টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ: নাইকোকে ৪২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

Shahinur Rahman Uzzol
Shahinur Rahman Uzzol Shahinur Rahman Uzzol
প্রকাশিত: ২:০৮ পূর্বাহ্ন, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৯ অপরাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬

সুনামগঞ্জের ছাতকে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের ঘটনায় কানাডীয় কোম্পানি নাইকো রিসোর্সকে ৪২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছেন আন্তর্জাতিক সালিশ আদালত। এই জরিমানার অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার পাবে।

বিশ্ব ব্যাংকের সালিশ প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিএসআইডি) সম্প্রতি এই রায় দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান।

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা জানান, ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস নষ্টের দায় বাবদ ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশসহ অন্যান্য ক্ষতিসাধনের জন্য ২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে।


২১ বছর আগে ২০০৫ সালে টেংরাটিলায় অনুসন্ধান কূপ খননকালে ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন দুই দফা বিস্ফোরণ ঘটে। বিষয়টি বাংলাদেশের আদালত ধরে আইসিএসআইডিতে গড়ালে ২০২০ সালে নাইকোকে দায়ী করা হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসে ওই আদেশ দিয়েছেন আইসিএসআইডি।

টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে বিস্ফোরণে সেখানে মজুত গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করলে অস্বীকৃতি জানায় কোম্পানিটি।

পরে ২০০৭ সালে স্থানীয় নিম্ন আদালতে মামলা দায়ের এবং নাইকোর ফেনী ফিল্ডের গ্যাসের বিল প্রদান বন্ধ করে দেয় পেট্রোবাংলা।


হাইকোর্ট বাংলাদেশে থাকা নাইকোর সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের আদেশ দেন। এরপর নাইকো সুপ্রিম কোর্টে যায়, সেখানেও বাংলাদেশের পক্ষে রায় হয়।

আটকে রাখা গ্যাস বিল ও ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় ২০১০ সালে আইসিএসআইডিতে দুটি মামলা করে নাইকো। পরে ২০১৪ সালে এক রায়ে আইসিএসআইডি পেট্রোবাংলাকে ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের পাওনা পরিশোধ করতে বলে।