ট্রিপল মার্ডার: মানিকগঞ্জে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৮ জনের যাবজ্জীবন

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৩:৪০ অপরাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৩ পূর্বাহ্ন, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
মানিকগঞ্জে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত ট্রিপল মার্ডার মামলায় ২৪ আসামির মধ্যে চার ভাইসহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড ও আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আরও সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং চারজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। 

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে মো. জিয়ার উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ, জসিম ও  আলী মিয়ার ছেলে সিদ্দিক মিয়া। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, সামছুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ, স্বপন। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

এছাড়া আসামি শামীম ও হাবু মিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে  আরও দুই মাসের বিনাশ্রম করাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

অপর দিকে আসামি মজনু মিয়াকে ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, আসামি রাজিয়া খাতুন, সুফিয়া খাতুনকে ৬ মাস এবং আসামি সাহেরা খাতুন ও খাতুনি বেগমকে তিন মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

এদিকে আসামি উজ্জ্বল মিয়া, অলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়।

সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার জানান, ২০১৬ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আজিজ মোল্লা, টেন্ডুল মোল্লা  ও  করিম মোল্লাকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় নিহত আজিজ মোল্লার স্ত্রী ফরিদা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপুলিশ পরিদর্শক আমিনুর রহমান ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন। মামলায় মোট ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ১০ বছর পর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের বিচারক আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। 

আদালতের এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান ও মেজবাউদ্দিন জানান তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।