আত্মরক্ষায় অস্ত্র ধরেছিলেন, দাবি প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের

Shahinur Rahman Uzzol
Shahinur Rahman Uzzol Shahinur Rahman Uzzol
প্রকাশিত: ৫:২২ অপরাহ্ন, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেওয়ার ঘটনায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তার দাবি, মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার জন্য তিনি অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন।

রোববার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন ইশরাক। গত শনিবার বিকেলে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে তার অস্ত্র হাতে থাকার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

বিবৃতিতে ইশরাক বলেন, সাধারণ নাগরিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় রাজনীতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে ওই কর্মসূচি পরিচালিত হয়। ঢাকা-৬ আসনের দায়িত্ব নেওয়ার পর গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগ পেয়ে আসছিলেন তিনি। তার ভাষ্য, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর এলাকাটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়।


গত জুনে মাদক-সংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর এলাকাটি পরিদর্শন করেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভাও করেন তিনি। জনবলসংকট নিরসন এবং মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এ উদ্যোগ এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ইশরাকের দাবি, অভিযানে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে তিনি জানতে পারেন, মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে। কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি হইচই করতে করতে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার পর অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়। তাঁর ভাষ্য, আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আইনগত কাঠামোর মধ্যেই আত্মরক্ষার প্রয়োজনে তা প্রদর্শন করা হয়েছে।


অভিযানের বিষয়ে ইশরাক জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছেই গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান চালানো হয়। এ সময় চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। সেখান থেকে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ছয়জন মাদক কারবারিকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

এ ঘটনায় কয়েকটি গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ইশরাক। তার অভিযোগ, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ কয়েকটি গণমাধ্যম খণ্ডিত তথ্য ও ফটোকার্ডের মাধ্যমে বিকৃত সংবাদ প্রকাশ করেছে। তাঁর দাবি, এসব প্রতিবেদনে অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ছয়জনকে আটকের বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

ইশরাকের ভাষ্য, স্পর্শকাতর একটি ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে ভিডিও, ফটোকার্ড ও খণ্ডিত শিরোনাম প্রকাশ করায় পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট আড়ালে থেকে যাচ্ছে। এতে তাঁর ভূমিকা ও উদ্দেশ্য নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী জানান, জনস্বার্থে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।