কীর্তনখোলাসহ ১১ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১২:৩২ অপরাহ্ন, ২৬ জুলাই ২০২৫ | আপডেট: ৫:৪৬ অপরাহ্ন, ১৩ জুন ২০২৬

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কীর্তনখোলাসহ ১১টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জনদুর্ভোগ বেড়েছে।

সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

গতকাল শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেলে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. তাজুল ইসলাম জানান, বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

এর মধ্যে বরিশালে কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার, ঝালকাঠির বিষখালীতে ১৬ সেন্টিমিটার, বরগুনার বেতাগীতে ৫২ সেন্টিমিটার, ভোলার দৌলতখানে ৮২ সেন্টিমিটার ও তজুমদ্দিনে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়াও পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ২৯, আমতলীতে ১৮, বরগুনার পাথরঘাটায় ৪৫, পিরোজপুরের বলেশ্বরে ৩২ এবং কচা নদীর উমেদপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এসব নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে অনেক এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

শুক্রবার বিকেলে বরিশাল নগরীর সদর রোড, বটতলা, প্যারারা রোড, সাংবাদিক মাইনুল হাসান সড়ক, ধান গবেষণা রোড, বগুড়া রোড, বৈদ্যপাড়া, রূপাতলী হাউজিং, আমানতগঞ্জ, কাউনিয়া ও ভাটিখানাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। এসব এলাকার বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। পলাশপুর, মোহাম্মদপুর ও রসুলপুরসহ নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোর বাসিন্দারা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। অনেক পরিবার ঘর থেকে বের হতে পারছে না। তাদের রান্না ও দৈনন্দিন কাজও বন্ধ হয়ে পড়েছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানায়, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ ছিল ১০ কিলোমিটার। এই অবস্থা আগামী দুই-তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে, পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত এবং স্থানীয় নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ভোলা-ইলিশা রুটের লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চ চলাচল চালু আছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াদ হোসেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, এ মুহূর্তে বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও অস্বাভাবিক জোয়ার ও টানা বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ভাটার সময় পানি কিছুটা নামলেও জোয়ার এলে তা ফের বিপজ্জনক হতে পারে।

অন্যদিকে, আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় বরিশালের নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন। শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউব) ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীরা।