে সিভিল এভিয়েশনের যে বিশেষ বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা দক্ষ স্থপতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে আলোকসজ্জার বিষয়টি নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের স্টেডিয়ামের উদাহরণ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যালারির প্রথাগত কাঠামোর বাইরে ঘাসের ওপর বসে বা শুয়ে খেলা দেখার যে সংস্কৃতি বিদেশে রয়েছে, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তেমন কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে কক্সবাজারকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় স্পোর্টস ট্যুরিজম স্পট হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বিসিবি ও পর্যটন করপোরেশনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা অবসানের ইঙ্গিত দেন। তিনি জানান, অতীতে সংস্থাগুলোর মধ্যে কিছুটা সমন্বয়হীনতা বা টানাপোড়েন থাকলেও বর্তমানে সেই বাধা দূর হয়েছে। এখন সব পক্ষ একযোগে 'সোজা রাস্তায়' উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিতে একমত হয়েছে। নতুন এই যাত্রায় তিনি সংবাদমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
শেষ ম্যাচেও হারলো বাংলাদেশ
এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে নিজেদের শেষ ম্যাচেও সেই একই গল্প! হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলকে। আজ স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে পুরো ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি দলটি। শেষ পর্যন্ত ০-১ গোলে হেরে বাছাই পর্ব শেষ করেছে তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই গ্যালারিতে থাকা প্রবাসী সমর্থকদের সমর্থনে উজ্জীবিত হয়ে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। হামজা চৌধুরী ও শোমিত সোমদের নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণ সাজানো হলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করা সম্ভব হয়নি। উল্টো প্রথমার্ধের শেষ দিকে কিছুটা খেলার ধারার বিপরীতে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে দলটি।
৩১তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে আসা আক্রমণ সামাল দিতে গিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। গোলকিপার মিতুল মারমা প্রথম শট ঠেকালেও ফিরতি বলে হ্যারিস স্টুয়ার্ট নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন। এই এক গোলই ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। সাদউদ্দিন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, শেখ মোরসালিনদের প্রচেষ্টায় বেশ কিছু সুযোগ তৈরি হয়। তবে কখনও লক্ষ্যভ্রষ্ট শট, কখনও পোস্টের বাধা-সব মিলিয়ে হতাশাই সঙ্গী হয়। বিশেষ করে ৭৯তম মিনিটে হামজার ক্রস থেকে মিরাজুল ইসলামের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসা ম্যাচের অন্যতম হতাশার মুহূর্ত হয়ে থাকে।
ম্যাচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। গোলপোস্টে নিয়মিত গোলকিপার মিতুল মারমাকে ফেরানো হয় এবং আক্রমণভাগে শেখ মোরসালিনকে সুযোগ দেওয়া হয়। তবে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়া পুরো ম্যাচেই বেঞ্চে থাকেন, যা অনেকের কাছেই বিস্ময়ের ছিল।
শেষ দিকে একাধিক আক্রমণ গড়েও গোল করতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। ইমন, সাদ, শমিত-কেউই বক্সের ভেতরে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। যোগ করা সময়েও সমতা ফেরানোর সুযোগ নষ্ট হয়, ফলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দলকে।
এই পরাজয়ের মাধ্যমে বাছাই পর্বে দুই লেগেই সিঙ্গাপুরের কাছে হারে বাংলাদেশ। এর আগে ঢাকায় প্রথম লেগে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল তারা। ‘সি’ গ্রুপে ছয় ম্যাচে এক জয়, দুই ড্র ও তিন হারে ৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে বাছাই শেষ করে দলটি।
সিঙ্গাপুর জয় দিয়ে বাছাই পর্ব শেষ করে শীর্ষস্থান ধরে রেখে মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল শেষ ম্যাচে অন্তত ভালো ফল করে বাছাই শেষ করা, কিন্তু তা আর সম্ভব হয়নি।
৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে শুরু ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শুরু করা হবে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত ক্রীড়াভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের ক্রীড়া কার্ড ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী খেলোয়াড়দের মাঝে ‘ক্রীড়া কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের মাঝে সম্মাননাও প্রদান করেন।
তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে ১৯৭৬ সালে শুরু হয় জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’। বাংলাদেশ টেলিভিশনের এ অনুষ্ঠানটি এক সময় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও বর্তমানে আবার বিটিভিতে সম্প্রচার শুরু হয়েছে। এবার নতুন মাত্রা যোগ করে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে সারাদেশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নামে কার্যক্রম চালু হতে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে ক্রীড়া আর শুধু শখ বা বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন একটি স্বীকৃত পেশা। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকবে না। ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে আমরা দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, জনরায়ে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবো। জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুটি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকেই শুরু হলো।
দেশে ফিরেছেন বিসিবি সভাপতি বুলবুল
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। শনিবার মধ্যরাতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে তিনি রাজধানী ঢাকায় পৌঁছান। বিসিবির একাধিক পরিচালক আজ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত রোজার আগে অনেকটা নিভৃতেই দেশ ছেড়েছিলেন বিসিবি সভাপতি। এরপর থেকে তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল নানা গুঞ্জন। বিশেষ করে ক্রিকেট মহলে প্রশ্ন উঠেছিল, তিনি কি আদৌ ফিরবেন, নাকি প্রবাস থেকেই দায়িত্ব পালন করবেন?
