নিরবচ্ছিন্ন ফাইভ-জি রূপান্তর করছে জেডইটি

এসএম/এসএস | প্রকাশিত: ৬:০৭ পূর্বাহ্ন, ১০ জুন ২০২১
পরবর্তী খবর

প্রধান উপদেষ্টার কাছে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন হস্তান্তর

| প্রকাশিত: ৩:৫৮ অপরাহ্ন, ২২ মার্চ ২০২৫

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের কাছ থেকে প্রাপ্ত সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে যেগুলো এখনি বাস্তবায়নযোগ‍্য সেগুলো অনতিবিলম্বে কার্যকর করার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

শনিবার গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদন হস্তান্তরকালে প্রধান উপদেষ্টা এই মন্তব্য করেন।

“সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে যেগুলো এখনি বাস্তবায়ন করা সম্ভব সেগুলো আমরা দ্রুত বাস্তবায়ন করে ফেলতে চাই। সে জন্য আমি চাইবো সংস্কার কমিশন আশু করণীয় বা দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা যায় এমন সুপারিশগুলো দ্রুত আলাদাভাবে আমাদের কাছে পেশ করুক,” বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

সিনিয়র সাংবাদিক কামাল আহমেদের নেতৃত্বাধীন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের এই কাজকে অমূল্য হিসেবে অভিহিত করে এই প্রতিবেদন যেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য মানুষ পড়তে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।

দেশীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো একটি নির্দিষ্ট স্যাটেলাইট ব্যবহারে বাধ্য বলে বিদেশ থেকে বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দেখা যায় না, কমিশনের পক্ষ থেকে এমন তথ্য পাওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যাতে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা এবং আগ্রহী বিদেশিরা দেখতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে সরকার।”

কমিশন প্রধান কামাল আহমেদসহ অন্যান্য সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার হাতে তাদের প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন।

কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতিআরা নাসরীন, দ্য ফিন্যানসিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধি শামসুল হক জাহিদ, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন ওনার্স (অ্যাটকো) প্রতিনিধি মাছরাঙা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী, নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সচিব আখতার হোসেন খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের ট্রাস্টি ফাহিম আহমেদ, মিডিয়া সাপোর্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক সাংবাদিক জিমি আমির, ডেইলি স্টারের বগুড়া জেলা প্রতিনিধি মোস্তফা সবুজ, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ডেপুটি এডিটর টিটু দত্ত গুপ্ত এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন।

পরবর্তী খবর

মব সন্ত্রাস’ না করে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার

| প্রকাশিত: ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, ১২ মার্চ ২০২৫

দেশের জন্য এখন স্থিতিশীলতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন উল্লেখ করে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। নাগরিক আন্দোলনকে ‘মব সন্ত্রাস’ বা ‘মব জাস্টিসে’র দিকে যাওয়া প্রতিহত করার ক্ষেত্রেও সবাইকে সচেতন ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান। ওই পোস্টেই একজনের মন্তব্যের জবাবে তিনি জানিয়েছেন, নারী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে সহিংসতার ক্ষেত্রে সরকার পদক্ষেপ নেবে।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে ধর্ষণবিরোধী এক প্রতিবাদী প্ল্যাটফর্ম থেকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে অপসারণসহ ৯ দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিতে যাওয়ার সময় ঢাকার শাহবাগে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনের মোড়ে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে আন্দোলনকারীদের বেধড়ক মারধর করেছে। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশ অবশ্য এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে, আন্দোলনকারীরাই তাদের মারধর করেছে। এ ঘটনা অনলাইন-অফলাইনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা জন্ম দেয়।

