গাজীপুরে স্বস্তি, কাজে ফিরছেন শ্রমিকেরা

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
টানা কয়েক দিনের শ্রমিক আন্দোলন, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরতে শুরু করেছে। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে সরকার ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার পর শ্রমিকদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, ভোগড়া, চান্দনা চৌরাস্তা ও মৌচাকসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন।

শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকালে দল বেঁধে কারখানায় যাচ্ছেন শ্রমিকেরা। অধিকাংশ পোশাক কারখানা খুলেছে, শুরু হয়েছে উৎপাদন কার্যক্রম। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আগের কয়েক দিনের মতো কোথাও বিক্ষোভ, অবরোধ কিংবা সংঘর্ষের পরিস্থিতি দেখা যায়নি। তবে কিছু কারখানায় এখনো সাধারণ ছুটি থাকায় সেগুলোতে উৎপাদন শুরু হয়নি।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শিল্পকারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিরাপত্তা জোরদার রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শিল্পাঞ্চলে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে বিজিবির ১২ প্লাটুন, বিশেষায়িত স্ট্রাইকিং ফোর্সের ৮ প্লাটুন এবং আনসারের ৫ প্লাটুন সদস্য রয়েছেন।

এর আগে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা, নাওজোড় ও ভোগড়াসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে মহাসড়ক অবরোধ, যানবাহন ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং কোনাবাড়ীতে পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ বিভিন্ন পক্ষের অনেকে আহত হন। ব্যাহত হয় মহাসড়কে যান চলাচল। দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গাজীপুরের কয়েক ডজন পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলের সরবরাহব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দেয়।

এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেয়। গাজীপুরের ৩৫টি শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত শ্রমিক মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির নেতারা মজুরি বোর্ড গঠনকে শ্রমিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানান।

গত মঙ্গলবার গাজীপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি তমিজ উদ্দিন তনু বলেন, দেশের অর্থনীতি ও শ্রমিকদের জীবিকা রক্ষায় কারখানার উৎপাদনব্যবস্থা সচল রাখা জরুরি। শান্তিপূর্ণ শ্রমিক আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে যারা হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করেছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিউল আলম বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের জন্য গ্রহণযোগ্য মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ঢালাও মামলা ও গ্রেপ্তার না করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার দাবি জানান তিনি।

শ্রমিকদের কাজে ফেরা ও অধিকাংশ কারখানা চালু হওয়ায় গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি ফিরছে।