বোর্ড কর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন যে, তিনি পরিবারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় ঈদ কাটিয়ে ২৬ বা ২৭ মার্চের মধ্যে ফিরবেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের দুদিন পর ২৯ মার্চ তার প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে সব জল্পনার অবসান ঘটল।
তবে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের এই ফেরা এমন এক সময়ে হলো, যখন বিসিবির গত অক্টোবর মাসের নির্বাচন নিয়ে বইছে উত্তাল হাওয়া। ঢাকার বিভিন্ন ক্লাব এবং জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার একঝাঁক সংগঠক এই নির্বাচনকে ‘অবৈধ ও অস্বচ্ছ’ দাবি করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ওই নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও সরকারি হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।
এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ইতিমধ্যেই একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
জানা যায়, আগামী এপ্রিলের প্রথম ভাগেই এই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের অংশ হিসেবে কমিটি ইতিমধ্যেই বিসিবি সভাপতির সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ করেছে। তবে তিনি সশরীরে ঢাকায় আসায় এখন তাকে কমিটির সামনে হাজির হয়ে সরাসরি বক্তব্য দিতে হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত অক্টোবরের নির্বাচনে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নিজের ভূমিকা নিয়েও নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে নিয়মবহির্ভূতভাবে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাছে তার কাউন্সিলরশিপ চাওয়ার বিষয়টি তদন্ত কমিটির নজরে রয়েছে।
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অ্যাথলেট মিমু আর নেই
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া ফেলে চলে গেলেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত অ্যাথলেট শামিমা সাত্তার মিমু।
শুক্রবার রাত ১১টায় রাজধানীর নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাবেক এই কার্যনির্বাহী সদস্য ও বিকেএসপির সাবেক উপ-পরিচালক দীর্ঘকাল দেশের অ্যাথলেটিকস উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন।
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মিমু দীর্ঘদিন ধরে ভাটিকা ও হৃদরোগজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। মরহুমার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে দিনাজপুরে তার বাবার কবরের পাশে দাফন করার জন্য ঢাকার বাসভবন থেকে দিনাজপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
মিমু বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি প্রশিক্ষক ও বিচারক হিসেবে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা ও কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে, বিশেষ করে অ্যাথলেটিকসের উন্নয়নে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অ্যাথলেটিকসে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০০০ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পান মিমু। সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি ও বাংলাদেশ ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থার সেরা অ্যাথলেটের। এ ছাড়া অনন্যা শীর্ষ দশ, ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক হিসেবে পেয়েছেন কবি নূরল আমিন স্বর্ণ পদক। বাংলাদেশ নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের স্বর্ণপদকও পেয়েছেন সাবেক এই অ্যাথলেট।
তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, কর্মকর্তা, কোচ, অ্যাথলেট ও সংশ্লিষ্ট সবাই গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটি।
সর্বশেষ - খেলাধুলা
- ১ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু, টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
- ২ বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে এডহক কমিটি গঠন
- ৩ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের জয়ে স্পিকারের অভিনন্দন
- ৪ ভারতে হারিয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
- ৫ টাইব্রেকারে ভারত বধ, টানা দ্বিতীয়বার সাফে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের যুবারা