উপদেষ্টা মাহফুজ ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, গত কয়েকদিন পুলিশই নারীবিদ্বেষী ও ধর্ষণের মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ সক্রিয় (অ্যাক্টিটভ) হয়েছে বলেই বনানীর ছিনতাইয়ের হামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা গেছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মাঠে আছেন। কিন্তু তারাও পুলিশ ছাড়া একা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারবেন না। পুলিশ পুরোপুরি সক্রিয় না হলে নাগরিক সেবা ও নিরাপত্তা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়ে যায়।

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ নৈতিকভাবে ভেঙে পড়েছিল উল্লেখ করে মাহফুজ লিখেছেন, পুলিশের নৈতিক অবস্থান (মোরাল) একেবারেই ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু জনগণের পক্ষে পুলিশিং করতে যতটুকু সংস্কার ও সময় দরকার, তা না থাকলে পুলিশ সেরে উঠতে পারবে না। রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সেরে ওঠার ও সংস্কারের সময় দিতে হবে। এ নিয়ে তাড়াহুড়ার ফল বিরূপ হতে বাধ্য।

সংস্কারে সবার অংশগ্রহণ চেয়ে তিনি বলেন, আর হ্যাঁ, আগামী কয়েকমাসের মধ্যেই স্বল্পমেয়াদি কিছু সংস্কার হবে। আপনারাও কীভাবে নাগরিকবান্ধব পুলিশ গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে স্পষ্ট রূপরেখা নিয়ে আসুন।

ফাঁদে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। আর কী কী উদ্যোগ নেওয়া যায় সেজন্য সরকার আন্তরিক। কিন্তু একটি নাগরিক আন্দোলন যেন অভ্যুত্থানবিরোধী কুচক্রীদের অভয়ারণ্যে পরিণত না হয়, সে দায়িত্ব অভ্যুত্থানের পক্ষশক্তির ওপর বর্তায়। কোনো ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না এবং অস্থিতিশীলতা বা মব তৈরির প্রচেষ্টা চলতে দেওয়া যাবে না।

স্ট্যাটাসে মাহফুজ আরও লিখেছেন, সরকার আন্তরিক, উদ্যোগী ও নাগরিকদের দাবি প্রতি সহানুভূতিশীল। কিন্তু মব মানসিকতা থেকে বের হতে না পারলে এবং পুলিশকে কাজ না করতে দেওয়ার শর্ত তৈরি করলে এ সব অস্থিতিশীলতার দায় স্যাবোটেজকারীদের নিতে হবে।

সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে মাহফুজ বলেন, মনে রাখবেন— Justice Hurried, Justice Burried। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে মবের বিচারের মানসিকতা আমাদের পরিত্যাগ করা উচিত। অভ্যুত্থানের সরকারবিরোধী হঠকারী স্লোগান বাদ দিয়ে কার্যকর রূপরেখা নিয়ে সব পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে অগ্রসর হওয়া উচিত। সমাধান সম্ভব।

সবাইকে সচেতন ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা লিখেছেন, বাংলাদেশ সবার, সব নাগরিকের। নাগরিকের বিরুদ্ধে যেকোনো সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান। কিন্তু নাগরিক আন্দোলন মব সন্ত্রাস কিংবা মব জাস্টিসের দিকে যাওয়া প্রতিহত করার ক্ষেত্রে সবাইকে সচেতন ও সক্রিয় থাকতে হবে। সরকারবিরোধিতা কোনো ফ্যাশন স্টেটমেন্ট না, কমরেডস! গণঅভ্যুত্থানের সরকারকে নির্বিঘ্নে কাজ করতে দেওয়ার আহবান রইল। সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান খুঁজতে হবে।

