বরযাত্রার গাড়ি থামিয়ে ভাঙচুর, নববধূকে তুলে নিলেন ছাত্রদল কর্মী

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৪:৪৪ অপরাহ্ন, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৬:৩৫ অপরাহ্ন, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

নতুন বউকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিল বরযাত্রার গাড়ি। পথে গাড়ি থামিয়ে ভাঙচুরের পর নববধূকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের এক ছাত্রদল কর্মীর বিরুদ্ধে।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদ জিনারী ইউনিয়নের চর হাজিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার ছাত্রদল কর্মী পরিচয় নিশ্চিত করেছেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব দেলোয়ার হোসেন রাজীব।

স্থানীয়দের ভাষ্য, হোসেনপুরের সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার এক তরুণীর সঙ্গে গতকাল নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের এক যুবকের বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে নান্দাইলের দিকে ফিরছিলেন বরযাত্রীরা।

হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল যুবক মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করে। স্থানীয়দের দাবি, আতিকুর রহমান মিয়াদের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল গাড়িটিতে ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে তারা নববধূকে গাড়ি থেকে তুলে নিয়ে চলে যায়।

ঘটনার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আতিকুর রহমান মিয়াদ লেখেন, ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই..!’

ঘটনাটি জানার কথা স্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওসাদ। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি আমি জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শহীদুল্লাহ কাইসার শহীদ অভিযুক্ত মিয়াদকে ভালো কর্মী হিসেবে উল্লেখ করলেও ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তবে সে যে কাজ করেছে, সেটা অন্যায়। গতকালকের ঘটনার আমরা নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। মেয়ের পরিবার তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিলে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।’

পুলিশ বলছে, নববধূর সঙ্গে আতিকুর রহমান মিয়াদের আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের সম্পর্ক মেনে নেওয়া হয়নি। এ কারণেই ছেলেটি এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি।’

ওসি আরও বলেন, ‘মেয়ের পরিবার অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নববধূর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, তা পুলিশ নিশ্চিত করেনি।