কাতারে বাংলাদেশিরা ঘর থেকে দেখেন হামলার দৃশ্য, ছিল না সতর্কবার্তা
সন্ধ্যার পরে পাশের মন্তেজা পার্কে ছিলাম। হঠাৎ দেখি তিন-চার দিক থেকে আকাশে আগুনের স্ফুলিঙ্গ। কী হয়েছে দেখতে উঠে দাঁড়াই। আবার দেখি পাল্টা দিক থেকেও আসতেছে। দেখি যে বিভিন্ন দিক থেকে আসা ওই আগুনে আগুনে (ক্ষেপণাস্ত্র) আঘাত করছে, সংঘর্ষ হচ্ছে।’ কথাগুলো বলছিলেন কাতারের রাজধানী দোহায় বসবাসরত বাংলাদেশি একজন নাগরিক।
প্রবাসী এই বাংলাদেশি জানান, ‘আকাশেই ফুটতে (ক্ষেপণাস্ত্র) দেখলাম। বিকট আওয়াজ পাইতেছিলাম। চার-পাঁচটা আওয়াজ পাইছি। তখন আরকি পুরো কাঁইপা উঠছে কাতার। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে এটা চলছে।’ গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় দোহার আকাশের এই চিত্র দেখেছেন এই বাংলাদেশি।
তিনি বিবিসি বাংলাকে জানান, গতকাল সন্ধ্যার পরে স্বাভাবিক সময়ের মতোই মন্তেজা পার্কে তার মতোই আরও অনেক মানুষ ছিল। কী হচ্ছে প্রথমে কেউ কিছু বুঝতে না পারলেও ঘটনার ভয়াবহতা উপলব্ধি করার সাথে সাথে আতঙ্ক ও ভয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার উদ্যোগ নেয় সবাই। উল্লেখ্য, নিরাপত্তাজনিত কারণে তার নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।
তিনি জানান, ‘মন্তেজা পার্কে বিভিন্ন বয়সীরা যেমন ছিল, তেমনি নারী ও শিশুরাও ছিল। এই হামলার কথা তারা কেউই আগে থেকে জানতো না।’
কাতারে চার লাখের মতো বাংলাদেশি বসবাস করেন বলে একাধিক ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে। এই বাংলাদেশিদের মধ্যে অভিবাসী শ্রমিক যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছে হিসাববিদ, প্রকৌশলী, জিওকেমিস্ট, ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার মানুষই।
ইরানের হামলার পর গতকাল তাদের অভিজ্ঞতা কী ছিল, কেমন আছেন তারা এবং কোনো আতঙ্কের অবকাশ আছে কি না–– এমন সব বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশির সাথে কথা বলে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান, কাতার সব নাগরিকদের বিষয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সহনশীল। কোনো আতঙ্ক যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য তারা সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত তার নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করলেও বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এরকম কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি বলেও প্রবাসীরা জানান।
এদিকে, সোমবার রাতেই কাতারের মিনিস্ট্রি অব ইন্টেরিওর অর্থাৎ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক নোটিশে নাগরিকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয় নিয়ে কোনো পোস্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
একইসাথে কোনো গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার, লেখা, বক্তব্য বা ভিডিও দেয়ার বিষয়েও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ অমান্য করলে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানার বিধান ঘোষণা করেছে সে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফলে এই প্রতিবেদন তৈরিতে যেসব প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে কথা হয়েছে তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।