পরবর্তী খবর

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ফ্যাক্ট চেকার থাকবে না---মেটা

| প্রকাশিত: ৩:৪২ অপরাহ্ন, ০৮ জানুয়ারী ২০২৫

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ফ্যাক্ট চেকার থাকবে না বলে জানিয়েছে সামাজিক মাধ্যমগুলোর মাদার কোম্পানি মেটা। তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের যে কাজটি ফ্যাক্ট চেকাররা করত, সেটি এখন ব্যবহারকারীরা ‘কমিউনিটি নোটের’ মাধ্যমে করবেন। যা অনেকটা ইলন মাস্কের এক্সের মতো।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা নেয়ার আগ মুহূর্তে এমন পরিবর্তন আনলো মেটা। এই ফ্যাক্ট চেক নিয়ে ট্রাম্প এবং তার দল রিপাবলিকান পার্টির তোপের মুখে ছিলেন মেটার সিইও মার্ক জুকারবার্গ। তাদের অভিযোগ ছিল ফ্যাক্ট চেকের মাধ্যমে ডানপন্থিদের মতামতকে সেন্সর করা হচ্ছে। খবর  সিএনএনের।

পরবর্তী খবর

স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনিকে নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনটি মিথ্যা ও বানোয়াট -প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

| প্রকাশিত: ১০:৫২ অপরাহ্ন, ০৫ জানুয়ারী ২০২৫

ইউটিউব চ্যানেল ফার্স্টপোস্ট ও বিডিডিগেস্ট নামে একটি নিউজ পোর্টালে ভারতীয় সাংবাদিক পালকি শর্মার প্রযোজনায় স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনিকে নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনটি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

সম্প্রতি ভারতীয় সাংবাদিক পালকি শর্মা এই দুই সংবাদ মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিকে জড়িয়ে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের একজন প্রতিষ্ঠাতা।

প্রমাণ হিসেবে, পালকি শর্মা ও বিডিডিগেস্ট একটি নিউজ পোর্টালের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়েছেন, যা ২০০৮ সালে দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত হয়েছিল। অথচ ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা নাসিমুল গনি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি দুজন ভিন্ন ব্যক্তি। হিযবুত তাহরীর নেতা নাসিমুল গনি (যার প্রকৃত নাম নাসিমুল গনি) একজন ব্রিটিশ নাগরিক।

অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি বাংলাদেশের একজন শীর্ষ আমলা। তিনি একজন বাংলাদেশি নাগরিক, তাঁর কোনো দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই, তিনি অন্য কোনো দেশে বসবাসও করেন না। 

সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৮৩ সালে দেশের সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। ২০০০ সালের গোড়ার দিকে যখন তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের তৎকালীন স্পিকারের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন তিনি বেশ কয়েকবার ব্রিটেন ভ্রমণ করেন। ২০০৮ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ব্র্যাডফোর্ড থেকে টপ ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ৪৫ দিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

প্রেস উইং বলেছে, হিযবুত তাহরীর বাংলাদেশে একটি নিষিদ্ধ সংগঠন। কোনো সরকারি কর্মকর্তার নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনে যোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। নাসিমুল গনি ছাত্রাবস্থায়ও কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন না। 

অন্তর্র্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বাংলাদেশ পুলিশ হিযবুত তাহরীরের বেশ কয়েকজন সদস্যকে অবৈধ কার্যকলাপের জন্য গ্রেফতার করেছে। সংগঠনটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। আমরা মনে করি, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে যে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে তার অংশ হিসেবেই এই মিথ্যা ও বিদ্বেষপূর্ণ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।’

পরবর্তী খবর

উপদেষ্টা নাহিদের নামে তদবির বন্ধে সচিবদেরকে যে নির্দেশ দেয়া হলো

| প্রকাশিত: ১১:৪২ অপরাহ্ন, ০২ জানুয়ারী ২০২৫

সরকারি দপ্তরে নিজ নামে তদবির বন্ধের জন্য সচিবদের নিকট আধা-সরকারিপত্র দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো নাহিদ ইসলাম। 

পত্রে উপদেষ্টা বলেন, ‘সম্প্রতি নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ ও অবৈধ সুবিধা নেওয়ার লক্ষে কিছু অসাধু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী আমার আত্মীয় পরিচয় বা নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তরে তদবির করছেন, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক। এতে আমার সুনাম বিনষ্ট হচ্ছে।’

