খুলশীতে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশির ২ দিনের রিমান্ড

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১:৫৩ অপরাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:৩৬ অপরাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের খুলশীতে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিককে দুই দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। অনলাইন প্রতারণাসহ সাইবার অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলামের আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আগামী ২০ দিনের মধ্যে রিমান্ড প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী জানান, গত শুক্রবার ৬৩ বিদেশি নাগরিককে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেককে দুই দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি আটতলা ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা-পুলিশ। অভিযানে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের ৬৩ নাগরিককে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক অভিযোগ, এসব বিদেশি নাগরিক অনলাইন প্রতারণাসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধে জড়িত। পরে শুক্রবার সাইবার সুরক্ষা আইনে খুলশী থানায় মামলা করে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। মামলাটি তদন্ত করছে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

এদিকে বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে আনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শনিবার মো. মহসীন নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই রাতেই আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। খুলশী থানার ওসি আব্দুর রহিম জানিয়েছিলেন, ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসীনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি তাঁদের জন্য আটতলা ভবনটি ভাড়া করে দিয়েছিলেন। বিদেশিদের পাসপোর্টও তাঁর কাছে জমা ছিল। মহসীনের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, মহসীনের পাঠানো ১১৮ গ্রাম কোকেনের সূত্র ধরেই খুলশীতে অবস্থান করা ওই ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সন্ধান পাওয়া যায়। কয়েক দিন আগে কুরিয়ারযোগে কোকেন ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছিলেন মহসীন। পরে কোকেনগুলো ফেরত আসে। সেটির বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে খুলশীর একটি ভবনে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের অবস্থানের তথ্য পায় পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের কাছে ৬৩ বিদেশির কয়েকজন দাবি করেছেন, তাঁরা মহসীনের মাধ্যমে জুনের দিকে বাংলাদেশে আসেন। প্রথমে ঢাকায় দুই দিন অবস্থানের পর তাঁরা চট্টগ্রামে চলে যান। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাঁদের বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য, সাইবার অপরাধে সম্পৃক্ততা এবং মহসীনসহ অন্য সহযোগীদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।