পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায়, আলোচনায় কোন কোন ইস্যু

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ১:৫৮ অপরাহ্ন, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার বাংলাদেশ সফরে এসে অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করছেন। এক যুগেরও বেশি সময় পর তিন দিনের ব্যবধানে পাকিস্তান সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দুইজন প্রতিনিধির বাংলাদেশ সফর নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

তার এই সফরে বাণিজ্য, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে কী আলোচনা হবে এ নিয়ে যেমন হিসাবনিকাশ চলছে, তেমনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা ও পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গটিও সামনে আসছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেই বা কী আলাপ হচ্ছে তা নিয়েও রয়েছে কৌতূহল।

শনিবার দুপুরে ইসহাক দার ঢাকা পৌঁছানোর পর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির প্রতিনিধিরা তার সঙ্গে বৈঠক করে।

বৈঠকের পর বিএনপি দিক থেকে কিছু বলা হয়নি। তবে রোববার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে ইসহাক দার দেখা করবেন বলে জানিয়েছে বিএনপির মিডিয়া সেল।

বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যেসব অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে সেগুলো অনুকূল পরিবেশে দ্রুত শেষ করা দরকার।

আর এনসিপি সাংবাদিকদের জানিয়েছে, বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ১৯৭১ সালের ইস্যুকে ডিল করা উচিত।

এদিকে ইসহাক দার ঢাকায় আসার আগেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুই দেশের পক্ষ থেকেই বলা হয়েছে, এই সফরের মধ্য দিয়ে বাণিজ্য, অর্থনীতি এবং রাজনৈতিকসহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হবে।

তবে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকার জন্য পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়াসহ বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে যেসব দাবি উঠেছে সেসব বিষয়ে এবার কোনো আলোচনা হবে কি না সে ব্যাপারে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে শনিবার একাধিকবার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ল্যান্ডমার্ক ভিজিট বা ঐতিহাসিক সফর হিসেবেই বর্ণনা করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার দেখা করার পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় কতগুলো বিষয়ে চুক্তি সইয়েরও কথা রয়েছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন পর দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের এসব বৈঠক ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

তারা বলছেন, কেবল পাকিস্তান নয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সব দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক ভালো সম্পর্ক রাখাটা জরুরি।

তবে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে চালানো গণহত্যার বিষয়ে পাকিস্তান কী অবস্থান নেয় সেটিও বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের ভবিষ্যত ঠিক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করেন সাবেক কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের অনেকে।

তারা বলছেন, বাণিজ্য, অর্থনীতিসহ নানা বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে অমীমাংসিত বিষয়, যেমন- একাত্তরের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং মুক্তিযুদ্ধের আগে পশ্চিম পাকিস্তানের নিয়ে যাওয়া সম্পদের হিস্যার মতো বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।