আধা-সরকারিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন দপ্তরে সুপারিশ-সংবলিত আবেদন দাখিল করা করা হচ্ছে, যা ইতিমধ্যে উপদেষ্টার গোচরীভূত হয়েছে। কেউ উপদেষ্টার আত্মীয় পরিচয় বা নাম ব্যবহার করে কোনো কাজ উদ্ধারের চেষ্টা করলে তা বিবেচনার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
 
কোনো প্রতিষ্ঠান ও আওতাধীন দপ্তর-সংস্থায় এ ধরনের কোনো তদবির হলে কিংবা উপদেষ্টার স্বাক্ষর নকল বা জাল করে কোনো আবেদন দাখিল করা হলে, তা তাৎক্ষণিকভাবে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের একান্ত সচিব (উপসচিব) র. হ. ম. আলাওল কবিরকে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আধা-সরকারিপত্রে আরও জানানো হয়েছে, জনগণের আশা- আকাঙ্খক্ষার বাস্তব প্রতিফলনের লক্ষে অন্তর্বর্তী সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। রাষ্ট্র সংস্কারের সুবিশাল কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়নে উপদেষ্টা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

পরবর্তী খবর

নতুন মামলায় গ্রেফতার সালমান, ইনু, শাজাহান, পলক ও আতিকুল

| প্রকাশিত: ১২:৫৭ অপরাহ্ন, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হত্যা এবং হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, শাজাহান খান, জুনাইদ আহমেদ পলক ও  ঢাকা উত্তর সিটির কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।

তাদের কারাগার থেকে আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তাদের এসব মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শরীফুর রহমান তাদের এসব মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।


এসব মামলার মধ্যে সালমান এফ রহমানকে মিরপুর থানার হত্যা মামলায়, শাহবাগ থানার হত্যা মামলায় জুনাইদ আহমেদ পলককে, বিমানবন্দর থানার হত্যাচেষ্টা ও উত্তরা পশ্চিম থানার হত্যা মামলায় আতিকুল ইসলামকে, হাতিরঝিল থানার হত্যা মামলায় শাজাহান খানকে ও  গুলশান থানার হত্যা মামলায় হাসানুল হক ইনুকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

গত ১৩ আগস্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নৌপথে পলায়নরত অবস্থায় রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে সালমান এফ রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।

গত ২৬ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে ইনুকে গ্রেফতার করে ডিবির একটি টিম। গত ৫ সেপ্টেম্বর দিনগত রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানকে গ্রেফতার করা হয়।

গত ১৪ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকাবস্থায় পলককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরবর্তী খবর

প্রথম ধাপের তালিকা প্রকাশ: ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ ৮৫৮ জন

| প্রকাশিত: ৫:০৮ অপরাহ্ন, ২১ ডিসেম্বর ২০২৪
গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, প্রথম ধাপের তালিকায় ৮৫৮ জন শহীদ এবং ১১ হাজার ৫৫১ জন আহতের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।
 
সেলের পক্ষ থেকে তালিকায় সংযোজন বা বিয়োজন করার মতো যুক্তিসংগত কোনো তথ্য থাকলে আগামী ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে গণ-অভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের ই-মেইল muspecialcell36@gmail.com -এ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। 
পরবর্তী খবর

ভারতে কালী দেবীর মূর্তি বিসর্জনকে বাংলাদেশে কালী মন্দিরে হামলা বলে প্রচার : ফ্যাক্ট ওয়াচ

| প্রকাশিত: ১০:৪১ অপরাহ্ন, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪

ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান ‘ফ্যাক্ট ওয়াচ’ জানিয়েছে, ভারতীয় এক মিডিয়া পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে কালী দেবীর  বিসর্জনের একটি ভিডিওকে বাংলাদেশের একটি মন্দিরে হামলা হিসেবে ভুলভাবে প্রচার করেছে।

ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠানটি ভাইরাল ভিডিও পোস্টটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা ভারতীয় মিডিয়া আউটলেট আরটি ইন্ডিয়ার এক্স  হ্যান্ডেল থেকে শেয়ার করা হয়েছিল। পোস্টে দাবি করা হয় এটি বাংলাদেশের একটি কালী দেবীর  মন্দিরে হামলার ঘটনা।

ফ্যাক্ট ওয়াচ নিশ্চিত করেছে যে এটি প্রকৃতপক্ষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের একটি কালী দেবীর  বিসর্জনের ভিডিও।

ভাইরাল ভিডিওটির প্রকৃত ঘটনা সনাক্ত করতে ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের অধীনস্থ এবং সেন্টার ফর ক্রিটিকাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজ (সিকিউএস) পরিচালিত স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা ফ্যাক্ট ওয়াচ ভিডিওটির বিভিন্ন কী-ফ্রেম ব্যবহার করে একটি অনুসন্ধান চালায়।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটি ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর বিনোদ ঘোষ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আপলোড করা হয়েছিল, যা ফ্যাক্ট ওয়াচ তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রিপোর্টে জানিয়েছে।

ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার সুলতানপুর গ্রামে শতাব্দী প্রাচীন কালীপূজোতে প্রাচীন রীতি অনুযায়ী, প্রতি ১২ বছরে গ্রামের পুরোহিতরা প্রথমে ১৩ ফুট লম্বা কালী দেবীর  মূর্তির ছোট ছোট আঙুল ভাঙেন, তারপর গ্রামের সাধারণ মানুষেরা মূর্তির বাকি অংশ ভেঙে একে একে বিসর্জন দেন।’

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ‘বিসর্জনের পর একটি নতুন মূর্তি তৈরি করা হয় এবং তা পরবর্তী ১১ বছর ধরে পূজা করা হয়।’

এই উৎস থেকে ফ্যাক্ট ওয়াচ দল আরও কিছু চিত্র এবং ভিডিও খুঁজে পায়, যা এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সাথে সম্পর্কিত। সেখানে দেখা যায় যে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও উদযাপন করছেন।

পরে, দ্য ডেইলি স্টেটসম্যান পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টেও একই রকম তথ্য পাওয়া যায়। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে এই প্রথাটি ৬০০ বছরের পুরনো। প্রথমদিকে গ্রামের কামার সম্প্রদায় (বঙ্গের কর্মকার জাতির সমতুল্য) এই পূজো পালন করত, পরবর্তীতে তারা দায়িত্বটি মণ্ডল পরিবারকে হস্তান্তর করে।

অন্যদিকে, গুগল স্ট্রিট ভিউতে কালী দেবীর  মন্দিরের দৃশ্য এবং ফেসবুক ভিডিওর সাথে তুলনা করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে মন্দিরটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সুলতানপুর গ্রামে অবস্থিত, বাংলাদেশে নয়। এছাড়াও, সেখানে কোনও হিন্দু ভক্ত নিহত হওয়ার মতো কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কিন্তু ভাইরাল ভিডিওটি বাংলাদেশে ঘটনা বলে মিথ্যা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে শেয়ার করা হচ্ছে বলে ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠানটি জানায়।

প্রতিবেদনটি শেষ করে বলা হয়েছে, ‘সুতরাং, সব দিক বিবেচনা করে ফ্যাক্ট ওয়াচ ভাইরাল পোস্টটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।’

পরবর্তী খবর

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে অবমূল্যায়নে কয়েকটি দেশ থেকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ফেসবুকের প্রধান প্রতিষ্ঠান মেটাকে আহ্বান জানিয়েছেন

| প্রকাশিত: ১০:৪৬ অপরাহ্ন, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে অবমূল্যায়নে কয়েকটি দেশ থেকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ফেসবুকের প্রধান প্রতিষ্ঠান মেটাকে আহ্বান জানিয়েছেন। রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মেটার মানবাধিকার নীতি বিষয়ক পরিচালক মিরান্ডা সিসনস সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধান উপদেষ্টা এই আহ্বান জানান। এই সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ব্যাপক অপপ্রচার চলছে এবং আমরাই ভুক্তভোগী। মিরান্ডা সিসনস সাক্ষাতের সময় প্রধান উপদেষ্টাকে মেটার মানবাধিকার নীতি ব্যাখ্যা করে জানান, কেউ যাতে তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভুল তথ্য ছড়াতে না পারে সে বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছেন। এ সময় তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য মেটার প্রযুক্তিকে আরও ব্যবহারবান্ধব করে তুলতে বলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস। তিনি বলেন, প্রযুক্তি হচ্ছে কিছু করার একটি হাতিয়ার। কিন্তু প্রযুক্তি সিদ্ধান্ত নেয় না যে আমরা জিনিসগুলো নিয়ে কী করতে চাই। সুতরাং, এটি নিখুঁত করার জন্য আমাদের রিইঞ্জিনিয়ারিং করতে হবে।  


প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ফেসবুকের সঙ্গে আপনার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। তরুণদের উদ্যোক্তা  তৈরিতে ফেসবুককে কাজে লাগানো যেতে পারে। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর সুবিধার্থে বাংলাদেশ সরকার ফেসবুকের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে।
 বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার একান্ত সচিব-২ সজীব এম খায়রুল ইসলাম, মেটার বাংলাদেশ ও নেপালের পাবলিক পলিসির প্রধান রুজান সারওয়ার, মেটার অ্যাসোসিয়েট জেনারেল কাউন্সেল নয়নতারা নারায়ণ, মেটার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভুল তথ্য নীতিমালা প্রধান এলিস বুদিসাত্রিজো উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তী খবর

সরকারের তিন মাস পূর্তি : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উল্লেখযোগ্য অর্জন

| প্রকাশিত: ৯:৪২ অপরাহ্ন, ১১ নভেম্বর ২০২৪

গত ৮ নভেম্বর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকা সরকার তিন মাস পূর্ণ করেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন মাসে সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো কী কী কাজ করেছে তার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। 

অন্তর্বর্তীক সরকারের গত তিন মাসে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উল্লেখযোগ্য অর্জন ও কার্যক্রমসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো::

১. বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে সারাদেশে নিহত ও আহত সাংবাদিকদের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে অনুদান প্রদানের জন্য এ সংক্রান্ত তালিকা বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে প্রেরণ করা হয়েছে।

২. পতিত সরকারের (২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত) সকল দুর্নীতি, অনাচার, দমন-পীড়ন, সাম্প্রতিক গণহত্যা হেফাজত হত্যাকাণ্ডসহ সকল হত্যাকাণ্ড খুন, গুম, আয়নাঘর, দলীয়করণ, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস, বাক-স্বাধীনতা হরণ,দলীয় লাঠিয়াল বাহিনীর অপকর্মসহ সকল মানবতাবিরোধী অপরাধ অন্তর্ভুক্ত করে ডকুমেন্টারি নির্মাণের জন্য ডিএফপিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

৩. ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকাশনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং ছাত্র জনতার বিপ্লবের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে বিভিন্ন প্রকাশনার বিষয়বস্তু অনুমোদন দেয়া হয়েছে। 

৪. জাতিসংঘের তিনজন স্পেশাল রেপোটিয়ার কর্তৃক বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির (১৬ জুলাই ২০২৪ হতে ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখ সময়ে) বিষয়ে আনীত অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।

৫. গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হয়রানিমূলক মামলা পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটির সভার সিদ্ধান্তের আলোকে ১ জুলাই ২০২৪ পরবর্তী সময়ে দেশব্যাপী গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলার তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান আছে।

৬. গত ৩ মাসে ২৩ (৫টি আংশিক) অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে। যার আর্থিক সংশ্লেষ ৭৬,৫১,১৮,০০০ টাকা। কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

৭. তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক চলচ্চিত্র আমদানি ও রপ্তানির সুপারিশ প্রদানের জন্য কর্মকর্তা ও ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে কমিটি,  সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৪ অনুযায়ী ট্রাস্টি বোর্ড কমিটি, পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান কমিটি, পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র স্ক্রিপ্ট বাছাই কমিটি, পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান উপ-কমিটি, স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান কমিটি, স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র স্ক্রিপ্ট বাছাই কমিটি,  স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান কমিটি, প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনার নিয়োগে সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট বাছাই কমিটি, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩ প্রদানের উদ্দেশ্য জুরি বোর্ড, বিভিন্ন পরিচালনা পর্ষদ, কমিটি ও উপ-কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সদস্য নাম প্রস্তাবের জন্য সার্চ কমিটি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড ও চলচ্চিত্র বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটি পুণর্গঠন করা হয়েছে।

৮. ২৪-২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সময়ে ‘সার্ক ফিল্ম ফেস্টিভাল (পার্টিসিপেটরি প্রোগ্রাম-শ্যীলংকা)-এ বাংলাদেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য ৬টি চলচ্চিত্র (পূর্ণদৈঘ্য, স্বল্পদৈর্ঘ্য, শিশুতোষ ও প্রামাণ্যচিত্র) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে। 

৯. দেশি-বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানির জন্য সুপারিশ প্রদান সংক্রান্ত কমিটি, পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান কমিটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদানের স্ক্রিপ্ট বাছাই কমিটি, পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান উপ-কমিটি, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান কমিটি, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদানের স্ক্রিপ্ট বাছাই কমিটি ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান উপ-কমিটি পুনর্গঠনের কার্যক্রম গ্রহণ। আলোচ্য কমিটিগুলোর পুনগঠন হয়েছে। পুনগঠিত কমিটি দ্বারা চলচ্চিত্রের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। 

১০. বাংলাদেশ টেলিভিশনে বর্তমান সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের ওপর অনুষ্ঠান প্রচার, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ছাত্র জনতা ও তাদের পরিবারবর্গকে নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণপূর্বক প্রচার ও ঢাকাসহ সারাদেশে দেওয়াল লিখন, স্লোগান ও গ্রাফিতি তুলে ধরে তথ্য বিবরণীমূলক অনুষ্ঠান প্রচার।

১১. বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের গত ৩ মাসের ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে। মাননীয় উপদেষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ী বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে পেশাগত দায়িত্বপালনকালে সারা দেশের আহত ও নিহত সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে খসড়া তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে আহত ও নিহত সাংবাদিকদের সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এছাড়া, সাংবাদিক ও সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে আবেদন সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় সহস্রাধিক আবেদন জমা পড়েছে। সাংবাদিকদের মেধাবী সন্তানদের বৃত্তি প্রদানের লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ৩৫০ জন দুস্থ সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।  

১১. জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট থেকে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। চলমান প্রশিক্ষণ পাঠ্যধারাগুলোতে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ, জুলাই বিপ্লব-২০২৪ প্রেক্ষাপট, বৈষম্যহীন মানবিক, সৃষ্টিশীল  ও দুনীর্তিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম বিষয়মূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েশন এন্ড ভিজুয়াল প্রোডাকশন টেকনিকস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ পাঠ্যধারায় প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীদের মাধ্যমে  আলাদাভাবে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ধারণা নিয়ে অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং গ্রুপ ভিত্তিক দুটি ডকুমেন্টারি নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

১২. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) থেকে (আগস্ট-২০২৪ থেকে অক্টোবর-২০২৪ পর্যন্ত সময়ের ইংরেজিতে ৭০টি ও বাংলায় ৭১টিসহ মোট ১৪১টি সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার করা হয়েছে। পতিত সরকারের ২০০৯-২০২৪ সাল পর্যন্ত সকল দুর্নীতি, অনাচার, দমন-পীড়ন, মানবতাবিরোধী অপরাধ, সাম্প্রতিক হত্যাযজ্ঞ ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার করা হয়েছে। 

১৩. গণযোগাযোগ অধিদপ্তর থেকে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও অন্যান্য জরুরি বিষয়ে ৪৮০ ইউনিট সড়ক প্রচার, মাইকিং, জনসচেতনতামূলক চলচ্চিত্র ও দুর্নীতি প্রতিরোধ সংক্রান্ত ৫২৭টি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, কমিউনিটি পর্যায়ে আর্থসামাজিক ও বিবিধ বিষয়ে সরাসরি ও ভিডিওকলের মাধ্যমে ১১৯টি উঠান বৈঠক, উন্মুক্ত বৈঠক আয়োজন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন ও আর্থসামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনতামূলক উদ্বুদ্ধকরণ ১৭৩টি সংগীতানুষ্ঠান আয়োজন,  রেকর্ডকৃত ঐরূপ সংগীত প্রচার করা হয়েছে।  

১৪. বাংলাদেশ বেতার থেকে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান নিয়ে প্রতিক্রিয়া অনুষ্ঠান (গান, আলোচনা, সাক্ষাৎকার) এবং রাষ্ট্র সংস্কার, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, প্রতিষ্ঠানসমূহে দলীয়করণ রোধ অর্থপাচাররোধ ও আর্থিকখাত সংস্কার, সিন্ডিকেট বাণিজ্য প্রতিরোধ, দ্রব্যমূল্যর উর্দ্ধগতি রোধ, সঠিক পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ, মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ, শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার বিষয়ক ইত্যাদি অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়েছে। 

১৫. প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) থেকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ, এবং গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক বিষয় নিয়ে গণমাধ্যম সাময়িকী ২টি নিরীক্ষা প্রকাশ করা হবে (কার্যক্রম চলমান)। শহীদ শিক্ষার্থী, গ্রাফিতি, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা, আন্দোলনে আহতদের স্বাস্থ্য/চিকিৎসা বিষয়ে  ২০টি ফিচার ফিচার নিবন্ধ সম্পাদনা ও প্রকাশ করা হবে (কার্যক্রম চলমান)।

১৬. বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়াধীন দপ্তরের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ‘বৈষম্যমুক্ত আগামীর বাংলাদেশ গঠনে বিসিটিআই-এর করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার হয়েছে। 

১৭. তথ্য অধিদপ্তর: মন্ত্রণালয়সমূহে জনসংযোগ কর্মকর্তা পদায়ন এবং উপদেষ্টাগণের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের সঙ্গে সঙ্গে একাধিকবার তাদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়।

১৮. বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল গণমাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিতসহ বৈষম্য নিরসনে বিভিন্ন অংশীজনসহ গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের পৃথক ৩টি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। কীভাবে প্রেস কাউন্সিলকে কার্যকর গণমাধ্যমবান্ধব ও বৈষম্যমুক্ত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা যায় সে বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন অংশীজন সুচিন্তিত মতামত, সুপারিশ প্রদান করেছেন।

১৯. বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের আওতায় ৬ অক্টোবর ২০২৪ তারিখ পর্যন্ত ৮টি পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্র ও ২টি টেইলার পরীক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জুরি বোর্ড ২০২৩ পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩ প্রদানের জন্য আবেদনসমূহ যাচাই বাছাই কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইনের খসড়া প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। ফিল্ম ক্লাবের নিবন্ধন চুড়ান্ত করা হয়েছে। ৩টি অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

 ২০. চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-গণআন্দোলন এর ওপর একটি গ্রাফিতির অ্যালবাম প্রকাশের জন্য ডামি চূড়ান্ত হয়েছে।